বিষয়ভিত্তিক কুরআন > আত্মশুদ্ধি অর্জন করা

নফসে আম্মারা খারাপ কাজের নির্দেশ দেয়:

ইউসুফ, ১২:৫৩
وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ ﴿٥٣﴾
(সে বলল), ‘আমি নিজেকে দোষমুক্ত মনে করি না, নফস্ তো মন্দ কাজে প্ররোচিত করতেই থাকে, আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া। আমার প্রতিপালক বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।’ [তাইসিরুল কুরআন]

নফসে লাওয়ামা মন্দকাজকে ঘৃণা করে:

আল-ক্বিয়ামাহ, ৭৫:২
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ ﴿٢﴾
আমি আরো কসম করছি সেই মনের যে (অন্যায় কাজ ক’রে বসলে) নিজেকে ধিক্কার দেয় (যে তোমাদেরকে অবশ্যই আবার জীবিত করে উঠানো হবে)। [তাইসিরুল কুরআন]

নফসে মুতমাইন্না কেবল ভালো কাজের উৎসাহ দেয়:

আল-ফাজর, ৮৯:২৭
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ﴿٢٧﴾
(অপর দিকে নেককার লোককে বলা হবে) হে প্রশান্ত আত্মা! [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ফাজর, ৮৯:২৮
ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً ﴿٢٨﴾
তোমার রব-এর দিকে ফিরে এসো সন্তুষ্ট হয়ে এবং (তোমার রব-এর) সন্তুষ্টির পাত্র হয়ে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ফাজর, ৮৯:২৯
فَادْخُلِي فِي عِبَادِي ﴿٢٩﴾
অতঃপর আমার (নেক) বান্দাহদের মধ্যে শামিল হও [তাইসিরুল কুরআন]
আল-ফাজর, ৮৯:৩০
وَادْخُلِي جَنَّتِي ﴿٣٠﴾
আর আমার জান্নাতে প্রবেশ কর। [তাইসিরুল কুরআন]

মানুষের আত্মাকে পবিত্র করা নবীগণের দায়িত্ব ছিল:

আল-জুমু'আ, ৬২:২
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿٢﴾
তিনিই নিরক্ষরদের মাঝে পাঠিয়েছেন তাঁর রসূলকে তাদেরই মধ্য হতে, যে তাদের কাছে আল্লাহর আয়াত পাঠ করে, তাদেরকে পবিত্র করে, আর তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় অথচ ইতোপূর্বে তারা ছিল স্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত। [তাইসিরুল কুরআন]

আত্মশুদ্ধি লাভ করলে নিজেরই কল্যাণ হয়:

ফাতির, ৩৫:১৮
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى إِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَمَنْ تَزَكَّى فَإِنَّمَا يَتَزَكَّى لِنَفْسِهِ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ ﴿١٨﴾
কোন বহনকারী অন্যের (পাপের) বোঝা বইবে না। কেউ যদি তার গুরুভার বয়ে দেয়ার জন্য অন্যকে ডাকে তবে তার কিছুই বয়ে দেয়া হবে না- নিকটাত্মীয় হলেও। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পার, যারা না দেখেই তাদের প্রতিপালককে ভয় করে আর নামায প্রতিষ্ঠা করে। যে কেউ নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সে তো পরিশুদ্ধ করে নিজের কল্যাণেই। আল্লাহর দিকেই (সকলের) প্রত্যাবর্তন। [তাইসিরুল কুরআন]

আত্মশুদ্ধি লাভ করার মধ্যেই রয়েছে সফলতা:

আশ-শামস, ৯১:৯
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا ﴿٩﴾
সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ আত্মাকে পবিত্র করেছে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'লা, ৮৭:১৪
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى ﴿١٤﴾
সাফল্য লাভ করবে সে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, [তাইসিরুল কুরআন]
আল-আ'লা, ৮৭:১৫
وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى ﴿١٥﴾
আর তার প্রতিপালকের নাম স্মরণ করে ও নামায কায়েম করে। [তাইসিরুল কুরআন]

আত্মশুদ্ধির অন্যতম উপায় আল্লাহর পথে ব্যয় করা:

আল-লাইল, ৯২:১৭
وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى ﴿١٧﴾
তাত্থেকে দূরে রাখা হবে এমন ব্যক্তিকে যে আল্লাহকে খুব বেশি ভয় করে, [তাইসিরুল কুরআন]
আল-লাইল, ৯২:১৮
الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّى ﴿١٨﴾
যে পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশে নিজের ধন-সম্পদ দান করে, [তাইসিরুল কুরআন]

আত্মশুদ্ধি লাভকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে:

ত্ব-হা, ২০:৭৫
وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا ﴿٧٥﴾
যে কেউ সৎ ‘আমাল ক’রে মু’মিন অবস্থায় তাঁর নিকট হাযির হবে, তাদের জন্য আছে সুউচ্চ মর্যাদা। [তাইসিরুল কুরআন]
ত্ব-হা, ২০:৭৬
جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى ﴿٧٦﴾
স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে বয়ে চলছে নির্ঝরিণী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। যারা নিজেদেরকে পবিত্র করে তাদের এটাই পুরস্কার। [তাইসিরুল কুরআন]

কিংবা তোমরা কোনো মন্দ কাজ ক্ষমা করে দাও।

আন-নিসা, ৪:১৪৯
إِنْ تُبْدُوا خَيْرًا أَوْ تُخْفُوهُ أَوْ تَعْفُوا عَنْ سُوءٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِيرًا ﴿١٤٩﴾
তোমরা যদি ভাল কাজ প্রকাশ্যে কর কিংবা তা গোপনে কর কিংবা মন্দকে ক্ষমা কর তবে আল্লাহও দোষত্রুটি মোচনকারী, ক্ষমতার অধিকারী। [তাইসিরুল কুরআন]

যাকে নিজ আত্মার কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়, তারাই হলো প্রকৃত সফলকাম।

আত-তাগাবুন, ৬৪:১৬
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنْفِقُوا خَيْرًا لِأَنْفُسِكُمْ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿١٦﴾
কাজেই তোমরা আল্লাহকে তোমাদের সাধ্যমত ভয় কর, তোমরা (তাঁর বাণী) শুন, তোমরা (তাঁর) আনুগত্য কর এবং (তাঁর পথে) ব্যয় কর, এটা তোমাদের নিজেদেরই জন্য কল্যাণকর। যারা অন্তরের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা পেল, তারাই সফলকাম। [তাইসিরুল কুরআন]

সেই বন্ধুর গিরিপথটি হলো কোনো দাসকে মুক্ত করা।

আল-বালাদ, ৯০:১৩
فَكُّ رَقَبَةٍ ﴿١٣﴾
(তা হচ্ছে) দাসমুক্তি। [তাইসিরুল কুরআন]

কঠিন গিরিপথগুলোর মধ্যে একটি হলো দুর্ভিক্ষের দিনে খাদ্য দান করা।

আল-বালাদ, ৯০:১৪
أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ ﴿١٤﴾
অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে খাদ্য দান [তাইসিরুল কুরআন]

দুর্গম গিরিপথ অতিক্রমের একটি উপায় হলো নিকটাত্মীয় ইয়াতীমকে খাদ্য দান করা।

আল-বালাদ, ৯০:১৫
يَتِيمًا ذَا مَقْرَبَةٍ ﴿١٥﴾
নিকটাত্মীয় ইয়াতীমকে, [তাইসিরুল কুরআন]

অতঃপর আল্লাহ মানবাত্মাকে তার মন্দ কর্মের জ্ঞান দান করেছেন।

আশ-শামস, ৯১:৮
فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا ﴿٨﴾
অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। [তাইসিরুল কুরআন]

এবং আল্লাহ মানবাত্মাকে তার তাকওয়া বা আল্লাহভীতির জ্ঞানও দান করেছেন।

আশ-শামস, ৯১:৮
فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا ﴿٨﴾
অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। [তাইসিরুল কুরআন]
ফন্ট সাইজ
15px
17px