বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ২. নূহ (আঃ)
তারা ছিল অজ্ঞ সম্প্রদায়:
হূদ, ১১:২৯ ⋮
وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّهُمْ مُلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ ﴿٢٩﴾
হে আমার জাতির লোকেরা! আমি এ কাজে তোমাদের কাছে কোন ধন-সম্পদ চাই না, আমার পারিশ্রমিক আছে কেবল আল্লাহর কাছে। আর মু’মিনদের তাড়িয়ে দেয়া আমার জন্য শোভনীয় নয়, তারা তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎ অবশ্যই লাভ করবে, কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছ। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নবীকে মিথ্যুক মনে করত:
হূদ, ১১:২৭ ⋮
فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ ﴿٢٧﴾
জওয়াবে তার জাতির প্রধানগণ- যারা অবিশ্বাসী ছিল তারা বলল, ‘আমরা তোমাকে আমাদের মত মানুষ ছাড়া অন্য কিছু দেখছি না, আর প্রকাশ্যতঃ আমাদের হীন অধম লোকগুলো ছাড়া তোমার পথ অবলম্বন করতে দেখছি না, আমাদের উপর তোমার কোন প্রাধান্যও দেখছি না, বরং আমরা তোমাদেরক মিথ্যুক বলেই মনে করি।’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা ছিল খারাপ জাতি:
আল-আম্বিয়া, ২১:৭৭ ⋮
وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٧٧﴾
আর আমি তাকে সেই লোকেদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম যারা আমার আয়াতকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা ছিল এক খারাপ সম্প্রদায়, কাজেই তাদের সব্বাইকে (বানে) ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা ছিল সত্যের ব্যাপারে অন্ধ:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৪ ⋮
فَكَذَّبُوهُ فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا عَمِينَ ﴿٦٤﴾
কিন্তু তারা তাকে (মিথ্যেবাদী মনে করে) অস্বীকার করল। অতঃপর আমি তাকে আর তার সঙ্গে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম আর আমার আয়াতগুলোকে যারা অস্বীকার করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। তারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায়। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা ছিল যালিম ও বিদ্রোহী:
আন-নাজম, ৫৩:৫২ ⋮
وَقَوْمَ نُوحٍ مِنْ قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَى ﴿٥٢﴾
আর তার পূর্বে নূহের জাতিকেও, তারা ছিল অত্যধিক যালিম ও সীমালঙ্ঘনকারী। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) এর জাতি ছিল ফাসিক:
আয-যারিয়াত, ৫১:৪৬ ⋮
وَقَوْمَ نُوحٍ مِنْ قَبْلُ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ ﴿٤٦﴾
ইতোপূর্বে আমি নূহের জাতিকে ধ্বংস করেছিলাম, তারা ছিল এক পাপাচারী জাতি। [তাইসিরুল কুরআন]
লায়ন করত শুনলে পলায় তারা দাওয়াত শুন রত:
নূহ, ৭১:৬ ⋮
فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِي إِلَّا فِرَارًا ﴿٦﴾
কিন্তু আমার ডাক কেবল তাদের পলায়নী মনোবৃত্তিকেই বাড়িয়ে দিয়েছে, [তাইসিরুল কুরআন]
তারা কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিত:
নূহ, ৭১:৭ ⋮
وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَارًا ﴿٧﴾
আমি যখনই তাদেরকে ডাকি যেন তুমি তাদেরকে ক্ষমা করে দাও, তখনই তারা তাদের কানে আঙ্গল ডুকিয়ে দিয়েছে, কাপড়ে মুখ ঢেকে নিয়েছে, জিদ করেছে আর খুব বেশি অহঙ্কার করেছে। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা ষড়যন্ত্র করত:
নূহ, ৭১:২২ ⋮
وَمَكَرُوا مَكْرًا كُبَّارًا ﴿٢٢﴾
আর তারা ষড়যন্ত্র করেছিল সাংঘাতিক ষড়যন্ত্র। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা পাপের মধ্যে ডুবে থাকত:
নূহ, ৭১:২৫ ⋮
مِمَّا خَطِيئَاتِهِمْ أُغْرِقُوا فَأُدْخِلُوا نَارًا فَلَمْ يَجِدُوا لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْصَارًا ﴿٢٥﴾
পাপের কারণে তাদেরকে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে, পরে তাদেরকে দাখিল করা হয়েছে আগুনে, অত:পর তারা আল্লাহকে ছাড়া কাউকে সাহায্যকারী পায়নি। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা দেব-দেবীর পূজা ছাড়তে চাইত না:
নূহ, ৭১:২৩ ⋮
وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا ﴿٢٣﴾
আর তারা বলেছিল, তোমাদের দেবদেবীদের কক্ষনো পরিত্যাগ করো না, আর অবশ্যই পরিত্যাগ করো না ওয়াদ সুআ‘আকে, আর না ‘ইয়াগুস, ইয়া‘ঊক ও নাসরকে। [তাইসিরুল কুরআন]
জাতিকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহর নির্দেশ:
নূহ, ৭১:১ ⋮
إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ أَنْ أَنْذِرْ قَوْمَكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١﴾
আমি নূহকে তার জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তুমি তোমার জাতিকে সতর্ক কর তাদের কাছে মর্মান্তিক ‘আযাব আসার পূর্বে। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) জাতিকে সাবধান করলেন:
নূহ, ৭১:২ ⋮
قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴿٢﴾
সে বলেছিল, ‘‘হে আমার জাতির লোকেরা! আমি তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী, [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:২৫ ⋮
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ ﴿٢٥﴾
আমি নূহকে তার কাওমের কাছে পাঠিয়েছিলাম। (সে বলেছিল) আমি তোমাদের জন্য একজন স্পষ্ট সতর্ককারী, [তাইসিরুল কুরআন]
জাতিকে এক আল্লাহর ইবাদাত করার নির্দেশ দিলেন:
আল-আ'রাফ, ৭:৫৯ ⋮
لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿٥٩﴾
আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নাই।’ (তোমরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে) মহাদিনে আমি তোমাদের জন্য শাস্তির আশঙ্কা করি। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহকে ভয় করার নির্দেশ দিলেন:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১০৮ ⋮
فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ﴿١٠٨﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ও আমার অনুসরণ কর। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ, ৭১:৩ ⋮
أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ ﴿٣﴾
এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তাঁকেই ভয় কর, আর আমার কথা মান্য কর। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১০৬ ⋮
إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ ﴿١٠٦﴾
যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বলেছিল- ‘তোমরা কি ভয় করবে না (আল্লাহকে)? [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন:
নূহ, ৭১:১০ ⋮
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا ﴿١٠﴾
আমি বলেছি- ‘তোমরা তোমাদের রব্বের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) জাতির কাছে কোন বিনিময় চাইতেন না:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১০৯ ⋮
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٠٩﴾
আমি তার জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছেই আছে।’ [তাইসিরুল কুরআন]
ইউনুস, ১০:৭২ ⋮
فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿٧٢﴾
আর যদি তোমরা (আমার আহবান থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও (তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে না), আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছি না, আমার পারিশ্রমিক আছে কেবল আল্লাহরই নিকট, আমাকে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে শামিল হওয়ারই আদেশ দেয়া হয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নবীকে পথভ্রষ্ট মনে করত:
আল-আ'রাফ, ৭:৬০ ⋮
قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٦٠﴾
তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলেছিল, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে তোমাকে প্রকাশ্য গোমরাহীতে নিমজ্জিত দেখছি।’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নবীকে পাগল বলত:
আল-মুমিনুন, ২৩:২৫ ⋮
إِنْ هُوَ إِلَّا رَجُلٌ بِهِ جِنَّةٌ فَتَرَبَّصُوا بِهِ حَتَّى حِينٍ ﴿٢٥﴾
এতো এমন লোক যাকে পাগলামিতে পেয়েছে, কাজেই তার ব্যাপারে তোমরা কিছু কাল অপেক্ষা কর। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কামার, ৫৪:৯ ⋮
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ فَكَذَّبُوا عَبْدَنَا وَقَالُوا مَجْنُونٌ وَازْدُجِرَ ﴿٩﴾
তাদের আগে নূহের জাতিও সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা আমার বান্দাহকে অস্বীকার করেছিল আর বলেছিল- ‘‘একটা পাগল’’; আর তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নবীকে দোষারোপ করল:
আল-মুমিনুন, ২৩:২৪ ⋮
فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُرِيدُ أَنْ يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنْزَلَ مَلَائِكَةً مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ ﴿٢٤﴾
তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ যারা কুফুরী করেছিল- বলেছিল : ‘এতো তোমাদের মত মানুষ ছাড়া কিছুই না, সে তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করতে চায়, আল্লাহ (কাউকে নবীরূপে পাঠানোর) ইচ্ছে করলে তো তিনি ফেরেশতা পাঠাতেন, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের সময়ে এ সব কথা তো শুনিনি।’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা বলল, আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে এসব শুনিনি:
আল-মুমিনুন, ২৩:২৪ ⋮
فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا هَذَا إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُرِيدُ أَنْ يَتَفَضَّلَ عَلَيْكُمْ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَأَنْزَلَ مَلَائِكَةً مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ ﴿٢٤﴾
তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ যারা কুফুরী করেছিল- বলেছিল : ‘এতো তোমাদের মত মানুষ ছাড়া কিছুই না, সে তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করতে চায়, আল্লাহ (কাউকে নবীরূপে পাঠানোর) ইচ্ছে করলে তো তিনি ফেরেশতা পাঠাতেন, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের সময়ে এ সব কথা তো শুনিনি।’ [তাইসিরুল কুরআন]
গরীব লোকেরা তোমার অনুসরণ করে:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১১১ ⋮
قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ ﴿١١١﴾
তারা বলল- ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস করব যখন তোমার অনুসরণ করছে একেবারে নিম্নশ্রেণীর লোকেরা।’ [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:২৭ ⋮
فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ ﴿٢٧﴾
জওয়াবে তার জাতির প্রধানগণ- যারা অবিশ্বাসী ছিল তারা বলল, ‘আমরা তোমাকে আমাদের মত মানুষ ছাড়া অন্য কিছু দেখছি না, আর প্রকাশ্যতঃ আমাদের হীন অধম লোকগুলো ছাড়া তোমার পথ অবলম্বন করতে দেখছি না, আমাদের উপর তোমার কোন প্রাধান্যও দেখছি না, বরং আমরা তোমাদেরক মিথ্যুক বলেই মনে করি।’ [তাইসিরুল কুরআন]
তারা বলল, পারলে আযাব এনে দেখাও:
হূদ, ১১:৩২ ⋮
قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ ﴿٣٢﴾
তারা বলল, ‘হে নূহ! তুমি আমাদের সাথে ঝগড়া করেছ, খুব বেশি বেশি ঝগড়া করেছ, এখন যার ভয় আমাদেরকে দেখাচ্ছ তা আমাদের কাছে নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদী হও।’ [তাইসিরুল কুরআন]
জাতির লোকেরা নবীকে হত্যার হুমকি দিল:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১১৬ ⋮
قَالُوا لَئِنْ لَمْ تَنْتَهِ يَا نُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ الْمَرْجُومِينَ ﴿١١٦﴾
তারা বলল- ‘হে নূহ! তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।’ [তাইসিরুল কুরআন]
নবী বললেন, আমি গোমরাহ নই বরং রাসূল:
আল-আ'রাফ, ৭:৬১ ⋮
قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَالَةٌ وَلَكِنِّي رَسُولٌ مِنْ رَبِ الْعَالَمِينَ ﴿٦١﴾
সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমাতে কোন বিভ্রান্তি নেই, বরং আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত রসূল।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১০৭ ⋮
إِنِّي لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ ﴿١٠٧﴾
আমি তোমাদের জন্য (প্রেরিত) বিশ্বস্ত রাসুল। [তাইসিরুল কুরআন]
আমি কেবল আমার রবের বাণী প্রচার করছি:
আল-আ'রাফ, ৭:৬২ ⋮
أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنْصَحُ لَكُمْ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٦٢﴾
আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিচ্ছি আর তোমাদেরকে নাসীহাত করছি, আর আমি আল্লাহর নিকট হতে (এমন সব বিষয়) জানি যা তোমরা জান না। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৬৩ ⋮
أَوَعَجِبْتُمْ أَنْ جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِنْ رَبِّكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْكُمْ لِيُنْذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوا وَلَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴿٦٣﴾
‘তোমরা কি এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছ যে তোমাদের মধ্যেকার একজন লোকের নিকট তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে উপদেশ বাণী এসেছে তোমাদেরকে সতর্ক করার জন্য যাতে তোমরা তাক্বওয়া অবলম্বন করে আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত হতে পার।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আমি অবাস্তব কথা বলি না:
হূদ, ১১:৩১ ⋮
وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَنْ يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنْفُسِهِمْ إِنِّي إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٣١﴾
আমি তো তোমাদেরকে এ কথা বলছি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভান্ডারসমূহ আছে। আর আমি অদৃশ্যের খবরও জানি না। আর আমি এ কথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি এ কথাও বলি না যে, তোমাদের চোখ যে সব লোককে অবজ্ঞা করে, আল্লাহ কক্ষনো তাদের কল্যাণ করবেন না। তাদের অন্তরে কী আছে আল্লাহ্ই তা বেশী জানেন। (এ রকম কথা বললে) আমি তো যালিমদের শামিল হয়ে যাবো। [তাইসিরুল কুরআন]
তোমাদের মঙ্গল আমার ইচ্ছাধীন নয়:
হূদ, ১১:৩৪ ⋮
وَلَا يَنْفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدْتُ أَنْ أَنْصَحَ لَكُمْ إِنْ كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يُغْوِيَكُمْ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٣٤﴾
আমি তোমাদের কোন কল্যাণ করতে চাইলেও আমার কল্যাণ কামনা তোমাদের কোন উপকারে আসবে না যদি আল্লাহ তোমাদেরকে পথহারা করতে চান। তিনিই তোমাদের রবব, আর তাঁর কাছেই তোমরা ফিরে যাবে।’’ [তাইসিরুল কুরআন]
আমি তোমাদেরকে বাধ্য করি না:
হূদ, ১১:২৮ ⋮
قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كُنْتُ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِنْ عِنْدِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنْتُمْ لَهَا كَارِهُونَ ﴿٢٨﴾
সে বলল, ‘‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা চিন্তা-ভাবনা করে দেখ, আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট হতে প্রাপ্ত সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি আর তিনি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে অনুগ্রহ প্রদান করে থাকেন যা তোমাদের দৃষ্টি থেকে গোপনে রাখা হয়েছে, এমতাবস্থায় তা গ্রহণ করার ব্যাপারে আমি কি তোমাদেরকে বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা তা অপছন্দ কর? [তাইসিরুল কুরআন]
আমি মুমিনদেরকে তাড়াতে পারি না:
হূদ, ১১:২৯ ⋮
وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّهُمْ مُلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ ﴿٢٩﴾
হে আমার জাতির লোকেরা! আমি এ কাজে তোমাদের কাছে কোন ধন-সম্পদ চাই না, আমার পারিশ্রমিক আছে কেবল আল্লাহর কাছে। আর মু’মিনদের তাড়িয়ে দেয়া আমার জন্য শোভনীয় নয়, তারা তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎ অবশ্যই লাভ করবে, কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছ। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১১৪ ⋮
وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١١٤﴾
মু’মিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়। [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:৩০ ⋮
وَيَا قَوْمِ مَنْ يَنْصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِنْ طَرَدْتُهُمْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿٣٠﴾
হে আমার জাতির লোকেরা! আমি যদি এই লোকদেরকে তাড়িয়ে দেই তাহলে আমাকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে কে বাঁচাবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ নিবে না? [তাইসিরুল কুরআন]
আমার সাথিদের হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১১২ ⋮
قَالَ وَمَا عِلْمِي بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١١٢﴾
নূহ বলল- ‘তারা কী করত সেটা আমার জানা নেই। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১১৩ ⋮
إِنْ حِسَابُهُمْ إِلَّا عَلَى رَبِّي لَوْ تَشْعُرُونَ ﴿١١٣﴾
তাদের হিসাব নেয়া তো আমার প্রতিপালকের কাজ, যদি তোমরা বুঝতে! [তাইসিরুল কুরআন]
নবী বললেন, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করো:
নূহ, ৭১:১৩ ⋮
مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا ﴿١٣﴾
‘তোমাদের হল কী যে, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করছ? [তাইসিরুল কুরআন]
তিনিই তোমাদের সৃষ্টিকর্তা:
নূহ, ৭১:১৪ ⋮
وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا ﴿١٤﴾
অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন নানান স্তর অতিক্রম করিয়ে। [তাইসিরুল কুরআন]
তিনিই আকাশ তৈরি করেছেন:
নূহ, ৭১:১৫ ⋮
أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ﴿١٥﴾
তোমরা কি দেখ না, কীভাবে আল্লাহ সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন একের উপরে আরেকটিকে (স্থাপন করে)? [তাইসিরুল কুরআন]
তিনিই চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন:
নূহ, ৭১:১৬ ⋮
وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا ﴿١٦﴾
আর তাদের মাঝে চাঁদকে বানিয়েছেন আলো এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপ। [তাইসিরুল কুরআন]
তিনি জমিন সৃষ্টি করেছেন:
কোনো আয়াত নেই।
বৃষ্টিপাত হবে:
নূহ, ৭১:১১ ⋮
يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا ﴿١١﴾
(তোমরা তা করলে) তিনি অজস্র ধারায় তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, [তাইসিরুল কুরআন]
তোমরা আরো অনেক নিয়ামত পাবে:
নূহ, ৭১:১২ ⋮
وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا ﴿١٢﴾
তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) আযাবের ভয় দেখালেন:
আল-আ'রাফ, ৭:৫৯ ⋮
لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ ﴿٥٩﴾
আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নাই।’ (তোমরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করলে) মহাদিনে আমি তোমাদের জন্য শাস্তির আশঙ্কা করি। [তাইসিরুল কুরআন]
হূদ, ১১:২৬ ⋮
أَنْ لَا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ ﴿٢٦﴾
যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করো না, অন্যথায় আমি আশঙ্কা করছি যে, তোমাদের উপর একদিন বেদনাদায়ক ‘আযাব আসবে। [তাইসিরুল কুরআন]
জাতিকে সতর্কবাণী শুনিয়ে দিলেন:
হূদ, ১১:৩৯ ⋮
فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَنْ يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُقِيمٌ ﴿٣٩﴾
তোমরা (শীঘ্রই) জানতে পারবে কার উপর লাঞ্ছনাকর ‘আযাব আসে আর কার উপর আসে স্থায়ী ‘আযাব। [তাইসিরুল কুরআন]
জাতির প্রতি চ্যালেঞ্জ করলেন:
ইউনুস, ১০:৭১ ⋮
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُمْ مَقَامِي وَتَذْكِيرِي بِآيَاتِ اللَّهِ فَعَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُنْ أَمْرُكُمْ عَلَيْكُمْ غُمَّةً ثُمَّ اقْضُوا إِلَيَّ وَلَا تُنْظِرُونِ ﴿٧١﴾
তাদেরকে নূহের কাহিনী পড়ে শোনাও। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি আর আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা তোমাদের প্রতি আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের নিকট অসহ্য মনে হয় (তাতে আমার কোন পরোয়া নেই) কারণ আমি ভরসা করি আল্লাহর উপর। তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, পরে তোমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তোমাদের মাঝে যেন অস্পষ্টতা না থাকে, অতঃপর আমার উপর তা কার্যকর কর আর আমাকে কোন অবকাশই দিও না। [তাইসিরুল কুরআন]
তিনি রাত-দিন সবসময় দাওয়াত দিলেন:
নূহ, ৭১:৫ ⋮
قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا ﴿٥﴾
সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার জাতিকে রাত-দিন ডেকেছি, [তাইসিরুল কুরআন]
প্রকাশ্যে দাওয়াত দিলেন:
নূহ, ৭১:৮ ⋮
ثُمَّ إِنِّي دَعَوْتُهُمْ جِهَارًا ﴿٨﴾
অতঃপর তাদেরকে আমি উচ্চৈঃস্বরে ডেকেছি, [তাইসিরুল কুরআন]
গোপনেও দাওয়াত দিলেন:
নূহ, ৭১:৯ ⋮
ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنْتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَارًا ﴿٩﴾
এর পর আমি প্রকাশ্যভাবেও তাদের কাছে প্রচার করেছি, আর গোপনে গোপনেও তাদেরকে বুঝিয়েছি। [তাইসিরুল কুরআন]
তিনি তাদের মধ্যে ছিলেন সাড়ে নয়শ' বৎসর:
আল-আনকাবূত, ২৯:১৪ ⋮
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا فَأَخَذَهُمُ الطُّوفَانُ وَهُمْ ظَالِمُونَ ﴿١٤﴾
আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলাম, অতঃপর সে পঞ্চাশ বছর কম হাজার বছর তাদের মাঝে অবস্থান করেছিল। অতঃপর মহাপ্লাবন তাদেরকে গ্রাস করল কারণ তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী। [তাইসিরুল কুরআন]
কিন্তু অতি অল্পই ঈমান এনেছে:
হূদ, ১১:৪০ ⋮
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ قُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ آمَنَ وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلٌ ﴿٤٠﴾
শেষে যখন আমার নির্দেশ এসে গেল, আর তন্দুর (পানিতে) উথলে উঠল, আমি বললাম, ‘প্রত্যেক শ্রেণীর যুগলের দু’টি তাতে তুলে নাও আর তোমার পরিবার পরিজনকে, তাদের ছাড়া যাদের ব্যাপারে আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকেও (তুলে নাও)। তার সঙ্গে ঈমান এনেছিল খুব অল্প কয়েকজনই। [তাইসিরুল কুরআন]
নবীর স্ত্রীও ঈমান আনেনি:
আত-তাহরীম, ৬৬:১০ ⋮
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِلَّذِينَ كَفَرُوا اِمْرَأَةَ نُوحٍ وَامْرَأَةَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتَاهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ ﴿١٠﴾
যারা কুফুরীর নীতি অবলম্বন করে তাদের ব্যাপারে আল্লাহ নূহের স্ত্রী আর লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত পেশ করছেন। এরা ছিল আমার দু’নেককার বান্দার অধীনে। কিন্তু তারা দু’জনেই তাদের স্বামীদ্বয়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ফলে নূহ ও লূত তাদেরকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারল না। তাদেরকে বলা হল, ‘‘তোমরা দু’জন জাহান্নামে প্রবেশ কর (অন্যান্য) প্রবেশকারীদের সঙ্গে।’’ [তাইসিরুল কুরআন]
তাঁর সম্প্রদায় তাকে মিথ্যারোপ করল:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১০৫ ⋮
كَذَّبَتْ قَوْمُ نُوحٍ الْمُرْسَلِينَ ﴿١٠٥﴾
নূহের কওম রসুলগণকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখান করেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা নবীর কথা মানতে অস্বীকার করল:
নূহ, ৭১:২১ ⋮
قَالَ نُوحٌ رَبِّ إِنَّهُمْ عَصَوْنِي وَاتَّبَعُوا مَنْ لَمْ يَزِدْهُ مَالُهُ وَوَلَدُهُ إِلَّا خَسَارًا ﴿٢١﴾
নূহ বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তারা আমার কথা প্রত্যাখ্যান করেছে আর আনুগত্য করছে তাদের (অর্থাৎ এমন সব লোকদের) যাদের মালধন আর সন্তানাদি তাদের ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছুই বৃদ্ধি করেনি, [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন:
আল-মুমিনুন, ২৩:২৬ ⋮
قَالَ رَبِّ انْصُرْنِي بِمَا كَذَّبُونِ ﴿٢٦﴾
নূহ বলল : ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সাহায্য কর, কারণ তারা আমাকে মিথ্যেবাদী বলছে।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কামার, ৫৪:১০ ⋮
فَدَعَا رَبَّهُ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرْ ﴿١٠﴾
তখন সে তার প্রতিপালককে ডেকেছিল- ‘‘আমি পরাস্ত হয়েছি, কাজেই তুমি এর প্রতিবিধান কর।’’ [তাইসিরুল কুরআন]
চূড়ান্ত ফায়সালার জন্য দু'আ করলেন:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১১৮ ⋮
فَافْتَحْ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ فَتْحًا وَنَجِّنِي وَمَنْ مَعِيَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١١٨﴾
কাজেই তুমি আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা ক’রে দাও, আর আমাকে ও আমার সঙ্গী মু’মিনদেরকে ক্ষমা কর।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ তাকে সান্ত্বনা দিলেন:
হূদ, ১১:৩৬ ⋮
وَأُوحِيَ إِلَى نُوحٍ أَنَّهُ لَنْ يُؤْمِنَ مِنْ قَوْمِكَ إِلَّا مَنْ قَدْ آمَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ﴿٣٦﴾
নূহের কাছে ওয়াহী পাঠানো হয়েছিল যে, যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া তোমার সম্প্রদায়ের আর কোন লোক কক্ষনো ঈমান আনবে না, কাজেই তারা যা করছে তার জন্য তুমি হা-হুতাশ করো না। [তাইসিরুল কুরআন]
নবী কাফিরদের জন্য বদ্দু'আ করলেন:
নূহ, ৭১:২৬ ⋮
وَقَالَ نُوحٌ رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا ﴿٢٦﴾
নূহ বলল, ‘হে আমার রব্ব! ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারী কাফিরদের একজনকেও তুমি রেহাই দিও না। [তাইসিরুল কুরআন]
মুমিনদের জন্য ক্ষমা চাইলেন:
নূহ, ৭১:২৮ ⋮
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا تَبَارًا ﴿٢٨﴾
হে আমার রব্ব! তুমি ক্ষমা কর আমাকে, আমার পিতামাতাকে যারা আমার গৃহে মু’মিন হয়ে প্রবেশ করে তাদেরকে আর মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে; আর যালিমদের জন্য ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করো না।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ নৌকা তৈরির আদেশ দিলেন:
হূদ, ১১:৩৭ ⋮
وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا إِنَّهُمْ مُغْرَقُونَ ﴿٣٧﴾
অতএব আমার পর্যবেক্ষণের অধীনে আর আমার ওয়াহী অনুসারে তুমি নৌকা তৈরি কর, আর যারা বাড়াবাড়ি করেছে তাদের ব্যাপারে আমার কাছে কোন আবেদন করো না, তারা অবশ্যই ডুববে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মুমিনুন, ২৩:২৭ ⋮
فَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِ أَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا فَإِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ فَاسْلُكْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا إِنَّهُمْ مُغْرَقُونَ ﴿٢٧﴾
তখন আমি তার কাছে ওয়াহী পাঠালাম- আমার দৃষ্টির সম্মুখে আমার নির্দেশ অনুযায়ী নৌযান তৈরি কর, অতঃপর যখন আমার নির্দেশ আসবে আর উনুন (পানিতে) উথলে উঠবে, তখন নৌকায় তুলে নাও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া আর তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তাদেরকে বাদ দিয়ে। আর অন্যায়কারীদের পক্ষে আমার নিকট আবেদন করো না, তারা (বানে) ডুববেই। [তাইসিরুল কুরআন]
নৌকা তৈরির সময় লোকেরা উপহাস করত:
হূদ, ১১:৩৮ ⋮
وَيَصْنَعُ الْفُلْكَ وَكُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ مَلَأٌ مِنْ قَوْمِهِ سَخِرُوا مِنْهُ قَالَ إِنْ تَسْخَرُوا مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنْكُمْ كَمَا تَسْخَرُونَ ﴿٣٨﴾
নূহ নৌকা তৈরি করছিল, আর যখনই তার জাতির প্রধান ব্যক্তিরা তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিল, তারা তাকে ঠাট্টা করছিল। সে বলল, ‘তোমরা যদি আমাদেরকে ঠাট্টা কর, তাহলে আমরাও তোমাদেরকে (ভবিষ্যতে) ঠাট্টা করব যেমনভাবে তোমরা (এখন) ঠাট্টা করছ, [তাইসিরুল কুরআন]
আকাশ হতে পানি নামতে লাগল:
আল-কামার, ৫৪:১১ ⋮
فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُنْهَمِرٍ ﴿١١﴾
তখন আমি আকাশের দরজাগুলো খুলে দিয়ে মুষলধারায় বৃষ্টি বর্ষিয়েছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
জমিন ফেটেও পানি উঠতে লাগল:
আল-কামার, ৫৪:১২ ⋮
وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ ﴿١٢﴾
আর যমীন থেকে উৎসারিত করেছিলাম ঝর্ণাধারা, অতঃপর (সব) পানি মিলিত হল যে পরিমাণ (পূর্বেই) নির্ধারিত করা হয়েছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া করে নৌকায় উঠাতে বললেন:
আল-মুমিনুন, ২৩:২৭ ⋮
فَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِ أَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا فَإِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ فَاسْلُكْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا إِنَّهُمْ مُغْرَقُونَ ﴿٢٧﴾
তখন আমি তার কাছে ওয়াহী পাঠালাম- আমার দৃষ্টির সম্মুখে আমার নির্দেশ অনুযায়ী নৌযান তৈরি কর, অতঃপর যখন আমার নির্দেশ আসবে আর উনুন (পানিতে) উথলে উঠবে, তখন নৌকায় তুলে নাও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া আর তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তাদেরকে বাদ দিয়ে। আর অন্যায়কারীদের পক্ষে আমার নিকট আবেদন করো না, তারা (বানে) ডুববেই। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ ঈমানদারদেরকে নৌকায় উঠাতে বললেন:
হূদ, ১১:৪০ ⋮
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ قُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ آمَنَ وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلٌ ﴿٤٠﴾
শেষে যখন আমার নির্দেশ এসে গেল, আর তন্দুর (পানিতে) উথলে উঠল, আমি বললাম, ‘প্রত্যেক শ্রেণীর যুগলের দু’টি তাতে তুলে নাও আর তোমার পরিবার পরিজনকে, তাদের ছাড়া যাদের ব্যাপারে আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকেও (তুলে নাও)। তার সঙ্গে ঈমান এনেছিল খুব অল্প কয়েকজনই। [তাইসিরুল কুরআন]
যালিমদের ব্যাপারে সুপারিশ করতে নিষেধ করলেন:
আল-মুমিনুন, ২৩:২৭ ⋮
فَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِ أَنِ اصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا فَإِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ فَاسْلُكْ فِيهَا مِنْ كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَنْ سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ مِنْهُمْ وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا إِنَّهُمْ مُغْرَقُونَ ﴿٢٧﴾
তখন আমি তার কাছে ওয়াহী পাঠালাম- আমার দৃষ্টির সম্মুখে আমার নির্দেশ অনুযায়ী নৌযান তৈরি কর, অতঃপর যখন আমার নির্দেশ আসবে আর উনুন (পানিতে) উথলে উঠবে, তখন নৌকায় তুলে নাও প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া আর তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে তাদেরকে বাদ দিয়ে। আর অন্যায়কারীদের পক্ষে আমার নিকট আবেদন করো না, তারা (বানে) ডুববেই। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) নৌকায় উঠলেন:
আল-কামার, ৫৪:১৩ ⋮
وَحَمَلْنَاهُ عَلَى ذَاتِ أَلْوَاحٍ وَدُسُرٍ ﴿١٣﴾
আর আমি নূহকে বহন করলাম কাষ্ঠ আর কীলক যুক্ত (নৌযানে)। [তাইসিরুল কুরআন]
নৌকায় উঠে দু'আ পড়লেন:
হূদ, ১১:৪১ ⋮
وَقَالَ ارْكَبُوا فِيهَا بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٤١﴾
নূহ বলল, ‘এতে আরোহণ কর, আল্লাহর নামে এর গতি ও এর স্থিতি, আমার প্রতিপালক অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মুমিনুন, ২৩:২৮ ⋮
فَإِذَا اسْتَوَيْتَ أَنْتَ وَمَنْ مَعَكَ عَلَى الْفُلْكِ فَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَجَّانَا مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٢٨﴾
যখন তুমি নৌযানে উঠে যাবে, তুমি আর তোমার সঙ্গীরা- তখন বলবে : ‘সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায় থেকে উদ্ধার করেছেন।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মুমিনুন, ২৩:২৯ ⋮
وَقُلْ رَبِّ أَنْزِلْنِي مُنْزَلًا مُبَارَكًا وَأَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزلِينَ ﴿٢٩﴾
আর বলো : হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কল্যাণকরভাবে নামিয়ে দাও, নামানোতে তুমিই সর্বোত্তম। [তাইসিরুল কুরআন]
নৌকা চলতে লাগল:
হূদ, ১১:৪২ ⋮
وَهِيَ تَجْرِي بِهِمْ فِي مَوْجٍ كَالْجِبَالِ وَنَادَى نُوحٌ ابْنَهُ وَكَانَ فِي مَعْزِلٍ يَا بُنَيَّ ارْكَبْ مَعَنَا وَلَا تَكُنْ مَعَ الْكَافِرِينَ ﴿٤٢﴾
পর্বত সদৃশ তরঙ্গমালার মধ্য দিয়ে তা তাদেরকে নিয়ে বয়ে চলল। তখন নূহ তার পুত্রকে- যে তাদের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল- ডাক দিয়ে বলল, ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সঙ্গে আরোহণ কর, কাফিরদের সঙ্গে থেক না। [তাইসিরুল কুরআন]
নৌকা জুদী পাহাড়ে গিয়ে থামল :
হূদ, ১১:৪৩ ⋮
قَالَ سَآوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ ﴿٤٣﴾
সে (অর্থাৎ নূহের পুত্র) বলল, ‘আমি এক্ষুণি পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে।’ নূহ বলল, ‘আজ আল্লাহর হুকুম থেকে কোন কিছুই রক্ষা করতে পারবে না, অবশ্য আল্লাহ যার প্রতি দয়া করবেন সে রক্ষা পাবে।’ অতঃপর ঢেউ তাদের দু’জনার মাঝে আড়াল করল আর সে ডুবে যাওয়া লোকেদের মধ্যে শামিল হয়ে গেল। [তাইসিরুল কুরআন]
বন্যা থামানো হলো:
হূদ, ১১:৪৪ ⋮
وَقِيلَ يَا أَرْضُ ابْلَعِي مَاءَكِ وَيَا سَمَاءُ أَقْلِعِي وَغِيضَ الْمَاءُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ وَاسْتَوَتْ عَلَى الْجُودِيِّ وَقِيلَ بُعْدًا لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٤٤﴾
অতঃপর বলা হল, ‘হে যমীন! তোমার পানি গিলে ফেল, আর হে আকাশ, থাম।’ অতঃপর পানি যমীনে বসে গেল, কার্য সমাপ্ত হল, নৌকা জুদী পর্বতে এসে ভিড়ল, আর বলা হল- ‘যালিম লোকেরা ধ্বংস হোক!’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ নবীকে মুক্তি দিলেন:
আশ-শুআ'রা, ২৬:১১৯ ⋮
فَأَنْجَيْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ ﴿١١٩﴾
অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদেরকে বোঝাই নৌযানে রক্ষা করলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাফফাত, ৩৭:৭৬ ⋮
وَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ ﴿٧٦﴾
তাকে আর তার পরিবারবর্গকে আমি মহা বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
ইউনুস, ১০:৭৩ ⋮
فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَجَعَلْنَاهُمْ خَلَائِفَ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِينَ ﴿٧٣﴾
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যে বলে অমান্য করল। তখন আমি তাকে আর তার সঙ্গে যারা নৌকায় ছিল তাদেরকে রক্ষা করলাম আর তাদেরকে (পৃথিবীতে) উত্তরাধিকারী বানালাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যে ব’লে অমান্য করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। এখন দেখ যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল (তারা সতর্ক না হওয়ায়) তাদের কী পরিণাম ঘটেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
এভাবেই আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকে রক্ষা করে থাকেন:
আস-সাফফাত, ৩৭:৮০ ⋮
إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ ﴿٨٠﴾
সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি। [তাইসিরুল কুরআন]
বন্যা তাদেরকে গ্রাস করল:
আস-সাফফাত, ৩৭:৮২ ⋮
ثُمَّ أَغْرَقْنَا الْآخَرِينَ ﴿٨٢﴾
অতঃপর অন্যদের আমি ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদেরকে ডুবিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হলো:
আল-আ'রাফ, ৭:৬৪ ⋮
فَكَذَّبُوهُ فَأَنْجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا عَمِينَ ﴿٦٤﴾
কিন্তু তারা তাকে (মিথ্যেবাদী মনে করে) অস্বীকার করল। অতঃপর আমি তাকে আর তার সঙ্গে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম আর আমার আয়াতগুলোকে যারা অস্বীকার করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। তারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায়। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আম্বিয়া, ২১:৭৭ ⋮
وَنَصَرْنَاهُ مِنَ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمَ سَوْءٍ فَأَغْرَقْنَاهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٧٧﴾
আর আমি তাকে সেই লোকেদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেছিলাম যারা আমার আয়াতকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা ছিল এক খারাপ সম্প্রদায়, কাজেই তাদের সব্বাইকে (বানে) ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
ইউনুস, ১০:৭৩ ⋮
فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَمَنْ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَجَعَلْنَاهُمْ خَلَائِفَ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنْذَرِينَ ﴿٧٣﴾
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যে বলে অমান্য করল। তখন আমি তাকে আর তার সঙ্গে যারা নৌকায় ছিল তাদেরকে রক্ষা করলাম আর তাদেরকে (পৃথিবীতে) উত্তরাধিকারী বানালাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যে ব’লে অমান্য করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। এখন দেখ যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল (তারা সতর্ক না হওয়ায়) তাদের কী পরিণাম ঘটেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা জাহান্নামী হয়ে মরল এবং কোন সাহায্যকারীও খুঁজে পেল না:
নূহ, ৭১:২৫ ⋮
مِمَّا خَطِيئَاتِهِمْ أُغْرِقُوا فَأُدْخِلُوا نَارًا فَلَمْ يَجِدُوا لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْصَارًا ﴿٢٥﴾
পাপের কারণে তাদেরকে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে, পরে তাদেরকে দাখিল করা হয়েছে আগুনে, অত:পর তারা আল্লাহকে ছাড়া কাউকে সাহায্যকারী পায়নি। [তাইসিরুল কুরআন]
এ আযাবের ধরণ ছিল ভয়ানক:
আল-কামার, ৫৪:১৬ ⋮
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِي وَنُذُرِ ﴿١٦﴾
কত ভয়ংকর ছিল আমার ‘আযাব ও ভীতি প্রদর্শন। [তাইসিরুল কুরআন]
নবী তার ছেলেকে নৌকায় উঠতে বলেছিলেন:
হূদ, ১১:৪২ ⋮
وَهِيَ تَجْرِي بِهِمْ فِي مَوْجٍ كَالْجِبَالِ وَنَادَى نُوحٌ ابْنَهُ وَكَانَ فِي مَعْزِلٍ يَا بُنَيَّ ارْكَبْ مَعَنَا وَلَا تَكُنْ مَعَ الْكَافِرِينَ ﴿٤٢﴾
পর্বত সদৃশ তরঙ্গমালার মধ্য দিয়ে তা তাদেরকে নিয়ে বয়ে চলল। তখন নূহ তার পুত্রকে- যে তাদের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল- ডাক দিয়ে বলল, ‘হে আমার পুত্র! আমাদের সঙ্গে আরোহণ কর, কাফিরদের সঙ্গে থেক না। [তাইসিরুল কুরআন]
কিন্তু সে পাহাড়ে উঠে বাঁচতে চাইল:
হূদ, ১১:৪৩ ⋮
قَالَ سَآوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ ﴿٤٣﴾
সে (অর্থাৎ নূহের পুত্র) বলল, ‘আমি এক্ষুণি পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে।’ নূহ বলল, ‘আজ আল্লাহর হুকুম থেকে কোন কিছুই রক্ষা করতে পারবে না, অবশ্য আল্লাহ যার প্রতি দয়া করবেন সে রক্ষা পাবে।’ অতঃপর ঢেউ তাদের দু’জনার মাঝে আড়াল করল আর সে ডুবে যাওয়া লোকেদের মধ্যে শামিল হয়ে গেল। [তাইসিরুল কুরআন]
নবী বললেন, তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না:
হূদ, ১১:৪৩ ⋮
قَالَ سَآوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ ﴿٤٣﴾
সে (অর্থাৎ নূহের পুত্র) বলল, ‘আমি এক্ষুণি পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে।’ নূহ বলল, ‘আজ আল্লাহর হুকুম থেকে কোন কিছুই রক্ষা করতে পারবে না, অবশ্য আল্লাহ যার প্রতি দয়া করবেন সে রক্ষা পাবে।’ অতঃপর ঢেউ তাদের দু’জনার মাঝে আড়াল করল আর সে ডুবে যাওয়া লোকেদের মধ্যে শামিল হয়ে গেল। [তাইসিরুল কুরআন]
ছেলের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করলেন:
হূদ, ১১:৪৫ ⋮
وَنَادَى نُوحٌ رَبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنْتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ ﴿٤٥﴾
নূহ তার প্রতিপালককে আহবান জানাল। সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র তো আমার পরিবারভুক্ত, আর তোমার ও‘য়াদা সত্য আর তুমি বিচারকদের সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ নবীকে সতর্ক করে দিলেন:
হূদ, ১১:৪৬ ⋮
قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْأَلْنِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنِّي أَعِظُكَ أَنْ تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ ﴿٤٦﴾
তিনি বললেন, ‘ওহে নূহ! সে তো তোমার পরিবারের লোক নয়, তার আচার আচরণ অসৎ, কাজেই যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সে বিষয়ে আমার কাছে আবেদন করো না, আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি যেন মূর্খদের মধ্যে শামিল না হও। [তাইসিরুল কুরআন]
নবী আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন:
হূদ, ১১:৪৭ ⋮
قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُنْ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٤٧﴾
সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যে বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। যদি তুমি আমাকে ক্ষমা না কর আর আমার প্রতি দয়া না কর তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’ [তাইসিরুল কুরআন]
নবীর ছেলে সেখানেই ডুবে মরল:
হূদ, ১১:৪৩ ⋮
قَالَ سَآوِي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ ﴿٤٣﴾
সে (অর্থাৎ নূহের পুত্র) বলল, ‘আমি এক্ষুণি পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে।’ নূহ বলল, ‘আজ আল্লাহর হুকুম থেকে কোন কিছুই রক্ষা করতে পারবে না, অবশ্য আল্লাহ যার প্রতি দয়া করবেন সে রক্ষা পাবে।’ অতঃপর ঢেউ তাদের দু’জনার মাঝে আড়াল করল আর সে ডুবে যাওয়া লোকেদের মধ্যে শামিল হয়ে গেল। [তাইসিরুল কুরআন]
এ ঘটনায় নিদর্শন রয়েছে:
আল-আনকাবূত, ২৯:১৫ ⋮
فَأَنْجَيْنَاهُ وَأَصْحَابَ السَّفِينَةِ وَجَعَلْنَاهَا آيَةً لِلْعَالَمِينَ ﴿١٥﴾
অতঃপর আমি তাকে ও নৌকারোহীদেরকে রক্ষে করলাম আর এটাকে করলাম বিশ্বজগতের জন্য নিদর্শন। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:১২১ ⋮
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ ﴿١٢١﴾
অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মুমিনুন, ২৩:৩০ ⋮
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ وَإِنْ كُنَّا لَمُبْتَلِينَ ﴿٣٠﴾
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে (মানুষের বুঝার জন্য), আমি (মানুষকে) পরীক্ষা করি। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ফুরকান, ২৫:৩৭ ⋮
وَقَوْمَ نُوحٍ لَمَّا كَذَّبُوا الرُّسُلَ أَغْرَقْنَاهُمْ وَجَعَلْنَاهُمْ لِلنَّاسِ آيَةً وَأَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ عَذَابًا أَلِيمًا ﴿٣٧﴾
আর নূহের জাতি যখন রসূলদেরকে মিথ্যারোপ করল, আমি তাদেরকে ডুবিয়ে দিলাম, আর মানুষের জন্য তাদেরকে নিদর্শন বানিয়ে দিলাম। আমি যালিমদের জন্য ভয়াবহ শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। [তাইসিরুল কুরআন]
এ ঘটনায় রয়েছে অনেক উপদেশ:
আল-হাক্কাহ, ৬৯:১১ ⋮
إِنَّا لَمَّا طَغَى الْمَاءُ حَمَلْنَاكُمْ فِي الْجَارِيَةِ ﴿١١﴾
(নূহের বানের) পানি যখন কূল ছাপিয়ে সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করালাম। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হাক্কাহ, ৬৯:১২ ⋮
لِنَجْعَلَهَا لَكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَا أُذُنٌ وَاعِيَةٌ ﴿١٢﴾
যেন এ ঘটনাটিকে আমি তোমাদের জন্য শিক্ষাপ্রদ-স্মারক করে রাখি আর সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করে। [তাইসিরুল কুরআন]
উপদেশ গ্রহণ করার মতো কেউ আছে কি?:
আল-কামার, ৫৪:১৫ ⋮
وَلَقَدْ تَرَكْنَاهَا آيَةً فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ ﴿١٥﴾
এ (ঘটনা) টিকে আমি (চিরকালের জন্য) নিদর্শন হিসেবে রেখে দিলাম, অতএব উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি? [তাইসিরুল কুরআন]
এ নৌকাবাসী থেকেই পরবর্তী প্রজন্মের সূচনা:
আল-ইসরা, ১৭:৩ ⋮
ذُرِّيَّةَ مَنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا ﴿٣﴾
(তোমরা তো) তাদের সন্তান! যাদেরকে আমি নূহের সঙ্গে নৌকায় বহন করেয়েছিলাম, সে ছিল এক শুকরগুজার বান্দা। [তাইসিরুল কুরআন]
আস-সাফফাত, ৩৭:৭৭ ⋮
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ ﴿٧٧﴾
আর তার বংশধরদেরকেই আমি বংশানুক্রমে বিদ্যমান রাখলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) এর ইতিহাস স্মরণীয়:
আস-সাফফাত, ৩৭:৭৮ ⋮
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ ﴿٧٨﴾
আর আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) এর ঘটনা প্রচারের নির্দেশ:
ইউনুস, ১০:৭১ ⋮
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنْ كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُمْ مَقَامِي وَتَذْكِيرِي بِآيَاتِ اللَّهِ فَعَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُنْ أَمْرُكُمْ عَلَيْكُمْ غُمَّةً ثُمَّ اقْضُوا إِلَيَّ وَلَا تُنْظِرُونِ ﴿٧١﴾
তাদেরকে নূহের কাহিনী পড়ে শোনাও। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি আর আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা তোমাদের প্রতি আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের নিকট অসহ্য মনে হয় (তাতে আমার কোন পরোয়া নেই) কারণ আমি ভরসা করি আল্লাহর উপর। তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, পরে তোমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তোমাদের মাঝে যেন অস্পষ্টতা না থাকে, অতঃপর আমার উপর তা কার্যকর কর আর আমাকে কোন অবকাশই দিও না। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) এর প্রতি সালাম:
আস-সাফফাত, ৩৭:৭৯ ⋮
سَلَامٌ عَلَى نُوحٍ فِي الْعَالَمِينَ ﴿٧٩﴾
বিশ্বজগতে নূহের প্রতি সালাম/শান্তি বর্ষিত হোক। [তাইসিরুল কুরআন]
নূহ (আঃ) পূর্বে তাঁর প্রতিপালককে আহবান করেছিলেন।
আল-আম্বিয়া, ২১:৭৬ ⋮
وَنُوحًا إِذْ نَادَى مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ ﴿٧٦﴾
স্মরণ কর নূহের কথা, ইতোপূর্বে যখন সে (আমাকে) ডেকেছিল, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম আর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে মহা বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ নূহের (আঃ) আহবানে সাড়া দিয়েছিলেন।
আল-আম্বিয়া, ২১:৭৬ ⋮
وَنُوحًا إِذْ نَادَى مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ ﴿٧٦﴾
স্মরণ কর নূহের কথা, ইতোপূর্বে যখন সে (আমাকে) ডেকেছিল, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম আর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে মহা বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ নূহ (আঃ) ও তাঁর পরিবারকে মহা সংকট থেকে উদ্ধার করেছিলেন।
আল-আম্বিয়া, ২১:৭৬ ⋮
وَنُوحًا إِذْ نَادَى مِنْ قَبْلُ فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ ﴿٧٦﴾
স্মরণ কর নূহের কথা, ইতোপূর্বে যখন সে (আমাকে) ডেকেছিল, তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম আর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে মহা বিপদ থেকে রক্ষা করেছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
এই পরিত্রাণ ছিল সেই নবীর (নূহ আঃ) জন্য পুরস্কার, যাঁকে তাঁর সম্প্রদায় প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আল-কামার, ৫৪:১৪ ⋮
تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاءً لِمَنْ كَانَ كُفِرَ ﴿١٤﴾
যা আমার চোখের সামনে (ও আমার তত্ত্বাবধানে) ভেসে চলল সেই ব্যক্তির পক্ষে প্রতিশোধ হিসেবে যাকে অমান্য ও অস্বীকার করা হয়েছিল। [তাইসিরুল কুরআন]