বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ৭. লূত (আঃ)

লুত (আঃ) এর রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন:

আস-সাফফাত, ৩৭:১৩৩
وَإِنَّ لُوطًا لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٣٣﴾
লূতও ছিল অবশ্যই রসূলদের একজন। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ তাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছিলেন:

আল-আম্বিয়া, ২১:৭৪
وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ تَعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ ﴿٧٤﴾
আর আমি লূতকেও দিয়েছিলাম বিচারশক্তি ও জ্ঞান। আমি তাকে উদ্ধার করেছিলাম সেই জনবসতি থেকে যা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল, তারা ছিল এক খারাপ পাপাচারী জাতি। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ লূত (আঃ) এর প্রতি দয়া করেছেন:

আল-আম্বিয়া, ২১:৭৫
وَأَدْخَلْنَاهُ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُ مِنَ الصَّالِحِينَ ﴿٧٥﴾
আমি তাকে আমার রাহমাতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম, সে ছিল সৎ কর্মশীলদের একজন। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি ইবরাহীমের প্রতি ঈমান এনেছিলেন:

আল-আনকাবূত, ২৯:২৬
فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ وَقَالَ إِنِّي مُهَاجِرٌ إِلَى رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٢٦﴾
অতঃপর লূত তার (অর্থাৎ ইবরাহীমের) প্রতি ঈমান এনেছিল। ইবরাহীম বলল- আমি আমার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করছি, তিনি মহাপরাক্রান্ত, বড়ই হিকমতওয়ালা। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা পাপকাজে লিপ্ত থাকত:

আল-আম্বিয়া, ২১:৭৪
وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ تَعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ ﴿٧٤﴾
আর আমি লূতকেও দিয়েছিলাম বিচারশক্তি ও জ্ঞান। আমি তাকে উদ্ধার করেছিলাম সেই জনবসতি থেকে যা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল, তারা ছিল এক খারাপ পাপাচারী জাতি। [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:৭৮
وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِنْ قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ قَالَ يَا قَوْمِ هَؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِي فِي ضَيْفِي أَلَيْسَ مِنْكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ ﴿٧٨﴾
তার কওমের লোকেরা হুড়মুড় করে তার কাছে ছুটে আসলো, আগে থেকেই তারা এ রকম অসৎ কাজে অভ্যস্ত ছিল। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! এই আমার (নিজের বা জাতির) কন্যারা আছে, তারা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র (যদি তোমরা বিয়ে কর), কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি ভাল মানুষ একটিও নেই?’ [তাইসিরুল কুরআন]

তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী:

আল-আ'রাফ, ৭:৮১
إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ ﴿٨١﴾
তোমরা যৌন তাড়নায় স্ত্রীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন করছ, তোমরা হচ্ছ এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা ছিল ফাসিক সম্প্রদায় ায়:

আল-আম্বিয়া, ২১:৭৪
وَلُوطًا آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ تَعْمَلُ الْخَبَائِثَ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَاسِقِينَ ﴿٧٤﴾
আর আমি লূতকেও দিয়েছিলাম বিচারশক্তি ও জ্ঞান। আমি তাকে উদ্ধার করেছিলাম সেই জনবসতি থেকে যা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল, তারা ছিল এক খারাপ পাপাচারী জাতি। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা রাহাজানি করত:

আল-আনকাবূত, ২৯:২৯
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِي نَادِيكُمُ الْمُنْكَرَ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا ائْتِنَا بِعَذَابِ اللَّهِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٢٩﴾
তোমরা (কাম-তাড়িত হয়ে) পুরুষদের কাছে যাও, রাহাজানি কর এবং নিজেদের মজলিসে ঘৃণ্য কর্ম কর। তার সম্প্রদায়ের এ কথা বলা ছাড়া কোন জওয়াব ছিল না যে, তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের উপর আল্লাহর ‘আযাব নিয়ে এসো। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা পুরুষে-পুরুষে যিনা করত:

আল-আ'রাফ, ৭:৮১
إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ ﴿٨١﴾
তোমরা যৌন তাড়নায় স্ত্রীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন করছ, তোমরা হচ্ছ এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা জনসমক্ষে এ কুকর্ম করত:

আল-আনকাবূত, ২৯:২৯
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِي نَادِيكُمُ الْمُنْكَرَ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا ائْتِنَا بِعَذَابِ اللَّهِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٢٩﴾
তোমরা (কাম-তাড়িত হয়ে) পুরুষদের কাছে যাও, রাহাজানি কর এবং নিজেদের মজলিসে ঘৃণ্য কর্ম কর। তার সম্প্রদায়ের এ কথা বলা ছাড়া কোন জওয়াব ছিল না যে, তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের উপর আল্লাহর ‘আযাব নিয়ে এসো। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের আগে কেউ এ কাজ করত না:

আল-আ'রাফ, ৭:৮০
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِنَ الْعَالَمِينَ ﴿٨٠﴾
আর আমি লূতকে পাঠিয়েছিলাম। যখন সে তার জাতিকে বলেছিল, ‘তোমরা এমন নির্লজ্জতার কাজ করছ যা বিশ্বজগতে তোমাদের পূর্বে কোন একজনও করেনি।’ [তাইসিরুল কুরআন]

নবী জাতিকে বুঝালেন:

আন-নামাল, ২৭:৫৪
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ وَأَنْتُمْ تُبْصِرُونَ ﴿٥٤﴾
স্মরণ কর লূতের কথা, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল- তোমরা দেখে-শুনে কেন অশ্লীল কাজ করছ, [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের বোকামী ধরিয়ে দিলেন:

আন-নামাল, ২৭:৫৫
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ ﴿٥٥﴾
তোমরা কি কাম আসক্তি মিটানোর জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন কর? তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছ। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহকে ভয় করার আহ্বান জানালেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬১
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٦١﴾
যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না? [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬২
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٦٢﴾
আমি তো তোমাদের জন্য (প্রেরিত) একজন বিশ্বস্ত রসূল। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬৩
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٦٣﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমাকে মান্য কর। [তাইসিরুল কুরআন]

নবী তার নিঃস্বার্থতার কথা জানালেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬৪
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٦٤﴾
আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি র কুকর্মকে তাদের ঘৃণা করলেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬৮
قَالَ إِنِّي لِعَمَلِكُمْ مِنَ الْقَالِينَ ﴿١٦٨﴾
লূত বলল- ‘আমি তোমাদের এ কাজকে ঘৃণা করি। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি জাতিকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিলেন:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬৬
وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ ﴿١٦٦﴾
এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে ত্যাগ কর? রবং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হিজর, ১৫:৭১
قَالَ هَؤُلَاءِ بَنَاتِي إِنْ كُنْتُمْ فَاعِلِينَ ﴿٧١﴾
(লূত (আ.)) বলল, ‘তোমরা যদি কিছু করতেই চাও তাহলে এই আমার (জাতির) কন্যারা আছে।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬৫
أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ ﴿١٦٥﴾
জগতের সকল প্রাণীর মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সঙ্গে উপগত হও, [তাইসিরুল কুরআন]

তারা নবীর কথা মানল না:

হূদ, ১১:৭৯
قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنَاتِكَ مِنْ حَقٍّ وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ ﴿٧٩﴾
তারা বলল, ‘তোমার তো জানাই আছে যে, তোমার (নিজের বা জাতির) কন্যাদের আমাদের কোন দরকার নেই, আমরা কী চাই তাতো তুমি অবশ্যই জান।’ [তাইসিরুল কুরআন]

নবী বললেন, তোমরা আমাকে অপমান করো না:

হূদ, ১১:৭৮
وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِنْ قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ قَالَ يَا قَوْمِ هَؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِي فِي ضَيْفِي أَلَيْسَ مِنْكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ ﴿٧٨﴾
তার কওমের লোকেরা হুড়মুড় করে তার কাছে ছুটে আসলো, আগে থেকেই তারা এ রকম অসৎ কাজে অভ্যস্ত ছিল। সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! এই আমার (নিজের বা জাতির) কন্যারা আছে, তারা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র (যদি তোমরা বিয়ে কর), কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি ভাল মানুষ একটিও নেই?’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হিজর, ১৫:৬৮
قَالَ إِنَّ هَؤُلَاءِ ضَيْفِي فَلَا تَفْضَحُونِ ﴿٦٨﴾
লূত বলল, ‘এরা আমার মেহমান, কাজেই তোমরা আমাকে লাঞ্ছিত করো না। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হিজর, ১৫:৬৯
وَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ ﴿٦٩﴾
তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আমাকে লজ্জিত করো না।’ [তাইসিরুল কুরআন]

তারা নবীর পরিবারকে নির্বাসিত করতে চাইল:

আল-আ'রাফ, ৭:৮২
وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوهُمْ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ ﴿٨٢﴾
তার জাতির এ ছাড়া আর কোন জবাব ছিল না যে, ‘তোমাদের জনপদ থেকে এদেরকে বের করে দাও, এরা এমন লোক যারা খুব পবিত্র হতে চায়।’ [তাইসিরুল কুরআন]

নবীকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিল:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬৭
قَالُوا لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ يَا لُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِينَ ﴿١٦٧﴾
তারা বলল- ‘হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও তবে তুমি অবশ্য অবশ্যই বহিস্কৃত হবে।’ [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের অধিকাংশই ঈমান আনেনি:

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭৪
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٧٤﴾
নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। [তাইসিরুল কুরআন]

এর স্ত্রীও ঈমান আনেনি:

আত-তাহরীম, ৬৬:১০
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ كَفَرُوا اِمْرَأَةَ نُوحٍ وَامْرَأَةَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ ﴿١٠﴾
যারা কুফুরীর নীতি অবলম্বন করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ নূহের স্ত্রী আর লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। এরা ছিল আমার দু’নেককার বান্দার অধীনে। কিন্তু তারা দু’জনেই তাদের স্বামীদ্বয়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারল না। তাদেরকে বলা হল, ‘‘তোমরা দু’জন জাহান্নামে প্রবেশ কর (অন্যান্য) প্রবেশকারীদের সঙ্গে।’’ [তাইসিরুল কুরআন]

মাত্র একটি পরিবার মুসলিম ছিল:

আয-যারিয়াত, ৫১:৩৬
فَمَا وَجَدْنَا فِيهَا غَيْرَ بَيْتٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿٣٦﴾
আমি সেখানে মুসলিমদের একটি পরিবার ছাড়া আর পাইনি। [তাইসিরুল কুরআন]

নবীর সতর্কবাণী অস্বীকার করল:

আল-কামার, ৫৪:৩৩
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ بِالنُّذُرِ ﴿٣٣﴾
লূতের জাতি সতর্কবাণী প্রত্যাখ্যান করেছিল, [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬০
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٦٠﴾
লূতের সম্প্রদায় রসুলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা শাস্তির ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করল:

আল-কামার, ৫৪:৩৬
وَلَقَدْ أَنْذَرَهُمْ بَطْشَتَنَا فَتَمَارَوْا بِالنُّذُرِ ﴿٣٦﴾
লূত আমার কঠোর পাকড়াও সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিল, কিন্তু তারা সতর্কবাণীর বিষয়ে বাক বিতন্ডা করেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা আযাব চেয়ে বসল:

কোনো আয়াত নেই।

নবী আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করলেন:

আল-আনকাবূত, ২৯:৩০
قَالَ رَبِّ انْصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ ﴿٣٠﴾
সে বলল- হে আমার প্রতিপালক! ফাসাদ সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য কর। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৬৯
رَبِّ نَجِّنِي وَأَهْلِي مِمَّا يَعْمَلُونَ ﴿١٦٩﴾
হে আমার প্রতিপালক! তারা যা করে তা থেকে তুমি আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে রক্ষা কর।’ [তাইসিরুল কুরআন]

নবী আশ্রয় খুঁজতে লাগলেন:

হূদ, ১১:৮০
قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ ﴿٨٠﴾
সে বলল, ‘তোমাদেরকে দমন করার ক্ষমতা আমার যদি থাকত! অথবা কোন মজবুত আশ্রয়ে যদি আশ্রয় নিতে পারতাম!’ [তাইসিরুল কুরআন]

ফেরেশতারা তাকে সান্ত্বনা দিলেন:

হূদ, ১১:৮১
قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يَصِلُوا إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ ﴿٨١﴾
আগুন্তুকরা বলল, ‘হে লূত! আমরা তোমার প্রতিপালক প্রেরিত বার্তাবাহক, তারা তোমার কাছে কক্ষনো পৌঁছতে পারবে না, কাজেই কিছুটা রাত বাকী থাকতে তুমি তোমার পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়, তোমাদের কেউ যেন পিছনের দিকে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী (তোমাদের সঙ্গী হতে পারবে না) তারও তাই ঘটবে, অন্যদের যা ঘটবে। সকাল হল তাদের (শাস্তি আসার) নির্ধারিত সময়, সকাল কি নিকটবর্তী নয়?’ [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয় ফেরেশতাদের আগমনে লুত (আঃ) চিন্তিত হয়ে পড়লেন:

আল-আনকাবূত, ২৯:৩৩
وَلَمَّا أَنْ جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالُوا لَا تَخَفْ وَلَا تَحْزَنْ إِنَّا مُنَجُّوكَ وَأَهْلَكَ إِلَّا امْرَأَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٣٣﴾
আমার দূতরা যখন লূতের কাছে আসল তখন সে তাদের জন্য বিষণ্ণ হয়ে পড়ল এবং (তাদের রক্ষার ব্যাপারে) নিজেকে অসহায় মনে করল। তখন তারা বলল- তোমরা ভয় কর না, দুঃখ কর না, আমরা তোমাকে আর তোমার পরিবারবর্গকে রক্ষা করব তোমার স্ত্রীকে ছাড়া, সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:৭৭
وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالَ هَذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ ﴿٧٧﴾
আমার প্রেরিত বার্তাবাহকগণ যখন লূতের কাছে আসলো, তাদের আগমনে সে ঘাবড়ে গেল। (তাদেরকে রক্ষায়) নিজেকে অসমর্থ মনে করল, আর বলল, ‘আজ বড়ই বিপদের দিন। [তাইসিরুল কুরআন]

ফেরেশতারা আযাবের সংবাদ নিয়ে আগমন করেছিলেন:

আল-হিজর, ১৫:৬৩
قَالُوا بَلْ جِئْنَاكَ بِمَا كَانُوا فِيهِ يَمْتَرُونَ ﴿٦٣﴾
তারা বলল, ‘আমরা তা-ই নিয়ে এসেছি যে ব্যাপারে এ লোকেরা সন্দেহে পতিত ছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হিজর, ১৫:৬৪
وَأَتَيْنَاكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ ﴿٦٤﴾
তোমার কাছে আমরা সত্য নিয়েই এসেছি, আর আমরা অবশ্যই সত্যবাদী। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আনকাবূত, ২৯:৩৪
إِنَّا مُنْزِلُونَ عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ رِجْزًا مِنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ ﴿٣٤﴾
আমরা এ জনপদের বাসিন্দাদের উপর আসমানী শাস্তি নাযিল করব, কারণ তারা ছিল পাপাচারে লিপ্ত। [তাইসিরুল কুরআন]

পরের দিন সকালেই আযাব তাদেরকে গ্রাস করে ফেলল:

আল-হিজর, ১৫:৬৬
وَقَضَيْنَا إِلَيْهِ ذَلِكَ الْأَمْرَ أَنَّ دَابِرَ هَؤُلَاءِ مَقْطُوعٌ مُصْبِحِينَ ﴿٦٦﴾
আমি লূতকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলাম যে, সকাল হতে না হতেই সমূলে ধ্বংস করা হবে। [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:৮২
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ ﴿٨٢﴾
তারপর আমার নির্দেশ যখন এসে গেল, তখন আমি সেই জনপদকে উপর নীচ করে উল্টে দিলাম, আর তাদের উপর স্তরে স্তরে পাকানো মাটির প্রস্তর বর্ষণ করলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

ক্রমাগত প্রস্তর কঙ্কর বর্ষণ অপরাধীদের শাস্তি কাছেই থাকে:

কোনো আয়াত নেই।

আল্লাহ নবীকে হিজরত করতে বললেন:

হূদ, ১১:৮১
قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يَصِلُوا إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ ﴿٨١﴾
আগুন্তুকরা বলল, ‘হে লূত! আমরা তোমার প্রতিপালক প্রেরিত বার্তাবাহক, তারা তোমার কাছে কক্ষনো পৌঁছতে পারবে না, কাজেই কিছুটা রাত বাকী থাকতে তুমি তোমার পরিবার-পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়, তোমাদের কেউ যেন পিছনের দিকে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী (তোমাদের সঙ্গী হতে পারবে না) তারও তাই ঘটবে, অন্যদের যা ঘটবে। সকাল হল তাদের (শাস্তি আসার) নির্ধারিত সময়, সকাল কি নিকটবর্তী নয়?’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হিজর, ১৫:৬৫
فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ وَاتَّبِعْ أَدْبَارَهُمْ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ وَامْضُوا حَيْثُ تُؤْمَرُونَ ﴿٦٥﴾
কাজেই কিছুটা রাত থাকতে তুমি তোমার পরিবারবর্গকে নিয়ে বেরিয়ে পড় আর তুমি তাদের পেছনে পেছনে চলতে থাক। তোমাদের কেউ যেন পেছনে ফিরে না তাকায় বরং যেখানে যেতে বলা হচ্ছে চলে যাও।’ [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ নবীকে বাঁচালেন:

আস-সাফফাত, ৩৭:১৩৪
إِذْ نَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ ﴿١٣٤﴾
স্মরণ কর যখন আমি তাকে আর তার পরিবারের সকলকে উদ্ধার করেছিলাম [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাফফাত, ৩৭:১৩৫
إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ ﴿١٣٥﴾
এক বৃদ্ধা ছাড়া- সে ছিল পিছ-পড়াদের একজন। [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাফফাত, ৩৭:১৩৬
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ ﴿١٣٦﴾
অতঃপর অন্য সব্বাইকে আমি পুরোপুরি ধ্বংস করে ছিয়েছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৮৩
فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٨٣﴾
অতঃপর আমি তাকে আর তার পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করলাম কিন্তু তার স্ত্রী ছাড়া, কেননা সে ছিল পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। [তাইসিরুল কুরআন]

মুমিনদেরকেও বাঁচানো হলো:

আয-যারিয়াত, ৫১:৩৫
فَأَخْرَجْنَا مَنْ كَانَ فِيهَا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٣٥﴾
সেখানে যারা মু’মিন ছিল আমি তাদেরকে বের করে এনেছিলাম, [তাইসিরুল কুরআন]

এটা ছিল আল্লাহর অনুগ্রহ:

আল-কামার, ৫৪:৩৫
نِعْمَةً مِنْ عِنْدِنَا كَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ شَكَرَ ﴿٣٥﴾
আমার পক্ষ হতে অনুগ্রহস্বরূপ; এভাবেই আমি তাকে প্রতিফল দেই যে কৃতজ্ঞ হয়। [তাইসিরুল কুরআন]

আকাশ থেকে গযব আসল:

আল-কামার, ৫৪:৩৮
وَلَقَدْ صَبَّحَهُمْ بُكْرَةً عَذَابٌ مُسْتَقِرٌّ ﴿٣٨﴾
অতি সকালে নির্ধারিত শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল। [তাইসিরুল কুরআন]

পাথর বর্ষণকারী বাতাস আসল:

আল-কামার, ৫৪:৩৪
إِنَّا أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ حَاصِبًا إِلَّا آلَ لُوطٍ نَجَّيْنَاهُمْ بِسَحَرٍ ﴿٣٤﴾
আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম প্রস্তরবর্ষী প্রচন্ড বাতাস, (যা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল) লূতের পরিবারকে বাদ দিয়ে। আমি তাদেরকে রাতের শেষ প্রহরে উদ্ধার করে নিয়েছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদেরকে একটি বিকট আওয়াজ আঘাত করল:

আল-হিজর, ১৫:৭৩
فَأَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ مُشْرِقِينَ ﴿٧٣﴾
সূর্যোদয়ের সময়ে এক প্রচন্ড ধ্বনি তাদের উপর আঘাত হানল। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করা হলো:

আয-যারিয়াত, ৫১:৩৩
لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِنْ طِينٍ ﴿٣٣﴾
যেন তাদের উপর মাটির পাথর বর্ষণ করি [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যারিয়াত, ৫১:৩৪
مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُسْرِفِينَ ﴿٣٤﴾
যা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত হয়ে আছে সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য। [তাইসিরুল কুরআন]

তা বৃষ্টির মতো পড়তে লাগল:

হূদ, ১১:৮২
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ ﴿٨٢﴾
তারপর আমার নির্দেশ যখন এসে গেল, তখন আমি সেই জনপদকে উপর নীচ করে উল্টে দিলাম, আর তাদের উপর স্তরে স্তরে পাকানো মাটির প্রস্তর বর্ষণ করলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
আন-নামাল, ২৭:৫৮
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَسَاءَ مَطَرُ الْمُنْذَرِينَ ﴿٥٨﴾
আর আমি তাদের উপর বর্ষিয়ে ছিলাম এক ভয়ংকর বৃষ্টি। ভীতি প্রদর্শিতদের উপর এ বৃষ্টি ছিল কতই না মন্দ! [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের বসতি উল্টে দেয়া হলো:

আল-হিজর, ১৫:৭৪
فَجَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ ﴿٧٤﴾
আর আমি সে জনপদকে উল্টে (উপর-নীচ) করে দিলাম আর তাদের উপর পাকানো মাটির প্রস্তর বর্ষণ করলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

এটা রাস্তার পাশেই অবস্থিত:

আল-হিজর, ১৫:৭৬
وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٍ مُقِيمٍ ﴿٧٦﴾
এটি মানুষের চলাচল পথের পাশেই বিদ্যমান। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের এলাকায় নিদর্শন রয়েছে:

আল-আনকাবূত, ২৯:৩৫
وَلَقَدْ تَرَكْنَا مِنْهَا آيَةً بَيِّنَةً لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ ﴿٣٥﴾
এতে আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এক সুস্পষ্ট নিদর্শন রেখে দিয়েছি। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের পরিণাম লক্ষ্যণীয়:

আল-আ'রাফ, ৭:৮৪
وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِمْ مَطَرًا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ ﴿٨٤﴾
তাদের উপর এক পাথরের বৃষ্টি বর্ষিয়ে দিলাম। তারপর দেখ, অপরাধীদের পরিণতি কী হয়েছিল! [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাফফাত, ৩৭:১৩৭
وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِمْ مُصْبِحِينَ ﴿١٣٧﴾
তোমরা তো তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বসতিগুলোর উপর দিয়ে অবশ্যই চলাচল কর সকালে [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাফফাত, ৩৭:১৩৮
وَبِاللَّيْلِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿١٣٨﴾
ও সন্ধ্যায়, তোমরা কি বুঝবে না? [তাইসিরুল কুরআন]

জ্ঞানীরাই এসব থেকে উপকৃত হয়:

আল-হিজর, ১৫:৭৫
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِلْمُتَوَسِّمِينَ ﴿٧٥﴾
এতে অবশ্যই অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকেদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হিজর, ১৫:৭৭
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٧٧﴾
মু’মিনদের জন্য এতে বড়ই নিদর্শন রয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা আযাব চেয়ে বসল ।

আল-আনকাবূত, ২৯:২৯
أَئِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ وَتَقْطَعُونَ السَّبِيلَ وَتَأْتُونَ فِي نَادِيكُمُ الْمُنْكَرَ فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا ائْتِنَا بِعَذَابِ اللَّهِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٢٩﴾
তোমরা (কাম-তাড়িত হয়ে) পুরুষদের কাছে যাও, রাহাজানি কর এবং নিজেদের মজলিসে ঘৃণ্য কর্ম কর। তার সম্প্রদায়ের এ কথা বলা ছাড়া কোন জওয়াব ছিল না যে, তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের উপর আল্লাহর ‘আযাব নিয়ে এসো। [তাইসিরুল কুরআন]

অপরাধীদের শাস্থি কাছেই থাকে ।

হূদ, ১১:৮৩
مُسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّكَ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ ﴿٨٣﴾
যে প্রস্তর খন্ডের প্রতিটিই তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিল। যালিমদের জন্য এ শাস্তি বেশী দূরের ব্যাপার নয়। [তাইসিরুল কুরআন]

ফেরেশতারা জানালেন যে লূতের (আঃ) পরিবারবর্গ শাস্তির অন্তর্ভুক্ত নয়।

আল-হিজর, ১৫:৫৯
إِلَّا آلَ لُوطٍ إِنَّا لَمُنَجُّوهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٥٩﴾
তবে লূতের পরিবার বাদে, তাদের সবাইকে আমরা অবশ্যই রক্ষা করব। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতারা লূতের (আঃ) পরিবারের সকল সদস্যকে রক্ষা করার নিশ্চয়তা দিলেন।

আল-হিজর, ১৫:৫৯
إِلَّا آلَ لُوطٍ إِنَّا لَمُنَجُّوهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٥٩﴾
তবে লূতের পরিবার বাদে, তাদের সবাইকে আমরা অবশ্যই রক্ষা করব। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর সিদ্ধান্ত হলো, লূতের স্ত্রী অবশ্যই ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আল-হিজর, ১৫:৬০
إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَا إِنَّهَا لَمِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٦٠﴾
তবে তার স্ত্রীকে নয়, আমরা (আল্লাহর নির্দেশক্রমে) তার জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি যে, সে পেছনে থেকে যাওয়া লোকেদের মধ্যে শামিল থাকবে।’ [তাইসিরুল কুরআন]

প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূত (আঃ)-এর পরিবারের কাছে আগমন করলেন।

আল-হিজর, ১৫:৬১
فَلَمَّا جَاءَ آلَ لُوطٍ الْمُرْسَلُونَ ﴿٦١﴾
আল্লাহর প্রেরিতরা যখন লূত পরিবারের নিকট আসল, [তাইসিরুল কুরআন]

লূত (আঃ) তাঁর নিকট আগত অতিথিদেরকে অপরিচিত সম্প্রদায় হিসেবে অভিহিত করলেন।

আল-হিজর, ১৫:৬২
قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ مُنْكَرُونَ ﴿٦٢﴾
সে বলল, ‘আপনাদেরকে তো অপরিচিত লোক মনে হচ্ছে।’ [তাইসিরুল কুরআন]

শহরের অধিবাসীরা আনন্দ প্রকাশ করতে করতে আগমন করল।

আল-হিজর, ১৫:৬৭
وَجَاءَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ يَسْتَبْشِرُونَ ﴿٦٧﴾
শহরের লোকেরা আনন্দ সহকারে (লূতের ঘরে) উপস্থিত হল। [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই লুতের সম্প্রদায় নিজেদের পাপাসক্তিতে মত্ত হয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরছিল।

আল-হিজর, ১৫:৭২
لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿٧٢﴾
তোমার জীবনের শপথ হে নাবী! তারা উন্মত্ত নেশায় আত্মহারা হয়ে পড়েছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

তবে এক বৃদ্ধা (লূতের স্ত্রী) ব্যতীত, যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭১
إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ ﴿١٧١﴾
এক বৃদ্ধা ছাড়া। সে ছিল পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। [তাইসিরুল কুরআন]

লূতের (আঃ) সম্প্রদায়ের একমাত্র উত্তর ছিল লূতের পরিবারকে তাদের জনপদ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ।

আন-নামাল, ২৭:৫৬
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ ﴿٥٦﴾
তখন তার সম্প্রদায়ের এ কথা বলা ছাড়া আর কোন জওয়াব ছিল না যে, তোমাদের জনপদ থেকে লূতের পরিবারবর্গকে বের করে দাও, এরা এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়। [তাইসিরুল কুরআন]

লূতের সম্প্রদায় বহিষ্কারের কারণ হিসেবে বলেছিল যে, লূত ও তাঁর পরিবার অতি পবিত্র থাকতে চায়।

আন-নামাল, ২৭:৫৬
فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا أَخْرِجُوا آلَ لُوطٍ مِنْ قَرْيَتِكُمْ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ ﴿٥٦﴾
তখন তার সম্প্রদায়ের এ কথা বলা ছাড়া আর কোন জওয়াব ছিল না যে, তোমাদের জনপদ থেকে লূতের পরিবারবর্গকে বের করে দাও, এরা এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়। [তাইসিরুল কুরআন]

তবে লূত (আঃ)-এর স্ত্রী রক্ষা পাওয়ার এই প্রতিশ্রুতির অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

আল-আনকাবূত, ২৯:৩২
قَالَ إِنَّ فِيهَا لُوطًا قَالُوا نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَنْ فِيهَا لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٣٢﴾
ইবরাহীম বলল- ওখানে তো লূত আছে। তারা বলল- ওখানে কারা আছে আমরা তা ভাল করেই জানি, আমরা তাকে আর তার পরিবারবর্গকে অবশ্য অবশ্যই রক্ষা করব তার স্ত্রীকে ছাড়া, সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। [তাইসিরুল কুরআন]

লূত (আঃ)-এর স্ত্রী (শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে) পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আল-আনকাবূত, ২৯:৩২
قَالَ إِنَّ فِيهَا لُوطًا قَالُوا نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَنْ فِيهَا لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ ﴿٣٢﴾
ইবরাহীম বলল- ওখানে তো লূত আছে। তারা বলল- ওখানে কারা আছে আমরা তা ভাল করেই জানি, আমরা তাকে আর তার পরিবারবর্গকে অবশ্য অবশ্যই রক্ষা করব তার স্ত্রীকে ছাড়া, সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই কাফিররা সেই জনপদ অতিক্রম করেছে যার উপর অশুভ বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল।

আল-ফুরকান, ২৫:৪০
وَلَقَدْ أَتَوْا عَلَى الْقَرْيَةِ الَّتِي أُمْطِرَتْ مَطَرَ السَّوْءِ أَفَلَمْ يَكُونُوا يَرَوْنَهَا بَلْ كَانُوا لَا يَرْجُونَ نُشُورًا ﴿٤٠﴾
তারা (অর্থাৎ কাফিররা) তো সে জনপদ দিয়েই অতিক্রম করে যার উপর বর্ষিত হয়েছিল অকল্যাণের বৃষ্টি, তারা কি তা দেখে না? আসলে তারা পুনরুত্থানের কথা চিন্তা করে না। [তাইসিরুল কুরআন]

অতঃপর আল্লাহ লূতকে (আঃ) নাজাত দিলেন।

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭০
فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ ﴿١٧٠﴾
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গের সকলকে রক্ষা করলাম [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ লূতের (আঃ) পরিবারের সকল সদস্যকেও নাজাত দিলেন।

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭০
فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ ﴿١٧٠﴾
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গের সকলকে রক্ষা করলাম [তাইসিরুল কুরআন]

অতঃপর আল্লাহ সেই উল্টে দেওয়া জনপদকে তা দিয়ে আচ্ছন্ন করলেন, যা দিয়ে আচ্ছন্ন করার ছিল।

আন-নাজম, ৫৩:৫৪
فَغَشَّاهَا مَا غَشَّى ﴿٥٤﴾
অতঃপর তাকে আচ্ছন্ন করল যা তাকে আচ্ছন্ন করেছে। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px