বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ৪. হুদ (আঃ)
হুদ (আঃ) ছিলেন আদ জাতির নবী:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৫ ⋮
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنَ إِلَهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ ﴿٦٥﴾
আর ‘আদ জাতির কাছে (পাঠিয়েছিলাম) তাদের ভাই হূদকে। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি তাক্বওয়া অবলম্বন করবে না?’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা ছিল আহকাফের অধিবাসী:
আল-আহকাফ, ৪৬:২১ ⋮
وَاذْكُرْ أَخَا عَادٍ إِذْ أَنْذَرَ قَوْمَهُ بِالْأَحْقَافِ وَقَدْ خَلَتِ النُّذُرُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿٢١﴾
স্মরণ কর ‘আদ জাতির ভ্রাতার (হূদ) কথা। সে তার আহকাফবাসী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। (এ ধরনের) সতর্ককারীরা তার পূর্বেও এসেছিল আর তার পরেও এসেছিল (যারা বলেছিল) যে, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করো না। আমি তোমাদের উপর এক ভয়াবহ দিনের ‘আযাবের আশঙ্কা করছি।’ [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) এর পরেই তাদের উত্থান হয়েছিল:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৯ ⋮
أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٦٩﴾
তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছ যে, তোমাদেরই মধ্যে একজন লোকের উপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে উপদেশ এসেছে তোমাদেরকে সাবধান করার উদ্দেশে। আরো স্মরণ কর তিনি তোমাদেরকে নূহের কওমের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন আর দৈহিক গঠনে অধিকতর বলিষ্ঠ করেছেন, কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর যাতে তোমরা সাফল্যমন্ডিত হতে পার।’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নজিরবিহীন জাতি ছিল:
আল-ফাজর, ৮৯:৮ ⋮
الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ ﴿٨﴾
যার সমতুল্য অন্য কোন দেশে নির্মিত হয়নি। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা বলিষ্ঠ ও স্বাস্থ্যবান ছিল:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৯ ⋮
أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٦٩﴾
তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছ যে, তোমাদেরই মধ্যে একজন লোকের উপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে উপদেশ এসেছে তোমাদেরকে সাবধান করার উদ্দেশে। আরো স্মরণ কর তিনি তোমাদেরকে নূহের কওমের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন আর দৈহিক গঠনে অধিকতর বলিষ্ঠ করেছেন, কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর যাতে তোমরা সাফল্যমন্ডিত হতে পার।’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নবীদেরকে মানত না:
হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:১৪ ⋮
إِذْ جَاءَتْهُمُ الرُّسُلُ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ قَالُوا لَوْ شَاءَ رَبُّنَا لَأَنْزَلَ مَلَائِكَةً فَإِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ ﴿١٤﴾
তাদের কাছে যখন তাদের অগ্রে ও পশ্চাতে (একের পর এক) রসূলগণ এসেছিল (আর বলেছিল)- তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করো না। (জবাবে) তারা বলেছিল- আমাদের প্রতিপালক ইচ্ছে করলে তো অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। কাজেই তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তা অমান্য করছি। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা শক্তির গর্ব করত:
হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:১৫ ⋮
فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ ﴿١٥﴾
আর ‘আদ-এর অবস্থা ছিল এই যে, দুনিয়াতে তারা না-হক অহংকার করেছিল, আর বলেছিল- আমাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী আর কে আছে? তারা কি চিন্তা করে দেখেনি যে, আল্লাহ- যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন- শক্তিতে তাদের চেয়ে প্রবল? কিন্তু তারা আমার আয়াতগুলো অস্বীকার করতেই থাকল। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৩০ ⋮
وَإِذَا بَطَشْتُمْ بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ ﴿١٣٠﴾
আর যখন তোমরা (দুর্বল শ্রেণীর লোকদের উপর) আঘাত হান, তখন আঘাত হান নিষ্ঠুর মালিকের মত। [তাইসিরুল কুরআন]
আদ জাতি প্রবলভাবে আক্রমণ চালাত:
কোনো আয়াত নেই।
তারা উঁচু জায়গায় অনর্থক স্তম্ভ নির্মাণ করত:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১২৮ ⋮
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ ﴿١٢٨﴾
তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অনর্থক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছ? [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১২৯ ⋮
وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ ﴿١٢٩﴾
আর বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ. যেন তোমরা চিরদিন থাকবে? [তাইসিরুল কুরআন]
তারা স্বৈরাচারী শাসকের আদেশ মানত:
হূদ, ১১:৫৯ ⋮
وَتِلْكَ عَادٌ جَحَدُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا رُسُلَهُ وَاتَّبَعُوا أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ ﴿٥٩﴾
এই হল ‘আদ, তারা তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিল, আর তাদের রসূলদেরকে অমান্য করেছিল, প্রত্যেক প্রবল পরাক্রান্ত, সত্য-দ্বীনের দুশমনের নির্দেশের তারা অনুসরণ করেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা শিরক করত:
আল-আ'রাফ, ৭:৭০ ⋮
قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٧٠﴾
তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যাতে আমরা এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করি আর আমাদের পিতৃপুরুষগণ যার ‘ইবাদাত করত তা ত্যাগ করি? কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তাহলে আমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা করছ (ভয় দেখাচ্ছ) তা নিয়ে এসো।’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাসী ছিল না:
আল-হাক্কাহ, ৬৯:৪ ⋮
كَذَّبَتْ ثَمُودُ وَعَادٌ بِالْقَارِعَةِ ﴿٤﴾
‘আদ ও সামূদ জাতি সেই আকস্মিকভাবে সংঘটিতব্য মহাবিপদকে মিথ্যে বলেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
হুদ (আঃ) জাতিকে তাওহীদের দাওয়াত দিলেন:
হূদ, ১১:৫০ ⋮
وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ ﴿٥٠﴾
আর ‘আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা তো শুধু মিথ্যে বানিয়ে নিয়েছ। [তাইসিরুল কুরআন]
জাতির প্রধানগণ নবীকে নির্বোধ বলল:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৬ ⋮
قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ﴿٦٦﴾
তার জাতির প্রধানগণ- যারা ইমান আনতে অস্বীকার করেছিল, বলল, ‘তুমি নিশ্চিতই নির্বুদ্ধিতায় ডুবে আছ, আর আমরা মনে করি তুমি মিথ্যেবাদী।’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নবীকে বলল, তোমাকে পাগলামীতে পেয়েছে:
হূদ, ১১:৫৪ ⋮
إِنْ نَقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ ﴿٥٤﴾
আমরা এ কথাই বলি যে, তোমার উপর আমাদের কোন উপাস্যের অশুভ ছায়া পড়েছে।’ সে বলল, ‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি আর তোমরাও সাক্ষী হও যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাকে তাঁর শরীক কর তার সাথে আমি পুরোপুরি সম্পর্কহীন। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৩৬ ⋮
قَالُوا سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَوَعَظْتَ أَمْ لَمْ تَكُنْ مِنَ الْوَاعِظِينَ ﴿١٣٦﴾
তারা বলল- ‘তুমি নসীহত কর আর না কর, আমাদের জন্য দু’ই সমান। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নবীকে বলল, তোমার উপদেশের দরকার নেই:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৩৭ ⋮
إِنْ هَذَا إِلَّا خُلُقُ الْأَوَّلِينَ ﴿١٣٧﴾
এসব (কথাবার্তা বলা) পূর্ববর্তী লোকেদের অভ্যাস ছাড়া আর অন্য কিছুই না। [তাইসিরুল কুরআন]
আমরা তোমাকে মানব না:
হূদ, ১১:৫৩ ⋮
قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَنْ قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ ﴿٥٣﴾
তারা বলল, ‘হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যগুলোকে ত্যাগ করতে পারি না, আমরা তোমাতে বিশ্বাসী নই। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা আযাব চেয়ে বসল:
আল-আহকাফ, ৪৬:২২ ⋮
قَالُوا أَجِئْتِنَا لِتَأْفِكَنَا عَنْ آلِهَتِنَا فَائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٢٢﴾
লোকেরা বলেছিল- ‘তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগুলো হতে সরিয়ে নেয়ার জন্য আমাদের কাছে এসেছ। কাজেই তুমি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো আমাদের কাছে যদি তুমি সত্যবাদী হও।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৭০ ⋮
قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٧٠﴾
তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যাতে আমরা এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করি আর আমাদের পিতৃপুরুষগণ যার ‘ইবাদাত করত তা ত্যাগ করি? কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তাহলে আমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা করছ (ভয় দেখাচ্ছ) তা নিয়ে এসো।’ [তাইসিরুল কুরআন]
নবী বললেন, আমি নির্বোধ নই:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৭ ⋮
قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٦٧﴾
সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার মাঝে কোন নির্বুদ্ধিতা নেই, বরং আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রেরিত রসূল।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আমি তোমাদের রাসূল:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১২৫ ⋮
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٢٥﴾
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) এক বিশ্বস্ত রসুল। [তাইসিরুল কুরআন]
আমি তোমাদের হিতাকাঙ্খী:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৮ ⋮
أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ ﴿٦٨﴾
‘আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদের বিশ্বস্ত কল্যাণকামী। [তাইসিরুল কুরআন]
তোমরা আল্লাহকে ভয় করো ও আমার অনুসরণ করো:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১২৬ ⋮
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٢٦﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে মান্য কর। [তাইসিরুল কুরআন]
আমি তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১২৭ ⋮
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٢٧﴾
আর এ জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান আছে কেবল বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট। [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:৫১ ⋮
يَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٥١﴾
হে আমার সম্প্রদায়! এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার পারিশ্রমিক তো তাঁর জিম্মায় যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তবুও কি তোমরা জ্ঞান-বুদ্ধি খাটাবে না? [তাইসিরুল কুরআন]
আমি শিরক থেকে মুক্ত:
হূদ, ১১:৫৪ ⋮
إِنْ نَقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ ﴿٥٤﴾
আমরা এ কথাই বলি যে, তোমার উপর আমাদের কোন উপাস্যের অশুভ ছায়া পড়েছে।’ সে বলল, ‘আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি আর তোমরাও সাক্ষী হও যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাকে তাঁর শরীক কর তার সাথে আমি পুরোপুরি সম্পর্কহীন। [তাইসিরুল কুরআন]
তোমরাও সাক্ষী হও যে আযাব সম্পর্কে আমার জ্ঞান নেই:
আল-আহকাফ, ৪৬:২৩ ⋮
قَالَ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللَّهِ وَأُبَلِّغُكُمْ مَا أُرْسِلْتُ بِهِ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ ﴿٢٣﴾
সে বলল (‘আযাব কখন আসবে না আসবে) ‘সে বিষয়ের জ্ঞান তো আল্লাহর নিকট আছে। আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তাই শুধু তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছে। [তাইসিরুল কুরআন]
তোমরা আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করো:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৯ ⋮
أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٦٩﴾
তোমরা কি আশ্চর্য হচ্ছ যে, তোমাদেরই মধ্যে একজন লোকের উপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে উপদেশ এসেছে তোমাদেরকে সাবধান করার উদ্দেশে। আরো স্মরণ কর তিনি তোমাদেরকে নূহের কওমের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন আর দৈহিক গঠনে অধিকতর বলিষ্ঠ করেছেন, কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর যাতে তোমরা সাফল্যমন্ডিত হতে পার।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৩২ ⋮
وَاتَّقُوا الَّذِي أَمَدَّكُمْ بِمَا تَعْلَمُونَ ﴿١٣٢﴾
ভয় কর তাঁকে যিনি তোমাদেরকে যাবতীয় বস্তু দান করেছেন যা তোমাদের জানা আছে। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৩৩ ⋮
أَمَدَّكُمْ بِأَنْعَامٍ وَبَنِينَ ﴿١٣٣﴾
যিনি তোমাদেরকে দান করেছেন গবাদি পশু ও সন্তান-সন্তুতি। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৩৪ ⋮
وَجَنَّاتٍ وَعُيُونٍ ﴿١٣٤﴾
আর উদ্যানরাজি ও ঝর্ণাসমূহ। [তাইসিরুল কুরআন]
তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো:
হূদ, ১১:৫২ ⋮
وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَى قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ ﴿٥٢﴾
হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের রবেবর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর অনুশোচনাভরে তাঁর দিকেই ফিরে যাও, তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের শক্তিকে আরো শক্তি দিয়ে বাড়িয়ে দিবেন, আর অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিও না। [তাইসিরুল কুরআন]
নবী আযাবের ভয় দেখালেন:
আল-আ'রাফ, ৭:৫৯ ⋮
لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿٥٩﴾
আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নাই।’ (তোমরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে) মহাদিনে আমি তোমাদের জন্য শাস্তির আশঙ্কা করি। [তাইসিরুল কুরআন]
নবীর চ্যালেঞ্জ ঘোষণা:
হূদ, ১১:৫৫ ⋮
مِنْ دُونِهِ فَكِيدُونِي جَمِيعًا ثُمَّ لَا تُنْظِرُونِي ﴿٥٥﴾
তাঁকে (আল্লাহ) ব্যতীত তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর আর আমাকে একটুও অবকাশ দিও না। [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:৫৬ ⋮
إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُمْ مَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٥٦﴾
আমি নির্ভর করি আল্লাহর উপর যিনি আমার আর তোমাদের রব, এমন কোন জীব নেই যার কতৃত্ব তাঁর হাতে নয়, নিশ্চয়ই আমার রব সরল পথের উপর প্রতিষ্ঠিত। [তাইসিরুল কুরআন]
কঠোর সতর্কবাণী শোনালেন:
হূদ, ১১:৫৭ ⋮
فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ مَا أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَيْكُمْ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّي قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُ شَيْئًا إِنَّ رَبِّي عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ ﴿٥٧﴾
এরপরও যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে লও (তবে জেনে রেখ), আমাকে যা দিয়ে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে আমি তো তোমাদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছি, এখন আমার প্রতিপালক তোমাদের স্থলে অন্য সম্প্রদায়কে নিয়ে আসবেন আর তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আমার প্রতিপালক সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৭১ ⋮
قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ رِجْسٌ وَغَضَبٌ أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا نَزَّلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ ﴿٧١﴾
সে বলল, ‘তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের অসন্তোষ ও ক্রোধ নেমে এসেছে। তাহলে তোমরা কি আমার সঙ্গে এমন কতকগুলো নাম সম্পর্কে বিতর্ক করছ যেগুলোর নামকরণ তোমরা আর তোমাদের বাপ-দাদারাই করেছে যে সম্পর্কে আল্লাহ কোন প্রমাণ নাযিল করেননি? তাহলে তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষমান থাকলাম।’ [তাইসিরুল কুরআন]
জাতির লোকেরা রাসুলকে অস্বীকার করল :
আশ-শুআ'রা, ২৬:১২৩ ⋮
كَذَّبَتْ عَادٌ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٢٣﴾
‘আদ সম্প্রদায় রসূলগণকে মিথ্যে সাব্যস্ত করেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
এজন্য তাদের উপর অভিশাপ আসল:
হূদ, ১১:৬০ ⋮
وَأُتْبِعُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا إِنَّ عَادًا كَفَرُوا رَبَّهُمْ أَلَا بُعْدًا لِعَادٍ قَوْمِ هُودٍ ﴿٦٠﴾
এ দুনিয়াতে তাদের পিছনে লা‘নত রয়েছে, আর কিয়ামাতের দিনেও। জেনে রেখ, ‘আদ জাতি তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করেছিল। জেনে রেখ! ধ্বংস করা হয়েছিল ‘আদকে যারা ছিল হূদের সম্প্রদায়। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ বাতাস পাঠালেন :
আল-কামার, ৫৪:১৯ ⋮
إِنَّا أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي يَوْمِ نَحْسٍ مُسْتَمِرٍّ ﴿١٩﴾
আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু এক অবিরাম অশুভ দিনে, [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যারিয়াত, ৫১:৪১ ⋮
وَفِي عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيحَ الْعَقِيمَ ﴿٤١﴾
আর ‘আদ-এর ঘটনাতেও (নিদর্শন আছে)। আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম অকল্যাণের বাতাস। [তাইসিরুল কুরআন]
এ বাতাসকে লোকেরা মেঘ মনে করেছিল:
আল-আহকাফ, ৪৬:২৪ ⋮
فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا بَلْ هُوَ مَا اسْتَعْجَلْتُمْ بِهِ رِيحٌ فِيهَا عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٢٤﴾
অতঃপর তারা যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন তারা বলল- ‘এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিবে।’ না, তা হল সেই জিনিস তোমরা যা তাড়াতাড়ি নিয়ে আসতে চেয়েছিলে। এ হল ঝড়, যাতে আছে ভয়াবহ ‘আযাব। [তাইসিরুল কুরআন]
এ বাতাস এক সপ্তাহ স্থায়ী ছিল:
আল-হাক্কাহ, ৬৯:৭ ⋮
سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَى كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ ﴿٧﴾
যা তাদের উপর প্রবাহিত হয়েছিল সাত রাত আট দিন বিরামহীনভাবে, তুমি দেখতে তারা পড়ে আছে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত, যেন তারা পুরাতন শুকনো খেজুর গাছের কান্ড। [তাইসিরুল কুরআন]
বাতাস সবকিছুকে নিশ্চিহ্ন করে দিল:
আল-আহকাফ, ৪৬:২৫ ⋮
تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا فَأَصْبَحُوا لَا يُرَى إِلَّا مَسَاكِنُهُمْ كَذَلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ ﴿٢٥﴾
ওটা তার প্রতিপালকের নির্দেশে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। অবস্থা এই দাঁড়াল যে, তাদের (ধ্বংসপ্রাপ্ত) বসতিগুলো ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছিল না। অপরাধী জাতিকে আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি। [তাইসিরুল কুরআন]
প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় তাদেরকে ধ্বংস করল:
আল-হাক্কাহ, ৬৯:৬ ⋮
وَأَمَّا عَادٌ فَأُهْلِكُوا بِرِيحٍ صَرْصَرٍ عَاتِيَةٍ ﴿٦﴾
আর ‘আদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া দিয়ে। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদের অস্তিত্ব বাকী থাকল না:
আল-হাক্কাহ, ৬৯:৮ ⋮
فَهَلْ تَرَى لَهُمْ مِنْ بَاقِيَةٍ ﴿٨﴾
তুমি তাদের কাউকে রক্ষা পেয়ে বেঁচে থাকতে দেখছ কি? [তাইসিরুল কুরআন]
তারা আবর্জনার মতো জমিনে পড়ে থাকল:
আল-হাক্কাহ, ৬৯:৭ ⋮
سَخَّرَهَا عَلَيْهِمْ سَبْعَ لَيَالٍ وَثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ حُسُومًا فَتَرَى الْقَوْمَ فِيهَا صَرْعَى كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِيَةٍ ﴿٧﴾
যা তাদের উপর প্রবাহিত হয়েছিল সাত রাত আট দিন বিরামহীনভাবে, তুমি দেখতে তারা পড়ে আছে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত, যেন তারা পুরাতন শুকনো খেজুর গাছের কান্ড। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কামার, ৫৪:২০ ⋮
تَنْزِعُ النَّاسَ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ مُنْقَعِرٍ ﴿٢٠﴾
মানুষকে তা উৎপাটিত করেছিল যেন তারা উৎপাটিত খেজুর গাছের কান্ড। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা যা অর্জন করেছিল তাতে কোন লাভ হয়নি:
আল-আহকাফ, ৪৬:২৬ ⋮
وَلَقَدْ مَكَّنَّاهُمْ فِيمَا إِنْ مَكَّنَّاكُمْ فِيهِ وَجَعَلْنَا لَهُمْ سَمْعًا وَأَبْصَارًا وَأَفْئِدَةً فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ سَمْعُهُمْ وَلَا أَبْصَارُهُمْ وَلَا أَفْئِدَتُهُمْ مِنْ شَيْءٍ إِذْ كَانُوا يَجْحَدُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٢٦﴾
তাদেরকে আমি যতটা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, তোমাদেরকে (হে কুরায়শ!) তেমন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করিনি আর তাদেরকে দিয়েছিলাম কান, চোখ ও হৃদয়। কিন্তু তাদের কান, তাদের চোখ আর তাদের হৃদয় তাদের কোন উপকারে আসেনি যেহেতু তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত। তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করত তা-ই তাদেরকে ঘিরে ফেলল। [তাইসিরুল কুরআন]
এটা ছিল দুনিয়ার আযাব:
হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:১৬ ⋮
فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي أَيَّامٍ نَحِسَاتٍ لِنُذِيقَهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَخْزَى وَهُمْ لَا يُنْصَرُونَ . ﴿١٦﴾
অতঃপর আমি অশুভ দিনগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে ঝাঞ্ঝা বায়ু পাঠালাম যাতে তারা দুনিয়ার জীবনে অপমানজনক শাস্তি আস্বাদন করে। আখিরাতের শাস্তি অবশ্যই অধিক লাঞ্ছনাদায়ক আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
পরকালের আযাব আরো লাঞ্ছনাদায়ক:
হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:১৬ ⋮
فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي أَيَّامٍ نَحِسَاتٍ لِنُذِيقَهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَخْزَى وَهُمْ لَا يُنْصَرُونَ . ﴿١٦﴾
অতঃপর আমি অশুভ দিনগুলোতে তাদের বিরুদ্ধে ঝাঞ্ঝা বায়ু পাঠালাম যাতে তারা দুনিয়ার জীবনে অপমানজনক শাস্তি আস্বাদন করে। আখিরাতের শাস্তি অবশ্যই অধিক লাঞ্ছনাদায়ক আর তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ নবী ও ঈমানদারদেরকে বাঁচালেন:
হূদ, ১১:৫৮ ⋮
وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَنَجَّيْنَاهُمْ مِنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ ﴿٥٨﴾
আমার নির্দেশ যখন এসে গেল, তখন আমি হূদকে আর তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার দয়ায় রক্ষা করলাম, আর তাদেরকে বাঁচিয়ে নিলাম এক কঠিন ‘আযাব হতে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৭২ ⋮
فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَمَا كَانُوا مُؤْمِنِينَ ﴿٧٢﴾
আমার করুণায় আমি তাকে ও তার সঙ্গী-সাথীদেরকে রক্ষা করলাম আর আমার নিদর্শনাবলীকে যারা অস্বীকার করেছিল এবং ঈমান আনেনি তাদের মূল উৎপাটন করলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
এ আযাব ছিল খুবই কঠিন ও ভয়াবহ:
আল-ফাজর, ৮৯:৮ ⋮
الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ ﴿٨﴾
যার সমতুল্য অন্য কোন দেশে নির্মিত হয়নি। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কামার, ৫৪:১৮ ⋮
كَذَّبَتْ عَادٌ فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِي وَنُذُرِ ﴿١٨﴾
‘আদ জাতি সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে কত ভয়ংকর ছিল আমার ‘আযাব ও ভীতি প্রদর্শন। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ফাজর, ৮৯:৬ ⋮
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ ﴿٦﴾
তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক ‘আদ জাতির সঙ্গে কী ব্যবহার করেছিলেন? [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ফাজর, ৮৯:৭ ⋮
إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ ﴿٧﴾
উচ্চ স্তম্ভ নির্মাণকারী ইরাম গোত্রের প্রতি? [তাইসিরুল কুরআন]
এ ঘটনায় নিদর্শন রয়েছে:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১৩৯ ⋮
فَكَذَّبُوهُ فَأَهْلَكْنَاهُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٣٩﴾
অতঃপর তারা তাকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখ্যান করল। তখন আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিলাম। অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। [তাইসিরুল কুরআন]
তুমি তাওহিদের দাওয়াত নিয়ে কেন এসেছো ?
আল-আ'রাফ, ৭:৭০ ⋮
قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٧٠﴾
তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যাতে আমরা এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করি আর আমাদের পিতৃপুরুষগণ যার ‘ইবাদাত করত তা ত্যাগ করি? কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তাহলে আমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা করছ (ভয় দেখাচ্ছ) তা নিয়ে এসো।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আহকাফ, ৪৬:২২ ⋮
قَالُوا أَجِئْتِنَا لِتَأْفِكَنَا عَنْ آلِهَتِنَا فَائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٢٢﴾
লোকেরা বলেছিল- ‘তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগুলো হতে সরিয়ে নেয়ার জন্য আমাদের কাছে এসেছ। কাজেই তুমি আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো আমাদের কাছে যদি তুমি সত্যবাদী হও।’ [তাইসিরুল কুরআন]
অপরাধীদের পরিনতী এমনি হয় ।
আল-আহকাফ, ৪৬:২৫ ⋮
تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّهَا فَأَصْبَحُوا لَا يُرَى إِلَّا مَسَاكِنُهُمْ كَذَلِكَ نَجْزِي الْقَوْمَ الْمُجْرِمِينَ ﴿٢٥﴾
ওটা তার প্রতিপালকের নির্দেশে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। অবস্থা এই দাঁড়াল যে, তাদের (ধ্বংসপ্রাপ্ত) বসতিগুলো ছাড়া আর কিছু দেখা যাচ্ছিল না। অপরাধী জাতিকে আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি। [তাইসিরুল কুরআন]