বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ইনতাকিয়াবাসীর ধ্বংসের কাহিনী

আল্লাহ তাদের নিকট তিনজন নবী পাঠালেন:

ইয়াসীন, ৩৬:১৩
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلًا أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءَهَا الْمُرْسَلُونَ ﴿١٣﴾
তাদের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ এক জনপদবাসীদের কথা শুনিয়ে দাও যখন তাদের কাছে এসেছিল রসূলগণ। [তাইসিরুল কুরআন]
ইয়াসীন, ৩৬:১৪
إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُمْ مُرْسَلُونَ ﴿١٤﴾
যখন তাদের কাছে দু’জন রসূল পাঠিয়েছিলাম তখন তারা সে দু’জনকে মিথ্যে ব’লে প্রত্যাখ্যান করল। অতঃপর আমি তৃতীয় আরেকজন দ্বারা তাদের শক্তি বৃদ্ধি করলাম। তারা বলল- আমরা তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। [তাইসিরুল কুরআন]

তারা নবীদেরকে মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করল:

ইয়াসীন, ৩৬:১৫
قَالُوا مَا أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَمَا أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ ﴿١٥﴾
জনপদবাসীরা বলল- তোমরা তো আমাদেরই মত মানুষ বতীত অন্য কিছু নও। আর দয়াময় (আল্লাহ) কোন কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা শুধু মিথ্যেই বলছ। [তাইসিরুল কুরআন]

নবীরা নিজেদের সত্যতার দাবী করলেন:

ইয়াসীন, ৩৬:১৬
قَالُوا رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ ﴿١٦﴾
রসূলগণ বলল- আমাদের পালনকর্তা জানেন আমরা অবশ্যই তোমাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি। [তাইসিরুল কুরআন]
ইয়াসীন, ৩৬:১৭
وَمَا عَلَيْنَا إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ ﴿١٧﴾
স্পষ্টভাবে (আল্লাহর বাণী) পৌঁছে দেয়াই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব। [তাইসিরুল কুরআন]

জাতির লোকেরা শাস্তির হুমকি দিল:

ইয়াসীন, ৩৬:১৮
قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِنْ لَمْ تَنْتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُمْ مِنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٨﴾
জনপদের লোকেরা বলল- আমরা তোমাদেরকেই অমঙ্গলের কারণ মনে করি। তোমরা যদি (প্রচারকার্য থেকে) নিবৃত্ত না হও, তাহলে আমরা অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে পাথর মেরে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে বড়ই মর্মান্তিক শাস্তি তোমাদের উপর অবশ্য অবশ্যই নেমে আসবে। [তাইসিরুল কুরআন]

নবীরা পুনরায় তাদেরকে বুঝালেন:

ইয়াসীন, ৩৬:১৯
قَالُوا طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ أَئِنْ ذُكِّرْتُمْ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ ﴿١٩﴾
রসূলগণ বলল- তোমাদের অমঙ্গলের কারণ তোমাদের সাথেই আছে (আর তা হল তোমাদের অপকর্ম)। তোমাদেরকে নসীহত করা হলেই কি (সেটাকে তোমরা তোমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে কর)? আসলে তোমরা হচ্ছ এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি। [তাইসিরুল কুরআন]

এবার এক মুমিন ব্যক্তি দৌড়ে আসলেন:

ইয়াসীন, ৩৬:২০
وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَاقَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ ﴿٢٠﴾
নগর প্রান্ত থেকে এক লোক ছুটে আসলো। সে বলল- হে আমার জাতির লোকেরা! তোমরা রসূলদের মান্য কর। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি জাতিকে নবীদের কথা মানতে বললেন:

ইয়াসীন, ৩৬:২১
اتَّبِعُوا مَنْ لَا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ ﴿٢١﴾
তোমরা মান্য কর এদেরকে- যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না। উপরন্তু তারা সঠিক পথে পরিচালিত। [তাইসিরুল কুরআন]

তাওহীদের পক্ষে যুক্তি পেশ করলেন:

ইয়াসীন, ৩৬:২২
وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٢٢﴾
কেন আমি তাঁর ‘ইবাদাত করব না যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে? [তাইসিরুল কুরআন]

শিরকের অসারতা প্রমাণ করলেন:

ইয়াসীন, ৩৬:২৩
أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ ﴿٢٣﴾
আমি কি তাঁর পরিবর্তে (অন্য) সব ইলাহ্ গ্রহণ করব? করুণাময় আল্লাহ যদি আমার কোন ক্ষতি করতে চান তবে আমার জন্য তাদের সুপারিশ কোনই কাজে আসবে না, আর তারা আমাকে উদ্ধার করতেও পারবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
ইয়াসীন, ৩৬:২৪
إِنِّي إِذًا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٢٤﴾
তা যদি করি, তাহলে আমি স্পষ্ট পথভ্রষ্টতেই পতিত হব। [তাইসিরুল কুরআন]

প্রকাশ্যে নিজের ঈমানের ঘোষণা দিলেন:

ইয়াসীন, ৩৬:২৫
إِنِّي آمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ ﴿٢٥﴾
আমি তো তোমাদের পালনকর্তার উপর ঈমান এনেছি, কাজেই তোমরা আমার কথা শুন। [তাইসিরুল কুরআন]

পরে তিনি শহীদ হলেন এবং জান্নাতবাসী হলেন:

ইয়াসীন, ৩৬:২৬
قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ ﴿٢٦﴾
(লোকেরা তাকে হত্যা করে ফেললে আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাকে বলা হল- জান্নাতে প্রবেশ কর। (তখন) সে বলল- হায়! আমার জাতির লোকেরা যদি জানত, [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি জাতির জন্য আফসোস করলেন:

ইয়াসীন, ৩৬:২৬
قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ ﴿٢٦﴾
(লোকেরা তাকে হত্যা করে ফেললে আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাকে বলা হল- জান্নাতে প্রবেশ কর। (তখন) সে বলল- হায়! আমার জাতির লোকেরা যদি জানত, [তাইসিরুল কুরআন]
ইয়াসীন, ৩৬:২৭
بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ ﴿٢٧﴾
আমার পালনকর্তা কোন্ জিনিসের বদৌলতে আমাকে ক্ষমা করেছেন আর আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। [তাইসিরুল কুরআন]

এ জাতিকে ধ্বংস করার জন্য কোন বাহিনীর প্রয়োজন হয়নি:

ইয়াসীন, ৩৬:২৮
وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى قَوْمِهِ مِنْ بَعْدِهِ مِنْ جُنْدٍ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِينَ ﴿٢٨﴾
আমি তার মৃত্যুর পর তার জাতির বিরুদ্ধে আসমান থেকে কোন সৈন্যবাহিনী পাঠাইনি, আর তা পাঠানোর আমার কোন দরকারও ছিল না। [তাইসিরুল কুরআন]

একটি বিকট আওয়াজ তাদেরকে শেষ করে দিল:

ইয়াসীন, ৩৬:২৯
إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُونَ ﴿٢٩﴾
ওটা ছিল মাত্র একটা প্রচন্ড শব্দ, ফলে তারা সহসাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। [তাইসিরুল কুরআন]

আফসোস এসব লোকদের জন্য:

ইয়াসীন, ৩৬:৩০
يَاحَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٣٠﴾
বান্দাহদের জন্য পরিতাপ! তাদের কাছে এমন কোন রসূলই আসেনি যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেনি। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px