📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 সাহাবির প্রেম

📄 সাহাবির প্রেম


হেলি যুগে এক সাহাবি ও এক নারীর মাঝে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি সেই নারীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেন। সম্মানিত সেই সাহাবির নাম মারসাদ ইবনে আবু মারছাদ গানাবি রাদিয়াল্লাহু আনহু। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং সাহাবিদের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদান শুরু করেন। ধীরে ধীরে একেক সাহাবির মাঝে একেক বিষয়ের প্রতিভা পরিলক্ষিত হতে থাকে। যেমন, কেউ কোরআন হিফজ করা, কেউ হাসিদ মুখস্ত করা, কেউ হাদিস লিপিবদ্ধ করা, কেউ যুদ্ধবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। মারছাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন দৈহিকভাবে শাক্তিশালী ও সাহসী। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-র মতো তার ইলমি দক্ষতা না থকালেও অন্যান্য বিষয়ে তার জ্ঞান ছিল ঈর্ষনীয়। একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কুরাইশ কাফেরদের হাতে বন্দি مسلمانوں উদ্ধারের জন্য পাঠিয়েছিলেন। বন্দিদের হাত পা শিকলে বাঁধা ছিল। তিনি দেয়াল টপকে বন্দিশালায় ঢুকে যান এবং সুযোগ বোঝে তাদেরকে পিঠে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। তারপর মদিনায় পৌঁছে দেন।
সেসময় মুসলমান ও কুরাইশের মাঝে প্রায়ই যুদ্ধ লেগে থাকতো। কুরাইশরা مسلمانوں বন্দি করার জন্য সর্বদা ওঁৎ পেতে থাকতো। একবারের ঘটনা। কাফেরদের একটি দল মদিনার পার্শবর্তী এলাকায় এলো। যেখানটায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকাতের উট বিচরণ করার জন্য পাঠাতেন। কাফেররা সেই উটগুলো চুরি করে নিয়ে গেল। সেগুলোর মধ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-র উট-কাসওয়াও ছিল। সাথে তুলে নিয়ে গেল উট চরানোর দায়িত্বে নিয়োজিত এক মুসলিম নারীকেও। আল্লাহর সাহায্যে তিনি পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় مسلمانوں পক্ষ থেকে কোনো বাড়াবাড়ি ছিলো না। কাফেররাই স্বপ্রণোদিত হয়ে সীমালঙ্ঘন করেছিল। আল্লাহ বলেন-
﴿ فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ ﴾
তারা তোমাদের উপর যতটুকু বাড়াবাড়ি করেছে, তোমরাও তাদের ওপর ততটুকু বাড়াবাড়ি করেছে। [সূরা বাকারা: ১৯৪]
তিনি আরো বলেন-
﴿ وَجَزَاؤُا سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُهَا ﴾
মন্দ কাজের প্রতিদান করল অনুরূপ মন্দ কাজ। [সূরা শুরা : ৪০]
অর্থাৎ, তোমরা আমাদের সাথে যেমন আচরণ করছ, আমরাও তোমাদের সাথে তেমন আচরণ করব।
মারছাদ একবার মদিনা থেকে গোপনে মক্কায় এলেন। উদ্দেশ্য মুক্ত করে মদিনায় নিয়ে যাওয়া। ইতিপূর্বে তিনি এক কয়েদিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তিনি রাতের আঁধারে মক্কায় প্রবেশ করলেন। ধীরপদে গন্তব্য পানে অগ্রসর হচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনি মক্কার এক ব্যভিচারিণী নারীকে দেখতে পেলেন। তাকে ইনাক নামে ডাকা হতো। অজ্ঞতার যুগে সে তার বান্ধবী ছিল। তাকে দেখে তিনি একটি দেয়ালের ছায়ায় লুকিয়ে গেলেন। কিন্তু ওই নারীটি তাকে আগেই দেখে ফেলেছিল। সে তার দিকে এগিয়ে এল। কাছে এসে তাকে চিনে ফেলল।
বলল, আরে মারছাদ নাকি?
তিনি বললেন, হ্যাঁ।
সে বলল, ধন্যবাদ ও অভিবাদন তোমাকে। এসো আজ আমার সাথে একটি রাত কাটিয়ে যাও।
মারছাদ সেসময় দেয়ালের অন্ধকারে ছিলেন। আল্লাহ ছাড়া পৃথিবীর কেউ তাকে দেখছিল না। তিনি চাইলে সেই নারীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। তাকে স্পষ্ট বলে দিলেন- ইনাক, আল্লাহ এটাকে হারাম করেছেন।
সে বলল, তুমি আমার সাথে রাত কাটাবে, নয়তো তুমি যে উদ্দেশ্যে মক্কায় এসেছ, আমি সেকথা ফাস করে দেব।
তিনি বললেন, না, আমি কিছুতেই এ কাজ করব না।
একথা শোনার পর সে চেঁচিয়ে বলতে লাগল, হে কুরাইশগণ! এই ব্যক্তি তোমাদের বন্দিকে ছাড়িয়ে নিতে এসেছে।
তাকে চিৎকার করতে দেখে মারছাদ সেখান থেকে পালিয়ে গেলেন। আট ব্যক্তি তার পিছু নিল। তিনি একটি বাগানে প্রবেশ করলেন। আত্মগোপন করলেন বাগানের এক গুহায়। তার পিছু ধাওয়াকারীরাও সেখানে প্রবেশ করল। কিন্তু আল্লাহ তাদের চোখকে পর্দাবৃত করে দিলেন। ফলে তারা বিফল হয়ে তাদের ঘরে ফিরে গেল।
এরপর মারছাদ সেখানে কিছু সময় আত্মগোপন করে থেকে তার কয়েদি সাথীর কাছে গেলেন।
দেখো, ঈমানের বলে বলিয়ান এক সাহাবীর কী সাহস! কী বীরত্ব! কাফেরদের হাত থেকে রেহাই পেয়ে তিনি ভাবেননি যে, যাক বাঁচা গেল। আলহামদুলিল্লাহ। এ অবস্থায় আর সামনে এগুনো সমীচীন হবে না। মদিনায় ফিরে যাই। এরকম কোনো চিন্তাই তার মনে আসেনি। তিনি আবার সেখানে গেলেন। দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে তাকে মুক্ত করে মক্কার বাইরে নিয়ে এলেন। তার শিকল খুলে দিলেন। অতঃপর দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে উভয়ে মদিনাতে এসে পৌঁছলেন। মদিনায় আসার পর মারছাদের অন্তরে বারবার সেই ব্যভিচারিণী নারীর ছবি ভাসছিল। তিনি নিজেকে সামলে রাখতে পারছিলেন না। অবশেষে তিনি রাসুল -র কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি ইনাক কে বিবাহ করব?
রাসুল তার কথা উপেক্ষা করলেন।
তিনি আবার বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি ইনাক কে বিবাহ করব?
রাসুল কিছুই বললেন না। অতঃপর আল্লাহ ওহি নাযিল করলেন-
﴿الزَّانِي لَا يَنْكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ " وَحُرِّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ﴾
ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মোশরেকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী মোশরেক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। [সূরা নূর : ৩]
এই আয়াত নাজিলের মাধ্যমে আল্লাহ মারছাদের বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেন। মারছাদ রাসুল-র কাছে এসেছিলেন পরামর্শ নিতে। এটিও শরীয়তের একটি বিধান। মানুষ যখন কোনো সমস্যায় নিপতিত হয়, তখন সে তার কোনো মুরুব্বী, শিক্ষক, বাবা-মা কিংবা বড় ভাইকে সেটি জানায়। তাদের কাছে বিষয়টির সমাধান চায়। মারছাদ -ও যখন বুঝতে পারলেন যে, তার হৃদয় ইনাকের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে, তখন তিনি রূহানী চিকিৎসক রাসুল-কে বিষয়টি অবহিত করলেন। বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি এক হৃদয়ঘটিত বিপদে পড়েছি। আমি কি ইনাককে বিবাহ করতে পারব? রাসুল তখন তাকে আল্লাহর আদেশ জানিয়ে দিলেন। বললেন, মারছাদ, জিনাকারী পুরুষই বিবাহ করে জিনাকারীনীকে অথবা মোশরেক মহিলাকে। আর জিনাকারীনীও বিবাহ করে শুধু জিনাকারী পুরুষ অথবা মোশরেককে। তাই তুমি তাকে বিবাহ করো না।
মারছাদ রাসুল-র কথা মানলেন। আল্লাহ মারছাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেলেন।
উপর্যুক্ত আয়াতে বর্ণিত- ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী বা মুশরিক নারীকেই বিবাহ করতে পারবে- এর মর্মার্থ হল, যারা সর্বদা ব্যভিচারে লিপ্ত থাকে, কখনও তওবা করে না, তারাই ব্যভিচারী হিসেবে গণ্য। পাশাপাশি বিবাহের পরেও যাদের আচার-আচরণ, পোশাক-আশাক, চাল-চলন অশ্লীলতা মুক্ত হয় না, তারা সরাসরি ব্যভিচারী না হলেও ব্যভিচারীর মতোই। তওবা করে এসব পথ পরিহার করা ব্যতিরেকে তাদেরকেও বিবাহ করা যাবে না। হ্যাঁ, তওবা করে ফিরে আসার পরেও যদি তারা পূর্বের কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ -ই ব্যবস্থা নেবেন। উত্তমরূপে তওবা করলে তো আল্লাহ শিরকের গোনাহও মাফ করে দেন, তাহলে ব্যভিচারের গোনাহ মাফ করবেন না কেন? অবশ্যই করবেন এবং মুমিন ব্যক্তি তাকে বিবাহও করতে পারবে। আর অশ্লীল কাজে লিপ্ত নারীকে বিবাহকারী ব্যভিচারী হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ জাতীয় সমস্যায় পড়লে বিজ্ঞজনের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সাহাবায়ে কেরামের আমল এমনই ছিল। তাদের মনে কোনো বিষয়ে খটকা সৃষ্টি হলে তারা রাসুল -র কাছে তা উপস্থাপন করতেন। মনে প্রশ্ন সৃষ্টি হলে অন্যের নিকট খুলে বলা উচিত। আমাদের পূর্বসূরীদেরও এই রীতি ছিল। দেখা যেতো, এক ছাত্র Imam আবু হানিফার-র কাছে এসে বলছে- শায়খ, আমি মানসিকভাবে এই সমস্যায় নিপতিত আছি। দয়া করে সমাধান বলে দিন। Imam আহমদ, মালেক ও শাফেয়ি -র কাছেও তার ছাত্ররা এসে বিভিন্ন সমস্যার কথা খুলে বলত এবং সমাধান জেনে নিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন- وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْ لَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَا تَّبَعْتُمُ الشَّيْطَنَ إِلَّا قَلِيلًا ﴾
আর যখন তাদের কাছে পৌঁছে কোন সংবাদ শান্তি-সংক্রান্ত কিংবা ভয়ের, তখন তারা সেগুলো রটিয়ে দেয়। আর তারা যদি সেগুলো পৌঁছে দিত রসূল পর্যন্ত কিংবা যারা কর্তৃত্বের অধিকারী তাদের কাছে নিয়ে যেত, তখন তা অনুসন্ধান করে দেখত তাদের মাঝে যারা রয়েছে অনুসন্ধান করার মত। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা যদি তোমাদের ওপর না হত তবে তোমাদের অল্প লোক ব্যতীত সবাই শয়তানের অনুসরণ শুরু করত। [সূরা নিসা : ৮৩]
এ আয়াতে আল্লাহ মানুষদেরকে তাদের মনে কোনো বিষয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে রাসুল -র জীবদ্দশায় তাঁকে তা জানাতে বলেছেন। আল্লাহর এ নির্দেশ সাহাবায়ে কেরাম যথাযথভাবে পালন করেছিলেন। আয়াতের দ্বিতীয় অংশে (রাসুলের অবর্তমানে) কর্তৃত্বের অধিকারী তথা আলেম-উলামা ও বিজ্ঞজনের শরণাপন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হানজালা একদিন অত্যন্ত অস্থির অবস্থায় রসুল ﷺ-র কাছে যাচ্ছিলেন। পথে আবু বকর -র সঙ্গে দেখা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন- হে হানজালা! কি ব্যাপার, এত অস্থির কেন? কোথায় যাচ্ছ?
হানজালা বললেন, হানজালা মুনাফিক হয়ে গেছে, তাই রসুলের কাছে অবস্থার সংশোধনের জন্য যাচ্ছি।
আবু বকর জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার মধ্যে নেফাকের কী পেয়েছ?
হানজালা বললেন, আমি যখন রসুলের মজলিসে থাকি আর জাহান্নাম ও জান্নাত সম্পর্কে রসুলের উপদেশ শুনি তখন এ সম্পর্কে স্বচক্ষে দেখার মতো বিশ্বাস হয়, অন্তরে নূর অনুভূত হয়। আর যখন মজলিস থেকে ফিরে
পরিবার-পরিজন এবং দুনিয়ার কাজে নিমগ্ন হই তখন আর সেই ভাব থাকে না।
আবু বকর বললেন, আমারও তো একই অবস্থা, চলো দুজনেই যাই এবং আমাদের অবস্থা সম্পর্কে রসুল ﷺ-কে অবহিত করি।
বস্তুত এটি একটি স্বভাবজাত বিষয়। তুমি যখন মসজিদের সালাত আদায় করে আল্লাহর দরবারে দু ফোটা চোখের পানি ফেলবে, তখন তোমার অন্তর অবশ্যই বিগলিত হবে। কিন্তু সালাত শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসার পর তোমার অন্তরের সেই বিনম্র ভাব আর থাকবে না। তাই আবু বকর হানজালা -কে বললেন, চলো আমরা রাসুলের কাছে গিয়ে আমাদের অবস্থা জানাই।
বর্তমানে রাসুল ﷺ নেই কিন্তু আয়াতের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত-কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিগণ- তথা উলামায়ে কেরাম আছেন। তাদের শরণাপন্ন হতে হবে। বর্তমানে মোবাইল, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া অনেক সহজ। এখন আর তাদের কাছে কষ্ট করে যেতে হয় না। এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, একেবারে প্রসিদ্ধ আলেমের কাছেই যেতে হবে- এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং শরীয়তের জ্ঞানের ধারক এমন অপ্রসিদ্ধ কোনো আলেমের গেলেও চলবে, যিনি তোমার সমস্যার সমাধান দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
এরপর দুজনই রাসুলের দরবারে হাজির হয়ে নিজ নিজ অবস্থান বর্ণনা করেন। তাদের অবস্থা শুনে রসুল ﷺ বললেন- لَوْ تَدُومُونَ عَلَى مَا تَكُونُونَ عِنْدِي ، وَفِي الذِّكْر ، لصَافَحَتْكُمُ الملائِكَةُ عَلَى فُرُشِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ ، لَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً আমার কাছে থাকাকালে যে অবস্থা হয়, এটা যদি তোমাদের সবসময় বহাল থাকত, তাহলে ফেরেশতারা চলার পথে ও বিছানায় তোমাদের সঙ্গে মুসাফাহা করত। হে হানজালা, এরূপ অবস্থা মাঝে মাঝে হবে। [সুনানে ইবনে মাজা : ৪২৩৯]
অর্থাৎ, রাসুল ﷺ হানজালা-কে বোঝালেন, অন্তরের পরিবর্তন প্রাকৃতিক বিষয়। মানুষ একসময় ভীত হয়ে কাঁদে, আরেকসময় খুশি হয়ে হাসে।
অতএব, আমাদেরও উচিত মারছাদ-র মতো বিজ্ঞজনের কাছে নিজের সমস্যার কথা শেয়ার করা। যে কোনো পেরেশানী বা অস্থিরতায় ভুগলে বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হওয়া। তবে যে কারও কাছে নিজ সমস্যার কথা বলা যাবে না। এক্ষেত্রে সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। সর্বদা জবান ও গোপন বিষয় হেফাজতে সচেষ্ট থাকবে।
আল্লাহ-র কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে পদস্খলন থেকে নিরাপদ রাখুন। আমাদেরকে উভয় জাহানের সফলতা দান করুন। আমিন।
সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00