বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ১৩. ওয়াইব (আঃ)

শুয়াইব (আঃ) আইকাবাসীদের নবী ছিলেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭৬
كَذَّبَ أَصْحَابُ الْأَيْكَةِ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٧٦﴾
বনের অধিবাসীরা রসূলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

আইকাবাসীরা যালিম ছিল:

আল-হিজর, ১৫:৭৮
وَإِنْ كَانَ أَصْحَابُ الْأَيْكَةِ لَظَالِمِينَ ﴿٧٨﴾
আর আয়কাহবাসীরাও অবশ্যই যালিম ছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা ওজনে কম দিত:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৮৩
وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿١٨٣﴾
মানুষকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিবে না। আর পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [তাইসিরুল কুরআন]

শুয়াইব (আঃ) তাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭৭
إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٧٧﴾
যখন শু‘আয়ব তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না? [তাইসিরুল কুরআন]

নিজের নবী হওয়ার কথা ঘোষণা করেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭৮
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٧٨﴾
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল। [তাইসিরুল কুরআন]

তাকে অনুসরণ করার নির্দেশ দেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭৯
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٧٩﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর। [তাইসিরুল কুরআন]

নিঃস্বার্থতার কথা ঘোষণা করেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৮০
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٨٠﴾
এ জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো রয়েছে একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট। [তাইসিরুল কুরআন]

তাক্বওয়া অর্জনের নির্দেশ দেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৮৪
وَاتَّقُوا الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالْجِبِلَّةَ الْأَوَّلِينَ ﴿١٨٤﴾
এবং ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী বংশাবলীকে সৃষ্টি করেছেন।’ [তাইসিরুল কুরআন]

তারা নবীকে যাদুগ্রস্ত বলে দাবী করল:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৮৫
قَالُوا إِنَّمَا أَنْتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ ﴿١٨٥﴾
তারা বলল- ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৮৬
وَمَا أَنْتَ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَإِنْ نَظُنُّكَ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ ﴿١٨٦﴾
তুমি আমাদের মতই মানুষ বৈ নও, আমরা মনে করি তুমি অবশ্য মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা আযাব চেয়ে বসল:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৮৭
فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِنَ السَّمَاءِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿١٨٧﴾
তুমি সত্যবাদী হলে আকাশের এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।’ [তাইসিরুল কুরআন]

নবী আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করলেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৮৮
قَالَ رَبِّي أَعْلَمُ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴿١٨٨﴾
শু‘আয়ব বলল- ‘তোমরা যা কর, আমার প্রতিপালক সে সম্পর্কে বেশি অবগত।’ [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলেন:

আল-হিজর, ১৫:৭৯
فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ وَإِنَّهُمَا لَبِإِمَامٍ مُبِينٍ ﴿٧٩﴾
কাজেই তাদের উপর প্রতিশোধ নিয়েছিলাম, এ দু’টো জনপদই প্রকাশ্য পথের উপর অবস্থিত। [তাইসিরুল কুরআন]

আযাব তাদেরকে ধ্বংস করে দিল:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৮৯
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمْ عَذَابُ يَوْمِ الظُّلَّةِ إِنَّهُ كَانَ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿١٨٩﴾
কিন্তু তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি পাকড়াও করল। তা ছিল এক মহা দিবসের ‘আযাব। [তাইসিরুল কুরআন]

এ ঘটনায় রয়েছে অনেক শিক্ষা:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৯০
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٩٠﴾
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৯১
وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ ﴿١٩١﴾
আর তোমার প্রতিপালক, তিনি অবশ্যই মহা প্রতাপশালী, বড়ই দয়ালু। [তাইসিরুল কুরআন]

নবী তাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিলেন:

আল-আ'রাফ, ৭:৮৫
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ قَدْ جَاءَتْكُمْ بَيِّنَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿٨٥﴾
আমি মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শু‘আয়বকে পাঠিয়েছিলাম। (সে বলেছিল) ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমাদের কাছে তো স্পষ্ট নিদর্শন এসে গেছে, কাজেই মাপ ও ওজন সঠিকভাবে কর, লোকেদেরকে তাদের প্রাপ্য বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করো না, পৃথিবীর সংশোধনের পর তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি কর না, এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা সত্যিই মু’মিন হয়ে থাক।’ [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:৮৪
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ وَلَا تَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِنِّي أَرَاكُمْ بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُحِيطٍ ﴿٨٤﴾
আর মাদইয়ানবাসীদের কাছে আমি তাদের ভাই শু‘আয়বকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন সত্য ইলাহ নেই, আর মাপে ও ওজনে কম দিও না, আমি তোমাদেরকে ভাল অবস্থাতেই দেখছি। কিন্তু আমি তোমাদের জন্য শাস্তির আশঙ্কা করছি সে দিনের যেদিন তোমাদেরকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ধরবে। [তাইসিরুল কুরআন]

নবী নরম ভাষায় বুঝালেন :

হূদ, ১১:৮৮
قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كُنْتُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَرَزَقَنِي مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًا وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ ﴿٨٨﴾
সে বলল, ‘হে আমার জাতির লোকেরা! তোমরা কি ভেবে দেখেছ যদি আমি আমার প্রতিপালকের স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি আর তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দিয়ে থাকেন (তাহলে আমি কীভাবে তোমাদের অন্যায় কাজের সঙ্গী হতে পারি?), আমি তোমাদেরকে যে কাজ করতে নিষেধ করি সেটা তোমাদের প্রতি বিরুদ্ধাচরণ করার ইচ্ছায় নয়, আমি তো সাধ্যমত সংশোধন করতে চাই, আমার কাজের সাফল্য তো আল্লাহরই পক্ষ হতে, আমি তাঁর উপরই নির্ভর করি, আর তাঁর দিকেই মুখ করি। [তাইসিরুল কুরআন]

জাতিকে আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করতে বললেন:

আল-আ'রাফ, ৭:৮৬
وَلَا تَقْعُدُوا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِهِ وَتَبْغُونَهَا عِوَجًا وَاذْكُرُوا إِذْ كُنْتُمْ قَلِيلًا فَكَثَّرَكُمْ وَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ ﴿٨٦﴾
‘যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে ভয় দেখানোর জন্য আর আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয়ার জন্য প্রতিটি পথে পাহারা বসিও না, আর তাতে (অর্থাৎ আল্লাহর সহজ-সরল পথে) বক্রতা অনুসন্ধান কর না।’ স্মরণ কর, ‘তোমরা সংখ্যায় অল্প ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে সংখ্যাধিক্য করে দিয়েছেন। লক্ষ্য কর, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল।’ [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর ব্যাপারে জাতিকে সতর্ক করলেন:

হূদ, ১১:৯২
قَالَ يَا قَوْمِ أَرَهْطِي أَعَزُّ عَلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَاتَّخَذْتُمُوهُ وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا إِنَّ رَبِّي بِمَا تَعْمَلُونَ مُحِيطٌ ﴿٩٢﴾
সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার স্বজনরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়েও প্রবল! তোমরা তো তাঁকে সম্পূর্ণতঃ পেছনে ফেলে রেখেছ, তোমরা যা করছ আমার প্রতিপালক তা সব কিছুই অবগত।’ [তাইসিরুল কুরআন]

আখিরাতের ব্যাপারে সতর্ক করলেন:

আল-আনকাবূত, ২৯:৩৬
وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَارْجُوا الْيَوْمَ الْآخِرَ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿٣٦﴾
মাদইয়ানের বাসিন্দাদের কাছে আমি তাদের ভাই শু‘আয়বকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলল- হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, শেষ দিবসকে ভয় কর, পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি কর না। [তাইসিরুল কুরআন]

পূর্ববর্তীদের পরিণামের কথা জানালেন:

হূদ, ১১:৮৯
وَيَا قَوْمِ لَا يَجْرِمَنَّكُمْ شِقَاقِي أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَ قَوْمَ نُوحٍ أَوْ قَوْمَ هُودٍ أَوْ قَوْمَ صَالِحٍ وَمَا قَوْمُ لُوطٍ مِنْكُمْ بِبَعِيدٍ ﴿٨٩﴾
হে আমার সম্প্রদায়! আমার সঙ্গে বিরোধ তোমাদেরকে যেন কিছুতেই এমন কাজে উদ্বুদ্ধ না করে যাতে তোমাদের উপর এমন বিপদ আসে যেমন বিপদ এসেছিল নূহের জাতির কিংবা হূদের জাতির কিংবা সালিহর জাতির উপর। আর লূতের জাতির অবস্থান তো তোমাদের থেকে মোটেই দূরে নয়। [তাইসিরুল কুরআন]

নবীর সৎকর্ম নিয়ে তারা উপহাস করত:

হূদ, ১১:৮৭
قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَنْ نَتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَنْ نَفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ إِنَّكَ لَأَنْتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ ﴿٨٧﴾
তারা বলল, ‘হে শু‘আয়ব! তোমার ইবাদত কি তোমাকে এই হুকুম দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষ যার ‘ইবাদাত করত আমরা তা পরিত্যাগ করি বা আমাদের ধন-সম্পদের ব্যাপারে আমাদের ইচ্ছে (মাফিক ব্যয় করা) বর্জন করি, তুমি তো দেখছি বড়ই ধৈর্যশীল, ভাল মানুষ।’ [তাইসিরুল কুরআন]

তারা জাতিকেও ঈমান আনতে বাধা দিত:

হূদ, ১১:৯০
وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ ﴿٩٠﴾
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই নিকট তাওবাহ কর। আমার প্রতিপালক তো পরম দয়ালু, বড়ই ভালবাসা পোষণকারী।’ [তাইসিরুল কুরআন]

নবীকে পাথর মেরে হত্যার ভয় দেখাল :

হূদ, ১১:৯১
قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا وَلَوْلَا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ وَمَا أَنْتَ عَلَيْنَا بِعَزِيزٍ ﴿٩١﴾
তারা বলল, ‘হে শু‘আয়ব! তুমি যা বল তার অনেক কথাই আমরা বুঝি না, আমরা আমাদের মধ্যে তোমাকে অবশ্যই দুর্বল দেখছি, তোমার গোত্র না থাকলে আমরা তোমাকে অবশ্যই পাথর নিক্ষেপ ক’রে মেরে ফেলতাম, আমাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতাই নেই। [তাইসিরুল কুরআন]

নবীকে তাড়ানোর হুমকি দিল:

আল-আ'রাফ, ৭:৮৮
قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لَنُخْرِجَنَّكَ يَا شُعَيْبُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَكَ مِنْ قَرْيَتِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَارِهِينَ ﴿٨٨﴾
তার জাতির উদ্ধত সর্দারগণ বলল, ‘ওহে শু‘আয়ব! আমরা তোমাকে আর তোমার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেবই, অথবা তুমি আমাদের ধর্মবিশ্বাসে অবশ্যই ফিরে আসবে।’ সে বলল, ‘আমরা যদি তাতে রাজী না হই তবুও?’ [তাইসিরুল কুরআন]

নবী সত্যের উপর অটল থাকলেন:

আল-আ'রাফ, ৭:৮৯
قَدِ افْتَرَيْنَا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِي مِلَّتِكُمْ بَعْدَ إِذْ نَجَّانَا اللَّهُ مِنْهَا وَمَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَعُودَ فِيهَا إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّنَا وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنْتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ ﴿٨٩﴾
আল্লাহ যখন আমাদেরকে তোমাদের ধর্মবিশ্বাস থেকে রক্ষা করেছেন, তখন যদি আমরা তাতে ফিরে যাই, তাহলে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে ফেলব। আমরা তাতে ফিরে যেতে পারি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত। প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞান পরিব্যাপ্ত, আমরা আল্লাহরই প্রতি নির্ভর করি। হে আমাদের প্রতিপালক! ‘তুমি আমাদের আর আমাদের জাতির মধ্যে সঠিকভাবে ফায়সালা করে দাও আর তুমি হলে সর্বোত্তম মীমাংসাকারী।’ [তাইসিরুল কুরআন]

নবী আল্লাহর কাছে চূড়ান্ত ফায়সালার জন্য দু'আ করলেন:

আল-আ'রাফ, ৭:৮৯
قَدِ افْتَرَيْنَا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِي مِلَّتِكُمْ بَعْدَ إِذْ نَجَّانَا اللَّهُ مِنْهَا وَمَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَعُودَ فِيهَا إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّنَا وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنْتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ ﴿٨٩﴾
আল্লাহ যখন আমাদেরকে তোমাদের ধর্মবিশ্বাস থেকে রক্ষা করেছেন, তখন যদি আমরা তাতে ফিরে যাই, তাহলে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে ফেলব। আমরা তাতে ফিরে যেতে পারি না আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত। প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞান পরিব্যাপ্ত, আমরা আল্লাহরই প্রতি নির্ভর করি। হে আমাদের প্রতিপালক! ‘তুমি আমাদের আর আমাদের জাতির মধ্যে সঠিকভাবে ফায়সালা করে দাও আর তুমি হলে সর্বোত্তম মীমাংসাকারী।’ [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি আল্লাহর ফায়সালার অপেক্ষায় থাকলেন:

আল-আ'রাফ, ৭:৮৭
وَإِنْ كَانَ طَائِفَةٌ مِنْكُمْ آمَنُوا بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ وَطَائِفَةٌ لَمْ يُؤْمِنُوا فَاصْبِرُوا حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَنَا وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ ﴿٨٧﴾
‘আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তাতে যদি তোমাদের একদল ঈমান আনে আর একদল ঈমান না আনে, তাহলে ধৈর্য ধারণ কর যে পর্যন্ত না আল্লাহ আমাদের আর তোমাদের মাঝে মীমাংসা করে দেন, তিনি হলেন সর্বোত্তম মীমাংসাকারী।’ [তাইসিরুল কুরআন]

তাদেরকে ভূমিকম্প পাকড়াও করল:

আল-আনকাবূত, ২৯:৩৭
فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٣٧﴾
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যে ব’লে অস্বীকার করল, অতঃপর মহা কম্পন তাদেরকে পাকড়াও করল আর তারা নিজেদের গৃহে উপুড় হয়ে শেষ হয়ে গেল। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৯১
فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٩١﴾
অতঃপর ভূমিকম্প তাদেরকে হঠাৎ আঘাত হানল আর তারা তাদের ঘরবাড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। [তাইসিরুল কুরআন]

প্রচণ্ড আওয়াজ তাদেরকে আঘাত করল:

হূদ, ১১:৯৪
وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا شُعَيْبًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٩٤﴾
আমার হুকুম যখন আসলো, তখন আমি আমার দয়ায় শু‘আয়ব আর তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম। আর যারা যুলম করেছিল তাদেরকে এক প্রচন্ড শব্দ আঘাত হানল যার ফলে তারা নিজেদের গৃহে নতজানু হয়ে পড়ে রইল। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা সামুদ জাতির ন্যায় অভিশপ্ত হলো:

হূদ, ১১:৯৫
كَأَنْ لَمْ يَغْنَوْا فِيهَا أَلَا بُعْدًا لِمَدْيَنَ كَمَا بَعِدَتْ ثَمُودُ ﴿٩٥﴾
(এমনভাবে) যেন তারা সেখানে কোনদিনই বসবাস করেনি। জেনে রেখ, মাদইয়ানবাসীদেরকে দূরে নিক্ষেপ করা হল, যেমনভাবে দূরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল সামূদজাতিকে। [তাইসিরুল কুরআন]

নবী ও ঈমানদারদেরকে বাঁচানো হলো:

হূদ, ১১:৯৪
وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا شُعَيْبًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ ﴿٩٤﴾
আমার হুকুম যখন আসলো, তখন আমি আমার দয়ায় শু‘আয়ব আর তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম। আর যারা যুলম করেছিল তাদেরকে এক প্রচন্ড শব্দ আঘাত হানল যার ফলে তারা নিজেদের গৃহে নতজানু হয়ে পড়ে রইল। [তাইসিরুল কুরআন]

জাতির উদ্দেশ্যে নবীর শেষ কথা:

আল-আ'রাফ, ৭:৯৩
فَتَوَلَّى عَنْهُمْ وَقَالَ يَا قَوْمِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَنَصَحْتُ لَكُمْ فَكَيْفَ آسَى عَلَى قَوْمٍ كَافِرِينَ ﴿٩٣﴾
সে তাদেরকে ত্যাগ করল আর বলল, ‘হে আমার জাতির লোকেরা! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের প্রেরিত বাণী পৌঁছে দিয়েছি, আর তোমাদেরকে সদুপদেশ দিয়েছি, কাজেই আমি কাফির জাতির জন্য কী করে আক্ষেপ করতে পারি।’ [তাইসিরুল কুরআন]

সে তার জাতিকে ভ্রষ্ট করেছে:

কোনো আয়াত নেই।

শুআইব (আঃ) অবিশ্বাসীদেরকে চূড়ান্ত পরিণামের জন্য অপেক্ষা করতে বললেন।

হূদ, ১১:৯৩
وَيَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَى مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ سَوْفَ تَعْلَمُونَ مَنْ يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَمَنْ هُوَ كَاذِبٌ وَارْتَقِبُوا إِنِّي مَعَكُمْ رَقِيبٌ ﴿٩٣﴾
হে আমার সম্প্রদায়! ‘তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করতে থাক, আমিও আমার কাজ করতে থাকি, তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কার উপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আর কে মিথ্যেবাদী। কাজেই তোমরা অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’ [তাইসিরুল কুরআন]

মাদইয়ানের অধিবাসীরাও তাদের নবীকে অস্বীকার করেছিল।

আল-হজ্জ, ২২:৪৪
وَأَصْحَابُ مَدْيَنَ وَكُذِّبَ مُوسَى فَأَمْلَيْتُ لِلْكَافِرِينَ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ ﴿٤٤﴾
আর মাদইয়ানবাসীরাও [অস্বীকার করেছিল যারা ছিল শু‘আয়ব (আঃ)-এর সম্প্রদায়], আর মূসাকেও অস্বীকার করা হয়েছিল। আমি অস্বীকারকারীদেরকে সময়- সুযোগ দিয়েছিলাম, অতঃপর তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। কত ভীষণ ছিল আমাকে অস্বীকার করার পরিণতি! [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px