বিষয়ভিত্তিক কুরআন > ইসলাম প্রচারের গুরুত্ব
আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর মর্যাদা সর্বোচ্চ:
হা-মীম আস-সাজদা, ৪১:৩৩ ⋮
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿٣٣﴾
কথায় ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম যে (মানুষকে) আল্লাহর দিকে আহবান করে, আর সৎ কাজ করে এবং বলে, ‘আমি (আল্লাহর প্রতি) অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত’। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহর পথে আহ্বান করার নির্দেশ:
আল-হজ্জ, ২২:৬৭ ⋮
لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ ﴿٦٧﴾
প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমি (‘ইবাদাতের) নিয়ম-কানুন নির্ধারণ করে দিয়েছি যা তারা অনুসরণ করে। কাজেই তারা যেন এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক বিতর্ক না করে। তুমি (তাদেরকে) তোমার প্রতিপালকের দিকে ডাক, তুমি অবশ্যই সরল সঠিক পথে আছ। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ মানুষকে শান্তির পথে ডাকেন:
ইউনুস, ১০:২৫ ⋮
وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ﴿٢٥﴾
আল্লাহ তোমাদেরকে শান্তির কেন্দ্রভূমির দিকে আহবান জানান আর যাকে তিনি চান সঠিক পথে পরিচালিত করেন। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ মানুষকে জান্নাতের পথে ডাকেন:
আল-বাকারা, ২:২২১ ⋮
وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿٢٢١﴾
মুশরিকা নারীরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা তাদেরকে বিবাহ করো না। মূলতঃ মু’মিন ক্রীতদাসী মুশরিকা নারী হতে উত্তম ওদেরকে তোমাদের যতই ভাল লাগুক না কেন, ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে বিবাহ দিও না, বস্তুতঃ মুশরিককে তোমাদের যতই ভাল লাগুক না কেন, মু’মিন গোলাম তার চেয়ে উত্তম। ওরা অগ্নির দিকে আহবান করে আর আল্লাহ নিজের অনুগ্রহে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন। তিনি মানুষদের জন্য নিজের হুকুমগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। [তাইসিরুল কুরআন]
নবীগণও মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকতেন:
ইউসুফ, ১২:১০৮ ⋮
قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٠٨﴾
বল, ‘এটাই আমার পথ, আল্লাহর পথে আহবান জানাচ্ছি, আমি ও আমার অনুসারীরা, স্পষ্ট জ্ঞানের মাধ্যমে। আল্লাহ মহান, পবিত্র; আমি কক্ষনো মুশরিকদের মধ্যে শামিল হব না। [তাইসিরুল কুরআন]
অনেক মুমিন ব্যক্তি মানুষকে নাজাতের পথে ডাকেন:
গাফির, ৪০:৪১ ⋮
وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ ﴿٤١﴾
হে আমার সম্প্রদায়! বড়ই আশ্চর্য! আমি তোমাদেরকে ডাকছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা ডাকছো আগুনের দিকে। [তাইসিরুল কুরআন]
জিনদের একটি দলও আল্লাহর পথে ডাকে:
আল-আহকাফ, ৪৬:৩১ ⋮
يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ ﴿٣١﴾
হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহবানকারীর প্রতি সাড়া দাও এবং তার প্রতি ঈমান আন, আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন আর তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক ‘আযাব থেকে রক্ষা করবেন। [তাইসিরুল কুরআন]
শয়তান জাহান্নামের দিকে ডাকে:
লুকমান, ৩১:২১ ⋮
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطَانُ يَدْعُوهُمْ إِلَى عَذَابِ السَّعِيرِ ﴿٢١﴾
তাদেরকে যখন বলা হয়- আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ কর, তখন তারা বলে- বরং আমরা তারই অনুসরণ করব আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে যে পথ অনুসরণ করতে দেখেছি। শয়ত্বান যদি তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে ডাকে, তবুও কি (তারা তারই অনুসরণ করবে)? [তাইসিরুল কুরআন]
বাতিল দলগুলোও জাহান্নামের পথে ডাকে:
গাফির, ৪০:৪১ ⋮
وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ ﴿٤١﴾
হে আমার সম্প্রদায়! বড়ই আশ্চর্য! আমি তোমাদেরকে ডাকছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা ডাকছো আগুনের দিকে। [তাইসিরুল কুরআন]
গাফির, ৪০:৪২ ⋮
تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ ﴿٤٢﴾
তোমরা আমাকে ডাকছ যেন আমি আল্লাহর সাথে কুফুরী করি এবং তাঁর অংশী স্থাপন করি যে সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নেই। অপরপক্ষে আমি তোমাদেরকে ডাকছি মহাপরাক্রান্ত ক্ষমাশীল (আল্লাহর) দিকে। [তাইসিরুল কুরআন]
আহলে কিতাবদের থেকেও দ্বীন প্রচারের অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে:
আলে-ইমরান, ৩:১৮৭ ⋮
وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ ﴿١٨٧﴾
(স্মরণ কর) আল্লাহ আহলে কিতাবদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন- তোমরা অবশ্যই তা (অর্থাৎ কিতাব) মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে আর তা গোপন করবে না, কিন্তু তারা তা অগ্রাহ্য করল এবং সামান্য মূল্যে বিক্রি করল, তারা যা ক্রয় করল সে বস্তু কতই না মন্দ! [তাইসিরুল কুরআন]
ইসলাম প্রচারে জবরদস্তি নেই:
কাফ, ৫০:৪৫ ⋮
نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ وَمَا أَنْتَ عَلَيْهِمْ بِجَبَّارٍ فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَنْ يَخَافُ وَعِيدِ ﴿٤٥﴾
তারা (তোমার বিরুদ্ধে) যা বলে তা আমি ভাল করেই জানি, তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও। কাজেই যে আমার শাস্তির ভয়প্রদর্শনকে ভয় করে, তাকে তুমি কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দাও। [তাইসিরুল কুরআন]
ইসলাম প্রচারে বিরোধীদের সাথে আপোষ করতে নেই:
কাফিরুন, ১০৯:১ ⋮
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾
বল, ‘হে কাফিররা!’ [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ তাঁর নবীকে (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছেন মু'মিনদেরকে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
আল-জাসিয়া, ৪৫:১৪ ⋮
قُلْ لِلَّذِينَ آمَنُوا يَغْفِرُوا لِلَّذِينَ لَا يَرْجُونَ أَيَّامَ اللَّهِ لِيَجْزِيَ قَوْمًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿١٤﴾
মু’মিনদেরকে বল ঐ লোকদেরকে ক্ষমা করতে যারা আল্লাহর ‘আযাবের দিন আসার ব্যাপারে কোন আশংকাবোধ করে না। কেননা আল্লাহই (ভাল বা মন্দ) প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের কৃতকর্ম অনুসারে প্রতিফল দিবেন। [তাইসিরুল কুরআন]
এই উপদেশ প্রদানের উদ্দেশ্য হলো, যাতে বিদ্রূপকারীরাও আল্লাহভীরু হয়।
আল-আন'আম, ৬:৬৯ ⋮
وَمَا عَلَى الَّذِينَ يَتَّقُونَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَلَكِنْ ذِكْرَى لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ﴿٦٩﴾
তাদের কোন কাজের হিসেব দেয়ার দায়-দায়িত্ব মুত্তাকীদের উপর নেই। কিন্তু উপদেশ দেয়া কর্তব্য যাতে ওরাও তাকওয়া অবলম্বন করে। [তাইসিরুল কুরআন]
ইবরাহিম (আঃ) তাঁর সম্প্রদায়কে প্রশ্ন করলেন, 'তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?'
আল-আন'আম, ৬:৮০ ⋮
وَحَاجَّهُ قَوْمُهُ قَالَ أَتُحَاجُّونِّي فِي اللَّهِ وَقَدْ هَدَانِ وَلَا أَخَافُ مَا تُشْرِكُونَ بِهِ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبِّي شَيْئًا وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ ﴿٨٠﴾
তার জাতি তার সাথে বাদানুবাদ করল। সে বলল, তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে বাদানুবাদ করছ অথচ তিনি আমাকে সৎপথ দেখিয়েছেন। তোমরা যাদেরকে তার অংশীদার স্থির কর আমি তাদেরকে ভয় করি না। অবশ্য আল্লাহ যদি কিছু ইচ্ছে করেন (তবে সে কথা আলাদা)। প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে আমার প্রতিপালকের জ্ঞান পরিব্যাপ্ত, তোমরা কি তা বুঝবে না? [তাইসিরুল কুরআন]
নবী (ﷺ) আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী।
আল-আহযাব, ৩৩:৪৬ ⋮
وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا ﴿٤٦﴾
আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর পথে আহবানকারী ও আলোকপ্রদ প্রদীপরূপে। [তাইসিরুল কুরআন]
আল্লাহ কাফিরদের নিকট সত্য পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন।
আয-যুখরুফ, ৪৩:৭৮ ⋮
لَقَدْ جِئْنَاكُمْ بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَكُمْ لِلْحَقِّ كَارِهُونَ ﴿٧٨﴾
আমি তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্যকে অপছন্দকারী। [তাইসিরুল কুরআন]