বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি

ধনসম্পদের ভাণ্ডার আল্লাহর হাতে:

আল-হিজর, ১৫:২১
وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَرٍ مَعْلُومٍ ﴿٢١﴾
এমন কোন জিনিসই নেই যার ভান্ডার আমার কাছে নেই, কিন্তু আমি সেগুলো আমার জ্ঞান মোতাবেক নির্দিষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করে থাকি। [তাইসিরুল কুরআন]

তিনি যাকে ইচ্ছা কম বা বেশি দান করেন:

সাবা, ৩৪:৩৬
قُلْ إِنَّ رَبِّي يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِرُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٣٦﴾
বল- আমার প্রতিপালক যার জন্য চান রিযক প্রশস্ত করেন বা সীমিত করেন, কিন্তু (এর তাৎপর্য) অধিকাংশ লোকই জানে না। [তাইসিরুল কুরআন]

ধনসম্পদ দুনিয়ার সৌন্দর্য:

আল-কাহফ, ১৮:৪৬
الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِنْدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا ﴿٤٦﴾
ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য, আর তোমার প্রতিপালকের নিকট পুরস্কার লাভের জন্য স্থায়ী সৎকাজ হল উৎকৃষ্ট আর আকাঙ্ক্ষা পোষণের ভিত্তি হিসেবেও উত্তম। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে মানুষকে সমৃদ্ধ করেন:

নূহ, ৭১:১২
وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا ﴿١٢﴾
তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন। [তাইসিরুল কুরআন]

ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি মানুষের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ:

আত-তাগাবুন, ৬৪:১৫
إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللَّهُ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ ﴿١٥﴾
তোমাদের ধন-সম্পদ আর সন্তানাদি পরীক্ষা (’র বস্তু) মাত্র (যারা এ দু’টিকে সঠিকভাবে ব্যবহার ক’রে আল্লাহর পথে অটল থাকবে তারা কৃতকার্য হবে, আর যারা এ দু’টিকে আল্লাহর চেয়ে অধিক ভালবাসবে তারা ব্যর্থ হয়ে যাবে)। আর আল্লাহ এমন যাঁর কাছে আছে মহা পুরস্কার। [তাইসিরুল কুরআন]

ভালো কাজে ব্যবহার না করলে সম্পদ ও সন্তান কোন উপকারে আসবে না:

আশ-শুআ'রা, ২৬:৮৮
يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ ﴿٨٨﴾
যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোন কাজে আসবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
আশ-শুআ'রা, ২৬:৮৯
إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ ﴿٨٩﴾
কেবল (সাফল্য লাভ করবে) সে ব্যক্তি যে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর নিকট আসবে। [তাইসিরুল কুরআন]
সাবা, ৩৪:৩৭
وَمَا أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ بِالَّتِي تُقَرِّبُكُمْ عِنْدَنَا زُلْفَى إِلَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ لَهُمْ جَزَاءُ الضِّعْفِ بِمَا عَمِلُوا وَهُمْ فِي الْغُرُفَاتِ آمِنُونَ ﴿٣٧﴾
ওটা না তোমাদের মাল-ধন, আর না তোমাদের সন্তান-সন্ততি যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করবে। তবে যে কেউ ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদেরই জন্য আছে বহুগুণ প্রতিদান তাদের কাজের জন্য। তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর কাছে পার্থিব ধনসম্পদের কোন মূল্য নেই:

আয-যুখরুফ, ৪৩:৩৩
وَلَوْلَا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ ﴿٣٣﴾
(সত্যকে অস্বীকার ক’রে) সব এক জাতিতে পরিণত হবে এ আশঙ্কা না থাকলে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে তাদেরকে অবশ্যই দিতাম তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ আর সিঁড়ি যাতে তারা আরোহণ করত। [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুখরুফ, ৪৩:৩৪
وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَابًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِئُونَ ﴿٣٤﴾
আর তাদের গৃহের জন্য দিতাম দরজা ও পালঙ্ক যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত। [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুখরুফ, ৪৩:৩৫
وَزُخْرُفًا وَإِنْ كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةُ عِنْدَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ ﴿٣٥﴾
আর স্বর্ণ নির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ্য সামগ্রী মাত্র। আর আখিরাত তোমার প্রতিপালকের কাছে তাদেরই জন্য যারা (আল্লাহকে) ভয় করে। [তাইসিরুল কুরআন]

ধনসম্পদ মর্যাদার মাপকাঠি নয়:

আল-মুমিনুন, ২৩:৫৫
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ ﴿٥٥﴾
তারা কি ভেবে নিয়েছে, আমি যে তাদেরকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তানাদির প্রাচুর্য দিয়ে সাহায্য করেছি [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মুমিনুন, ২৩:৫৬
نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَلْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٥٦﴾
এর দ্বারা কি তাদের কল্যাণ ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে না। [তাইসিরুল কুরআন]

ধনসম্পদ আনন্দ বা সুখের প্রকৃত কারণ নয়:

আল-হাদীদ, ৫৭:২৩
لِكَيْ لَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ ﴿٢٣﴾
এটা এজন্য যে, তোমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য তোমরা যেন হতাশাগ্রস্ত না হও, আর তোমাদেরকে যা দান করা হয়েছে তার জন্য তোমরা যেন উৎফুল্ল না হও, কেননা আল্লাহ অহংকারী ও অধিক গর্বকারীকে পছন্দ করেন না- [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহর প্রেমিকরা সম্পদের মোহে পড়ে না:

আন-নামাল, ২৭:৩৬
فَلَمَّا جَاءَ سُلَيْمَانَ قَالَ أَتُمِدُّونَنِي بِمَالٍ فَمَا آتَانِيَ اللَّهُ خَيْرٌ مِمَّا آتَاكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بِهَدِيَّتِكُمْ تَفْرَحُونَ ﴿٣٦﴾
অতঃপর দূতরা যখন সুলাইমানের কাছে আসল, সুলাইমান বলল- ‘তোমরা কি আমাকে সম্পদ দিয়ে সাহায্য করছ, কিন্তু আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম, বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে আনন্দ কর। [তাইসিরুল কুরআন]

নবীগণ দ্বীন প্রচারের কাজে কোন সম্পদ চাইতেন না:

হূদ, ১১:২৯
وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّهُمْ مُلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ ﴿٢٩﴾
হে আমার জাতির লোকেরা! আমি এ কাজে তোমাদের কাছে কোন ধন-সম্পদ চাই না, আমার পারিশ্রমিক আছে কেবল আল্লাহর কাছে। আর মু’মিনদের তাড়িয়ে দেয়া আমার জন্য শোভনীয় নয়, তারা তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎ অবশ্যই লাভ করবে, কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছ। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ অসৎপন্থায় সম্পদ অর্জন করতে নিষেধ করেছেন:

আল-বাকারা, ২:১৮৮
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١٨٨﴾
আর তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের মাল গ্রাস করো না এবং জানা সত্ত্বেও অসৎ উপায়ে লোকের মাল গ্রাস করার উদ্দেশে তা বিচারকের নিকট নিয়ে যেও না। [তাইসিরুল কুরআন]

সেই বাগান মালিকের প্রচুর ফল ও সম্পদ ছিল।

আল-কাহফ, ১৮:৩৪
وَكَانَ لَهُ ثَمَرٌ فَقَالَ لِصَاحِبِهِ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَنَا أَكْثَرُ مِنْكَ مَالًا وَأَعَزُّ نَفَرًا ﴿٣٤﴾
লোকটির উৎপাদন ছিল প্রচুর। একদিন কথাবার্তা বলার সময় সে তার প্রতিবেশীকে বলল, ‘আমি সম্পদে তোমা হতে শ্রেষ্ঠ, আর জনবলে তোমা হতে শক্তিশালী।’ [তাইসিরুল কুরআন]

কোনো ব্যক্তি যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তখন তার সম্পদ কোনো উপকারে আসে না।

আল-লাইল, ৯২:১১
وَمَا يُغْنِي عَنْهُ مَالُهُ إِذَا تَرَدَّى ﴿١١﴾
যখন সে ধ্বংস হবে (অর্থাৎ মরবে) তখন তার (সঞ্চিত) ধন-সম্পদ কোনই কাজে আসবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px