বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ৮. ইসমাঈল (আঃ)

সৎ সন্তানের জন্য ইবরাহীম (আঃ) এর দু'আ:

আস-সাফফাত, ৩৭:১০০
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿١٠٠﴾
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে এক সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দান কর। [তাইসিরুল কুরআন]

বৃদ্ধ বয়সে সন্তান পেয়ে ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন:

ইবরাহীম, ১৪:৩৯
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ ﴿٣٩﴾
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমার বার্ধক্য অবস্থায় আমাকে ইসমাঈল ও ইসহাককে দান করেছেন, আমার প্রতিপালক অবশ্যই আহবান শ্রবণকারী। [তাইসিরুল কুরআন]

পিতা ইসমাঈল (আঃ) কে স্বপ্নের কথা জানালেন:

আস-সাফফাত, ৩৭:১০২
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَابُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَاأَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ ﴿١٠٢﴾
অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে চলাফিরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন ইবরাহীম (আঃ) বলল, ‘বৎস! আমি স্বপে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, এখন বল, তোমার অভিমত কী? সে বলল, ‘হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন। [তাইসিরুল কুরআন]

ইসমাঈল (আঃ) সাহসী উত্তর দিলেন:

আস-সাফফাত, ৩৭:১০২
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَابُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَاأَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ ﴿١٠٢﴾
অতঃপর সে যখন তার পিতার সাথে চলাফিরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন ইবরাহীম (আঃ) বলল, ‘বৎস! আমি স্বপে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, এখন বল, তোমার অভিমত কী? সে বলল, ‘হে পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন। [তাইসিরুল কুরআন]

পিতা ইসমাঈল (আঃ) কে কুরবানী করার প্রস্তুতি নিলেন:

আস-সাফফাত, ৩৭:১০৩
فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ ﴿١٠٣﴾
দু’জনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিল। আর ইবরাহীম তাকে উপুড় ক’রে শুইয়ে দিল। [তাইসিরুল কুরআন]

এ প্রস্তুতিতেই আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাঈল (আঃ) কে বাঁচিয়ে দিলেন:

আস-সাফফাত, ৩৭:১০৪
وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ ﴿١٠٤﴾
তখন আমি তাকে ডাক দিলাম, ‘হে ইবরাহীম! [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাফফাত, ৩৭:১০৫
قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿١٠٥﴾
স্বপ্নে দেয়া আদেশ তুমি সত্যে পরিণত করেই ছাড়লে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ ইসমাঈল (আঃ) এর পরিবর্তে অন্য একটি জন্তু পাঠিয়ে দিলেন:

আস-সাফফাত, ৩৭:১০৭
وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ ﴿١٠٧﴾
আমি এক মহান কুরবানীর বিনিময়ে পুত্রটিকে ছাড়িয়ে নিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাফফাত, ৩৭:১০৮
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ ﴿١٠٨﴾
আর আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

এটা ছিল বড় ধরনের পরীক্ষা:

আস-সাফফাত, ৩৭:১০৬
إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ ﴿١٠٦﴾
অবশ্যই এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। [তাইসিরুল কুরআন]

ইসমাঈল (আঃ) ছিলেন ধৈর্যশীল নবীদের একজন:

আল-আম্বিয়া, ২১:৮৫
وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِنَ الصَّابِرِينَ ﴿٨٥﴾
স্মরণ কর ইসমা‘ঈল, ইদরীস ও জুল-কিফল এর কথা, তাদের প্রত্যেকেই ছিল ধৈর্যশীল। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ তার কাছে ওহী পাঠিয়েছিলেন:

আন-নিসা, ৪:১৬৩
إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا ﴿١٦٣﴾
আমি তোমার কাছে ওয়াহী পাঠিয়েছি যেমন নূহ ও তার আগের নাবীগণের নিকট ওয়াহী পাঠিয়েছিলাম, আর ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধর আর ঈসা, আইয়ূব, ইউনুস, হারূন ও সুলায়মানের নিকটও ওয়াহী পাঠিয়েছিলাম আর আমি দাঊদকে যাবূর প্রদান করেছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি ছিলেন মর্যাদাবান ব্যক্তিত্বের অধিকারী:

আল-আন'আম, ৬:৮৬
وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُسَ وَلُوطًا وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿٨٦﴾
আর ইসমাঈল, আল ইয়াসা‘আ, ইউনুস ও লূত- এদের প্রত্যেককে আমি বিশ্বজগতে জাতিসমূহের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি ছিলেন ওয়াদা পালনকারী:

মারইয়াম, ১৯:৫৪
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا ﴿٥٤﴾
এ কিতাবে উল্লেখিত ইসমাঈলের কথা স্মরণ কর, সে ছিল ওয়া‘দা রক্ষায় (দৃঢ়) সত্যবাদী, আর ছিল একজন রসূল ও নবী। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি তার পরিবারকে সালাত ও যাকাতের আদেশ দিতেন:

মারইয়াম, ১৯:৫৫
وَكَانَ يَأْمُرُ أَهْلَهُ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَكَانَ عِنْدَ رَبِّهِ مَرْضِيًّا ﴿٥٥﴾
সে তার পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের হুকুম দিত আর সে ছিল তার প্রতিপালকের নিকট সন্তুষ্টির পাত্র। [তাইসিরুল কুরআন]

ইসমাঈল (আঃ) কা'বাঘর নির্মাণে অংশগ্রহণ করেন:

আল-বাকারা, ২:১২৭
وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٢٧﴾
আর (স্মরণ কর) যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি তুলছিল, তখন প্রার্থনা করল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞাতা’। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি মসজিদের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন:

আল-বাকারা, ২:১২৫
وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ ﴿١٢٥﴾
এবং স্মরণ কর যখন আমি কা‘বাগৃহকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র এবং নিরাপদস্থল করলাম এবং বললাম, ‘মাকামে ইবরাহীমকে সলাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর’ এবং ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে বলেছিলাম, ‘আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী এবং রুকূ ও সাজদাহকারীদের জন্য পবিত্র রাখবে’। [তাইসিরুল কুরআন]

ইসমাঈল (আঃ) এর ইতিহাস স্মরণীয়:

সোয়াদ, ৩৮:৪৮
وَاذْكُرْ إِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَذَا الْكِفْلِ وَكُلٌّ مِنَ الْأَخْيَارِ ﴿٤٨﴾
স্মরণ কর ইসমাঈল, ইয়াসা‘আ ও যুলকিফলের কথা- এরা সবাই ছিল উত্তমদের মধ্যে গণ্য। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ) কে পুত্র সন্তানের সুনংবাদ দিলেন ।

আস-সাফফাত, ৩৭:১০১
فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ ﴿١٠١﴾
অতঃপর আমি তাকে এক অতি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px