বিষয়ভিত্তিক কুরআন > মানুষের কিছু ভুল ধারণা

মানুষকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়েছে- এ ধারণা ভুল:

আল-মুমিনুন, ২৩:১১৫
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ ﴿١١٥﴾
তোমরা কি ভেবেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে তামাশার বস্তু হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষের উপর ক্ষমতাবান আর কেউ নেই- এ ধারণা ভুল:

আল-বালাদ, ৯০:৫
أَيَحْسَبُ أَنْ لَنْ يَقْدِرَ عَلَيْهِ أَحَدٌ ﴿٥﴾
সে কি মনে করে যে তার উপর কেউ ক্ষমতাবান নেই? [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আনকাবূত, ২৯:৪
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ أَنْ يَسْبِقُونَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿٤﴾
যারা মন্দ কাজ করে তারা কি ভেবে নিয়েছে যে, তারা আমার আগে বেড়ে যাবে? তাদের ফয়সালা বড়ই খারাপ! [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষকে কেউ দেখছে না- এ ধারণা ভুল:

আল-বালাদ, ৯০:৭
أَيَحْسَبُ أَنْ لَمْ يَرَهُ أَحَدٌ ﴿٧﴾
সে কি মনে করে যে তাকে কেউ দেখেনি? [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুখরুফ, ৪৩:৮০
أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ ﴿٨٠﴾
তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন কথা, গোপন পরামর্শ শুনি না? নিশ্চয়ই শুনি, আর আমার ফেরেশতারাহ তাদের কাছে থেকে লিখে নেয়। [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষের সম্পদ তাকে চিরস্থায়ী করে রাখবে- এ ধারণা ভুল:

আল-হুমাযা, ১০৪:৩
يَحْسَبُ أَنَّ مَالَهُ أَخْلَدَهُ ﴿٣﴾
সে মনে করে যে, তার ধন-সম্পদ চিরকাল তার সাথে থাকবে, [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষ মরলে আবার জীবিত হবে না- এ ধারণা ভুল:

মারইয়াম, ১৯:৬৬
وَيَقُولُ الْإِنْسَانُ أَئِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا ﴿٦٦﴾
মানুষ বলে, ‘কী! আমি যখন মরে যাব, আমাকে তখন কি জীবিত করে উঠানো হবে?’ [তাইসিরুল কুরআন]
মারইয়াম, ১৯:৬৭
أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا ﴿٦٧﴾
মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি পূর্বে তাকে সৃষ্টি করেছি আর সে তখন কিছুই ছিল না। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ক্বিয়ামাহ, ৭৫:৩
أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَلَّنْ نَجْمَعَ عِظَامَهُ ﴿٣﴾
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার হাড়গুলোকে একত্রিত করতে পারব না। [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষের মুনাফিকী ধরা পড়বে না- এ ধারণা ভুল:

মুহাম্মাদ, ৪৭:২৯
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَنْ لَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ أَضْغَانَهُمْ ﴿٢٩﴾
যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ কক্ষনো তাদের লুকানো বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দিবেন না? [তাইসিরুল কুরআন]

পাপীদেরকে ভালো লোকদের সাথে গণ্য করা হবে- এ ধারণা ভুল:

আল-জাসিয়া, ৪৫:২১
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ نَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءً مَحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ ﴿٢١﴾
যারা অন্যায় কাজ করে তারা কি এ কথা ভেবে নিয়েছে যে, আমি তাদেরকে আর ঈমান গ্রহণকারী সৎকর্মশীলদেরকে সমান গণ্য করব যার ফলে তাদের উভয় দলের জীবন ও মৃত্যু সমান হয়ে যাবে? কতই না মন্দ তাদের ফয়সালা! [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষকে পরীক্ষা ছাড়াই ছেড়ে দেয়া হবে- এ ধারণা ভুল:

আল-আনকাবূত, ২৯:২
أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ ﴿٢﴾
লোকেরা কি মনে করে যে ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে দেয়া হবে, আর তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ক্বিয়ামাহ, ৭৫:৩৬
أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدًى ﴿٣٦﴾
মানুষ কি মনে করে নিয়েছে যে তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে। (তাকে পুনর্জীবিত করাও হবে না, আর বিচারের জন্য হাজির করাও হবে না)? [তাইসিরুল কুরআন]

প্রত্যেক মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে- এ ধারণা ভুল:

আল-মা'আরিজ, ৭০:৩৮
أَيَطْمَعُ كُلُّ امْرِئٍ مِنْهُمْ أَنْ يُدْخَلَ جَنَّةَ نَعِيمٍ ﴿٣٨﴾
তাদের প্রত্যেকেই কি এই লোভ করে যে, তাকে নি‘মাত-ভরা জান্নাতে দাখিলা করা হবে? [তাইসিরুল কুরআন]
আলে-ইমরান, ৩:১৪২
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ ﴿١٤٢﴾
তোমরা কি ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ আল্লাহ এখন পর্যন্তও পরখ করেননি তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে আর কারা ধৈর্যশীল। [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষ মন্দকাজ করেও মনে করে যে, সে ভালো কাজ করছে:

আল-আ'রাফ, ৭:৩০
فَرِيقًا هَدَى وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلَالَةُ إِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ ﴿٣٠﴾
একদলকে তিনি সঠিক পথ দেখিয়েছেন, আর অন্য দলের প্রতি গোমরাহী নির্ধারিত হয়েছে, তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়ত্বানদেরকে তাদের অভিভাবক করে নিয়েছে আর মনে করছে যে তারা সঠিক পথে আছে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কাহফ, ১৮:১০৩
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا ﴿١٠٣﴾
বল, ‘আমি তোমাদেরকে কি সংবাদ দেব নিজেদের ‘আমালের ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কাহফ, ১৮:১০৪
الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا ﴿١٠٤﴾
তারা হল সে সব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সঠিক কাজই করছে। [তাইসিরুল কুরআন]

কিছু লোক নিজেদের (মন্দ) কৃতকর্মে আনন্দিত হয়।

আলে-ইমরান, ৩:১৮৮
لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٨٨﴾
তোমরা এ সব লোককে আযাব থেকে সুরক্ষিত মনে করো না যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত এবং এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে চায় মূলতঃ যা তারা করেনি, তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [তাইসিরুল কুরআন]

যারা নিজেদের কৃতকর্মে আনন্দিত হয় এবং অকৃত কাজের জন্য প্রশংসা চায়, তাদের আযাব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত মনে করা অনুচিত।

আলে-ইমরান, ৩:১৮৮
لَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلَا تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٨٨﴾
তোমরা এ সব লোককে আযাব থেকে সুরক্ষিত মনে করো না যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আনন্দিত এবং এমন কাজের জন্য প্রশংসিত হতে চায় মূলতঃ যা তারা করেনি, তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [তাইসিরুল কুরআন]

অবিশ্বাসী লোকটি ধারণা পোষণ করল যে তার বাগান কখনো ধ্বংস হবে না।

আল-কাহফ, ১৮:৩৫
وَدَخَلَ جَنَّتَهُ وَهُوَ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ قَالَ مَا أَظُنُّ أَنْ تَبِيدَ هَذِهِ أَبَدًا ﴿٣٥﴾
নিজের প্রতি যুলম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বলল, ‘আমি ধারণা করি না যে, এটা কোনদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। [তাইসিরুল কুরআন]

আল্লাহ বলবেন, তোমরা যদি এই বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত থাকতে!

আল-মুমিনুন, ২৩:১১৪
قَالَ إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا لَوْ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١١٤﴾
তিনি বলবেন : ‘তোমরা অল্প সময়ই অবস্থান করেছিলে, তোমরা যদি জানতে! [তাইসিরুল কুরআন]

তোমরা এই অপবাদের বিষয়টিকে একটি তুচ্ছ ব্যাপার বলে মনে করেছিলে।

আন-নূর, ২৪:১৫
إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ ﴿١٥﴾
যখন এটা তোমরা মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে আর তোমাদের মুখ দিয়ে এমন কথা বলছিলে যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান ছিল না, আর তোমরা এটাকে নগণ্য ব্যাপার মনে করেছিলে, কিন্তু আল্লাহর নিকট তা ছিল গুরুতর ব্যাপার। [তাইসিরুল কুরআন]

কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এই পরীক্ষার বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞ।

আয-যুমার, ৩৯:৪৯
فَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنَاهُ نِعْمَةً مِنَّا قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ بَلْ هِيَ فِتْنَةٌ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٤٩﴾
মানুষকে বিপদাপদ স্পর্শ করলে আমাকে ডাকে। অতঃপর আমি যখন তাকে আমার পক্ষ থেকে নি‘মাত দিয়ে ধন্য করি তখন সে বলে- আমার জ্ঞান গরিমার বদৌলতেই আমাকে তা দেয়া হয়েছে। না, তা নয়। এটা একটা পরীক্ষা (অনুগ্রহ লাভ করে কে আল্লাহর কৃতজ্ঞ হয় আর কে নিজের বড়াই প্রকাশ করে তা দেখার জন্য)। কিন্তু (এর গুঢ়তত্ত্ব) তাদের অধিকাংশই বুঝে না। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px