বিষয়ভিত্তিক কুরআন > উপহাস ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা

প্রত্যেক নবীর সাথেই উপহাস করা হয়েছে:

ইয়াসীন, ৩৬:৩০
يَاحَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٣٠﴾
বান্দাহদের জন্য পরিতাপ! তাদের কাছে এমন কোন রসূলই আসেনি যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেনি। [তাইসিরুল কুরআন]

আমাদের নবীর সাথেও উপহাস করা হয়েছে:

আল-ফুরকান, ২৫:৪১
وَإِذَا رَأَوْكَ إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ رَسُولًا ﴿٤١﴾
তারা যখন তোমাকে দেখে, তারা তোমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র ছাড়া অন্য কিছু গণ্য করে না, আর বলে : এটা কি সেই লোক আল্লাহ যাকে রসূল করে পাঠিয়েছেন? [তাইসিরুল কুরআন]

বলে, কাফিররা মুমিনদেরকে নিয়ে উপহাস করে:

আল-মুমিনুন, ২৩:১০৯
إِنَّهُ كَانَ فَرِيقٌ مِنْ عِبَادِي يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ ﴿١٠٩﴾
আমার বান্দাহদের একদল বলত- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর, আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-মুমিনুন, ২৩:১১০
فَاتَّخَذْتُمُوهُمْ سِخْرِيًّا حَتَّى أَنْسَوْكُمْ ذِكْرِي وَكُنْتُمْ مِنْهُمْ تَضْحَكُونَ ﴿١١٠﴾
কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা হাসি তামাশা করতে এমনকি তা তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল, তোমরা তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টাই করতে। [তাইসিরুল কুরআন]

মুনাফিকরাও মুমিনদের সাথে উপহাস করত:

আল-বাকারা, ২:১৪
وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ ﴿١٤﴾
যখন তারা মু’মিনদের সংস্পর্শে আসে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’; আর যখন তারা নিভৃতে তাদের শয়ত্বানদের (সর্দারদের) সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে, ‘আমরা তোমাদের সাথেই আছি, আমরা শুধু তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-তামাশা করি মাত্র’। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা আযান দিলেও বিদ্রূপ করত:

আল-মায়েদা, ৫:৫৮
وَإِذَا نَادَيْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ اتَّخَذُوهَا هُزُوًا وَلَعِبًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْقِلُونَ ﴿٥٨﴾
তোমরা যখন সলাতের জন্য আহবান জানাও তখন তারা সেটিকে তামাশা ও খেলার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে। এটা এজন্য যে, তারা হল নির্বোধ সম্প্রদায়। [তাইসিরুল কুরআন]

উপহাসকারীরাই খারাপ পরিণামের সম্মুখীন হবে।

আল-আম্বিয়া, ২১:৪১
وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِنْ قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٤١﴾
তোমার পূর্বেও রসূলদেরকে ঠাট্টা করা হয়েছে, অতঃপর যা দিয়ে তারা ঠাট্টা করত তা উল্টো ঠাট্টা-বিদ্রুপই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল। [তাইসিরুল কুরআন]

উপহাসকারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম:

আল-কাহফ, ১৮:১০৬
ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَرُسُلِي هُزُوًا ﴿١٠٦﴾
এটাই তাদের প্রতিফল-জাহান্নাম, কারণ তারা কুফুরী করেছে আর আমার নিদর্শন ও রসূলদেরকে হাসি-তামাশার বিষয় বানিয়েছে। [তাইসিরুল কুরআন]

ঠাট্টা-বিদ্রূপের উপহাসকারীদের মজলিসে বসতে নেই:

আন-নিসা, ৪:১৪০
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللَّهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا ﴿١٤٠﴾
কিতাবে তোমাদের নিকট তিনি নাযিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতের প্রতি কুফরী হচ্ছে এবং তার প্রতি ঠাট্টা করা হচ্ছে, তখন তাদের নিকট বসো না যে পর্যন্ত তারা অন্য আলোচনায় লিপ্ত না হয়, নচেৎ তোমরাও তাদের মত হয়ে যাবে, নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক ও কাফিরদের সকলকেই জাহান্নামে একত্রিত করবেন। [তাইসিরুল কুরআন]

অবিশ্বাসী ও সত্যবিমুখ ব্যক্তিরা উপহাস করে বিচার দিবসের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করে।

আয-যারিয়াত, ৫১:১২
يَسْأَلُونَ أَيَّانَ يَوْمُ الدِّينِ ﴿١٢﴾
তারা জিজ্ঞেস করে- ‘প্রতিফল দিবস কবে হবে?’ [তাইসিরুল কুরআন]

অবিশ্বাসীরা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তা-ই তাদেরকে পরিবেষ্টন করবে।

আল-জাসিয়া, ৪৫:৩৩
وَبَدَا لَهُمْ سَيِّئَاتُ مَا عَمِلُوا وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٣٣﴾
তারা যে সব মন্দ কাজ করত সেগুলো তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে আর তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করত তা তাদেরকে ঘিরে ফেলবে। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিদ্রূপ করে বলেছিল, 'হে ঐ ব্যক্তি যার উপর যিকির (কুরআন) নাযিল হয়েছে'।

আল-হিজর, ১৫:৬
وَقَالُوا يَا أَيُّهَا الَّذِي نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ ﴿٦﴾
তারা বলে, ‘ওহে ঐ ব্যক্তি যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো অবশ্যই পাগল। [তাইসিরুল কুরআন]

আপনি (মুহাম্মাদ ﷺ) মুনাফিকদেরকে বলুন, 'তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়েই ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলে?'

আত-তাওবা, ৯:৬৫
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ ﴿٦٥﴾
তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা জোর দিয়েই বলবে, ‘আমরা হাস্য রস আর খেল-তামাশা করছিলাম।’ বল, ‘আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রসূলকে নিয়ে তোমরা বিদ্রূপ করছিলে?’ [তাইসিরুল কুরআন]

অথচ এই আযাবটিই কাফিররা দ্রুত কামনা করত।

ইউনুস, ১০:৫১
أَثُمَّ إِذَا مَا وَقَعَ آمَنْتُمْ بِهِ آلْآنَ وَقَدْ كُنْتُمْ بِهِ تَسْتَعْجِلُونَ ﴿٥١﴾
তাহলে ওটা বাস্তবে ঘটে যাওয়ার পরই কি তোমরা তাতে বিশ্বাস করতে চাও? (ঘটে যাওয়ার পর বলা হবে) ‘এখন, (বিশ্বাস করলে) এটার জন্য তোমরা তাড়াহুড়ো করছিলে!’ [তাইসিরুল কুরআন]

সুতরাং, অবিশ্বাসীরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তার (বাস্তব) সংবাদ শীঘ্রই তাদের কাছে আসবে।

আশ-শুআ'রা, ২৬:৬
فَقَدْ كَذَّبُوا فَسَيَأْتِيهِمْ أَنْبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٦﴾
তারা (আল্লাহর বাণীকে) অস্বীকারই করেছে, শীঘ্রই তাদের কাছে তার সত্য উদঘাটিত হবে যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা যখন নবীকে (ﷺ) দেখে, তখন তারা তাঁকে কেবল ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র হিসেবেই গ্রহণ করে।

আল-আম্বিয়া, ২১:৩৬
وَإِذَا رَآكَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَتَّخِذُونَكَ إِلَّا هُزُوًا أَهَذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ وَهُمْ بِذِكْرِ الرَّحْمَنِ هُمْ كَافِرُونَ ﴿٣٦﴾
কাফিররা যখন তোমাকে দেখে, তখন তারা তোমাকে একমাত্র উপহাসের পাত্র হিসেবেই গণ্য করে। (আর তারা বলে) ‘এই কি সেই লোক যে তোমাদের দেবতাগুলোর ব্যাপারে কথা বলে? অথচ এই লোকগুলোই ‘রহমান’ (শব্দটির) উল্লেখকে অগ্রাহ্য করে। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা ইবরাহিমকে (আঃ) প্রশ্ন করল যে তিনি সত্যসহ এসেছেন, নাকি তিনি কেবল তামাশাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

আল-আম্বিয়া, ২১:৫৫
قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنْتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ ﴿٥٥﴾
তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের কাছে প্রকৃত সত্য এনেছ, না তুমি আমাদের সঙ্গে তামাশা করছ?’ [তাইসিরুল কুরআন]

কাফির নেতারা উপহাস করে বলল, 'সে কি তোমাদেরকে এই প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তোমরা মরে গিয়ে মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হওয়ার পর তোমাদেরকে পুনরায় উত্থিত করা হবে?'

আল-মুমিনুন, ২৩:৩৫
أَيَعِدُكُمْ أَنَّكُمْ إِذَا مِتُّمْ وَكُنْتُمْ تُرَابًا وَعِظَامًا أَنَّكُمْ مُخْرَجُونَ ﴿٣٥﴾
সে কি তোমাদের সঙ্গে এই ওয়া‘দা করে যে, যখন তোমরা মরে যাবে আর মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হবে তখন তোমাদেরকে আবার জীবিত করা হবে। [তাইসিরুল কুরআন]

মন্দকর্মকারীরা আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।

আর-রুম, ৩০:১০
ثُمَّ كَانَ عَاقِبَةَ الَّذِينَ أَسَاءُوا السُّوأَى أَنْ كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَكَانُوا بِهَا يَسْتَهْزِئُونَ ﴿١٠﴾
অতঃপর যারা মন্দ কাজ করত, তাদের পরিণাম হয়েছিল মন্দ; কারণ তারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল আর সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। [তাইসিরুল কুরআন]

উত্তরে কাফিররা মু'মিনদেরকে এই বলে উপহাস করে যে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে যাকে খাওয়াতে পারতেন, তাকে তারা কেন খাওয়াবে?

ইয়াসীন, ৩৬:৪৭
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنُطْعِمُ مَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ أَطْعَمَهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٤٧﴾
তাদেরকে যখন বলা হয় ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তাত্থেকে তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর; তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘‘আমরা কি এমন লোককে খাওয়াবো আল্লাহ ইচ্ছে করলে যাকে খাওয়াতে পারতেন? তোমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতে পড়ে আছ। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা জিজ্ঞাসা করে, 'এই চূড়ান্ত ফয়সালা কবে হবে?'

আস-সাজদাহ, ৩২:২৮
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْفَتْحُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ﴿٢٨﴾
আর তারা বলেঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, এ ফয়সালা কখন হবে? [তাইসিরুল কুরআন]

আর কাফিররা (নবী ও তাঁর আনীত সত্য নিয়ে) বিদ্রূপ করে।

আস-সাফফাত, ৩৭:১২
بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ ﴿١٢﴾
(আল্লাহর শক্তি-ক্ষমতা-মহিমা দেখে) তুমি কর বিস্ময়বোধ, আর তারা করে বিদ্রূপ। [তাইসিরুল কুরআন]

কাফিররা (দ্বীনের বিষয় নিয়ে) খেল-তামাশায় লিপ্ত রয়েছে।

আদ-দুখান, ৪৪:৯
بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ يَلْعَبُونَ ﴿٩﴾
কিন্তু তারা সংশয়ের মাঝে খেলায় মত্ত। [তাইসিরুল কুরআন]

তখন তারা (ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়) সেই নিদর্শনাবলী নিয়ে উপহাস করতে লাগল।

আয-যুখরুফ, ৪৩:৪৭
فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِآيَاتِنَا إِذَا هُمْ مِنْهَا يَضْحَكُونَ ﴿٤٧﴾
যখন সে আমার আয়াতসমূহ নিয়ে তাদের কাছে আসলো, তখন তারা তা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে লাগল। [তাইসিরুল কুরআন]

এক আবেদনকারী অবশ্যম্ভাবী এক আযাব চেয়ে বসল।

আল-মা'আরিজ, ৭০:১
سَأَلَ سَائِلٌ بِعَذَابٍ وَاقِعٍ ﴿١﴾
এক ব্যক্তি চাইল সে ‘আযাব যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px