বিষয়ভিত্তিক কুরআন > নবী (সাঃ) এর বিরোধীদের প্রতি সতর্কবাণী

তাদেরকে কিছুদিনের জন্য অবকাশ দেয়া হচ্ছে:

আত-তারিক, ৮৬:১৫
إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا ﴿١٥﴾
এবং তারা (সত্যের বিরুদ্ধে) ষড়যন্ত্র করছে, [তাইসিরুল কুরআন]
আত-তারিক, ৮৬:১৬
وَأَكِيدُ كَيْدًا ﴿١٦﴾
আর আমিও (তাদের অন্যায় ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র ভন্ডুল করার) কৌশল করছি। [তাইসিরুল কুরআন]
আত-তারিক, ৮৬:১৭
فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا ﴿١٧﴾
কাজেই (এই ষড়যন্ত্রকারী) কাফিরদেরকে অবকাশ দাও, তাদেরকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মা'আরিজ, ৭০:৪২
فَذَرْهُمْ يَخُوضُوا وَيَلْعَبُوا حَتَّى يُلَاقُوا يَوْمَهُمُ الَّذِي يُوعَدُونَ ﴿٤٢﴾
কাজেই তাদেরকে অনর্থক কথাবার্তা ও খেল তামাশায় মত্ত থাকতে দাও যতক্ষণ না তারা তাদের সেদিনের সাক্ষাৎ লাভ করে যে দিনের ও‘য়াদা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের উপর বিপর্যয় আসবেই:

আর-রাদ, ১৩:৩১
وَلَوْ أَنَّ قُرْآنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتَى بَلْ لِلَّهِ الْأَمْرُ جَمِيعًا أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعًا وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا تُصِيبُهُمْ بِمَا صَنَعُوا قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًا مِنْ دَارِهِمْ حَتَّى يَأْتِيَ وَعْدُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ ﴿٣١﴾
কুরআন দিয়ে পর্বতকে যদি গতিশীল করা যেত, কিংবা যমীনকে দীর্ণ করা যেত কিংবা তা দিয়ে মৃত মানুষকে কথা বলানো যেত (তবুও তারা তাতে বিশ্বাস করত না)। (আলৌকিক কিছু করা মানুষের সাধ্যাতীত) বরং সমস্ত কিছুই আল্লাহর ক্ষমতাভুক্ত। যারা ঈমান এনেছে তারা কি জানে না যে, আল্লাহ ইচ্ছে করলে সকল মানুষকে সৎ পথে পরিচালিত করতে পারতেন। যারা কুফুরী করে তাদের কার্যকলাপের কারণে তাদের উপর কোন না কোন বিপদ আসতেই থাকে কিংবা তাদের ঘরের আশেপাশেই নাযিল হতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর ও‘য়াদা পূর্ণ হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ ওয়াদার ব্যতিক্রম করেন না। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের শক্তি দুর্বল হয়ে যাবে:

আল-আম্বিয়া, ২১:৪৪
بَلْ مَتَّعْنَا هَؤُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى طَالَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ أَفَلَا يَرَوْنَ أَنَّا نَأْتِي الْأَرْضَ نَنْقُصُهَا مِنْ أَطْرَافِهَا أَفَهُمُ الْغَالِبُونَ ﴿٤٤﴾
বরং আমিই তাদেরকে আর তাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে পার্থিব ভোগ্যবস্তু দিয়েছিলাম আর তাদেরকে আয়ুও দেয়া হয়েছিল দীর্ঘ; তারা কি দেখছে না যে, আমি তাদের দেশকে চারপাশের (তাদের নিয়ন্ত্রিত) সীমান্ত হতে সংকুচিত করে আনছি? এরপরও কি তারা বিজয়ী হবে?’ [তাইসিরুল কুরআন]

দুনিয়াতেও তারা কিছু শাস্তি পাবে:

আস-সাজদাহ, ৩২:২১
وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَى دُونَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ ﴿٢١﴾
গুরুতর শাস্তির আগে আমি তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই লঘু শাস্তি আস্বাদন করাবো যাতে তারা (অনুশোচনা নিয়ে) ফিরে আসে। [তাইসিরুল কুরআন]
আত-তূর, ৫২:৪৭
وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا عَذَابًا دُونَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٤٧﴾
যালিমদের জন্য এছাড়া আরো ‘আযাব রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। [তাইসিরুল কুরআন]

কার কী পরিণাম তারা জানতে পারবে:

আয-যুমার, ৩৯:৩৯
قُلْ يَاقَوْمِ اعْمَلُوا عَلَى مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٣٩﴾
বল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের পথ ও মত অনুযায়ী কাজ করে যাও, আমিও কাজ করে যাচ্ছি, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুমার, ৩৯:৪০
مَنْ يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُقِيمٌ ﴿٤٠﴾
কার উপর আসে অপমানজনক শাস্তি, আর কার উপর পতিত হয় স্থায়ী ‘আযাব। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের বিদ্রূপের পরিণাম তারা জানতে পারবে:

আল-আন'আম, ৬:৫
فَقَدْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ فَسَوْفَ يَأْتِيهِمْ أَنْبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٥﴾
(এখন) যে সত্য তাদের কাছে এসেছে তারা তা অস্বীকার করেছে। শীঘ্রই তাদের কাছে সে খবর আসবে যে সম্পর্কে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। [তাইসিরুল কুরআন]

অতীত জাতির মতো তারাও পরাজিত হবে:

আন-নাহাল, ১৬:২৬
قَدْ مَكَرَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَأَتَى اللَّهُ بُنْيَانَهُمْ مِنَ الْقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَيْهِمُ السَّقْفُ مِنْ فَوْقِهِمْ وَأَتَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٢٦﴾
তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও চক্রান্ত করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদের ইমারাতকে মূল থেকে উৎপাটিত করেছিলেন আর উপর থেকে ছাদ তাদের উপর ভেঙ্গে পড়ল, আর তাদের প্রতি শাস্তি পতিত হল এমন দিক হতে যা তারা এতটুকু টের পায়নি। [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাজদাহ, ৩২:২৬
أَوَلَمْ يَهْدِ لَهُمْ كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنَ الْقُرُونِ يَمْشُونَ فِي مَسَاكِنِهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ أَفَلَا يَسْمَعُونَ ﴿٢٦﴾
এটাও কি তাদেরকে সত্য পথ দেখায় না যে, আমি তাদের পূর্বে কত মানব বংশ ধ্বংস করেছি যাদের বাসভূমির উপর দিয়ে তারা (এখন) চলাফেরা করে? এতে অবশ্যই (আল্লাহর) নিদর্শন আছে, তবুও কি তারা শুনবে না? [তাইসিরুল কুরআন]

পূর্ববর্তীদের তুলনায় এরা কিছুই নয়:

সাবা, ৩৪:৪৫
وَكَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَمَا بَلَغُوا مِعْشَارَ مَا آتَيْنَاهُمْ فَكَذَّبُوا رُسُلِي فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ ﴿٤٥﴾
তাদের পূর্ববর্তীরাও (সত্যকে) মিথ্যে বলে অস্বীকার করেছিল। আমি তাদেরকে যা দিয়েছিলাম, এরা তার এক দশমাংশও পায়নি। তবুও ওরা যখন আমার রসূলগণকে অস্বীকার করেছিল তখন কত ভয়ংকর হয়েছিল আমার শাস্তি। [তাইসিরুল কুরআন]

নবী (সাঃ) কাফিরদেরকে (পরিণতির জন্য) অপেক্ষা করতে বললেন।

হূদ, ১১:১২২
وَانْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُونَ ﴿١٢٢﴾
আর তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও অপেক্ষায় থাকলাম।’ [তাইসিরুল কুরআন]

(হে নবী,) আপনি কাফিরদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন।

আত-তাওবা, ৯:৩
وَأَذَانٌ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ فَإِنْ تُبْتُمْ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ وَبَشِّرِ الَّذِينَ كَفَرُوا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٣﴾
আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ হতে বড় হাজ্জের দিনে মানুষদের কাছে ঘোষণা দেয়া হল যে আল্লাহ মুশরিকদের সাথে সম্পর্কহীন এবং তাঁর রসূলও। কাজেই এখন যদি তোমরা তাওবাহ কর, তাতে তোমাদেরই ভাল হবে, আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে জেনে রেখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীন-দুর্বল করতে পারবে না, আর যারা কুফরী করে চলেছে তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দাও। [তাইসিরুল কুরআন]

নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) কাফিরদেরকে আল্লাহর ফয়সালার জন্য অপেক্ষা করার নির্দেশ দেন।

ইউনুস, ১০:২০
وَيَقُولُونَ لَوْلَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَقُلْ إِنَّمَا الْغَيْبُ لِلَّهِ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ ﴿٢٠﴾
তারা বলে, ‘‘তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন?’’ এদের জবাবে বলে দাও, ‘‘অদৃশ্য জগতের একচ্ছত্র মালিক হলেন আল্লাহ, কাজেই তোমরা অপেক্ষা কর (এবং ভবিষ্যতে কী হয় দেখ), আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান থাকলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

নবী (ﷺ) অবিশ্বাসীদেরকে জানিয়ে দেন যে, তিনিও তাদের সাথে অপেক্ষাকারীদের একজন।

ইউনুস, ১০:১০২
فَهَلْ يَنْتَظِرُونَ إِلَّا مِثْلَ أَيَّامِ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِهِمْ قُلْ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ ﴿١٠٢﴾
তবে তারা কি তাদের পূর্বে যে সব দিনগুলো ঘটে গেছে সে রকম ঘটা ছাড়া অন্য কিছুর অপেক্ষা করছে? বল, ‘‘তাহলে অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান থাকলাম।’’ [তাইসিরুল কুরআন]

রাসূল (ﷺ) কাফিরদেরকে আদ ও সামুদ জাতির উপর আপতিত বজ্রাঘাতের মতো শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:১৩
فَإِنْ أَعْرَضُوا فَقُلْ أَنْذَرْتُكُمْ صَاعِقَةً مِثْلَ صَاعِقَةِ عَادٍ وَثَمُودَ ﴿١٣﴾
এরপরও তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে বল- আমি তোমাদেরকে অকস্মাৎ শাস্তির ভয় দেখাচ্ছি- ‘আদ ও সামূদের (উপর নেমে আসা) অকস্মাৎ-শাস্তির মত। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর নির্দেশে নবী (ﷺ) কাফিরদেরকে বলেন, 'তোমরা প্রতীক্ষা কর'।

আত-তূর, ৫২:৩১
قُلْ تَرَبَّصُوا فَإِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُتَرَبِّصِينَ ﴿٣١﴾
ওদেরকে বল- তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষা করছি। (অতঃপর উভয় পক্ষই দেখতে পাবে কার কী পরিণতি হয়)। [তাইসিরুল কুরআন]

সুতরাং, আপনি (হে নবী) অস্বীকারকারীদেরকে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন।

আল-ইনশিকাক, ৮৪:২৪
فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٢٤﴾
কাজেই তাদেরকে মর্মান্তিক ‘আযাবের সুসংবাদ দাও। [তাইসিরুল কুরআন]

এবং আপনার বিরোধীরাও প্রত্যক্ষ করবে।

আল-ক্বলাম, ৬৮:৫
فَسَتُبْصِرُ وَيُبْصِرُونَ ﴿٥﴾
শীঘ্রই তুমি দেখতে পাবে আর তারাও দেখবে, [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px