বিষয়ভিত্তিক কুরআন > মেয়াদ শেষে প্রত্যেককেই ধ্বংস করা হয়েছে নূহ (আঃ) এর পরের এক জাতির ধ্বংসের কাহিনী

প্রত্যেক জাতিরই একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে:

আল-আ'রাফ, ৭:৩৪
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ ﴿٣٤﴾
প্রতিটি জাতির জন্য সময় নির্ধারিত আছে। তাদের নির্ধারিত সময় যখন এসে যাবে তখন এক মুহূর্তকাল পশ্চাৎ-অগ্র হবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

সময় শেষে কেউই টিকে থাকতে পারেনি:

আল-হিজর, ১৫:৪
وَمَا أَهْلَكْنَا مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌ مَعْلُومٌ ﴿٤﴾
আমি যে জনপদকেই ধ্বংস করেছি তাদের জন্য ছিল লিখিত একটা নির্দিষ্ট সময়। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হিজর, ১৫:৫
مَا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ ﴿٥﴾
কোন জাতিই তাদের নির্দিষ্ট কালকে অগ্র-পশ্চাৎ করতে পারে না। [তাইসিরুল কুরআন]

পরিশেষে তারা কেবল পরিতাপই করেছে:

আল-আম্বিয়া, ২১:১৫
فَمَا زَالَتْ تِلْكَ دَعْوَاهُمْ حَتَّى جَعَلْنَاهُمْ حَصِيدًا خَامِدِينَ ﴿١٥﴾
তাদের এ আর্তনাদ বন্ধ হয়নি যতক্ষণ না আমি তাদেরকে করেছিলাম কাটা শস্য ও নিভানো আগুনের মত। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৫
فَمَا كَانَ دَعْوَاهُمْ إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا إِلَّا أَنْ قَالُوا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿٥﴾
আমার শাস্তি যখন তাদের উপর এসেছিল তখন এ কথা বলা ছাড়া তারা আর কোন ধ্বনি উচ্চারণ করতে পারেনি যে, ‘‘অবশ্যই আমরা যালিম ছিলাম’’। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আম্বিয়া, ২১:১৪
قَالُوا يَاوَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿١٤﴾
তারা বলল, ‘হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! আমরা সত্যিই অন্যায়কারী ছিলাম।’ [তাইসিরুল কুরআন]

তারা হঠাৎ করে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়েছে:

আল-আ'রাফ, ৭:৪
وَكَمْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا فَجَاءَهَا بَأْسُنَا بَيَاتًا أَوْ هُمْ قَائِلُونَ ﴿٤﴾
আমি কত জনপদকে ধ্বংস করে দিয়েছি। আমার শাস্তি তাদের নিকট এসেছিল হঠাৎ রাত্রিবেলা কিংবা দুপুর বেলা তারা যখন বিশ্রাম নিচ্ছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের ঘরবাড়ি জনশূণ্য হয়ে পড়ে থাকল:

আল-হজ্জ, ২২:৪৫
فَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ فَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَشِيدٍ ﴿٤٥﴾
আমি কত জনবসতিকে ধ্বংস করেছি যেগুলোর অধিবাসীরা ছিল যালিম, সেগুলো ছাদের ভরে পতিত হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল, বিরাণ হয়েছিল কত কূপ আর সুউচ্চ সুদৃঢ় প্রাসাদরাজি। [তাইসিরুল কুরআন]

অনেক শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও তারা ধ্বংস হয়েছে:

গাফির, ৪০:২১
أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ كَانُوا مِنْ قَبْلِهِمْ كَانُوا هُمْ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَآثَارًا فِي الْأَرْضِ فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ وَمَا كَانَ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَاقٍ ﴿٢١﴾
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না, তাহলে দেখতে পেত তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছিল। তারা শক্তিতে আর স্মৃতি চিহ্নে ছিল এদের চেয়ে প্রবল। অতঃপর তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন, আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে বাঁচানোর কেউ ছিল না। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের কোন সাহায্যকারী পাওয়া যায়নি:

মুহাম্মাদ, ৪৭:১৩
وَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ هِيَ أَشَدُّ قُوَّةً مِنْ قَرْيَتِكَ الَّتِي أَخْرَجَتْكَ أَهْلَكْنَاهُمْ فَلَا نَاصِرَ لَهُمْ ﴿١٣﴾
তোমার যে জনপদ থেকে তারা তোমাকে বের করে দিয়েছে তার অপেক্ষা শক্তিশালী কত জনপদকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, অতঃপর কেউ ছিল না তাদের সাহায্যকারী। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের ধনসম্পদ কোন কাজে আসেনি:

গাফির, ৪০:৮২
أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْهُمْ وَأَشَدَّ قُوَّةً وَآثَارًا فِي الْأَرْضِ فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿٨٢﴾
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে তারা দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি কী হয়েছিল। দুনিয়ায় এদের চেয়ে তারা সংখ্যায় অধিক ছিল, আর শক্তি সামর্থ্য ও কীর্তি চিহ্নে বেশি প্রবল ছিল। কিন্তু তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের কোন উপকারে আসেনি। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের ধ্বংসাবশেষ এখনো আছে:

আল-আনকাবূত, ২৯:৩৮
وَعَادًا وَثَمُودَ وَقَدْ تَبَيَّنَ لَكُمْ مِنْ مَسَاكِنِهِمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَكَانُوا مُسْتَبْصِرِينَ ﴿٣٨﴾
(স্মরণ কর) ‘আদ ও সামূদ (জাতির) কথা, তাদের বাড়ীঘর হতেই তাদের (করুণ পরিণতি) সম্পর্কে সুস্পষ্টরূপে তোমাদের জানা হয়ে গেছে। তাদের কাজগুলোকে শয়ত্বান তাদের দৃষ্টিতে মনোমুগ্ধকর করেছিল। যার ফলে সৎপথে চলতে তাদেরকে বাধা দিয়েছিল, যদিও তারা ছিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টির অধিকারী। [তাইসিরুল কুরআন]

এভাবে যালিমদের শিকড় কেটে দেয়া হয়েছে:

আল-আন'আম, ৬:৪৫
فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٤٥﴾
অতঃপর যারা যুলম করেছিল তাদের শিকড় কেটে দেয়া হল, আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্য। [তাইসিরুল কুরআন]

তাদের ধ্বংসের বিষয়টি কাহিনীতে পরিণত হয়েছে:

আল-মুমিনুন, ২৩:৪৪
ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَى كُلَّ مَا جَاءَ أُمَّةً رَسُولُهَا كَذَّبُوهُ فَأَتْبَعْنَا بَعْضَهُمْ بَعْضًا وَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ فَبُعْدًا لِقَوْمٍ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٤٤﴾
এরপর একাদিক্রমে আমি আমার রসূলদেরকে পাঠিয়েছি। যখনই কোন জাতির কাছে তাদের রসূল এসেছে, তারা তাকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, অতঃপর শাস্তি প্রাপ্তির ব্যাপারে তারা একে অন্যের অনুসরণ করেছে, অতঃপর তাদেরকে কাহিনী বানিয়ে দিলাম। কাজেই যে জাতি ঈমান আনে না তারা ধ্বংস হোক! [তাইসিরুল কুরআন]

বিভিন্ন জাতিকে বিভিন্নভাবে ধ্বংস করা হয়েছে:

আল-আনকাবূত, ২৯:৪০
فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٤٠﴾
ওদের প্রত্যেককেই আমি তার পাপের কারণে পাকড়াও করেছিলাম। তাদের কারো প্রতি আমি পাঠিয়েছিলাম পাথরসহ ঝটিকা, কারো প্রতি আঘাত হেনেছিল বজ্রের প্রচন্ড আওয়াজ, কাউকে আমি প্রোথিত করেছি ভূগর্ভে আর কাউকে দিয়েছিলাম ডুবিয়ে। তাদের প্রতি আল্লাহ কোন যুলম করেননি, তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

পরকালের শাস্তি আরো কঠোর হবে:

আয-যুমার, ৩৯:২৫
كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَأَتَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٢٥﴾
তাদের পূর্ববর্তীরাও (নুবুওয়াতকে) অস্বীকার করেছিল। অতঃপর তাদের কাছে এমন দিক থেকে ‘আযাব এসেছিল যা তারা একটু টেরও পায়নি। [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুমার, ৩৯:২৬
فَأَذَاقَهُمُ اللَّهُ الْخِزْيَ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿٢٦﴾
কাজেই আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার জিন্দেগিতেই লাঞ্ছনার স্বাদ ভোগ করালেন। আর অবশ্যই আখিরাতের শাস্তি সবচেয়ে কঠিন। তারা যদি জানত! [তাইসিরুল কুরআন]

নবীদের সাথে শত্রুতা করে কেউই টিকে থাকতে পারেনি:

আল-ইসরা, ১৭:৭৬
وَإِنْ كَادُوا لَيَسْتَفِزُّونَكَ مِنَ الْأَرْضِ لِيُخْرِجُوكَ مِنْهَا وَإِذًا لَا يَلْبَثُونَ خِلَافَكَ إِلَّا قَلِيلًا ﴿٧٦﴾
তারা তোমাকে যমীন থেকে উৎখাত করতে চেয়েছিল যাতে তারা তোমাকে তাত্থেকে বের করে দিতে পারে, সেক্ষেত্রে তারা এখানে তোমার পরে খুব অল্পকালই টিকে থাকত। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ইসরা, ১৭:৭৭
سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا ﴿٧٧﴾
তোমার পূর্বে আমি আমার যে সব রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের ক্ষেত্রে এটাই ছিল নিয়ম আর তুমি আমার নিয়মের কোন পরিবর্তন দেখতে পাবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

ধ্বংসপ্রাপ্ত কয়েকটি জাতির নাম:

সোয়াদ, ৩৮:১২
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَعَادٌ وَفِرْعَوْنُ ذُو الْأَوْتَادِ ﴿١٢﴾
তাদের পূর্বে নূহের জাতি, ‘আদ ও বহু সেনা শিবিরের অধিপতি ফেরাউনও রসূলদেরকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করেছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
সোয়াদ, ৩৮:১৩
وَثَمُودُ وَقَوْمُ لُوطٍ وَأَصْحَابُ الْأَيْكَةِ أُولَئِكَ الْأَحْزَابُ ﴿١٣﴾
আর সামূদ, লূতের জাতি ও আইকাবাসী- এরা ছিল বিরাট বিরাট দল। [তাইসিরুল কুরআন]
সোয়াদ, ৩৮:১৪
إِنْ كُلٌّ إِلَّا كَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ عِقَابِ ﴿١٤﴾
এদের কেউই এমন নয় যারা রসূলদেরকে অস্বীকার করেনি। ফলে (তাদের উপর) আমার শাস্তি হয়েছিল অবধারিত। [তাইসিরুল কুরআন]

পুণ্যবান হলে কোন জাতিই ধ্বংস হতো না:

হূদ, ১১:১১৭
وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَى بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ ﴿١١٧﴾
তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে কোন জনপদ ধ্বংস করবেন এমতাবস্থায় যে, তার অধিবাসীরা সদাচারী। [তাইসিরুল কুরআন]

অতীতের ইতিহাসে বিরাট শিক্ষা রয়েছে:

আর-রুম, ৩০:৪২
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُشْرِكِينَ ﴿٤٢﴾
বল, পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর দেখ আগে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক। [তাইসিরুল কুরআন]

কোন জাতিই দুনিয়ায় আর ফিরে আসবে না:

আল-আম্বিয়া, ২১:৯৫
وَحَرَامٌ عَلَى قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا أَنَّهُمْ لَا يَرْجِعُونَ ﴿٩٥﴾
আমি যে সব জনবসতি ধ্বংস করেছি তাদের জন্য এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে তারা আর ফিরে আসবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

কিয়ামতের আগে সকল জনপদ ধ্বংস হবে:

আল-ইসরা, ১৭:৫৮
وَإِنْ مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا نَحْنُ مُهْلِكُوهَا قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ أَوْ مُعَذِّبُوهَا عَذَابًا شَدِيدًا كَانَ ذَلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا ﴿٥٨﴾
এমন কোন জনবসতি নেই যাকে আমি ক্বিয়ামাত দিনের পূর্বে ধ্বংস করব না কিংবা তাকে কঠিন শাস্তি দিব না, এটা (আল্লাহর) কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। [তাইসিরুল কুরআন]

পরিশেষে সবাই আল্লাহর দিকে ফিরে যাবে:

আল-হজ্জ, ২২:৪৮
وَكَأَيِّنْ مِنْ قَرْيَةٍ أَمْلَيْتُ لَهَا وَهِيَ ظَالِمَةٌ ثُمَّ أَخَذْتُهَا وَإِلَيَّ الْمَصِيرُ ﴿٤٨﴾
আমি কত জনপদকে সময়-সুযোগ দিয়েছি যখন তারা ছিল অন্যায় কাজে লিপ্ত। অতঃপর সেগুলোকে পাকড়াও করেছিলাম, (পালিয়ে কেউ তো কোথাও যেতে পারবে না) কেননা (সকলের) প্রত্যাবর্তন আমারই কাছে। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ সাব্বাত সীমা লঙ্ঘনকারীদের শাস্তিকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনায় পরিণত করেছেন।

আল-বাকারা, ২:৬৬
فَجَعَلْنَاهَا نَكَالًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ ﴿٦٦﴾
আমি তা তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীগণের শিক্ষা গ্রহণের জন্য দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ স্বরূপ করেছি। [তাইসিরুল কুরআন]

যারা শু'আইবকে (আঃ) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তাদের অবস্থা এমন হয়েছিল যেন তারা তাদের জনপদে কখনোই বসবাস করেনি।

আল-আ'রাফ, ৭:৯২
الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْبًا كَأَنْ لَمْ يَغْنَوْا فِيهَا الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْبًا كَانُوا هُمُ الْخَاسِرِينَ ﴿٩٢﴾
যেন শু‘আয়বকে অস্বীকারকারীরা সেখানে কোনদিন বসবাস করেনি। যারা শু‘আয়বকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল। [তাইসিরুল কুরআন]

বর্ণিত জনপদগুলোর মধ্যে কিছু সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে গেছে।

হূদ, ১১:১০০
ذَلِكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْقُرَى نَقُصُّهُ عَلَيْكَ مِنْهَا قَائِمٌ وَحَصِيدٌ ﴿١٠٠﴾
এ হল জনপদসমূহের কিছু খবরাদি যা আমি তোমার নিকট বর্ণনা করলাম, তাদের কতক এখনও দাঁড়িয়ে আছে আর কতক কর্তিত ফসলের দশা প্রাপ্ত হয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ ফেরাউনের কওমের উপর থেকে একটি নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত আযাব সরিয়ে নিলেন।

আল-আ'রাফ, ৭:১৩৫
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الرِّجْزَ إِلَى أَجَلٍ هُمْ بَالِغُوهُ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ ﴿١٣٥﴾
অতঃপর যখন তাদের উপর থেকে বিপদ সরিয়ে দিতাম একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যা তাদেরকে পূর্ণ করতে হত, তখন তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করত। [তাইসিরুল কুরআন]

প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্ধারিত সময়কাল রয়েছে।

ইউনুস, ১০:৪৯
قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي ضَرًّا وَلَا نَفْعًا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ إِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَلَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ ﴿٤٩﴾
বল, ‘আল্লাহর ইচ্ছে ব্যতীত আমার নিজেরও কোন ক্ষতি বা লাভ করার ক্ষমতা নেই।’ প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত আছে। তাদের সেই নির্দিষ্ট সময় চলে আসলে তারা এক মুহূর্তও আগ-পাছ করতে পারবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

বনী ইসরাইলের প্রথম প্রতিশ্রুত শাস্তির নির্ধারিত সময়ে আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রচণ্ড রণনিপুণ বান্দাদের প্রেরণ করলেন।

আল-ইসরা, ১৭:৫
فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ أُولَاهُمَا بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَنَا أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ فَجَاسُوا خِلَالَ الدِّيَارِ وَكَانَ وَعْدًا مَفْعُولًا ﴿٥﴾
অতঃপর যখন দু’টির মধ্যে প্রথমটির সময় এসে উপস্থিত হল, তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়ে দিলাম আমার বান্দাদেরকে যারা ছিল যুদ্ধে অতি শক্তিশালী, তারা (তোমাদের) ঘরের কোণায় কোণায় ঢুকে পড়ল, আর সতর্কবাণী পূর্ণ হল। [তাইসিরুল কুরআন]

অতঃপর আল্লাহ অবশিষ্টদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিলেন।

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৭২
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ ﴿١٧٢﴾
অতঃপর অন্যদের সকলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ ঐ জনপদগুলোর ধ্বংসের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন।

আল-কাহফ, ১৮:৫৯
وَتِلْكَ الْقُرَى أَهْلَكْنَاهُمْ لَمَّا ظَلَمُوا وَجَعَلْنَا لِمَهْلِكِهِمْ مَوْعِدًا ﴿٥٩﴾
ঐ সব জনদপকে আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম যখন তারা বাড়াবাড়ি করেছিল, আর তাদের ধ্বংস সাধনের জন্য একটা প্রতিশ্রুত সময় স্থির করেছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

আপনি (নবী) কি সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর কোনো একজনেরও অস্তিত্ব অনুভব করেন?

মারইয়াম, ১৯:৯৮
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا ﴿٩٨﴾
তাদের পূর্বে আমি কত মানব বংশকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তুমি তাদের একজনকেও কি (এখন) দেখতে পাও অথবা তাদের ক্ষীণতম আওয়াজও কি শুনতে পাও? [তাইসিরুল কুরআন]

আপনি (নবী) কি সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর কোনো ক্ষীণ শব্দও শুনতে পান?

মারইয়াম, ১৯:৯৮
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا ﴿٩٨﴾
তাদের পূর্বে আমি কত মানব বংশকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তুমি তাদের একজনকেও কি (এখন) দেখতে পাও অথবা তাদের ক্ষীণতম আওয়াজও কি শুনতে পাও? [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর পক্ষ থেকে কাফিরদের শাস্তি বিলম্বিত করার একটি পূর্ব সিদ্ধান্ত রয়েছে।

ত্ব-হা, ২০:১২৯
وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَأَجَلٌ مُسَمًّى ﴿١٢٩﴾
তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে (তাদের শাস্তি) অবশ্যই এসে পড়ত, কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট আছে একটি সময়। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ কাফিরদের শাস্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট মেয়াদও স্থির করেছেন।

ত্ব-হা, ২০:১২৯
وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَأَجَلٌ مُسَمًّى ﴿١٢٩﴾
তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে (তাদের শাস্তি) অবশ্যই এসে পড়ত, কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট আছে একটি সময়। [তাইসিরুল কুরআন]

অবকাশের পর আল্লাহ সেই কাফিরদেরকে পাকড়াও করেছিলেন।

আল-হজ্জ, ২২:৪৪
وَأَصْحَابُ مَدْيَنَ وَكُذِّبَ مُوسَى فَأَمْلَيْتُ لِلْكَافِرِينَ ثُمَّ أَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ ﴿٤٤﴾
আর মাদইয়ানবাসীরাও [অস্বীকার করেছিল যারা ছিল শু‘আয়ব (আঃ)-এর সম্প্রদায়], আর মূসাকেও অস্বীকার করা হয়েছিল। আমি অস্বীকারকারীদেরকে সময়- সুযোগ দিয়েছিলাম, অতঃপর তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। কত ভীষণ ছিল আমাকে অস্বীকার করার পরিণতি! [তাইসিরুল কুরআন]

এরপর আল্লাহ তাদেরকে আবর্জনার স্তূপে পরিণত করলেন।

আল-মুমিনুন, ২৩:৪১
فَأَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ بِالْحَقِّ فَجَعَلْنَاهُمْ غُثَاءً فَبُعْدًا لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ﴿٤١﴾
অতঃপর সত্যি সত্যিই এক ভয়ঙ্কর শব্দ তাদেরকে আঘাত করল আর তাদেরকে ভাগাড়ে পরিণত করলাম, কাজেই ধ্বংস হোক পাপী সম্প্রদায়। [তাইসিরুল কুরআন]

অতঃপর আল্লাহ সেই অস্বীকারকারী সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

আল-ফুরকান, ২৫:৩৬
فَقُلْنَا اذْهَبَا إِلَى الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَدَمَّرْنَاهُمْ تَدْمِيرًا ﴿٣٦﴾
অতঃপর তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা সেই জাতির নিকট যাও যারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’ অতঃপর আমি তাদেরকে পূর্ণ বিধ্বস্তিতে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিলাম। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ পূর্ববর্তী প্রত্যেক জাতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

আল-ফুরকান, ২৫:৩৯
وَكُلًّا ضَرَبْنَا لَهُ الْأَمْثَالَ وَكُلًّا تَبَّرْنَا تَتْبِيرًا ﴿٣٩﴾
আমি তাদের প্রত্যেকের জন্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছিলাম (যাতে তারা সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারে) আর তাদের প্রত্যেককেই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম (তাদের পাপের কারণে)। [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহ বর্তমান প্রজন্মের কাছে আর ফিরে আসবে না।

ইয়াসীন, ৩৬:৩১
أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنَ الْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ ﴿٣١﴾
তারা কি দেখে না যে, তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি? তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ পূর্ববর্তী বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করেছেন।

সোয়াদ, ৩৮:৩
كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ قَرْنٍ فَنَادَوْا وَلَاتَ حِينَ مَنَاصٍ ﴿٣﴾
তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, অবশেষে তারা (ক্ষমা লাভের জন্য) আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন পরিত্রাণ লাভের আর কোন অবকাশই ছিল না। [তাইসিরুল কুরআন]

ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহ এমন সময়ে আর্তনাদ করেছিল যখন পলায়নের কোনো সুযোগ ছিল না।

সোয়াদ, ৩৮:৩
كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ قَرْنٍ فَنَادَوْا وَلَاتَ حِينَ مَنَاصٍ ﴿٣﴾
তাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, অবশেষে তারা (ক্ষমা লাভের জন্য) আর্তচিৎকার করেছিল, কিন্তু তখন পরিত্রাণ লাভের আর কোন অবকাশই ছিল না। [তাইসিরুল কুরআন]

কিন্তু আল্লাহ মানুষকে একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন।

ফাতির, ৩৫:৪৫
وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَى ظَهْرِهَا مِنْ دَابَّةٍ وَلَكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِعِبَادِهِ بَصِيرًا ﴿٤٥﴾
আল্লাহ মানুষকে তার কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতে চাইলে ভূপৃষ্ঠের একটি প্রাণীকেও রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি তাদের জন্য একটা নির্ধারিত কাল পর্যন্ত সময় বিলম্বিত করেন। অতঃপর তাদের সে নির্ধারিত সময় যখন এসে যায়, (তখন আল্লাহর ফয়সালা কার্যকরী হতে এক মুহূর্তও বিলম্ব ঘটে না), কারণ আল্লাহ (প্রতিটি মুহূর্তে) তাঁর বান্দাহদের পর্যবেক্ষণকারী। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের (কাফিরদের) মতো বহু পূর্ববর্তী দলকে ধ্বংস করেছেন।

আল-কামার, ৫৪:৫১
وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا أَشْيَاعَكُمْ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ ﴿٥١﴾
আমি তোমাদের মত দলগুলোকে ইতোপূর্বে ধ্বংস করেছি, কাজেই উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি? [তাইসিরুল কুরআন]

সামূদ জাতিকে বলা হয়েছিল, 'তোমরা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোগ-বিলাস করে নাও।'

আয-যারিয়াত, ৫১:৪৩
وَفِي ثَمُودَ إِذْ قِيلَ لَهُمْ تَمَتَّعُوا حَتَّى حِينٍ ﴿٤٣﴾
আর সামূদের ঘটনাতেও (নিদর্শন আছে) যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোগ করে লও।’ [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px