বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ইখলাস বা একনিষ্ঠতা
আল্লাহর দাসত্ব করতে হবে একনিষ্ঠভাবে:
আয-যুমার, ৩৯:২ ⋮
إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ ﴿٢﴾
আমি তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি সত্যতা সহকারে, (এতে নেই কোন প্রকার মিথ্যে) কাজেই আল্লাহর ‘ইবাদাত কর দ্বীনকে (অর্থাৎ আনুগত্য, হুকুম পালন, দাসত্ব ও গোলামীকে) একমাত্র তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করে। [তাইসিরুল কুরআন]
মানুষকে নিষ্ঠার সাথে ইবাদাত করতে আদেশ দেয়া হয়েছে:
আল-বায়্যিনাহ, ৯৮:৫ ⋮
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ ﴿٥﴾
তাদেরকে এ ছাড়া অন্য কোন হুকুমই দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে। আর তারা নামায প্রতিষ্ঠা করবে আর যাকাত দিবে। আর এটাই সঠিক সুদৃঢ় দ্বীন। [তাইসিরুল কুরআন]
আয-যুমার, ৩৯:৩ ⋮
أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ ﴿٣﴾
জেনে রেখ, খালেস দ্বীন কেবল আল্লাহরই জন্য। যারা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে তারা বলে- আমরা তাদের ‘ইবাদাত একমাত্র এ উদ্দেশেই করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেবে। (সত্য পথ থেকে সরে গিয়ে মিথ্যে পথ ও মতের জন্ম দিয়ে) তারা যে মতভেদ করছে, আল্লাহ তার চূড়ান্ত ফয়সালা করে দেবেন। যে মিথ্যেবাদী ও কাফির আল্লাহ তাকে সঠিক পথ দেখান না। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহকে একনিষ্ঠভাবে ডাকতে হবে:
গাফির, ৪০:১৪ ⋮
فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ ﴿١٤﴾
কাজেই আল্লাহকে ডাক আনুগত্যকে একমাত্র তাঁরই জন্য নিদিষ্ট করো, যদিও কাফিরগণ তা অপছন্দ করে। [তাইসিরুল কুরআন]
বিপদে পড়লে মানুষ নিষ্ঠার সাথে আল্লাহকে ডাকে:
কোনো আয়াত নেই।
শয়তান একনিষ্ঠ বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না:
আল-হিজর, ১৫:৪০ ⋮
إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ ﴿٤٠﴾
কিন্তু তাদের মধ্যে আপনার বাছাই করা বান্দাহদের ছাড়া।’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল-হিজর, ১৫:৩৯ ⋮
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ﴿٣٩﴾
সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! যেহেতু আপনি আমাকে ভ্রান্তপথে ঠেলে দিলেন, কাজেই আমিও পৃথিবীতে মানুষের কাছে পাপকাজকে অবশ্য অবশ্যই সুশোভিত করে দেখাব আর তাদের সবাইকে অবশ্য অবশ্যই বিভ্রান্ত করব। [তাইসিরুল কুরআন]
বাহ্যিক কাঠামো নয়, বরং অন্তরের তাক্বওয়াই আল্লাহর কাছে পৌছে:
আল-হজ্জ, ২২:৩৭ ⋮
لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ ﴿٣٧﴾
আল্লাহর কাছে ওগুলোর না গোশত পৌঁছে, আর না রক্ত পৌঁছে বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি ওগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করতে পার এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, কাজেই সৎকর্মশীলদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও। [তাইসিরুল কুরআন]
আর আমরা কেবল আল্লাহরই প্রতি একনিষ্ঠ।
আল-বাকারা, ২:১৩৯ ⋮
قُلْ أَتُحَاجُّونَنَا فِي اللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ ﴿١٣٩﴾
বল, ‘তোমরা কি আল্লাহর সম্বন্ধে আমাদের সাথে ঝগড়া করছ? অথচ তিনি আমাদেরও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক এবং আমাদের জন্য আমাদের কৃতকর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কৃতকর্ম এবং আমরা তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ।’ [তাইসিরুল কুরআন]
এবং সেই বিশ্বাসীরা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিলেন।
আলে-ইমরান, ৩:১৭৪ ⋮
فَانْقَلَبُوا بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ لَمْ يَمْسَسْهُمْ سُوءٌ وَاتَّبَعُوا رِضْوَانَ اللَّهِ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ ﴿١٧٤﴾
অতঃপর তারা আল্লাহর নি‘মাত ও অনুগ্রহসহ ফিরে আসল, কোনও প্রকার অনিষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করেনি, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল এবং আল্লাহ মহাকল্যাণময়। [তাইসিরুল কুরআন]
মানুষেরা যখন নৌযানে (বিপদে) থাকে, তখন তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে।
আল-আনকাবূত, ২৯:৬৫ ⋮
فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ ﴿٦٥﴾
তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে তখন বিশুদ্ধ অন্তঃকরণে একনিষ্ঠ হয়ে তারা আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে নিরাপদে স্থলে পৌঁছে দেন, তখন তারা (অন্যকে আল্লাহর) শরীক ক’রে বসে। [তাইসিরুল কুরআন]
তবে আল্লাহর মনোনীত বান্দাগণ শাস্তির এই বিধানের অন্তর্ভুক্ত নন।
আস-সাফফাত, ৩৭:৪০ ⋮
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ﴿٤٠﴾
কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা নয় (তারা এ সব ‘আযাব থেকে রক্ষা পাবে)। [তাইসিরুল কুরআন]
এবং আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দারা সম্মানিত হবেন।
আস-সাফফাত, ৩৭:৪২ ⋮
فَوَاكِهُ وَهُمْ مُكْرَمُونَ ﴿٤٢﴾
ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত। [তাইসিরুল কুরআন]
তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাগণ পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ধ্বংসাত্মক পরিণতি থেকে মুক্ত ছিলেন।
আস-সাফফাত, ৩৭:৭৪ ⋮
إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ﴿٧٤﴾
কিন্তু আল্লাহর একনিষ্ট বান্দাদের কথা ভিন্ন (এ সব খারাপ পরিণতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল।) [তাইসিরুল কুরআন]
নবী (ﷺ) তাঁর আনুগত্যকে সম্পূর্ণরূপে কেবল আল্লাহর জন্যই একনিষ্ঠ রাখেন।
আয-যুমার, ৩৯:১৪ ⋮
قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَهُ دِينِي ﴿١٤﴾
বল- আমি ‘ইবাদাত করি আল্লাহর বিশুদ্ধভাবে তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যের মাধ্যমে। [তাইসিরুল কুরআন]