📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 চমৎকার একটি ঘটনা

📄 চমৎকার একটি ঘটনা


পূর্বের যুগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইলম অর্জনের বিপুল আগ্রহ ছিল। তারা ইলম শেখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করত। Imam আ'মাশ ছিলেন তার যুগের শ্রেষ্ট আলেমদের একজন। তার এক ছাত্র অনেক দূর থেকে তার কাছে ইলম শিখতে আসত। একদিন সে মাগরিবের সময়ে এসে উপস্থিত হল। Imam সাহেবের সাথে মাগরিবের সালাত আদায় করল। সালাত শেষে সেই ছাত্রটি যখন দরসে যেতে উদ্যত হল তখনই অন্য ছাত্ররা বলল, আজ দরস হবে না।
কিন্তু আমি যে অনেক দূর থেকে এসেছি।
সে যাই হোক। আজ দরস হবে না। আজ উস্তাদজি খুব রেগে আছেন।
কেন?
আজ আমরা তাকে কিছু অসংলগ্ন প্রশ্ন করেছিলাম। তাই তিন রেগে গিয়ে শপথ করেছেন, আগামী একমাস কোনো দরস দেবেন না।
ছাত্রটি বিস্ময়ভরা কন্ঠে বলল, তার মানে পূর্ণ একমাস কোন দরস হবে না। গোটা এক মাস হাদিস বর্ণনা বন্ধ থাকবে?
হ্যাঁ, ভাই। দেখো, আমরাও তো যত দ্রুত সম্ভব হাদিস লেখা শেষ করে বাড়ি ফিরে যেতে চাই। কিন্তু উপায় কি বলো?
সেই ছাত্রটি তখন Imam আ'মাশ -র কাছে গেল। আ'মাশ ক্ষীণ দৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন। তিনি রাতে চোখে কম দেখতেন। ছাত্রটি তাকে বিনিত সুরে বলল, শায়খ আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। দয়া করে আমার বিষয়টি একটু বিবেচনা করুন।
তিনি বললেন, না, আগামী একমাস কোনো দরস হবে না। কোনো হাদিস বর্ণনা করা হবে না। এ মর্মে আমি শপথ করেছি।
ছাত্রটি বলল, বেশ। তাই হবে। শায়খ, চলুন আমি আপনাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি।
আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি ছাত্রটির জন্য দোআ করলেন।
এদিকে ছাত্রটি একটি কৌশল অবলম্বন করল। মসজিদ থেকে শায়খের বাড়ি ছিল বামদিকে। ডানদিকে ছিল মরুভূমি। ছাত্রটি তাকে তার বাড়ির পথে না নিয়ে মরুভূমির পথে নিয়ে চলল। তিনি রাতে চোখে কম দেখতেন বিধায় বিষয়টি বুঝতে পারলেন না। অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর জিজ্ঞেস করলেন, আমরা কতটুকু এসেছি?
ছাত্রটি বলল, শায়খ, আরা তো মরুভূমিতে চলে এসেছি। এটা এক নির্জন বিরানভূমি। এখন আপনি হয়তো আমার কাছে একশ হাদিস বর্ণনা করবেন, নয়তো আমি আপনাকে এখানে রেখে চলে যাব। যেহেতু এখন রাত তাই এখানে থাকলে আপনি নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পতিত হবেন। হয়তো আপনাকো কোনো নেকড়ে খুবলে খাবে। কিংবা কোনো বিষধর সাপ দংশন করবে। তাই ভালোয় ভালোয় আপনি আমার কাছে একশ হাদিস বর্ণনা করুন, নয়তো আপনাকে রেখে আমি চললাম।
Imam আ'মাশ ছাত্রটিকে বললেন, তুমি এমন করতে পারো না।
আপনিও এমন করতে পারেন না। আমি অনেক দূর দেশ থেকে এসেছি। আমি তো আপনার সাথে কোনো অন্যায় করিনি।
নিরূপায় হয়ে Imam Imam আ'মাশ বললেন, ঠিক আছে আমি বলছি তুমি লেখো, অমুক থেকে অমুক...। এভাবে তিনি এক এক করে একশটি হাদিস বর্ণনা করলেন। ছাত্রটি সেগুলো খাতায় তুলে নিল। অতঃপর শায়খকে তার বাড়ি পৌঁছে দেয়ার জন্য অগ্রসর হল। শহর পৌঁছার পর ছাত্রটি তার খাতা এক সহপাঠীর কাছে রেখে আ'মাশকে বাড়ি পৌঁছে দিতে গেল। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছার পর তিনি ছাত্রটিকে জড়িয়ে ধরে চোর চোর বলে চিৎকার করতে লাগলেন। বলতে লাগলেন, এর হাত থেকে খাতাটি নাও, এর হাত থেকে খাতাটি নাও।
ছাত্রটি বলল, শায়খ, আপনি কোন খাতার কথা বলছেন? আমার কাছে তো কোনো খাতা নেই। আমি তো সেটি আমার এক সহপাঠীর কাছে রেখে এসেছি।
আ'মাশ বললেন, আচ্ছা, তাই? এবার শোনো, আমি তোমার কাছে যে একশ হাদিস বর্ণনা করেছি, তার সবকটিই দুর্বল। এগুলোর কোনো সনদ নেই।
ছাত্রটি বলল, আল্লাহর কসম, রাসুল সম্পর্কে মিথ্যা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে আপনি অধিক মুত্তাকি ও সর্বাধিক সতর্ক ব্যক্তি।
আ'মাশ বলেন, তুমি ঠিকই বলেছ। আসলে আমি চেয়েছিলাম, তুমি যাতে খাতাটি হারিয়ে ফেল। তারপর তুমি আমাকে যতটুকু যাতনা দিয়েছ, ততটুকু তুমিও ভোগ করো।
সেকালের ছাত্রদের মাঝে ইলম অর্জনের আগ্রহ এতোটাই প্রবল ছিল যে, তারা এরূপ কৌশল অবলম্বন করতেও দ্বিধা করত না।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে কল্যাণকর ইলম দান করুন এবং নেক আমল করার তাওফিক দিন。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 পরিবেশ ও প্রতিবেশির প্রভাব

📄 পরিবেশ ও প্রতিবেশির প্রভাব


মানুষ সাধারণত তার পরিবেশ ও প্রতিবেশি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। জীবনধারার পরিবর্তনের পরিবেশ ও প্রতিবেশির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
উদাহরণত আমরা যখনই আমাদের সন্তানের মাঝে এমন কোনো স্বভাব দেখি; যা কাম্য নয়। কিংবা তার মুখ থেকে এমন কোনো কথা শুনি যা কাঙ্ক্ষিত নয়, তখন আমরা তাকে জিজ্ঞেস করি, তুমি ইদানিং কাদের সাথে চলাফেরা করছ?
একটি গল্প বলছি-
এক কবি ছিল। নাম তার আলী বিন জাহাম। মরুভূমির জীর্ণশীর্ণ এক তাঁবুতে ছিল তার বসবাস। তাঁবুর বাইরে চোখ মেললেই সে উট- বকরির বিচরণ, রাখালদের কর্মতৎপরতা, কূপে বালতি ফেলে পানি তোলা- এসব দৃশ্য দেখতে পেতো। এই মরু-সভ্যতার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল তার জীবন। তাই তার চিন্তা-কল্পনার জগতটাও ছিল এরই মাঝে সীমাবদ্ধ। সে কবিতা লিখত, ঠান্ডা-গরম, বাতাস-পানি, ভেড়া-উট ইত্যাদি নিয়ে।
একদিন সে মরুভূমি ছেড়ে শহরে এলো। তখন খলিফা মুতাওয়অক্কিল বিল্লাহ'র শাসকাল চলছে। সে শুনল খলিফা ভীষণ কবিতা প্রেমী। তিনি কবিদের বিশেষ সম্মান করেন। তাদের কবিতা শুনে দামি দামি উপহার দেন। তাই কবি তার দরবারে গেল। সেখানে গিয়ে দেখল তার মতো আরো অনেক কবি উপস্থিত।
এক কবি এগিয়ে এসে খলিফার প্রশংসা করে বলল- يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ! أَنْتَ كَالشَّمْسِ فِي سُطُوْعِكَ
হে আমিরুল মুমিনীন, সূর্যের ন্যায় আপনার জ্যোতি।
খলিফা তাকে কিছু উপহার দিলেন। তারপর এলো আরেকজন। সে বলল- يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ! فَضْلُكَ كَالنُّجُومِ السَّارِيَاتِ
হে আমিরুল মুমিনীন, আকাশের তারকার ন্যায় উঁচু মর্যাদা আপনার।
খলিফা তাকেও কিছু হাদিয়া দিলেন। এভাবে একসময় মরুভূমির নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর বেড়ে ওঠা কবি আলী বিন হাজামের পালা এলো। সে বলল- يَا أَيُّهَا الْخَلِيفَةُ! أَنْتَ كَالْكَلْبِ فِي حِفَاظِكَ لِلْوُدِّ وَكَالتَّيْسِ فِي قِرَاعِ الْخُطُوْبِ
أَنْتَ كَالدَّلْوِ لَا عَدَمَتْكَ دَلْوا * مِنْ كَبِيرِ الدِّلَا كَثِيرِ الذُّنُوْبِ হে খলিফা, বন্ধুত্ব রক্ষায় আপনি কুকুরের ন্যায়। দুর্ঘটনা মোকাবেলায় ছাগলের ন্যায়।
বদান্যতায় সুবিশাল বালতির ন্যায়; যা থেকে কোনো (ছোট) বালতি শূন্য হয়ে ফেরে না।
খলিফা মুতাওয়াক্কিল ভীষণ রাগী ছিলেন। মরু-কবির কবিতা শুনে তিনি রেগে-মেগে আগুন হয়ে গেলেন। উপস্থিত মন্ত্রীবর্গ খলিফার এই রুদ্ররূপ দেখে ভাবল, আজ এই কবির শেষ দিন। খলিফা নিশ্চিত তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেবেন। দেহ থেকে তার মস্তক আলাদ করে ফেলবেন। তাই তারা নিরাপদ দূরত্বে চলে গেল। রক্তের ছিটে ফোটা থেকে বাঁচার জন্য পোশাক গুটিয়ে নিল। কিন্তু না, আল্লাহ তাআলা খলিফার অন্তর কোমল করে দিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, আসলে তার প্রশংসা করাই কবির উদ্দেশ্য ছিল। কারণ, তার কাছে কুকুর হল বন্ধুত্ব রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতীক। ছাগল হল দুর্যোগ মুহূর্তে অটল থাকার প্রতীক। আর বালতি ও পানি তার কাছে জীবনের তাৎপর্য। এসব ঘিরেই কেটেছে তার জীবন। তাই তার কবিতা জুড়ে কেবল এসবের প্রকাশ।
তিনি এই মরু-কবিকে রাজ মেহমান খানায় থাকার ব্যবস্থা করলেন। তাকে আধুনিক, কবিদের আসরে যাতায়াত করতে বললেন। সুন্দরী সেবিকাদের একটি দলকে তার জন্য খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব দিলেন। এভাবে তাকে দুসপ্তাহ আধুনিক কবি ও সুন্দরী রমণীর সাহচর্যে রাখলেন। এরপর একদিন খলিফা তাকে তার দরবারে তলব করলেন। খলিফার সামনে উপস্থিত হওয়ার পর তিনি তাকে বললেন, আলী বিন জাহাম, আমাকে একটি কবিতা শোনাও। তখন সে বলল- يَا أَيُّهَا الْخَلِيفَةُ : عُيُونُ الْمَهَا بَيْنَ الرَّصَافَةِ وَالْجِسْرِ * جَلَبْنَ الْهَوَي مِنْ حَيْثُ أَدْرِي وَلَا أَدْرِي
হে খলিফা, মাহার সুদৃঢ় ও সাহসি চাহনি আমার হৃদয়-মন আকর্ষণ করে।
আমি নিজেকে (তার মাঝে) হারিয়ে ফেলি।
খলিফা দেখল তার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। আলী বিন জাহামের কাব্যধারা মরুপথ ছেড়ে প্রেমের গলিতে হাঁটতে শুরু করেছে। খলিফার অনুচরেরাও বুঝতে পারল, খলিফা কেন মরু-কবিকে শাস্তি না দিয়ে রাজ মেহমান বানিয়েছিলেন。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আমাদের জীবন, আমাদের পরিবেশ

📄 আমাদের জীবন, আমাদের পরিবেশ


বর্তমানে আমাদের যুবকদের কেউ নানা অপকর্মে লিপ্ত। কেউবা আবার অনিশ্চিত গন্তব্যের পথিক। তুমি লক্ষ্য করলে দেখবে, এর নেপথ্যে রয়েছে তার পরিবেশ ও প্রতিবেশি এবং তার নির্বাচিত বন্ধু ও গৃহিত সংস্কৃতি। আমাদের বোনদের দেখা যায় শিক্ষা জীবনের একটা স্তর পর্যন্ত তারা যথারীতি পর্দা করে। জবানের হেফাজত করে। অবৈধ সম্পর্ক থেকে মুক্ত থাকে। মা বাবার সাথে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রাখে। কিন্তু যখন তারা প্রাথমিক স্তর থেকে মাধ্যমিক স্তর কিংবা মাধ্যমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নীত হয়, তখন তাদের স্বভাব-চরিত্র ও জীবনধারা বদলে যায়। এর একমাত্র কারণ পরিবেশ। এ সবই তাদের নতুন পরিবেশ ও সঙ্গী-সাথীদের প্রভাবে হয়ে থাকে। মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারে আল্লাহর-র বক্তব্য হল- وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يُلَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রাসুলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম! [সূরা ফুরকান : ২৭]
তোমাকে রাসুলের পথ অবলম্বন করতে কে নিষেধ করেছে? তোমার মাঝে ও আল্লাহর রাসুলের মাঝে কে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে? يُوَيْلَتي لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذُ فُلَانًا خَلِيلًا) হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! [সূরা ফুরকান : ২৮]
তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করায় তোমার কী ক্ষতি হয়েছে?
لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي وَكَانَ الشَّيْطَنُ لِلْإِنْسَانِ خَذُوْلًا) আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়। [সূরা ফুরকান: ২৯]
আমাকে সৎকাজ ও সৎপথ থেকে বিরত রাখত সে বন্ধু। যখনি আমার কোনো সৎকাজের সুযোগ আসত তখনই সে নানাভাবে আমাকে বাধা দিত। আমি কোরআন শিক্ষার আসরে অংশগ্রহণ করতে চাইলে সে বলত, কি দরকার ওখানে যাওয়ার?
ধর্মীয় কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখাতে গেলে সে বলত, এসব চ্যানেল দেখে কী লাভ?
আমি কোরআন পড়তে চাইলে সে বলত, গত শুক্রবারেই তো তুমি কোরআন পড়েছ, আজ বাদ দাও।
নফল সওম রাখতে চাইলে সে বলত, এরজন্যে তো পুরো রমযান মাসটাই পড়ে আছে।
সে আমাকে দীনি মজলিশে বসতে বাধা দিত। নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে বলত, আরে যৌবনটাকে উপভোগ করো।
এভাবে সে আমাকে সর্বপ্রকার ভালো কাজ করা থেকে বিরত রাখত। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এক জান্নাতবাসী ও তার অসৎ বন্ধুর আলোচনায় বলেন-
قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ إِنِّي كَانَ لِي قَرِينٌ তাদের (জান্নাতবাসীদের) একজন বলবে, আমার এক সঙ্গী ছিল। [সূরা সাফফাত : ৫১]
পৃথিবীতে সে ছিল আমার বন্ধু। আমরা একসাথে একই বিদ্যালয়ে পড়তাম। একসাথে চলাফেরা করতাম। সে ছিল আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু। কিন্তু সে সৎ ছিল না।
يَقُولُ أَبِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِينَ ﴿٥٢﴾ وَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَ عِظَامًا وَإِنَّا لَمَدِينُونَ ﴿٥٣﴾ قَالَ هَلْ أَنْتُمْ مُطَّلِعُونَ ﴿٥﴾ فَاطَّلَعَ فَرَاهُ فِي سَوَاءِ الْجَحِيمِ ﴿٥﴾ قَالَ تَاللهِ إِنْ كِدْتَ لَتُرْدِينِ ﴿٥٦﴾ وَلَوْ لَا نِعْمَةُ رَبِّي لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِينَ ﴿٥٧﴾ أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ ﴿٥٨﴾ إِلَّا مَوْتَتَنَا الْأُولَى وَمَا نَحْنُ بِمُعَذِّبِينَ ﴿۵۹﴾ إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿٢٠﴾ لِمِثْلِ هَذَا فَلْيَعْمَلِ الْعُمِلُونَ সে (আমাকে) বলত, তুমি কি বিশ্বাস কর যে, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব? আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে উঁকি দিয়ে দেখতে চাও? অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে। তখন সে বলবে, আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে। আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম। এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না। আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তি প্রাপ্তও হব না। এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত। [সূরা সাফফাত : ৫২-৬১]
তাই তুমি নিজেকে পরিবর্তন করতে চাইলে প্রথমে পরিবেশ পরিবর্তন করো। মরু-কবি ও খলিফা মুতাওয়াক্কিলের গল্পও আমাদেরকে এই শিক্ষাই দেয়。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 এক যুবকের গল্প

📄 এক যুবকের গল্প


একবার আমি উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশে আমি সফর করছিলাম। সেখানে এক অনুষ্ঠানে আমি লেকচার দিচ্ছিলাম। লেকচারের বিষয় ছিল- আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও মন্দ পরিবেশ ত্যাগ।
আমি বললাম, নিজেকে সৎ ও সুন্দর করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই মন্দ পরিবেশ ত্যাগ করতে হবে। যেমন কেউ যদি মদ্যপান ত্যাগ করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই মদ্যপায়ীদের আসর ত্যাগ করতে হবে। তাদের সাথে সর্বপ্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করত হবে। মোবাইল থেকে তাদের নাম-নাম্বার মুছে ফেলতে হবে। তদ্রূপ ধুমপান ত্যাগে আগ্রহী ব্যক্তির তার ধুমপায়ী বন্ধুদের ত্যাগ করতে হবে। অবৈধ সম্পর্ক ও মেলামেশায় লিপ্ত ব্যক্তির অশ্লীলতা ত্যাগ করতে হলে সব খারাপ মেয়ের নাম্বার মুছে ফেলতে হবে। অতএব, প্রিয় ভাইয়েরা, নিজেকে পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই এমন কিছু কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, যা আপনার জীবনধারা বদলে দেবে।
লেকচার শেষে এক যুবক এসে বলল, শায়খ, আমার কিছু কথা ছিল।
কি কথা? বলো।
যুবকটি বলল, কিছুদিন আগে আমি আমার কয়েকজন বন্ধুর সাথে একটি আরব মুসলিম রাষ্ট্রে ঘুরতে যাই। সেখানে গিয়ে আমি অবাক হই। আশ্চর্য! একটি মুসলিম দেশে অশ্লীলতা ও পাপাচারের এমন সয়লাব কীভাবে ঘটতে পারে? বন্ধুদের আমি আগেই বলে রেখেছিলাম, আমি তোমাদের সাথে এমন কোনো জায়গায় যাবো না, যেখানে কোনো ধরনের অপকর্ম চলে। তিন চার দিন কেটে গেল। আমরা বিভিন্ন মার্কেট, রেস্টুরेंट ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে সময় পার করলাম।
একদিন তারা এক অশ্লীল স্থানে যাওয়ার মনস্থ করল। আমি বললাম, আমি তোমাদের আগেই বলেছি, আমি এসব জায়গায় যাবো না। এগুলো কবিরা গুনাহ ও মারাত্মক গর্হিত কাজ। আমি তাদের বললাম, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। শায়খ, আলহামদুলিল্লাহ, তখন আমার ভেতর এ পরিমাণ ঈমানের জোর ছিল যে, আমি তাদের বিপরীতে অটল থাকতে পেরেছি। আমি হোটেলেই রয়ে গেলাম। প্রায় দু তিন ঘন্টা পর তাদের আগমনের আওয়াজ পেলাম। সাথে শুনতে পেলাম নারী কণ্ঠের আওয়াজও। আমি তাদের কুমতলব আগেই আঁচ করেছিলাম। তাই রুমের দরজা বন্ধ করে বসেছিলাম।
মিনিট দশেক পর আমার এক বন্ধু এসে আমাকে ডাকতে লাগল। দরজা খোলো। বেরিয়ে এসো। ফুর্তি করো। জীবনকে উপভোগ করো।
আমি দরজা খুললাম না। ভেতর থেকে বললাম, আমি জীবন ভালোভাবেই উপভোগ করছি। মদ আর ব্যভিচার ছাড়া কি জীবন উপভোগ করা যায় না?
কিছুক্ষণ পর আবার একজন এসে দরজায় আওয়াজ দিল, দরজা খোলো।
আমি বললাম, না, আমি দরজা খুলব না।
সে বলল, এই রুমে আমার মোবাইলের চার্জার আছে। চার্জারটা দাও।
তাকিয়ে দেখলাম সত্যিই তার চার্জার এখানে। আমি চার্জার দেয়ার জন্য দরজা খুলতেই সে ধাক্কা দিয়ে পুরো দরজা খুলে ফেলল। একটি মেয়েকে রুমের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে বাহির থেকে লাগিয়ে দিল। আমি দরজা খোলো, দরজা খোলো বলে চিৎকার করতে লাগলাম। তাদের কেউ আমার চিৎকারে কান দিল না। বুঝতে পারলাম, তারা আমাকে বশ করার জন্য এই মেয়েটিকে ভাড়া করে এনেছে।
আমি মেয়েটিকে বললাম, দূর হও। আল্লাহকে ভয় করো।
কিন্তু সে আমাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করল। যখন বুঝতে পারলাম একে উপদেশ দিয়ে কাজ হবে না; তখন আমি একটি কৌশল অবলম্বন করলাম। বললাম, দেখো আমি এইডস রোগে আক্রান্ত। আমার সাথে মেলামেশা করলে তুমিও এইডসে আক্রান্ত হবে।
মেয়েটি বলল, এটা কোনো ব্যাপার না। তোমার এইডস হয়েছে কতদিন হল?
প্রায় একবছর।
আর আমি দু বছর ধরে এইডস আক্রান্ত। তাই আমরা দুজনই যখন এইডসের রোগী, তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।
যুবকটি বলল, শায়খ, আল্লাহর কসম, মেয়েটি যখন বলল সে এইডস আক্রান্ত; তখন আমি এইডস! এইডস! বলে চিৎকার করতে লাগলাম। আমার বন্ধুরা মরণব্যাধি এইডস শব্দ শুনে জলদি দরজা খুলে দিল এবং তড়িঘড়ি করে মেয়েটিকে বের করে দিল। আসলে তারা এইডসের ভয়ে মেয়েটিকে বের করে দিয়েছিল। আল্লাহর ভয়ে নয়। শায়খ, তখন থেকে আমি বুঝতে পারলাম, আপনি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন- এটা পাপীরা চায় না。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00