📄 অনাহারেও কেটেছে দিন
আলি ও ফাতেমা একদিন না খেয়েও ছিলেন। তখন আলি কাজের জন্য এক ইহুদির বাগানে গেলেন। তাকে কূপ থেকে পানি আনার কাজ দেয়া হল। তখনকার সময় কূপের পাশে হাউজ থাকতো। কূপ থেকে পানি ওঠিয়ে হাউজে রাখা হতো। সেখান থেকে বাগানে পানি দেয়া হতো। আলি বালতি দিয়ে কূপ থেকে পানি ওঠিয়ে হাউজে রাখছিলেন। বাগানের মালিকের সাথে চুক্তি হল প্রতি বালতির বিপরীতে একটি করে খেজুর দিতে হবে।
একটু ভেবে দেখো। এই বালতি দিয়ে কূপ থেকে পানি উত্তোলন, বিশেষ করে একজন ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত মানুষের পক্ষে কতটা কষ্টকর। সেই তুলনায় বর্তমানে তো আমাদের কোনো কষ্টই নেই। অথচ তিনি ক্ষুধার্ত হয়েও বালতি দিয়ে কূপ থেকে পানি উঠিয়ে হাউজ ভর্তি করেছিলেন। বিনিময়ে পেয়েছিলেন মাত্র কয়েকটি খেজুর।
📄 নবীদের সম্পদের ওয়ারিশ
আল্লাহ রাসুল -এর ব্যাপারে শরয়ি বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে, আপনার মৃত্যুর পর আপনার রেখে যাওয়া সম্পদ मुसलमानों বাইতুল মালে জমা হবে। এ বিধান কেবল নবী -র সাথেই নির্ধারিত ছিল না; বরং তার পূর্ববর্তী নবীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য ছিল। দাউদ আ. তাঁর পুত্র সুলাইমান -কেও সম্পত্তির উত্তরাধিকার বানিয়ে যাননি; বরং নবুওয়াতের উত্তরাধিকার বানিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ যাকারিয়া -এর ভাষায় বলেন-
فَهَبْ لِي مِن لَّدُنْكَ وَلِيًّا ﴿٥﴾ يَرِثُنِي وَيَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ * وَ اجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا
আপনি নিজের পক্ষ থেকে আমাকে একজন কর্তব্য পালনকারী দান করুন। সে আমার স্থলাভিষিক্ত হবে ইয়াকুব বংশের এবং হে আমার পালনকর্তা, তাকে করুন সন্তোষজনক।। [সূরা মারয়াম : ৫,৬]
জাকারিয়া মহান আল্লাহর কাছে সন্তান তথা উত্তরাধিকারী চেয়েছেন। ওই সন্তান কিসের উত্তরাধিকার হবে এ বিষয়ে আলোচ্য আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, জাকারিয়া মহান আল্লাহর কাছে এ মর্মে সন্তান চেয়েছেন যে, ওই সন্তান তাঁর নিয়ে আসা নবুয়তের উত্তরাধিকারত্ব পালন করবে এবং তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা ও আদর্শ অনুযায়ী সমাজ পরিচালনা করবে।
এই উত্তরাধিকারত্ব ব্যক্তিগত কোনো কিছুর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এটি নবুয়ত ও আসমানি জ্ঞানের উত্তরাধিকার। এই উত্তরাধিকারত্ব ইয়াকুব -র বংশধররা ব্যাপকভাবে ধারণ করেছে। জাকারিয়া চেয়েছেন তাঁর সন্তান যেন সেই উত্তরাধিকারত্ব গ্রহণ করে। সর্বোপরি তিনি চেয়েছেন এমন একটি সন্তান, যে আল্লাহর ওপর রাজি থাকবে, মহান আল্লাহও তার ওপর রাজি থাকবেন।
এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার যে আল্লাহর নবীরা সম্পদের উত্তরাধিকারী রেখে যান না। তাঁরা রেখে যান নবুয়ত, আদর্শ ও আসমানি জ্ঞানের উত্তরাধিকারী।
এক হাদিসে এসেছে: আলেমরা নবীদের ওয়ারিশ। আর নিশ্চয়ই নবীরা দিনার ও দিরহাম তথা অর্থকড়ির উত্তরাধিকারী বানিয়ে যান না; বরং তাঁরা ইলম ও জ্ঞানের উত্তরাধিকারী রেখে যান।
অন্য হাদিসে মহানবী ﷺ ইরশাদ করেছেন, আমরা নবীদের কোনো ওয়ারিশ নেই। আমরা যা কিছু (অর্থকড়ি) রেখে যাই, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে। [বোখারি: ৭৩০৫]
একবার রাসুল ﷺ এক ইহুদি থেকে বাকিতে কিছু খাদ্য ক্রয় করেছিলেন এবং সেই ঋণের গ্যারান্টি হিসেবে তার বর্মটি ইহুদির কাছে বন্ধক রেখেছিলেন।
ইন্তেকাল সময়ও সেই বর্মটি ইহুদির কাছে বন্ধক ছিল। ফলে রাসুল ﷺ -র কোনো সহায় সম্পত্তি ছিল না। শুধু ফাদাক নামক স্থানে এক খন্ড জমি ছিল। যা থেকে উৎপাদিত ফসল দিয়ে রাসুল ﷺ -র স্ত্রী সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন।
নবী করিম ﷺ -র ইন্তেকালের পর ফাতেমা আবু বকর রা.-র কাছে এলেন। তিনি ফাতেমাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসুলের মেয়ে, তুমি আমার কাছে আমার সন্তানের চাইতেও অধিক প্রিয়। তুমি আমার সম্পদ থেকে যা তোমার ভালো লাগে নিয়ে যাও। চাইলে আমার বাড়িটি নিয়ে নাও। আমার উট, বকরি বা অন্য সম্পত্তি যা তোমার মন চায় নিয়ে যাও।
তবে আল্লাহর রাসুল যে জমি রেখে গেছেন সেটি সদকার মাল। বর্তমানে আমি খলিফা। তাই এটি এখন আমার দায়িত্বে। আমি কখনোই এটা আমার নিজের ভোগের জন্য গ্রহণ করব না। এটা مسلمانوں বাইতুল মালে জমা হবে। ফাতেমা তার কথা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেন。
📄 পবিত্র মৃত্যু
জান্নাতের সম্রাজ্ঞী নবী করিম-র ইন্তেকালের মাত্র ছয় মাস পর ইন্তেকাল করেন। তিনি মৃত্যুরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আবু বকর ও ওমর তার সাথে বিদায়ি সাক্ষাতের জন্য এলেন। আলি বললেন, আবু বকর এবং ওমর তোমার সাথে সাক্ষাতের জন্য এসেছেন। তিনি অনুমতি দিলেন। তারা ঘরে প্রবেশ করলেন। ফাতেমা পরিপূর্ণ পর্দাতে ছিলেন। তারা ফাতেমা-র জন্য দোআ করলেন। ফাতেমা-ও তাদের জন্য দোআ করলেন।
রাসুল-র দেওয়া তা'লিম-তরবিয়ত ও সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের ফলে ফাতেমা-র অন্তর ছিল পূত-পবিত্র এবং হিংসা-বিদ্বেষ মুক্ত। তার অন্তরে ছিল সমস্ত مسلمانوں জন্য অফুরন্ত ভালোবাসা ও কল্যাণ কামনা।
রাসুল-র সকল পবিত্রা স্ত্রীদের সাথে তার গভীর হৃদ্যতা ছিল। তিনি খাদিজা-র কন্যা হলেও রাসুল-র সকল স্ত্রীর প্রতিই তিনি শ্রদ্ধা পোষণ করতেন।
আল্লাহ-র কাছে প্রার্থনা, জান্নাতি নারীদের সরদার ফাতেমা-র প্রতি তিনি রহম করুন। আমাদেরকে তার ও রাসুল-র সকল পবিত্রা স্ত্রী ও সকল সাহাবির সাথে জান্নাতে একত্রিত করুন।
📄 গুপ্তচরবৃত্তি
গুপ্তচরবৃত্তির ইতিহাস বহু পুরনো। মুসলিম, অমুসলিম, আরব অনারব নির্বিশেষে অনেক শাসকই নিজেদের ও রাষ্ট্রের কল্যাণে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য এই চর্চা করেছেন। এক্ষেত্রে তাদের অনেকেই অবলম্বন করেছেন অদ্ভুত সব উপায়। কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় কল্যাণের বাহিরে ব্যক্তিগত স্বার্থে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যা নিতান্তই অনধিকার চর্চার শামিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের বাণী অনুযায়ী সতর্ক করে বলেছেন, لَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَحَسَّسُوا
তোমরা গোয়েন্দাগিরি করোনা এবং অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে জানতে চেয়ো না। [বোখারী: ৫১৪৩]
অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন- তোমাদের কারো জন্য বিনা অনুমতিতে তার ভাইয়ের চিঠি পড়া বৈধ নয়। [ফাতহুল কাবির: ১৩৪৭২]
উদাহরণত তুমি কোথাও একাকী যাচ্ছো। চলার সময় এদিক ওদিক তাকাচ্ছো। মানুষের ঘরের দরজা-জানালা দিয়ে উঁকি মারছো। কিংবা গোপনে ক্যামেরায় কারো ছবি তুলছো- এ সবই গুপ্তচরবৃত্তির অন্তর্ভূক্ত。