বিষয়ভিত্তিক কুরআন > কাফিরদের দৃষ্টান্তসমূহ
কাফিরদের তুলনা পশুর সাথে:
আল-বাকারা, ২:১৭১ ⋮
وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَنِدَاءً صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ﴿١٧١﴾
এ কাফিরদের তুলনা সেই ব্যক্তির মত যে এমন কিছুকে ডাকে যা হাঁক-ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনে না, বধির, মূক ও অন্ধ; কাজেই তারা বুঝবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদের আমলের উপমা:
আন-নূর, ২৪:৩৯ ⋮
وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَعْمَالُهُمْ كَسَرَابٍ بِقِيعَةٍ يَحْسَبُهُ الظَّمْآنُ مَاءً حَتَّى إِذَا جَاءَهُ لَمْ يَجِدْهُ شَيْئًا وَوَجَدَ اللَّهَ عِنْدَهُ فَوَفَّاهُ حِسَابَهُ وَاللَّهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿٣٩﴾
আর যারা কুফুরী করে তাদের কাজকর্ম হল বালুকাময় মরুভূমির মরীচিকার মত। পিপাসার্ত ব্যক্তি সেটাকে পানি মনে করে অবশেষে সে যখন তার নিকটে আসে, সে দেখে ওটা কিছুই না, সে সেখানে পায় আল্লাহকে, অতঃপর আল্লাহ তার হিসাব চুকিয়ে দেন। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণ করে থাকেন। [তাইসিরুল কুরআন]
ইবরাহীম, ১৪:১৮ ⋮
مَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ أَعْمَالُهُمْ كَرَمَادٍ اشْتَدَّتْ بِهِ الرِّيحُ فِي يَوْمٍ عَاصِفٍ لَا يَقْدِرُونَ مِمَّا كَسَبُوا عَلَى شَيْءٍ ذَلِكَ هُوَ الضَّلَالُ الْبَعِيدُ ﴿١٨﴾
যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের ‘আমালের দৃষ্টান্ত হল সেই ছাইয়ের মত যা ঝড়ের দিনে বাতাস প্রচন্ড বেগে উড়িয়ে নিয়ে যায়। নিজেদের উপার্জনের কিছুই তারা কাজে লাগাতে পারে না। এটাই ঘোর গুমরাহী। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদের আমলের কোন ওজন থাকবে না:
আল-কাহফ, ১৮:১০৩ ⋮
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا ﴿١٠٣﴾
বল, ‘আমি তোমাদেরকে কি সংবাদ দেব নিজেদের ‘আমালের ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কাহফ, ১৮:১০৪ ⋮
الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا ﴿١٠٤﴾
তারা হল সে সব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সঠিক কাজই করছে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-কাহফ, ১৮:১০৫ ⋮
أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا ﴿١٠٥﴾
তারা হল সে সব লোক যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শন ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে অমান্য করে। যার ফলে তাদের যাবতীয় ‘আমাল নিস্ফল হয়ে গেছে। কিয়ামাতের দিন আমি তাদের (কাজের) জন্য কোন ওজন কায়িম করব না (অর্থাৎ তাদের এ সব ‘আমাল ওজনযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না)। [তাইসিরুল কুরআন]
তাদের আমলসমূহ ধূলার মতো উড়িয়ে দেয়া হবে:
আল-ফুরকান, ২৫:২৩ ⋮
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا ﴿٢٣﴾
তারা (দুনিয়ায়) যে ‘আমাল করেছিল আমি সেদিকে অগ্রসর হব, অতঃপর তাকে বানিয়ে দেব ছড়ানো ছিটানো ধূলিকণা (সদৃশ)। [তাইসিরুল কুরআন]
কাফিররা এই পার্থিব জীবনে যা ব্যয় করে, তার দৃষ্টান্ত হলো এমন এক হিমশীতল বায়ু, যা আত্ম-অত্যাচারী সম্প্রদায়ের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে তা ধ্বংস করে দেয়।
আলে-ইমরান, ৩:১১৭ ⋮
مَثَلُ مَا يُنْفِقُونَ فِي هَذِهِ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَثَلِ رِيحٍ فِيهَا صِرٌّ أَصَابَتْ حَرْثَ قَوْمٍ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ فَأَهْلَكَتْهُ وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿١١٧﴾
এ পার্থিব জীবনে তারা যা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বাতাসের মত যা নিজেদের প্রতি যুলমকারী সম্প্রদায়ের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে এবং তাকে নষ্ট করে। মূলতঃ তাদের প্রতি আল্লাহ কোন প্রকার যুলম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করে থাকে। [তাইসিরুল কুরআন]
কাফিরদের উপমা হলো অন্ধ ও বধিরের ন্যায়।
হূদ, ১১:২৪ ⋮
مَثَلُ الْفَرِيقَيْنِ كَالْأَعْمَى وَالْأَصَمِّ وَالْبَصِيرِ وَالسَّمِيعِ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ﴿٢٤﴾
দু’শ্রেণীর লোকের দৃষ্টান্ত হল যেমন একজন হল অন্ধ ও বধির, অন্যজন চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশীল, এ দু’জন কি তুলনায় সমান হতে পারে? এরপরও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের দৃষ্টান্ত অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
আল-আ'রাফ, ৭:১৭৭ ⋮
سَاءَ مَثَلًا الْقَوْمُ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَأَنْفُسَهُمْ كَانُوا يَظْلِمُونَ ﴿١٧٧﴾
যে সম্প্রদায় আমার আয়াতগুলোকে মিথ্যে মনে করে প্রত্যাখ্যান করে আর নিজেদের উপর যুলম করতে থাকে তাদের উদাহরণ কতই না মন্দ! [তাইসিরুল কুরআন]
অন্ধ ব্যক্তি ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তি সমান নয়।
আর-রাদ, ১৩:১৬ ⋮
قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ ﴿١٦﴾
বল, আকাশ ও যমীনের প্রতিপালক কে? বল, আল্লাহ। বল, তোমরা কি তাঁকে বাদ দিয়ে এমন অভিভাবক গ্রহণ করেছ যাদের নিজেদের কোন লাভ-লোকসান করার ক্ষমতা নেই। বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান? কিংবা অন্ধকার আর আলো কি সমান? কিংবা তারা কি আল্লাহর অংশীদার বানিয়েছে তাদেরকে যারা তাঁর সৃষ্টির মত সৃষ্টি করেছে, যে কারণে সৃষ্টি তাদের কাছে সমান মনে হয়েছে? বল, আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, তিনি এক, মহা প্রতাপশালী। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ নবীকে (ﷺ) কাফিরদের উপস্থাপিত বিভ্রান্তিকর উপমাগুলো লক্ষ্য করতে বলছেন।
আল-ফুরকান, ২৫:৯ ⋮
انْظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا لَكَ الْأَمْثَالَ فَضَلُّوا فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًا ﴿٩﴾
দেখ, তারা তোমার ব্যাপারে কেমন সব উপমা পেশ করছে! যার ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, অতএব তারা কোন ক্রমেই পথ পাবে না। [তাইসিরুল কুরআন]
অন্ধ ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তি সমান নয়।
ফাতির, ৩৫:১৯ ⋮
وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ ﴿١٩﴾
অন্ধ আর চোখওয়ালা সমান নয়। [তাইসিরুল কুরআন]
অন্ধকারসমূহ এবং আলো সমান নয়।
ফাতির, ৩৫:২০ ⋮
وَلَا الظُّلُمَاتُ وَلَا النُّورُ ﴿٢٠﴾
আর অন্ধকার ও আলোও (সমান নয়)। [তাইসিরুল কুরআন]
ছায়া এবং প্রখর রৌদ্র সমান নয়।
ফাতির, ৩৫:২১ ⋮
وَلَا الظِّلُّ وَلَا الْحَرُورُ ﴿٢١﴾
আর ছায়া ও রোদও (সমান নয়)। [তাইসিরুল কুরআন]