বিষয়ভিত্তিক কুরআন > নবী-রাসূলগণকে পাঠানোর উদ্দেশ্য
মানুষকে সুসংবাদ দেয়া ও ভয় দেখানো:
আল-আন'আম, ৬:৪৮ ⋮
وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٤٨﴾
আমি তো রসূলদেরকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী করে পাঠিয়েছি, অতঃপর (রসূলের আনুগত্য করে) যারা ঈমান আনে ও নিজেকে সংশোধন করে তাদের নেই কোন ভয়, নেই তাদের কোন দুঃখ। [তাইসিরুল কুরআন]
মানুষের অভিযোগ করার কোন সুযোগ না রাখা:
আন-নিসা, ৪:১৬৫ ⋮
رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ﴿١٦٥﴾
রসূলগণ ছিলেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী যাতে রসূলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোন অযুহাতের সুযোগ না থাকে। আল্লাহ হলেন মহাপরাক্রমশালী, বিজ্ঞানময়। [তাইসিরুল কুরআন]
নবী-রাসূল পাঠানো না হলে অভিযোগ করার সুযোগ থাকত:
ত্ব-হা, ২০:১৩৪ ⋮
وَلَوْ أَنَّا أَهْلَكْنَاهُمْ بِعَذَابٍ مِنْ قَبْلِهِ لَقَالُوا رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آيَاتِكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَذِلَّ وَنَخْزَى ﴿١٣٤﴾
এর (অর্থাৎ কোন নিদর্শন আসার) আগেই আমি যদি তাদেরকে ‘আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিতাম তাহলে তারা বলত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের কাছে কেন একজন রসূল পাঠালে না? তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার নিদর্শন মেনে চলতাম আমরা অপমানিত ও হেয় হবার আগেই। [তাইসিরুল কুরআন]
আযাব দেয়ার পূর্বে দাওয়াত পৌঁছে দেয়া:
আল-ইসরা, ১৭:১৫ ⋮
مَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا ﴿١٥﴾
যে সঠিক পথে চলবে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই সঠিক পথে চলবে, আর যে গুমরাহ হবে তার গুমরাহীর পরিণাম তার নিজের উপরেই পড়বে। কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না। আমি ‘আযাব দেই না যতক্ষণ একজন রসূল না পাঠাই। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কাসাস, ২৮:৫৯ ⋮
وَمَا كَانَ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى حَتَّى يَبْعَثَ فِي أُمِّهَا رَسُولًا يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَمَا كُنَّا مُهْلِكِي الْقُرَى إِلَّا وَأَهْلُهَا ظَالِمُونَ ﴿٥٩﴾
তোমার প্রতিপালক কোন জনপদ ধ্বংস করেন না, যতক্ষণ না তিনি তার কেন্দ্রে রসূল প্রেরণ না করেন যে তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে; আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করি না যতক্ষণ না তার বাসিন্দারা অত্যাচারী হয়। [তাইসিরুল কুরআন]
রাসুল পাঠানোর তিনটি বিশেষ উদ্দেশ্য:
আল-বাকারা, ২:১২৯ ⋮
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١٢٩﴾
‘হে আমাদের প্রতিপালক! এদের কাছে একজন রসূল এদের মধ্য হতে প্রেরণ কর, যে এদেরকে তোমার আয়াতগুলো পড়ে শুনাবে এবং এদেরকে কিতাব ও জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেবে এবং এদেরকে বিশুদ্ধ করবে, নিশ্চয় তুমি ক্ষমতাশালী, প্রজ্ঞাময়।’ [তাইসিরুল কুরআন]
রাসূল প্রেরণের কারণ হলো এই যে, আপনার প্রতিপালক কোনো জনপদের অধিবাসীদেরকে তাদের জুলুমের কারণে অনবহিত অবস্থায় ধ্বংস করেন না।
আল-আন'আম, ৬:১৩১ ⋮
ذَلِكَ أَنْ لَمْ يَكُنْ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا غَافِلُونَ ﴿١٣١﴾
এটা এজন্য যে আল্লাহ কোন জনপদকে ধ্বংস করেন না অন্যায়ভাবে এবং (সত্যপথ কোনটি আর ভুলপথ কোনটি সে সম্পর্কে) যখন তারা থাকে অনবহিত। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ অবশ্যই সেইসব লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন যাদের কাছে রাসূলদের পাঠানো হয়েছিল।
আল-আ'রাফ, ৭:৭ ⋮
فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ ﴿٧﴾
অতঃপর পরিপূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাদের নিকট তাদের সমস্ত কাহিনী অবশ্যই জানিয়ে দেব, কেননা আমি তো মোটেই অনুপস্থিত ছিলাম না। [তাইসিরুল কুরআন]
এবং আল্লাহ অবশ্যই রাসূলদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
আল-আ'রাফ, ৭:৭ ⋮
فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ ﴿٧﴾
অতঃপর পরিপূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাদের নিকট তাদের সমস্ত কাহিনী অবশ্যই জানিয়ে দেব, কেননা আমি তো মোটেই অনুপস্থিত ছিলাম না। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ কোনো জনপদকে সতর্ককারী প্রেরণ না করে ধ্বংস করেননি।
আশ-শুআ'রা, ২৬:২০৮ ⋮
وَمَا أَهْلَكْنَا مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنْذِرُونَ ﴿٢٠٨﴾
আমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করিনি যার জন্য কোন ভয় প্রদর্শনকারী ছিল না [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্ককারী প্রেরণের উদ্দেশ্য হলো উপদেশ প্রদান করা।
আশ-শুআ'রা, ২৬:২০৯ ⋮
ذِكْرَى وَمَا كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿٢٠٩﴾
স্মরণ করানোর জন্য। আমি কখনো অন্যায়কারী নই। [তাইসিরুল কুরআন]
অথবা কাফিরদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি।
আল-মুমিনুন, ২৩:৬৮ ⋮
أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ أَمْ جَاءَهُمْ مَا لَمْ يَأْتِ آبَاءَهُمُ الْأَوَّلِينَ ﴿٦٨﴾
তাহলে তারা কি (আল্লাহর) এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? কিংবা তাদের কাছে এমন কিছু (নতুন বস্তু) এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি? [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (ﷺ) শুধুমাত্র সুসংবাদদাতা হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
আল-ফুরকান, ২৫:৫৬ ⋮
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ﴿٥٦﴾
আমি তোমাকে পাঠিয়েছি কেবল সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে। [তাইসিরুল কুরআন]
এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (ﷺ) একজন সতর্ককারী হিসেবেও প্রেরণ করেছেন।
আল-ফুরকান, ২৫:৫৬ ⋮
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ﴿٥٦﴾
আমি তোমাকে পাঠিয়েছি কেবল সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ পূর্ববর্তী জাতিসমূহের মধ্যে অবশ্যই সতর্ককারী প্রেরণ করেছিলেন।
আস-সাফফাত, ৩৭:৭২ ⋮
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِمْ مُنْذِرِينَ ﴿٧٢﴾
আমি তাদের মাঝে সতর্ককারী (রসূল) পাঠিয়েছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]
নিশ্চয়ই আল্লাহই রাসূলদের প্রেরণকারী।
আদ-দুখান, ৪৪:৫ ⋮
أَمْرًا مِنْ عِنْدِنَا إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ ﴿٥﴾
আমার আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী, [তাইসিরুল কুরআন]
এবং তাদের নিকট একজন সুস্পষ্ট রাসূলও আগমন করেন।
আয-যুখরুফ, ৪৩:২৯ ⋮
بَلْ مَتَّعْتُ هَؤُلَاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى جَاءَهُمُ الْحَقُّ وَرَسُولٌ مُبِينٌ ﴿٢٩﴾
হ্যাঁ, আমিই তাদেরকে আর তাদের পূর্বপুরুষকে ভোগের সামগ্রী দিয়েছিলাম। অবশেষে তাদের কাছে আসলো সত্য এবং সবকিছু স্পষ্টকারী রসূল। [তাইসিরুল কুরআন]