বিষয়ভিত্তিক কুরআন > কিয়ামতের দিন মুমিনদের অবস্থা
তারা উত্তম অবস্থানে থাকবে:
আল-ফুরকান, ২৫:২৪ ⋮
أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُسْتَقَرًّا وَأَحْسَنُ مَقِيلًا ﴿٢٤﴾
সেদিন জান্নাতবাসীরা স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে উত্তম আর বিশ্রামস্থল হিসেবে উৎকৃষ্ট অবস্থায় থাকবে। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদের সামনে নূর চমকাবে:
আল-হাদীদ, ৫৭:১২ ⋮
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُمْ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿١٢﴾
সে দিন তুমি মু’মিন ও মু’মিনাদের দেখবে, তাদের সামনে আর তাদের ডানে তাদের জ্যোতি ছুটতে থাকবে। (তাদেরকে বলা হবে) ‘আজ তোমাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তাতে (তোমরা) চিরকাল থাকবে। এটাই হল বিরাট সফলতা। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল:
আলে-ইমরান, ৩:১০৭ ⋮
وَأَمَّا الَّذِينَ ابْيَضَّتْ وُجُوهُهُمْ فَفِي رَحْمَةِ اللَّهِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿١٠٧﴾
যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের মধ্যে থাকবে, তারা তাতে চিরকাল থাকবে। [তাইসিরুল কুরআন]
আবাসা, ৮০:৩৮ ⋮
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُسْفِرَةٌ ﴿٣٨﴾
সেদিন কতক মুখ উজ্জ্বল হবে, [তাইসিরুল কুরআন]
আবাসা, ৮০:৩৯ ⋮
ضَاحِكَةٌ مُسْتَبْشِرَةٌ ﴿٣٩﴾
সহাস্য, উৎফুল্ল। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদের প্রচেষ্টায় তারা খু হবে:
আল-গাশিয়া, ৮৮:৮ ⋮
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاعِمَةٌ ﴿٨﴾
কতক মুখ সেদিন হবে আনন্দে উজ্জ্বল। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-গাশিয়া, ৮৮:৯ ⋮
لِسَعْيِهَا رَاضِيَةٌ ﴿٩﴾
নিজেদের চেষ্টা-সাধনার জন্য সন্তুষ্ট। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-গাশিয়া, ৮৮:১০ ⋮
فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ ﴿١٠﴾
উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জান্নাতে, [তাইসিরুল কুরআন]
ফেরেশতারা জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে হাজির হবে:
হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:৩০ ⋮
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ ﴿٣٠﴾
যারা বলে- আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর (সে কথার উপর) সুদৃঢ় থাকে, ফেরেশতারা তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় আর বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না, আর জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]
হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:৩২ ⋮
نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ ﴿٣٢﴾
পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (আল্লাহ)’র পক্ষ থেকে আপ্যায়ন হিসেবে। [তাইসিরুল কুরআন]
হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:৩৩ ⋮
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿٣٣﴾
কথায় ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম যে (মানুষকে) আল্লাহর দিকে আহবান করে, আর সৎ কাজ করে এবং বলে, ‘আমি (আল্লাহর প্রতি) অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত’। [তাইসিরুল কুরআন]
সেদিন তারা প্রকৃত সাফল্য লাভ করবে:
আল-আন'আম, ৬:১৬ ⋮
مَنْ يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ ﴿١٦﴾
সে দিন যাকে (শাস্তি থেকে) রক্ষা করা হবে তাকে তো বড় অনুগ্রহ করা হবে। আর এটাই হবে সুস্পষ্ট সাফল্য। [তাইসিরুল কুরআন]
মুমিনরা আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবে:
আল-ক্বিয়ামাহ, ৭৫:২২ ⋮
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ ﴿٢٢﴾
কতক মুখ সেদিন উজ্জ্বল হবে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ক্বিয়ামাহ, ৭৫:২৩ ⋮
إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ ﴿٢٣﴾
তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ মুমিনদেরকে তাদের কর্মের প্রতিদান দেবেন:
আল-মায়েদা, ৫:১১৯ ⋮
قَالَ اللَّهُ هَذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿١١٩﴾
আল্লাহ বলবেন, আজকের দিনে সত্যপন্থীদের সত্যপন্থা উপকার দিবে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তাতে তারা স্থায়ী হয়ে চিরকাল থাকবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই হল মহা সাফল্য। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করবেন:
গাফির, ৪০:৫১ ⋮
إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ ﴿٥١﴾
আমি আমার রসূলদেরকে আর মু’মিনদেরকে অবশ্যই সাহায্য করব দুনিয়ার জীবনে আর (ক্বিয়ামতে) যে দিন সাক্ষীরা দাঁড়াবে। [তাইসিরুল কুরআন]
তারা কাফিরদেরকে নিয়ে হাসবে:
আল-মুতাফফিফীন, ৮৩:৩৪ ⋮
فَالْيَوْمَ الَّذِينَ آمَنُوا مِنَ الْكُفَّارِ يَضْحَكُونَ ﴿٣٤﴾
আজ (জান্নাত হতে) মু’মিনরা কাফিরদের (পরিণতির) উপর হাসছে, [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মুতাফফিফীন, ৮৩:৩৫ ⋮
عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ ﴿٣٥﴾
উচ্চ আসনে বসে তাদের অবস্থা দেখছে। [তাইসিরুল কুরআন]
তাড়াতাড়ি ও খুব সহজে তাদের হিসাব শেষ হয়ে যাবে:
আল-ইনশিকাক, ৮৪:৭ ⋮
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ ﴿٧﴾
অতঃপর যার ‘আমালনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ইনশিকাক, ৮৪:৮ ⋮
فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا ﴿٨﴾
তার হিসাব সহজভাবেই নেয়া হবে। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদের কোন ভয় থাকবে না:
আল-আম্বিয়া, ২১:১০১ ⋮
إِنَّ الَّذِينَ سَبَقَتْ لَهُمْ مِنَّا الْحُسْنَى أُولَئِكَ عَنْهَا مُبْعَدُونَ ﴿١٠١﴾
পূর্ব থেকেই আমার পক্ষ হতে যাদের জন্য কল্যাণ নির্ধারিত আছে তাদেরকে তাত্থেকে (অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে) বহু দূরে রাখা হবে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আম্বিয়া, ২১:১০২ ⋮
لَا يَسْمَعُونَ حَسِيسَهَا وَهُمْ فِي مَا اشْتَهَتْ أَنْفُسُهُمْ خَالِدُونَ ﴿١٠٢﴾
তারা জাহান্নামের ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না, আর তারা তাদের মনের বাসনা অনুযায়ী চিরকাল বসবাস করবে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আম্বিয়া, ২১:১০৩ ⋮
لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ هَذَا يَوْمُكُمُ الَّذِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ ﴿١٠٣﴾
মহা ত্রাস তাদেরকে চিন্তাযুক্ত করবে না, আর ফেরেশতাগণ তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে (এই কথা বলে যে), ‘এটাই তোমাদের দিন যার ওয়া‘দা তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
আন-নামাল, ২৭:৮৯ ⋮
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِنْهَا وَهُمْ مِنْ فَزَعٍ يَوْمَئِذٍ آمِنُونَ ﴿٨٩﴾
যারা সৎকাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, তাদের জন্য আছে উৎকৃষ্টতর প্রতিদান, সেদিন তারা ভীতি শঙ্কা থেকে নিরাপদ থাকবে। [তাইসিরুল কুরআন]
ত্ব-হা, ২০:১১২ ⋮
وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا يَخَافُ ظُلْمًا وَلَا هَضْمًا ﴿١١٢﴾
যে সৎ কাজ করবে মু’মিন হয়ে, তার অবিচার বা ক্ষতির কোন আশংকা নেই। [তাইসিরুল কুরআন]
মুমিনরা সেদিন লাঞ্ছিত হবে না:
ইউনুস, ১০:২৬ ⋮
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ وَلَا يَرْهَقُ وُجُوهَهُمْ قَتَرٌ وَلَا ذِلَّةٌ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٦﴾
যারা কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অতিরিক্ত (পুরস্কার), কলংক ও লাঞ্ছনা তাদের মুখমন্ডলকে মলিন করবে না, তারাই হল জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুখরুফ, ৪৩:৬৮ ⋮
يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿٦٨﴾
(মুত্তাকীদেরকে বলা হবে) হে আমার বান্দাগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই আর তোমরা দুঃখিতও হবে না- [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুখরুফ, ৪৩:৬৯ ⋮
الَّذِينَ آمَنُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ ﴿٦٩﴾
তোমরা যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করেছিলে এবং অনুগত ছিলে। [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুখরুফ, ৪৩:৭০ ⋮
ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ ﴿٧٠﴾
সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর তোমরা আর তোমাদের স্ত্রীরা। [তাইসিরুল কুরআন]
কাফিরদেরকে প্রশ্ন করা হবে, 'এরাই কি সেই মুমিনগণ, যাদের ব্যাপারে তোমরা শপথ করে বলতে যে আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন না?'
আল-আ'রাফ, ৭:৪৯ ⋮
أَهَؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ ﴿٤٩﴾
এরাই (অর্থাৎ জান্নাতবাসীরা) কি ঐ সব লোক যাদের ব্যাপারে তোমরা শপথ করে বলতে যে আল্লাহ তাদের প্রতি কোন দয়া দেখাবেন না। (আজ এদেরকেই বলা হল) তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই, তোমরা দুঃখিতও হবে না। [তাইসিরুল কুরআন]