📄 কেবল স্বপ্ন দেখো না, পরিশ্রম করো
আমার যেসকল ছাত্র-ছাত্রী ও ভাই-বোনেরা প্রায়ই চিঠি পাঠিয়ে কিংবা ফোন করে পাপের পথ ছেড়ে সৎপথে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করে দোআ চায়- আমি তাদের বলব উপরিউক্ত যুবকের গল্প থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে। বলব, কেবল মুখেই অন্যায় পরিত্যাগ ও ভালো হওয়ার আশা প্রকাশ করলে চলবে না; বরং সেজন্যে চেষ্টা করতে হবে পূর্ণরূপে। দুনিয়াতে কোনো কিছু পেতে হলে তা অর্জন করতে হয়। তাই যিনি হেদায়াতপ্রার্থী তাকেও অবশ্যই তা অর্জনের উপায় উপকরণ গ্রহণ করতে হবে। কমলা লেবুর গাছ লাগিয়ে তাতে কলা বা আঙ্গুর কামনা করা অবান্তর। কমলা গাছ থেকে কেবল কমলাই জন্মায়। কিছু লোককে দেখা যায়, অযথা সময় নষ্ট করে আর আফসোস করে- মাশাআল্লাহ আল্লাহ আমার অমুক বন্ধুর প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন, সে চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে সফল হয়েছে। আমার অমুক সাথী শরিয়াহ বিভাগ থেকে পাশ করেছে। অমুক সঙ্গী ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে। হায়! আমি কিছুই হতে পারলাম না?
হ্যাঁ, আসলেই তুমি কিছুই হতে পারোনি। কারণ তাদের মতো তুমি চেষ্টা করোনি। পরিশ্রম করোনি।
আমি অনেক জেলখানায় সফর করেছি। সেখানে অনেক মাদকাসক্তকে দেখেছি। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অনেক খুনের আসামীকে দেখেছি। তাদের সাথে কথা বলে জেনেছি, তাদের অধিকাংশেরই এ পথে আসার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তাদের পরিবেশ-প্রতিবেশি ও সঙ্গী-সাথীর। কোনো মা তার সন্তানকে খুনি হিসেবে জন্ম দেয় না। কোনো মা তার সন্তানের হাতে নেশার দ্রব্য তুলে দেয় না। পারিপার্শ্বিকতাই তাকে বিপদগামী করে। সঙ্গী-সাথীরাই তাকে ধ্বংস করে।
হাসান বসরী একবার এক আলোচনায় জাহান্নামবাসীদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে কোরআনের এই আয়াতগুলো তেলাওয়াত করেন-
فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِينَ ﴿١٠٠﴾ وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ ﴿١٠١﴾ فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿١٠٢﴾ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُؤْمِنِينَ
অতএব আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই এবং কোনো সহৃদয় বন্ধুও নেই। হায়, যদি কোনোরূপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। [সূরা আশ শোয়ারা : ১০০-১০৩]
তেলাওয়াত শেষে হাসান বসরি বললেন, তোমরা পৃথিবীতে ভাল মানুষদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে তৎপর হও, কারন এই সম্পর্কের কারণে হয়তো তোমরা আখেরাতে উপকৃত হতে পারবে। জিজ্ঞেস করা হল কিভাবে?
তিনি বললেন জান্নাতিরা জান্নাতে যাওয়ার পর পৃথিবীর অনেক কথা মনে পড়বে। স্মরণ হবে তাদের পৃথিবীর বন্ধুদের কথা। তখন তারা বলবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছিনা? তার সেই বন্ধু কাফের না হলেও গুনাহগার ছিল। তখন তাকে বলা হবে, সে তো জাহান্নামে।
তখন সেই মু'মিন ব্যাক্তি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, হে আল্লাহ, আমার বন্ধু ছাড়া আমার ভালো লাগছে না। জান্নাতের স্বাধ পূর্ণ হচ্ছে না। অতঃপর আল্লাহ আদেশ দেবেন, অমুক ব্যাক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে নিয়ে এসো।
দেখেছো, তার এই বন্ধু জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেল এই কারনে নয় যে, সে তাহাজ্জুদ পড়ত বা কুরআন পড়ত কিংবা সাদাকাহ করত অথবা রোজা রাখত, বরং তার মুক্তির একমাত্র কারণ তার সেই বন্ধু। জাহান্নামিরা তখন অত্যন্ত অবাক হয়ে জানতে চাইবে কি কারনে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল, তার বাবা কি শহিদ? (বলা হবে) না। তার ভাই কি শহিদ?
না।
তার জন্য কি কোন ফেরেশতা বা নবী সুপারিশ করেছেন?
না;
তাহলে তার জন্য কে সুপারিশ করেছে?
তার এক জান্নাতী বন্ধু তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেছে।
তখন জাহান্নামিরা আফসোস করে বলবে- ﴿١٠٠﴾ فَمَا لَنَا مِنْ شَافِعِينَ ﴿١٠١﴾ وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٍ ﴿١٠٢﴾ فَلَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ﴿إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُّؤْمِنِينَ﴾
অতএব আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই এবং কোনো সহৃদয় বন্ধুও নেই। হায়, যদি কোনোরূপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। [সূরা আশ শোয়ারা : ১০০-১০৩]
আফসোস! আমার যদি কোনো সৎ ও মুমিন ও নেককার বন্ধু থাকতো, তাহলে কতই না ভালো হতো।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদের সকলকে সৎলোকের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার তাওফিক দান করুন。
📄 জান্নাতি নারীদের সরদার
এ সো, নবী-নন্দিনী, জান্নাতি নারীদের সরদার, মমতার আধার, বিদুষী রমণী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের আদরের কন্যা, রাসুল -র কলিজার টুকরা ফাতেমা সম্পর্কে আলোচনা করি। তার কিছু ঘটনা জানি। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক কেমন হবে সে বিষয়ে খানিকটা অবগত হই।
তাছাড়া তিনি ছিলেন রাসুল -র নয়নের মণি, জান্নাতি যুবকদের সর্দার হাসান-হুসাইনের আম্মাজান এবং জ্ঞানের শহর, সিংহশাদুল, বিশিষ্ট সাহাবি আলি -র স্ত্রী। গঠন এবং চরিত্র উভয় দিক থেকেই ছিলেন রাসুল -র সাথে অধিখ সাদৃশ্যপূর্ণ। ছিলেন রাসুল অতুলের ঘনিষ্ঠ প্রতিবিম্ব। সেই মুখচ্ছবি, সেই আকার-আকৃতি, সেই চিবুক, সেই চাল-চলন, সেই কথার ভঙ্গি। যিনি রাসুল -কে দেখেছেন, তিনি ফাতেমা -কে দেখা মাত্রই চট করে চিনে ফেলতেন- ইনি রাসুল-তনয়া।
📄 হাসি-কান্না পাশাপাশি
রাসুল মৃত্যুশয্যায় শায়িত। পবিত্রা স্ত্রীগণ তাঁর চারপাশে উপবিষ্ট। ফাতিমা ঘরে প্রবেশ করলেন। রাসুল -র অভ্যাস ছিল ফাতেমা এলে তিনি উঠে দাঁড়াতেন। তার কপালে চুমু খেতেন। মারহাবা মারহাবা বলে নিজের চাদরটি বিছিয়ে দিতেন।
কিন্তু আজ যে তিনি ভীষণ অসুস্থ। আজ তিনি ফাতেমার জন্য ওঠতে পারলেন না। আয়েশা বললেন, ফাতেমা এসেছে।
রাসুল শোয়া অবস্থাতেই প্রিয় মেয়েকে স্বাগত জানালেন, 'এসো মা এসো'...
ফাতেমা কাঁদতে লাগলেন। রাসুল তাকে কাছে ডাকলেন। তার কানে কানে কি যেন বললেন, যা শুনে ফাতেমা কাঁদতে শুরু করলেন। এরপর আবার কানে কানে কি যেন বললেন, এবার তিনি হাসতে লাগলেন।
আয়েশা বলেন, আল্লাহর কসম আমি ওই দিনের মতো এমন আশ্চর্য ব্যাপার আর কখনও দেখিনি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে ফাতেমা, আল্লাহর রাসুল তোমাকে কী বলেছেন?
তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ, আমি আল্লাহর রাসুল -র গোপন বিষয় প্রকাশ করব না।
অতঃপর রাসুল -র ইন্তেকালের কিছুকাল পর আমি আবার বললা, আমাকে একটু বলো, সেদিন আল্লাহর রাসুল তোমাকে কী বলেছিলেন?
ফাতেমা বললেন, নবী আমাকে বলেছিলেন, জিবরাইল প্রতি বছর আমার কাছে একবার কোরআন পেশ করতেন। এ বছর তিনি দু'বার পেশ করেছেন। আমার মনে হচ্ছে আমার অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছে।
একথা শুনে আমি কেঁদে ফেলি।
তখন নবী সা. বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি জান্নাতি নারীদের সরদার হবে? তখন আমি হেসে দিই।
📄 তাসবীহে ফাতেমী
ফাতেমা -র ব্যাপারে রাসুল অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। আলি -র সাথে বিবাহের পরও এ ধারা অব্যাহত ছিল। একদা রাসুল -র কাছে গনিমতের কিছু গোলাম-বাঁদী এলো। আলী ফাতেমা -কে বললেন, ফাতেমা, ঘরের সব কাজ একা সামাল দিতে তোমার কষ্ট হয়। কাজ করতে করতে তুমি ক্লান্ত হয়ে যাও। এক কাজ করো। রাসুল -র দরবারে গিয়ে একজন খাদেম চেয়ে নিয়ে আসো।
আসলে আগেকার নারীগণ বর্তমানের নারীদের মতো এত সুযোগ সুবিধা পেতো না। তখনকার সময় মহিলাগণ পানিকর জন্য কলসি কাঁধে নিয়ে কূপের কাছে যেতেন। ভরা কলসি কাঁধে নিয়ে ঘরে ফিরতেন। নিজ হাতে ঘোড়ার জন্য বীচি সংগ্রহ করতেন, খেজুর কুড়াতেন, আটা পিষতেন, বর্তমানে তো আটা প্রস্তুত পাওয়া যায়। কাপড় চোপড় ধোয়র জন্য মহিলাদের পুকুরে যেতে হয় না। বর্তমানে ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া যায়। এখন যাঁতাকল পিষতে হয় না।
পানির টেপ হাতের নাগালে। পূর্বের ন্যায় মহিলাদের এখন আর তেমন ভারি কাজ করতে হয় না।
আলি-র পরামর্শে ফাতেমা নবীজির কাছে গেলেন। রাসুল তখন ঘরে ছিলেন না। তিনি আয়েশা-র সাথে দেখা করলেন। তারা দুজনই ছিলেন স্বচ্ছ হৃদয়ের মানুষ। ছিলেন একে অপরের প্রতি সৌহার্দশীলা। তাদের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ ছিল না। (যেমনটি বর্তমানে সৎ মা ও মেয়ের মাঝে থেকে থাকে)। রাসুল কখনও আয়েশা-কে নিয়ে ফাতেমা-কে দেখতে যেতেন। তাদের উভয়ের মাঝে খুব মিল ছিল। আয়েশা জিজ্ঞেস করলেন, ফাতেমা, রাসুল-র কাছে কি ব্যাপারে এসেছো?
ফাতেমা বললেন, ঘরের সব কাজ একা সামাল দিতে খুব কষ্ট হয়। তাই রাসুল-র কাছে একজন খাদেমের জন্য এসেছি।
আয়েশা বললেন, ঠিক আছে, রাসুল ঘরে এলে আমি তোমার কথা বলব।
শেষরাতের দিকে রাসুল ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরলেন। আয়েশা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, ফাতেমা এসেছিল।
রাসুল জিজ্ঞেস করলেন, কেন এসেছিল?
তিনি বললেন, ঘরের সব কাজ তার একা সামাল দিতে কষ্ট হয়। সেজন্যে একজন খাদেম চাইতে এসেছিল।
এখানে লক্ষ করো, ফাতেমা-র প্রতি আয়েশা কতটা আন্তরিক ছিলেন। তিনি রাসুল-র কাছে কোনো কথা গোপন করেননি। বরং উৎসাহ দিয়েছেন- হে আল্লাহর রাসুল, ফাতেমা একজন খাদেম পাওয়ার হকদার। বলেননি যে, আমাকেও একজন খাদেম দিন।
পরদিন রাসুল ফাতেমা-র ঘরে গেলেন। দরজায় কড়া নাড়লেন। তারা নব দম্পতি ছিলেন। ভেতর থেকে আওয়াজ এলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ, একটু অপেক্ষা করুন। আসছি।
রাসুল বললেন, তোমদের আসার দরকার নেই, এই বলে তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। বিছানার ওপর দুজনের মাঝখানে বসলেন। যাদের একজন নিজ কন্যা অপরজন জামাতা ও সন্তানসম চাচাতো ভাই। ফাতেমা-কে বিবাহ করার সময় আলি-র বয়স ছিল ২৬ বছর। রাসুল -র বয়স তখন আনুমানিক ৬০। এ হিসেবে তিনি ছিলেন তার সন্তানের মতোই। তাছাড়া নবীজির ঘরেই তিনি লালিত পালিত হয়েছিলেন।
রাসুল ফাতেমা-কে বললেন, তুমি কি গতকাল আমার কাছে গিয়েছিলে?
জি, আব্বাজান।
কি জন্যে গিয়েছিলে?
ফাতেমা চুপ করে রইলেন। আলী বললেন, চাক্কি পিষতে পিষতে তার হাতে ঠোসা পড়ে গেছে। পানি উঠাতে উঠাতে শরীরে দাগ পড়ে গেছে। আমি আপনার দরবারে কিছু গোলাম-বাঁদী দেখেছিলাম, তাই তাকে বলেছিলাম আপনার কাছে গিয়ে একজন খাদেম চেয়ে আনতে।
রাসুল খাদেম দানের পরিবর্তে বললেন- اِتَّقِ اللهَ يَا فَاطِمَة وَأَدَّى فَرِيضَةَ رَبِّكَ وَاعْمَلِي عَمَلَ أَهْلِكَ وَإِذَا أَخَذْتَ مَضْجَعِكِ فَسَبِّحِي ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَاحْمَدِي ثَلَاثًا وَثَلَاثِيْنَ وَكَبْرِي أَرْبَعًا وَثَلَاثِينَ فَتِلْكَ مِأَةٌ فَهِيَ خَيْرٌ لَكَ مِنْ خَادِمٍ.
হে ফাতেমা, আল্লাহকে ভয় কর। পরহেজগার হও। তোমার রবের ফরজ সমূহ আদায় কর। ঘরের কাজ নিজ হাতেই সম্পন্ন করতে থাকো। আর যখন শোয়ার জন্য বিছানায় যাবে তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ে নাও। মনে রাখবে, এই আমল তোমার জন্য খাদেমের চেয়ে বহুগুণে উত্তম।
আলি ফাতেমা-র দিকে তাকালেন। ফাতেমাও আলির দিকে তাকালেন। অতঃপর ফাতেমা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আর খাদেম?
দোজাহানের বাদশাহ বললেন, ফাতেমা আমি এখনও আসহাবে সুফফার হকই আদায় করতে পারি নি। তাদের খেদমত থেকে এখনও অবসর হতে পারি নি। এছাড়া আরো অনেক ইয়াতিম-মিসকিনও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তোমাকে কোথা থেকে খাদেম দেবো বলো? যাও আল্লাহর ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকো। দুনিয়ার দিকে মন দিও না। দুনিয়ার সব কিছুকে ঘৃণা করো।
ওই সকল মহৎ প্রাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাদের অনেকের পরিবারই কাফের ছিল। তাই ইসলাম গ্রহণের কারণে তারা তাদের কাছে ফিরে যেতে পারেনি। জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যাগ করে অতি সাধারণ জীবনযাপন করতেন তারা। থাকতেন মসজিদে নববীর চত্বরে। আসহাবে সুফফার সদস্যগণ খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদের মানবিক চাহিদার কোনো চিন্তা করতেন না। রাসুল -র দরবারে হাদিয়া হিসেবে যা আসত তা থেকেই তারা তাদের প্রয়াজেন পূরণ করতেন। রাসুল বললেন, আমি ওই গোলামগুলো বিক্রি করে সুফফাবাসীদের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করবো।