বিষয়ভিত্তিক কুরআন > আখিরাত বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মানুষের ভুল ধারণা

মাখিরাত সম্পর্কে মানুষ নানা কথা বলে:

আন-নাবা, ৭৮:১
عَمَّ يَتَسَاءَلُونَ ﴿١﴾
লোকেরা কোন বিষয়ে একে অন্যের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? [তাইসিরুল কুরআন]
আন-নাবা, ৭৮:২
عَنِ النَّبَإِ الْعَظِيمِ ﴿٢﴾
(ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) সেই মহা সংবাদের বিষয়ে, [তাইসিরুল কুরআন]
আন-নাবা, ৭৮:৩
الَّذِي هُمْ فِيهِ مُخْتَلِفُونَ ﴿٣﴾
যে বিষয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য আছে। [তাইসিরুল কুরআন]

কেউ কেউ সরাসরি আখিরাত অস্বীকার করে:

আল-আন'আম, ৬:২৯
وَقَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ ﴿٢٩﴾
তারা বলে, আমাদের দুনিয়ার জীবন ছাড়া আর কোন জীবন নেই, আমাদেরকে আবার (জীবিত করে) উঠানো হবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
আদ-দুখান, ৪৪:৩৪
إِنَّ هَؤُلَاءِ لَيَقُولُونَ ﴿٣٤﴾
এই কাফিররা বলে, [তাইসিরুল কুরআন]
আদ-দুখান, ৪৪:৩৫
إِنْ هِيَ إِلَّا مَوْتَتُنَا الْأُولَى وَمَا نَحْنُ بِمُنْشَرِينَ ﴿٣٥﴾
আমাদের প্রথম মৃত্যুর পর আর কিছু নাই আর আমরা পুনরুত্থিত হব না। [তাইসিরুল কুরআন]

কেউ কিছুটা ধারণা করে মাত্র, কিন্তু নিশ্চিত বিশ্বাস করে না:

আল-জাসিয়া, ৪৫:৩২
وَإِذَا قِيلَ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ لَا رَيْبَ فِيهَا قُلْتُمْ مَا نَدْرِي مَا السَّاعَةُ إِنْ نَظُنُّ إِلَّا ظَنًّا وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ ﴿٣٢﴾
যখন বলা হয়- আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য আর ক্বিয়ামতের আগমনে কোনই সন্দেহ নেই, তখন তোমরা বলতে- ‘আমরা জানি না ক্বিয়ামত কী? আমরা মনে করি তা শুধু ধারণা মাত্র, আর (তাতে) আমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী নই’। [তাইসিরুল কুরআন]

কেউ ভাবছে যখন দুনিয়া পাচ্ছি, তখন আখিরাতও পাব:

আল-কাহফ, ১৮:৩৬
وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِنْ رُدِدْتُ إِلَى رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيْرًا مِنْهَا مُنْقَلَبًا ﴿٣٦﴾
আমি মনে করি না যে কিয়ামাত হবে। আর যদি আমাকে আমার প্রতিপালকের কাছে ফিরিয়ে নেয়া হয়ই, তাহলে অবশ্য অবশ্যই আমি পরিবর্তে আরো উৎকৃষ্ট স্থান পাব। [তাইসিরুল কুরআন]

কেউ আযাবের ব্যাপারে নিজেরা আইন তৈরি করে নিয়েছে:

আল-বাকারা, ২:৮০
وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدًا فَلَنْ يُخْلِفَ اللَّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٨٠﴾
তারা বলে, ‘গুটি কয়েক দিন ছাড়া আগুন কক্ষনো আমাদেরকে স্পর্শ করবে না’। বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর নিকট হতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছো যে প্রতিশ্রুতি আল্লাহ ভঙ্গ করবেন না? কিংবা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না’। [তাইসিরুল কুরআন]

কেউ নাজাতকে জাতীয়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে:

আল-বাকারা, ২:১১১
وَقَالُوا لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿١١١﴾
তারা বলে, ইয়াহূদী এবং নাসারাগণ ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, ওটা তাদের আকাঙ্ক্ষা মাত্র। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে নিজেদের দলীল পেশ কর’। [তাইসিরুল কুরআন]

কেউ শাফাআতের উসিলায় পাড়ি দেয়ার চিন্তা করছে:

ইউনুস, ১০:১৮
وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ ﴿١٨﴾
আর তারা আল্লাহকে ছেড়ে ‘ইবাদাত করে এমন কিছুর যা না পারে তাদের কোন ক্ষতি করতে, আর না পারে কোন উপকার করতে। আর তারা বলে, ‘‘ওগুলো আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী’’। বল, ‘‘তোমরা কি আল্লাহকে এমন কিছুর সংবাদ দিতে চাও, যা তিনি অবগত নন, না আকাশমন্ডলীতে আর না যমীনে? মহান পবিত্র তিনি, তোমরা যা কিছুকে তাঁর শরীক গণ্য কর তাত্থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে। [তাইসিরুল কুরআন]

সেই সন্তান পুনরুত্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, কারণ তার পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলো বিলীন হয়ে গেছে।

আল-আহকাফ, ৪৬:১৭
وَالَّذِي قَالَ لِوَالِدَيْهِ أُفٍّ لَكُمَا أَتَعِدَانِنِي أَنْ أُخْرَجَ وَقَدْ خَلَتِ الْقُرُونُ مِنْ قَبْلِي وَهُمَا يَسْتَغِيثَانِ اللَّهَ وَيْلَكَ آمِنْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَيَقُولُ مَا هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ ﴿١٧﴾
আর যে নিজ পিতামাতাকে বলে, ‘তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে ভয় দেখাও যে, (মৃতুর পর) আমাকে উঠানো হবে অথচ আমার পূর্বে বহু মানব গোষ্ঠী অতীত হয়ে গেছে (কই, কেউ তো উঠে আসল না)। বাপ-মা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে (সন্তানকে তিরস্কার করে) বলে- দুর্ভোগ তোমার জন্য, তুমি ঈমান আন, আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য।’ তখন সে বলে- ‘এ সব পুরান কালের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না।’ [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ নবীকে (ﷺ) ইহুদিদেরকে বলতে বললেন: যদি আল্লাহর নিকট পরকালের আবাস অন্য মানুষকে বাদ দিয়ে শুধু তোমাদের জন্যই নির্ধারিত থাকে, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো।

আল-বাকারা, ২:৯৪
قُلْ إِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِنْدَ اللَّهِ خَالِصَةً مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٩٤﴾
বল, ‘যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক’। [তাইসিরুল কুরআন]

ইহুদিদেরকে এই মৃত্যু কামনা করতে বলা হয়েছে, যদি তারা তাদের (জান্নাত লাভের) দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকে।

আল-বাকারা, ২:৯৪
قُلْ إِنْ كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِنْدَ اللَّهِ خَالِصَةً مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٩٤﴾
বল, ‘যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক’। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করে, আল্লাহর প্রতিশ্রুত আযাব কি সত্য?

ইউনুস, ১০:৫৩
وَيَسْتَنْبِئُونَكَ أَحَقٌّ هُوَ قُلْ إِي وَرَبِّي إِنَّهُ لَحَقٌّ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ ﴿٥٣﴾
তারা তোমার কাছে জানতে চায় (তুমি যা বলছ) সেগুলো কি প্রকৃতই সঠিক? বল-‘হাঁ, আমার রবের কসম! তা একবারেই সত্য। তোমরা তা বানচাল করতে পারবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা বলে, 'আমরা যখন অস্থি ও চূর্ণ-বিচূর্ণ পদার্থে পরিণত হব, তখন কি আমাদেরকে নতুন সৃষ্টিরূপে পুনরুত্থিত করা হবে?'

আল-ইসরা, ১৭:৪৯
وَقَالُوا أَئِذَا كُنَّا عِظَامًا وَرُفَاتًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ خَلْقًا جَدِيدًا ﴿٤٩﴾
তারা বলে, ‘কী! আমরা হাড্ডি আর ধূলা-মাটিতে পরিণত হওয়ার পর কি এক নতুন সৃষ্টিরূপে উত্থিত হব?’ [তাইসিরুল কুরআন]

হূদ (আঃ)-এর কাফির সম্প্রদায় বলেছিল, 'আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না'।

আশ-শুআ'রা, ২৬:১৩৮
وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ﴿١٣٨﴾
আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না।’ [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা আখেরাত বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে।

আন-নামাল, ২৭:৬৬
بَلِ ادَّارَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِنْهَا بَلْ هُمْ مِنْهَا عَمُونَ ﴿٦٦﴾
বরং আখিরাত সম্পর্কিত তাদের জ্ঞানের সীমা শেষ, বরং এ ব্যাপারে তারা সন্দেহে আচ্ছন্ন বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা বলে, 'তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে এই শাস্তির প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?'

আন-নামাল, ২৭:৭১
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٧١﴾
তারা বলে- ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে, এ ‘ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে? [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিরদের বিশ্বাস, তাদেরকে কখনোই পুনরুত্থিত করা হবে না।

আল-মুমিনুন, ২৩:৩৭
إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ ﴿٣٧﴾
আমাদের এ দুনিয়ার জীবন ছাড়া কিছুই নেই, এখানেই আমরা মরি বাঁচি, আমাদেরকে কক্ষনো আবার উঠানো হবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা বললো, 'আমরা মরে গিয়ে মাটি ও হাড়ে পরিণত হওয়ার পরও কি আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে?'

আল-মুমিনুন, ২৩:৮২
قَالُوا أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ﴿٨٢﴾
তারা বলে- ‘আমরা যখন ম’রে মাটি ও হাড়-হাড্ডি হয়ে যাব (তারপরেও কি) আমাদেরকে আসলেই আবার উঠানো হবে? [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা বলেছিল যে, পুনরুত্থানের এই প্রতিশ্রুতি তাদেরকে ও তাদের পূর্বপুরুষদেরকে আগেও দেওয়া হয়েছিল।

আল-মুমিনুন, ২৩:৮৩
لَقَدْ وُعِدْنَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا هَذَا مِنْ قَبْلُ إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ ﴿٨٣﴾
এ বিষয়ে আমাদেরকে ওয়া‘দা দেয়া হয়েছে আর অতীতে আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও। এসব তো পুরনো কালের কিসসা কাহিনী ছাড়া কিছুই না। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা পুনরুত্থানের এই বিষয়টিকে পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয় বলে আখ্যায়িত করেছিল।

আল-মুমিনুন, ২৩:৮৩
لَقَدْ وُعِدْنَا نَحْنُ وَآبَاؤُنَا هَذَا مِنْ قَبْلُ إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ ﴿٨٣﴾
এ বিষয়ে আমাদেরকে ওয়া‘দা দেয়া হয়েছে আর অতীতে আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও। এসব তো পুরনো কালের কিসসা কাহিনী ছাড়া কিছুই না। [তাইসিরুল কুরআন]

বরং আসল কারণ হলো, কাফিররা পুনরুত্থানের কোনো প্রত্যাশা করে না।

আল-ফুরকান, ২৫:৪০
وَلَقَدْ أَتَوْا عَلَى الْقَرْيَةِ الَّتِي أُمْطِرَتْ مَطَرَ السَّوْءِ أَفَلَمْ يَكُونُوا يَرَوْنَهَا بَلْ كَانُوا لَا يَرْجُونَ نُشُورًا ﴿٤٠﴾
তারা (অর্থাৎ কাফিররা) তো সে জনপদ দিয়েই অতিক্রম করে যার উপর বর্ষিত হয়েছিল অকল্যাণের বৃষ্টি, তারা কি তা দেখে না? আসলে তারা পুনরুত্থানের কথা চিন্তা করে না। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা জিজ্ঞাসা করে, 'তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে (কিয়ামতের) এই প্রতিশ্রুতি কবে পূর্ণ হবে?'

ইয়াসীন, ৩৬:৪৮
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٤٨﴾
আর তারা বলে, ‘‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, (ক্বিয়ামতের) এ ও‘য়াদা কখন পূর্ণ হবে?’’ [তাইসিরুল কুরআন]

নিশ্চয়ই কাফিরদেরকে দেখানো জাহান্নামের আযাবই হলো তা, যা নিয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করত।

আদ-দুখান, ৪৪:৫০
إِنَّ هَذَا مَا كُنْتُمْ بِهِ تَمْتَرُونَ ﴿٥٠﴾
এ হল তাই যাতে তোমরা সন্দেহ করতে। [তাইসিরুল কুরআন]

যারা কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে না, তারাই তা সংঘটনের জন্য তাড়াহুড়ো করে।

আশ-শূরা, ৪২:১৮
يَسْتَعْجِلُ بِهَا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِهَا وَالَّذِينَ آمَنُوا مُشْفِقُونَ مِنْهَا وَيَعْلَمُونَ أَنَّهَا الْحَقُّ أَلَا إِنَّ الَّذِينَ يُمَارُونَ فِي السَّاعَةِ لَفِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ ﴿١٨﴾
যে সব লোক তাতে বিশ্বাস করে না, তারাই তার (অর্থাৎ ক্বিয়ামতের) আগমনকে তরান্বিত করতে চায়। কিন্তু যারা বিশ্বাসী তারা তাকে ভয় করে আর তারা জানে যে, তা সত্য। জেনে রেখ, যারা ক্বিয়ামত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা স্পষ্টতই সত্য পথ হতে বহু দূরে চলে গেছে। [তাইসিরুল কুরআন]

সুতরাং তোমরা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করো না।

আয-যুখরুফ, ৪৩:৬১
وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُونِ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ ﴿٦١﴾
‘ঈসা (’র দুনিয়াতে পুনরায় আগমন) ক্বিয়ামতের একটি নিশ্চিত নিদর্শন। অতএব তোমরা ক্বিয়ামতে সন্দেহ পোষণ করো না আর আমার অনুসরণ কর, এটাই সরল সঠিক পথ। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা ধারণা করে যে তাদেরকে কখনো পুনরুত্থিত করা হবে না।

আত-তাগাবুন, ৬৪:৭
زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴿٧﴾
কাফিররা ধারণা করে যে, তাদেরকে কক্ষনো আবার জীবিত করে উঠানো হবে না। বল, নিশ্চয়ই (উঠানো) হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই আবার জীবিত করে উঠানো হবে, অতঃপর তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই জানিয়ে দেয়া হবে তোমরা (দুনিয়ায়) কী কাজ করেছ। এ কাজ (করা) আল্লাহর জন্য খুবই সহজ। [তাইসিরুল কুরআন]

অস্বীকারকারীরাই প্রতিদান দিবসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।

আল-মুতাফফিফীন, ৮৩:১১
الَّذِينَ يُكَذِّبُونَ بِيَوْمِ الدِّينِ ﴿١١﴾
যারা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে। [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষেরাও জিনদের মতই ধারণা করত যে, আল্লাহ মৃত্যুর পর আর কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না।

আল-জিন, ৭২:৭
وَأَنَّهُمْ ظَنُّوا كَمَا ظَنَنْتُمْ أَنْ لَنْ يَبْعَثَ اللَّهُ أَحَدًا ﴿٧﴾
আরো এই যে (জ্বিনেরা বলেছিল) তোমরা (জ্বিনেরা) যেমন ধারণা করতে তেমনি মানুষেরা ধারণা করত যে, (মৃত্যুর পর) আল্লাহ কাউকে পুনরুত্থিত করবে না। [তাইসিরুল কুরআন]

ব্যাপারটি কাফিররা যেমন মনে করে তেমন নয়।

আল-মুদ্দাসসির, ৭৪:৫৪
كَلَّا إِنَّهُ تَذْكِرَةٌ ﴿٥٤﴾
না, তা হতে পারে না, এটা (অর্থাৎ কুরআন সকলের জন্য) উপদেশবাণী। [তাইসিরুল কুরআন]

পুনরুত্থান সম্পর্কে কাফিরদের ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

আন-নাবা, ৭৮:৪
كَلَّا سَيَعْلَمُونَ ﴿٤﴾
কক্ষনো না, (তারা যা ধারণা করে তা একেবারে, অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px