📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইলম সবার কাছে নেই

📄 ইলম সবার কাছে নেই


বাদশাহ হারুনুর রশিদ। জগদ্বিখ্যাত শাসক। একবার তিনি হজে গেলেন। সেখানে তার হজ সংক্রান্ত একটি মাসআলা জানার প্রয়োজন পড়ল। তিনি কয়েকজন আলেমকে সেটি জিজ্ঞেস করলেন। তারা কেউ সমাধান দিতে পারল না। সবাই বলল, আতা ইবনে আবি রাবাহ ব্যতিত এই মাসআলার সমাধান কেউ দিতে পারবে না।
বাদশাহ তাকে ডেকে আনতে লোক পাঠালেন। আতা ইবনে আবি রাবাহ ছিলেন এক নিগ্রো গোলাম। গায়ের রঙ ছিল কুচকুচে কালো। নাক ছিল চেপ্টা। হাঁটতেন খুঁড়িয়ে। বাদশাহর দূত তার কাছে পৌঁছল। তিনি তখন একটি ইলমের মজলিশে বসা। যেখানে উপস্থিত সবাই বিভিন্ন মাসআলা-মাসায়েলের সমাধানের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এসে হাজির হয়েছিলেন। তাদের কেউ কাজিখিস্তান থেকে, কেউ আফ্রিকা থেকে, কেউ ইয়েমেন থেকে, কেউ ইরাক থেকে, কেউ সিরিয়া থেকে এসে এখানে জড়ো হয়েছিলেন। তাই তিনি বাদশাহর দূতকে বললেন, এতগুলো মানুষকে এখানে রেখে আমি খলিফার কাছে কিভাবে যাই? তাছাড়া তারা অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এসেছে। আমি চলে গেলে তাদের প্রশ্নের জবাব কে দেবে? তাই আপনি খলিফাকে গিয়ে বলুন, আমি ব্যস্ত আছি। আর এটাও বলবেন যে, ইলম এমন এক সম্পদ যার কাছে সবাই যায়। সে কারো কাছে যায় না। ইলমের অন্বেষণকারী ইলমকে খুঁজে বেড়ায়। ইলম নিজে কাউকে খোঁজে না।
দূত গিয়ে খলিফাকে তার কথাগুলো শোনাল। খলিফা তার দুই সন্তান- আমিন ও মামুন কে নিয়ে আতা ইবনে আবি রাবাহের কাছে গেলেন। খলিফাকে দেখে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলো ভয়ে জায়গা করে দিল। এ দৃশ্য দেখে আতা ইবনে আবি রাবাহ ভীষণ রেগে গেলেন। তিনি বললেন, সবাই আমরা এখানে হজের মাসআলা জানতে এসেছি। আল্লাহ -র কাছে আমরা সবাই সমান।
খলিফা এসে সালাম দিয়ে বললেন, শায়খ, আমার একটি মাসআলা জানার ছিল। আতা ইবনে আবি রাবাহ খলিফাকে বললেন, দয়া করে লাইনে দাঁড়ান। আল্লাহ -র কাছে আমরা সবাই সমান।
খলিফা তার দু সন্তানকে নিয়ে লাইনে দাঁড়ালেন। যথাসময়ে তার পালা এলে তিনি তার প্রশ্ন বললেন। আতা ইবনে আবি রাবাহ উত্তর দিলেন এবং তার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করলেন।
খলিফা তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেরার সময় সন্তানদেরকে বললেন, প্রিয় বৎস, ইলম অর্জন কর। আল্লাহর কসম, এই নিগ্রো গোলাম ব্যতিত আমি জীবনে কোনো জায়গায় অপমানিত ও লজ্জিত হইনি। আজ তার নিকট আমার লজ্জিত হওয়ার কারণ হল, তার কাছে এমন জিনিস আছে, যা আর কারো কাছে নেই। অথচ দেখো, আমার কাছে আছে কেবল পদবি ও সম্পদ। সম্পদ তো অনেকের কাছেই আছে। কিন্তু ইলম সবার কাছে নেই。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 দুর্ভাগারাই আলেমদের নিয়ে কটুক্তি করে

📄 দুর্ভাগারাই আলেমদের নিয়ে কটুক্তি করে


তারা আলেমদেরকে মর্যাদা বুঝতেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে কিছু দুর্ভাগা শ্রেণি আলেমদের নিয়ে নানা রকমের ঠাট্টা বিদ্রূপ ও হাসি ঠাট্টা করে থাকে। কিছু হলুদ মিডিয়া প্রায়ই আলেমদেরকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করে। শুধু তাই নয় যারাই দীনের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের নিয়ে তারা উপহাস করার স্পর্ধা দেখায়। তাদের দেয়া ফতোয়া নিয়ে তামাশা করে। ইন্টারনেটে কিছু ব্লগ ও ওয়েবসাইট প্রতিনিয়ত আলেমদের বিশোদাগারে ব্যস্ত থাকে। কিছু টিভি চ্যানেলও একই কাজ করে।
অথচ এ ঘৃণ্য কাজগুলো শরয়িত ও রাষ্ট্র উভয় আইনেই অবৈধ। আলেমগণ নবীদের উত্তরসূরী। তাদের নিয়ে বিদ্রূপ-উপহাস কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে কোনো মুসলমান এমন কাজ কখনও করতে পারে না।
হ্যাঁ, আলেম থেকে যদি কোনো বিচ্যুতি প্রকাশ পায় তাহলে পূর্ণ আদব বজায় রেখে ভদ্র ভাষায় তাকে সরাসরি সেকথা বলা যেতে পারে। জানানো যেতে পারে চিঠির মাধমেও। কিংবা চাইলে তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে যথাযথ সম্মান বজায় রেখে শালীন ভাষায় পত্র-পত্রিকায় লেখা যেতে পারে। কিন্তু এমন কিছু লেখা যাবে না, যা আলেমদের সম্মানে আঘাত হানে কিংবা দীনকে ছোট করে দেয়। আল্লাহ স্বয়ং আলেমের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন। সেই মর্যাদাকে হেয় করার অধিকার কারও নেই।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে আলেমদের প্রতি যথাযথ মর্যাদা পোষণ করার তাওফিক দান করুন। একই সাথে আমাদেরকেও প্রকৃত আলেম হিসেবে কবুল করুন。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইমাম আবু হানিফা ؒ ও তার শিষ্যের গল্প

📄 ইমাম আবু হানিফা ؒ ও তার শিষ্যের গল্প


গ্য উত্তরসূরী কিংবা প্রতিনিধি রেখে যেতে কে না চায়? আলেম চান তার প্রতিনিধি হিসেবে যোগ্য আলেম গড়ে যেতে, যিনি হবেন তার যোগ্য উত্তরসূরী। তেমনি পদার্থ, রসায়ন, কিংবা জীববিজ্ঞানীও চান, স্ব স্ব ক্ষেত্রে যোগ্য প্রতিনিধি তৈরি করে যেতে। এ ক্ষেত্রে সেই উত্তরসূরী কিংবা প্রতিনিধি যদি হন মেধাবী, সুযোগ্য, সচ্চরিত্রবান, দীনদার ও বিনম্র, তাহলে তো সোনায় সোহাগা।
ইমাম আবু হানিফা (৮০-১৫০ হি.)। বিশ্বসেরা ফকিহ। মুসলিম উম্মাহর গর্ব। সাহাবায়ে কেরামের সান্নিধ্য ধন্য মহান তাবেঈ। বিশ্বময় মানিত অবিসংবাদিত ইমাম। শাফেয়ি মাযহাবের প্রধান ইমাম শাফেয়ি তার সম্পর্কে বলেছিলেন-
'ফিকহের ক্ষেত্রে আমারা সবাই ইমাম আবু হানিফা-র পরিবারের অন্তর্ভূক্ত।'
আশ্চর্য প্রশ্ন!
ইমাম আবু হানিফা মসজিদে বসে দরস দিতেন। সেখানে উপস্থিত থাকত দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত ছাত্র। এদের মধ্যে দশ-বারো বছরের ছোট্ট একটি বালকও ছিল। সে মাঝে মাঝে দরসে হাজির হতো। সাধারণত কোনো প্রশ্ন করত না। তবে মাঝে মাঝে কিছু প্রশ্ন করত, যা থেকে তার উন্নত মেধার পরিচয় মিলত।
প্রশ্নের ব্যাপারটা এমনই। কিছু প্রশ্ন ব্যক্তির মেধার আলো ছড়ায়। আর কিছু প্রশ্ন ব্যক্তির নির্বুদ্ধিতার পরিচয় বহন করে।
একবারের কথা। ইমাম আবু হানিফা দরস দিচ্ছেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে দরসে বসল। তার চেহারায় ছিল ব্যক্তিত্বের ছাপ। গায়ে ছিল মূল্যবান পোশাক। পায়ে ব্যথা অনুভব করায় ইমাম আবু হানিফা তার পা দুটি ছড়িয়ে দিয়ে বসেছিলেন। লোকটিকে দেখে তার সম্মানে তিনি পা দুটি খানিকটা গুটিয়ে নিলেন। ইমাম আবু হানিফা লোকটিকে চিনতেন না। ভাবলেন লোকটি হয়তো আলেম হবেন।
দরস শেষে তিনি প্রতিদিনের মতো ছাত্রদের জিজ্ঞেস করলেন- তোমাদের কারো কোনো প্রশ্ন আছে?
সেই লোকটি বলল, হুজুর, আমার একটা প্রশ্ন আছে।
জি বলুন, কি প্রশ্ন?
হুজুর, রমযান মাস এলে আমরা কী করব?
আমরা সওম রাখব।
আর হজের মওসুম এলে?
হজের মওসুম এলে আমরা হজ পালন করব।
যদি সওম ও হজ একসাথে আসে তাহলে আমরা কী করব?
এ প্রশ্ন শুনে আবু হানিফা মনে মনে বললেন, এখন আবু হানিফার পা প্রসারিত করার সময় হয়েছে। রমযান আর হজ একসাথে কী করে আসতে পারে? হজ ও রমযান দুটি দু মাসে হয়ে থাকে। ইমাম আবু হানিফা বুঝতে পারলেন, তিনি এর বহ্যিক গাম্ভীর্য দেখে অযথাই প্রয়োজনের অধিক সম্মান দেখিয়েছেন।
কিন্তু সেই বালকটি এমন ছিল না। তার প্রশ্নগুলো হতো অর্থবহ। তাৎপর্যপূর্ণ। বালকটির নাম ছিল আবু ইউসুফ। বালকটি ইমাম আবু হানিফা-র বিশেষ দৃষ্টিতে চলে এলো। কিন্তু তিনি দেখলেন, বালকটি প্রায়ই দরসে অনুপস্থিত থাকছে। একদিন তিনি তাকে দাঁড় করালেন। বললেন, বাবা, তুমি প্রায়ই দরসে অনুপস্থিত থাকো কেন?
বালকটি বলল, আমি খুবই গরিব ঘরের সন্তান। সংসারের খরচ যোগাতে আমাকে বাজারে কুলির কাজ করতে হয়।
আবু হানিফা বললেন, বাবা! তুমি ইলম অর্জন করো। আল্লাহ তাআলা তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন।
উস্তাদের উপদেশ মেনে বালকটি ইলম অর্জনে মনোযোগী হল। কিন্তু তার পিতা তার ইলম অর্জনের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। তিনি মসজিদে এসে তাকে জোর করে সেখান থেকে নিয়ে যেতে চাইলেন। আবু হানিফা তার পিতাকে বললেন, আপনি কেন আপনার ছেলেকে ইলম শিখতে দিচ্ছেন না?
তিনি বললেন, হুজুর! আপনার রুটি প্রস্তুত। আমাদের কষ্ট আপনি কি বুঝবেন? আমরা গরিব মানুষ। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জীবিকা নির্বাহ করি। সে কাজ করে আমাকে সহযোগিতা করে।
ইমাম আবু হানিফা জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ছেলে প্রতিদিন কত টাকা উপার্জন করে?
সে প্রতিদিন দু দিরহাম উপার্জন করে।
বেশ, তাকে আমার কাছে রেখে যান। আমি তাকে প্রতিদিন দু দিরহাম দেব।
ইমাম আবু ইউসুফের পিতা এ শর্তে রাজি হল। আবু হানিফা তাকে বললেন, শুনে রাখুন, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি আপনার সন্তানকে এমন ইলম শিক্ষা দেব, যদি সে তা আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে খলিফার সাথে দামি গালিচায় বসে বাদাম মিশ্রিত ফালুদা খাবে। (এটি তৎকালীন একটি মূল্যবান খাবার; যা সাধারণত ধনাঢ্য ব্যক্তিরা খেয়ে থাকতেন।)
আবু ইউসুফের পিতা অবজ্ঞার সুরে বললেন, আমার ছেলে খাবে বাদাম মিশ্রিত ফালুদা? সে বসবে খলিফার সাথে? হ্যাঁ।
সেদিন থেকে ইমাম আবু হানিফা বালক আবু ইউসুফকে প্রতিদিন দু দিরহাম করে দিতেন।
দেখতে দেখতে আবু ইউসুফ রহ. বড় হয়ে গেলেন। তিনি এখন অনেক ইলমে ঋদ্ধ। বুদ্ধিতে পরিপক্ক।
হঠাৎ একদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ধীরে ধীরে তার রোগ তীব্র থেকে তীব্রতর হল। প্রিয় শিষ্যকে দেখতে ইমাম আবু হানিফা তার বাড়ি গেলেন। দেখলেন তিনি খুবই অসুস্থ। একেবারে মুমূর্ষু অবস্থা। এমনকি শেষ অবস্থার ব্যক্তির মতো তাকে কিবলামুখী করে শুইয়ে রাখা হয়েছে। প্রিয় ছাত্রের এ অবস্থা ইমাম সাহেবকে বিচলিত করে তুলল। তিনি তার জন্য দোআ করলেন। বললেন, আহা! আমি তো আশা করেছিলাম, আমার পর তুমিই উম্মাহকে পথ দেখাবে। এখন তো দেখছি আমার আগে তুমিই চলে যাচ্ছ।
তারপর ইমাম আবু হানিফা ফিরে এলেন। এর কিছুদিন পর ইমাম আবু ইউসুফ সুস্থ হয়ে ওঠলেন। তিনি তার নিজের ব্যাপারে আপন গুরু ইমাম আবু হানিফার সুউচ্চ মন্তব্যটি শুনেছিলেন। তাই তিনি মনে করলেন গুরুর কাছে আমার শিক্ষা অনেকটাই পূর্ণতা পেয়েছে। এমন ভাবনা থেকেই তিনি ভিন্ন একটি জায়গায় নিজেই ছাত্রদের পাঠদান শুরু করলেন। কিছুদিন পর ইমাম আবু হানিফা জানতে পারলেন প্রিয় শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ ভিন্ন একটি জায়গায় স্বতন্ত্র দরস বা শিক্ষাদান করছেন। তখন তিনি প্রিয় ছাত্রকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন দিয়ে এক ব্যক্তিকে তার কাছে পাঠালেন। এ প্রশ্ন ও উত্তর থেকেই ইমাম আবু হানিফা এর সুক্ষ্মদর্শিতার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। তিনি বলেছিলেন, আবু ইউসুফকে জিজ্ঞেস করবে, এক ব্যক্তি একটি জামা কিনল। জামাটি তার একটু বড় হতো। তাই তিনি জামাটি ছোট করে দেয়ার জন্য এক দর্জির কাছে দিলেন। ঘটনাক্রমে জামাটি দর্জির পছন্দ হয়ে গেল। কিছুদিন পর দিন পর তিনি জামা আনতে গেলেন। দর্জি অস্বীকার করে বলল আপনি আমাকে কোন জামা দেননি। তখন জামার মালিক পুলিশের শরণাপন্ন হয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালেন। পুলিশ দর্জির দোকানে অভিযান চালিয়ে জামাটি উদ্ধার করল। এবং তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দিল। তারপর দর্জিটি জামার মালিককে বলল, তোমার জামা তো আমি ছোট করেছি। হয়তো তোমাকে যথাসময়ে দিইনি। কিন্তু ছোট তো করেছি। এখন আমার মজুরি দাও। এখন প্রশ্ন হল, এ দর্জি কি জামা ছোট করার মজুরি পাবে?
ইমাম আবু হানিফা ওই ব্যক্তিকে বলে দিলেন, যদি আবু ইউসুফ (কোনো ব্যখ্যা ছাড়া) বলে, হ্যাঁ। তাহলে বলবে, আপনার উত্তর হয়নি। আর যদি (কোনো ব্যখ্যা ছাড়া) বলে, না। তাহলেও বলবে আপনার উত্তর হয়নি।
লোকটি যথারীতি ইমাম আবু ইউসুফের কাছে গিয়ে হুবহু প্রশ্নটি করল। তিনি বললেন, হ্যাঁ., পাবে। লোকটি বলল, আপনার জবাব হয়নি। এবার তিনি বললেন, না পাবে না। লোকটি বলল, আপনার জবাব হয়নি।
আবু ইউসুফ ধরে ফেললেন, এটি অবশ্যই তার গুরুর কাজ। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইমাম আবু হানিফা-র কাছে গেলেন। বললেন, আমার ব্যাপারে আপরনার সুউচ্চ মন্তব্যের কারণেই আমি স্বতন্ত্রভাবে দরস শুরু করেছি। এখন আপনিই বলে দিন প্রশ্নটির সমাধান। আমি অপারগ।
ইমাম আবু হানিফা বললেন, আলোচ্য ক্ষেত্রে দেখতে হবে দর্জি জামাটি ছোট করে কার মাপে কেটেছে? যদি সে তার নিজের মাপে কেটে থাকে তাহলে সে কোনো পারিশ্রমিক পাবে না। আর যদি জামার মালিকের মাপে কেটে থাকে তাহলে পারিশ্রমিক পাবে।
আবু ইউসুফ মাসআলাটির সমাধান পেলেন। এরপর থেকে ইমাম আবু হানিফা -র মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার দরসে বসতেন। পরবর্তীতে তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 উস্তাদের কথাই সত্য হল

📄 উস্তাদের কথাই সত্য হল


একদিনের কথা। আবু ইউসুফ খলিফার দরবারে বসা। চারিদিকে সম্মানী লোকদের উপস্থিতি। খলিফা অনচর ও সেবক বেষ্টিত অবস্থায় তার নির্দিষ্ট আসনে উপবিষ্ট। উপস্থিত লোকদের মাঝে বিচারক ও আলেমগণও রয়েছেন। সবাই খলিফার অনুগ্রহ প্রার্থী। আবু ইউসুফ তখন প্রধান বিচারক। সকলের জন্য খাবার আনা হল। খলিফার জন্য আনা হল বিশেষ খাবার- বাদাম মিশ্রিত ফালুদা। খলিফার সামনে সেটি রাখা হলে তিনি সেবককে বললেন, প্রথমে শায়খকে দাও।
সেবদ বাদাম মিশ্রিত ফালুদার পেয়ালাটি আবু ইউসুফ -র সামনে রাখল। তিনি তার সামনে এই বিশেষ খাবারটি দেখে হাসতে লাগলেন। খলিফা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার শায়খ, আপনি হাসছেন কেন?
আবু ইউসুফ বললেন, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমার এ হাসির কারণ অন্যকিছু নয়। আসলে আমার একটা কথা মনে পড়ে গেছে। আমার শায়খ ইমাম আবু হানিফা আমার পিতাকে বলেছিলেন, আমি আপনার ছেলেকে এমন ইলম শিক্ষা দেবো, যদি সে তা আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে খলিফার সাথে দামি গালিচায় বসে বাদাম মিশ্রিত ফালুদা খাবে। আমার পিতার তখন সে কথা বিশ্বাস হয়নি। আজ আমি দেখতে পাচ্ছি, সত্যিই আল্লাহ দ্বারা আমার মর্যাদা কত উঁচু করেছেন। আমি আজ খলিফার সাথে দামি গালিচায় বসে সম্মানী লোকদের সাথে বসে বাদাম মিশ্রিত ফালুদা খাচ্ছি। সত্যিই, আল্লাহ ঈমানদার ও আলেমদের মর্যাদা সুউচ্চ করে দেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00