বিষয়ভিত্তিক কুরআন > শয়তানের অনুসরণ করার পরিণাম
অনেক লোকই শয়তানের অনুসরণ করে:
আল-হজ্জ, ২২:৩ ⋮
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ ﴿٣﴾
কতক মানুষ জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে, আর প্রত্যেক অবাধ্য শয়ত্বানের অনুসরণ করে। [তাইসিরুল কুরআন]
তারপরও তারা সঠিক পথে আছে বলে মনে করে:
আল-আ'রাফ, ৭:৩০ ⋮
فَرِيقًا هَدَى وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلَالَةُ إِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ ﴿٣٠﴾
একদলকে তিনি সঠিক পথ দেখিয়েছেন, আর অন্য দলের প্রতি গোমরাহী নির্ধারিত হয়েছে, তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়ত্বানদেরকে তাদের অভিভাবক করে নিয়েছে আর মনে করছে যে তারা সঠিক পথে আছে। [তাইসিরুল কুরআন]
শয়তানের আনুগত্য করা শিরক:
আল-আন'আম, ৬:১২১ ⋮
وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ ﴿١٢١﴾
যাতে (যবহ করার সময়) আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি তা তোমরা মোটেই খাবে না, তা হচ্ছে পাপাচার, শায়ত্বনেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সঙ্গে তর্ক-ঝগড়া করার জন্য প্ররোচিত করে; যদি তোমরা তাদের কথা মান্য করে চল তাহলে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন:
আল-আন'আম, ৬:১৪২ ⋮
وَمِنَ الْأَنْعَامِ حَمُولَةً وَفَرْشًا كُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ ﴿١٤٢﴾
গবাদি পশুর মধ্যে কতক আছে ভারবাহী আর কতক আছে গোশত ও আচ্ছাদনের সামগ্রী দানকারী, আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিয্ক্ব দিয়েছেন তাত্থেকে ভক্ষণ কর আর শায়ত্বনের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, সে তোমাদের খোলাখুলি দুশমন। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-বাকারা, ২:১৬৮ ⋮
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ ﴿١٦٨﴾
ওহে মনুষ্যজাতি! ভূমন্ডলে বিদ্যমান বস্তুগুলো হতে হালাল উত্তম জিনিসগুলো খাও এবং শায়ত্বনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলো না, বস্তুতঃ সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [তাইসিরুল কুরআন]
যারা শয়তানকে বন্ধু বানায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে:
আন-নিসা, ৪:১১৯ ⋮
وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آذَانَ الْأَنْعَامِ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ وَمَنْ يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُبِينًا ﴿١١٩﴾
তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই বহু প্রলোভন দেব এবং তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই নির্দেশ দেব, ফলে তারা জন্তু-জানোয়ারের কান ছেদন করবে, আমি তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই নির্দেশ দেব, ফলে তারা অবশ্য অবশ্যই আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবে। আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে কেউ শয়ত্বানকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, সে সুস্পষ্টত ক্ষতিগ্রস্ত। [তাইসিরুল কুরআন]
শয়তানের গোটা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হবে:
আল-মুজাদালা, ৫৮:১৯ ⋮
اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَأَنْسَاهُمْ ذِكْرَ اللَّهِ أُولَئِكَ حِزْبُ الشَّيْطَانِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿١٩﴾
শয়ত্বান তাদের উপর প্রভাব খাটিয়ে বসেছে, আর তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়ত্বানের দল। জেনে রেখ, শয়ত্বানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত। [তাইসিরুল কুরআন]
শয়তানের অনুসারীরা জাহান্নামে যাবে:
সোয়াদ, ৩৮:৮৪ ⋮
قَالَ فَالْحَقُّ وَالْحَقَّ أَقُولُ ﴿٨٤﴾
তিনি বললেন- এটাই সত্য, আমি সত্যই বলি যে, [তাইসিরুল কুরআন]
সোয়াদ, ৩৮:৮৫ ⋮
لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكَ وَمِمَّنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٨٥﴾
আমি তোমাকে আর তাদের (অর্থাৎ মানুষদের) মধ্যে যারা তোমাকে অনুসরণ করবে তাদের সব্বাইকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব। [তাইসিরুল কুরআন]
পাপীদের সাথে শয়তানেরও হাশর ঘটবে:
মারইয়াম, ১৯:৬৮ ⋮
فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا ﴿٦٨﴾
কাজেই তোমার রব্বের কসম! আমি তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই একত্রিত করব আর শয়তানদেরকেও। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের চতুষ্পার্শ্বে নতজানু অবস্থায় অবশ্য অবশ্যই হাজির করব। [তাইসিরুল কুরআন]
অপরাধীরা শয়তানকে ধিক্কার দেবে:
আয-যুখরুফ, ৪৩:৩৮ ⋮
حَتَّى إِذَا جَاءَنَا قَالَ يَا لَيْتَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِينُ ﴿٣٨﴾
অবশেষে সে যখন আমার কাছে আসবে, তখন শয়ত্বানকে বলবে, হায়! আমার ও তোমার মাঝে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত! কতই না নিকৃষ্ট সহচর সে! [তাইসিরুল কুরআন]
শয়তান পাশ কাটিয়ে জবাব দেবে:
ইবরাহীম, ১৪:২২ ⋮
وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِي عَلَيْكُمْ مِنْ سُلْطَانٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي فَلَا تَلُومُونِي وَلُومُوا أَنْفُسَكُمْ مَا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْتُمْ بِمُصْرِخِيَّ إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِي مِنْ قَبْلُ إِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿٢٢﴾
বিচার-ফায়সালা সম্পন্ন হলে শয়ত্বান বলবে, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য যে ওয়া‘দা করেছিলেন তা ছিল সত্য ওয়া‘দা। আর আমিও তোমাদেরকে ওয়া‘দা দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তার খেলাপ করেছি, তোমাদের উপর আমার কোনই প্রভাব ছিল না, আমি কেবল তোমাদেরকে আহবান জানিয়েছিলাম আর তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলে। কাজেই তোমরা আমাকে তিরস্কার করো না, বরং নিজেদেরকেই তিরস্কার কর, এখানে না আমি তোমাদের ফরিয়াদ শুনতে পারি, না তোমরা আমার ফরিয়াদ শুনতে পার। ইতোপূর্বে তোমরা যে আমাকে (আল্লাহর) শরীক করেছিলে আমি তা অস্বীকার করছি। যালিমদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি।’ [তাইসিরুল কুরআন]
শয়তানের অনুসারীদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম।
আন-নিসা, ৪:১২১ ⋮
أُولَئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَلَا يَجِدُونَ عَنْهَا مَحِيصًا ﴿١٢١﴾
এরাই তারা যাদের আবাসস্থল জাহান্নাম এবং তারা তাত্থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার কোন পথ পাবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
পরকালে অবিশ্বাসীরা তাদের করণীয় পাপ কাজগুলো সম্পাদন করে।
আল-আন'আম, ৬:১১৩ ⋮
وَلِتَصْغَى إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُمْ مُقْتَرِفُونَ ﴿١١٣﴾
তার দিকে (অর্থাৎ চিত্তাকর্ষক প্রতারণার দিকে) সে সব লোকের অন্তর আকৃষ্ট হতে দাও যারা আখেরাতের প্রতি ঈমান আনে না, আর তাতেই তাদেরকে সন্তুষ্ট থাকতে দাও আর যে পাপকাজ তারা করতে চায় তা তাদেরকে করতে দাও। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ ঘোষণা করলেন যে ইবলিস নিশ্চয়ই লাঞ্ছিত ও অপমানিতদের অন্তর্ভুক্ত।
আল-আ'রাফ, ৭:১৩ ⋮
قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّاغِرِينَ ﴿١٣﴾
তিনি বললেন, ‘নেমে যা এখান থেকে, এর ভিতরে থেকে অহঙ্কার করবে তা হতে পারে না, অতএব বেরিয়ে যা, অধমদের মাঝে তোর স্থান।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ শপথ করে বললেন, তিনি অবশ্যই ইবলিস এবং মানবজাতির মধ্য থেকে তার অনুসারীদের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবেন।
আল-আ'রাফ, ৭:১৮ ⋮
قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ ﴿١٨﴾
তিনি বললেন, ধিকৃত আর বিতাড়িত হয়ে এখান থেকে বেরিয়ে যা, তাদের মধ্যে যারা তোকে মান্য করবে তোমাদের সবাইকে দিয়ে আমি অবশ্যই জাহান্নাম ভর্তি করব। [তাইসিরুল কুরআন]
জাহান্নামের প্রতিটি দরজার জন্য শয়তানের অনুসারীদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারিত রয়েছে।
আল-হিজর, ১৫:৪৪ ⋮
لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مَقْسُومٌ ﴿٤٤﴾
তার সাতটা দরজা আছে। প্রত্যেক দরজার জন্য তাদের মধ্যে শ্রেণী নির্দিষ্ট আছে।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আর ইবলীসের সকল সৈন্যবাহিনীকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
আশ-শুআ'রা, ২৬:৯৫ ⋮
وَجُنُودُ إِبْلِيسَ أَجْمَعُونَ ﴿٩٥﴾
আর ইবলীসের দলবল সবাইকে। [তাইসিরুল কুরআন]
মানুষের মধ্য থেকে যারা ইবলিসের অনুসরণ করবে, জাহান্নামই হবে তাদের সকলের প্রতিদান।
আল-ইসরা, ১৭:৬৩ ⋮
قَالَ اذْهَبْ فَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ جَزَاؤُكُمْ جَزَاءً مَوْفُورًا ﴿٦٣﴾
আল্লাহ বললেন, ‘যাও, তাদের মধ্যে যারা তোমাকে মেনে চলবে, জাহান্নামই হবে তোমাদের সকলের প্রতিফল, পূর্ণ প্রতিফল। [তাইসিরুল কুরআন]
শয়তান তার অনুসারীকে প্রজ্বলিত আগুনের শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে।
আল-হজ্জ, ২২:৪ ⋮
كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مَنْ تَوَلَّاهُ فَأَنَّهُ يُضِلُّهُ وَيَهْدِيهِ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ ﴿٤﴾
যার (অর্থাৎ শয়ত্বানের) সম্পর্কে বিধান করা হয়েছে যে, যে কেউ তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়বে, সে তাকে বিপথগামী করবে, আর তাকে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে। [তাইসিরুল কুরআন]
এবং শয়তানদের জন্য রয়েছে এক চিরস্থায়ী আযাব।
আস-সাফফাত, ৩৭:৯ ⋮
دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ ﴿٩﴾
(তাদেরকে) তাড়ানোর জন্য। তাদের জন্য আছে বিরামহীন শাস্তি। [তাইসিরুল কুরআন]