বিষয়ভিত্তিক কুরআন > আসমানী আযাবের বৈশিষ্ট্য
হঠাৎ করে আসতে পারে:
আল-আন'আম, ৬:৪৭ ⋮
قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ بَغْتَةً أَوْ جَهْرَةً هَلْ يُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الظَّالِمُونَ ﴿٤٧﴾
বল, তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ, যদি তোমাদের কাছে আকস্মিক বা প্রকাশ্যে আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে তাহলে যালিম সম্প্রদায় ছাড়া আর কে ধ্বংস হবে? [তাইসিরুল কুরআন]
এমনভাবে আসবে যে মানুষ টেরও পাবে না:
আন-নাহাল, ১৬:৪৫ ⋮
أَفَأَمِنَ الَّذِينَ مَكَرُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ يَخْسِفَ اللَّهُ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٤٥﴾
যারা (ইসলামের বিরুদ্ধে) কূট-কৌশল করছে তারা কি নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন না, অথবা তাদের কাছে শাস্তি এসে পড়বে না এমন দিক থেকে যা তারা এতটুকুও টের পাবে না [তাইসিরুল কুরআন]
রাত-দিন যে কোন সময় আসতে পারে:
ইউনুস, ১০:৫০ ⋮
قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُهُ بَيَاتًا أَوْ نَهَارًا مَاذَا يَسْتَعْجِلُ مِنْهُ الْمُجْرِمُونَ ﴿٥٠﴾
বল, ‘তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছ যদি তাঁর ‘আযাব হঠাৎ করে রাতে বা দিনে তোমাদের উপর এসে পড়ে (তাহলে তো তোমাদের করার কিছুই নেই) অপরাধীরা তার কোনটা তাড়াহুড়ো করে আনতে চায়? [তাইসিরুল কুরআন]
ঘুরাফেরার সময়ও আসতে পারে:
আন-নাহাল, ১৬:৪৬ ⋮
أَوْ يَأْخُذَهُمْ فِي تَقَلُّبِهِمْ فَمَا هُمْ بِمُعْجِزِينَ ﴿٤٦﴾
কিংবা তাদের চলাফেরার ভিতরেই তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না, অতঃপর তারা তো তা ব্যর্থ করে দিতে পারবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
আন-নাহাল, ১৬:৪৭ ⋮
أَوْ يَأْخُذَهُمْ عَلَى تَخَوُّفٍ فَإِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ ﴿٤٧﴾
অথবা তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন না যখন তারা আসন্ন মুসীবাতের চিন্তায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে থাকবে, (আসল কথা হল আল্লাহ মানুষকে খুবই অবকাশ দিয়ে থাকেন) কেননা তোমাদের প্রতিপালক অবশ্যই অতি দয়ার্দ্র, বড়ই দয়ালু। [তাইসিরুল কুরআন]
খেলাধুলার সময়ও আযাব আসতে পারে:
আল-আ'রাফ, ৭:৯৮ ⋮
أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ ﴿٩٨﴾
অথবা জনপদের লোকেরা কি নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছে যে আমার শাস্তি তাদের উপর প্রকাশ্য দিবালোকে আসবে না যখন তারা খেলাধূলায় মত্ত থাকবে? [তাইসিরুল কুরআন]
ঘুমের সময়ও আসতে পারে:
আল-আ'রাফ, ৭:৪ ⋮
وَكَمْ مِنْ قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا فَجَاءَهَا بَأْسُنَا بَيَاتًا أَوْ هُمْ قَائِلُونَ ﴿٤﴾
আমি কত জনপদকে ধ্বংস করে দিয়েছি। আমার শাস্তি তাদের নিকট এসেছিল হঠাৎ রাত্রিবেলা কিংবা দুপুর বেলা তারা যখন বিশ্রাম নিচ্ছিল। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৫ ⋮
فَمَا كَانَ دَعْوَاهُمْ إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا إِلَّا أَنْ قَالُوا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ ﴿٥﴾
আমার শাস্তি যখন তাদের উপর এসেছিল তখন এ কথা বলা ছাড়া তারা আর কোন ধ্বনি উচ্চারণ করতে পারেনি যে, ‘‘অবশ্যই আমরা যালিম ছিলাম’’। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'রাফ, ৭:৯৭ ⋮
أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُونَ ﴿٩٧﴾
জনপদের লোকেরা কি নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করছে যে আমার শাস্তি তাদের উপর পতিত হবে না রাতের বেলা যখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে? [তাইসিরুল কুরআন]
প্রতিটি (ঐশী) সংবাদের বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে।
আল-আন'আম, ৬:৬৭ ⋮
لِكُلِّ نَبَأٍ مُسْتَقَرٌّ وَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ﴿٦٧﴾
প্রত্যেক (ভবিষ্যৎ) বাণীর (সত্যরূপে প্রকাশিত হওয়ার) জন্য একটা সময় নির্ধারিত করা আছে আর তা তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে। [তাইসিরুল কুরআন]
নিশ্চয়ই লূতের সম্প্রদায়ের উপর এক অপ্রতিরোধ্য আযাব আপতিত হবে।
হূদ, ১১:৭৬ ⋮
يَا إِبْرَاهِيمُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا إِنَّهُ قَدْ جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ وَإِنَّهُمْ آتِيهِمْ عَذَابٌ غَيْرُ مَرْدُودٍ ﴿٧٦﴾
‘হে ইবরাহীম! এথেকে তুমি নিবৃত্ত হও, তোমার প্রতিপালকের নির্দেশ এসে গেছে, তাদের প্রতি শাস্তি আসবেই যা রদ হবার নয়। [তাইসিরুল কুরআন]
অথচ সেই অধিবাসীরা আল্লাহর আকস্মিক পাকড়াও সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অসচেতন ছিল।
আল-আ'রাফ, ৭:৯৫ ⋮
ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ السَّيِّئَةِ الْحَسَنَةَ حَتَّى عَفَوْا وَقَالُوا قَدْ مَسَّ آبَاءَنَا الضَّرَّاءُ وَالسَّرَّاءُ فَأَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٩٥﴾
অতঃপর আমি দূরাবস্থাকে সচ্ছলতা দিয়ে বদলে দিলাম আর শেষ পর্যন্ত তারা প্রাচুর্যে বেড়ে গেল আর বলল, ‘আমাদের পিতৃপুরুষের উপরও এ রকম সুখ-দুঃখের দিন আসত।’ অতঃপর আমি তাদেরকে হঠাৎ পাকড়াও করলাম অথচ তারা টের করতেও পারল না। [তাইসিরুল কুরআন]
অবিশ্বাসীরা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নিজেদের নিরাপদ ভেবেছিল?
আল-আ'রাফ, ৭:৯৯ ⋮
أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ ﴿٩٩﴾
তারা কি আল্লাহর কৌশল থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে? নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর কৌশল হতে কেউ নির্ভয় হতে পারে না। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহর আযাব যখন সতর্ককৃত কাফিরদের আঙ্গিনায় অবতীর্ণ হবে,
আস-সাফফাত, ৩৭:১৭৭ ⋮
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ ﴿١٧٧﴾
শাস্তি যখন তাদের উঠানে নেমে আসবে, তখন কতই না মন্দ হবে ঐ লোকেদের সকালটি যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল! [তাইসিরুল কুরআন]
এই কাফিররা কেবল একটিমাত্র বিকট শব্দের অপেক্ষা করছে।
সোয়াদ, ৩৮:১৫ ⋮
وَمَا يَنْظُرُ هَؤُلَاءِ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً مَا لَهَا مِنْ فَوَاقٍ ﴿١٥﴾
(আজ) এই লোকেরা তো প্রচন্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
সেই বিকট শব্দে কোনো বিরতি বা অবকাশ থাকবে না।
সোয়াদ, ৩৮:১৫ ⋮
وَمَا يَنْظُرُ هَؤُلَاءِ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً مَا لَهَا مِنْ فَوَاقٍ ﴿١٥﴾
(আজ) এই লোকেরা তো প্রচন্ড একটা বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে, (তা যখন ঘটবে) তাতে কোন বিরাম থাকবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহর শাস্তি কেমন ভয়াবহ ছিল!
আল-কামার, ৫৪:২১ ⋮
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِي وَنُذُرِ ﴿٢١﴾
ফলে কত ভয়ংকর ছিল আমার ‘আযাব ও ভীতি প্রদর্শন। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহর শাস্তি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।
আল-কামার, ৫৪:৩০ ⋮
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِي وَنُذُرِ ﴿٣٠﴾
ফলে কত ভয়ংকর হয়েছিল আমার ‘আযাব ও ভীতি প্রদর্শন। [তাইসিরুল কুরআন]
তোমরা কি আকাশে অবস্থানকারী সত্তার (আল্লাহর) পক্ষ থেকে পাথর বর্ষণকারী ঝড় প্রেরণের বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ?
আল-মুলক, ৬৭:১৭ ⋮
أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ ﴿١٧﴾
কিংবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠাবেন না? যাতে তোমরা জানতে পারবে যে, কেমন (ভয়ানক) ছিল আমার সতর্কবাণী। [তাইসিরুল কুরআন]
সুতরাং, জালিমদের এই শাস্তি চেয়ে তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।
আয-যারিয়াত, ৫১:৫৯ ⋮
فَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا ذَنُوبًا مِثْلَ ذَنُوبِ أَصْحَابِهِمْ فَلَا يَسْتَعْجِلُونِ ﴿٥٩﴾
কাজেই যারা যুলম করেছে তাদের প্রাপ্য তাই যে প্রাপ্য পূর্বে ছিল তাদের মত লোকেদের; কাজেই (নিজেদের প্রাপ্য পাওয়ার জন্য) তারা যেন তাড়াহুড়া না করে। [তাইসিরুল কুরআন]