📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইবাদতের প্রতি আগ্রহ

📄 ইবাদতের প্রতি আগ্রহ


আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ব্যতিত সারা বছর রোযা রাখতেন। সারা রাত জেগে সালাত আদায় করতেন। প্রতিদিন এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তাই তিনি জনগণকে সময় দিতে পারতেন না।
একদিন রাসুল তাকে ডেকে পাঠালেন। জিজ্ঞেস করলেন, আবদুল্লাহ! তুমি নাকি রাতভর সালাত আদায় করো?
তিনি বললেন, জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ।
রাসুল বললেন, রাতের তিন ভাগের এক ভাগ অথবা অর্ধেক রাত সালাত আদায় করবে। রাসুল তাকে আরো জিজ্ঞেস করলেন, শুনেছি তুমি দিনভর কুরআন তেলাওয়াত কর?
তিনি বললেন, জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ!
রাসুল বললেন, না এমন করবে না। বরং প্রতিমাসে এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করবে।
তিনি বললেন, আমি এরচেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, তাহলে প্রতি তিন দিনে এক খতম।
তিনি বললেন, আমি এরচেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, না, যে তিন দিনের কমে কুরআন খতম দেবে সে কোরআন বুঝবে না। আর সাওমের ব্যাপারে বললেন, প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখবে।
তিনি বললেন, আমি এরচেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, তাহলে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সাওম পালন করবে।
তিনি বললেন, আমি এর চেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, তাহলে একদিন সওম রাখবে এবং একদিন ভাঙবে।
তিনি বললেনন, আমি এর চেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, এর চেয়ে বেশি সওম রাখা উত্তম নয়। এটি দাউদ -র সওম রাখার পদ্ধতি। তিনি একদিন সওম রাখতেন, একদিন রাখতেন না। [বোখারী : ১৯৭৭]
এরপর থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবাদতের প্রতি গভীর আগ্রহ ও উদ্যমতা থাকা সত্ত্বেও এ পদ্ধতি মেনে ইবাদত করতেন।
একবার রাসুল তাঁর পবিত্রা স্ত্রীদের নিয়ে হজ করেছিলেন। হজ চলাকালীন সময়ে একদিন রাসুল আয়েশা-র ঘরে প্রবেশ করলেন। দেখলেন, আয়েশা কাঁদছেন। রাসুল জিজ্ঞেস করলেন আয়েশা, তুমি কাঁদছ কেন?
তিনি আবারো কেঁদে ওঠলেন।
রাসুল বললেন, তোমার কি ঋতুস্রাব হয়েছে? যে জন্যে তুমি ওমরা পূর্ণ করতে পারছ না?
তিনি বললেন, জি। আমার সাথীরা হজ ও ওমরা দুটোই পালন করে মদিনায় ফিরবে। আর আমি ফিরব শুধু হজ পালন করে। এটি কী করে হতে পারে?
উম্মে সালামা, হাফসা, যয়নব- তারা সবাই হজ ও ওমরা উভয়টিই পালন করেছেন। অথচ আমি শুধু হজ পালন করে ফিরব, ওমরা পালন করতে পারব না। এই বলে তিনি কেঁদে বুক ভাসাচ্ছিলেন। আয়েশা-র এই কান্না রাসুল-কে আনন্দিত করল। কারণ, নেক আমলের প্রতি আগ্রহীদের তিনি অনেক ভালোবাসতেন। তিনি আয়েশা-র ভাই আবদুর রহমানকে আয়েশা-কে নিয়ে নিকটতম হিল তথা তানঈমে যেতে বললেন। তানঈম হল বর্তমানের মসজিদে আয়েশা। মক্কাবাসী এবং দ্বিতীয়বার ওমরা করতে আগ্রহীদের মিকাত এটি। অনেকে দূর থেকে ওমরা পালন করতে আসেন। তারা একবার ওমরা পালন করে নিজের মৃত বাবা-মায়ের জন্য ওমরা পালন করতে চাইলে ইহরাম বাঁধতে তানয়িমে যান। এখানেই রয়েছে সেই মসজিদ। আয়েশা ও ভাইয়ের সাথে এখান থেকেই ইহরাম বেঁধেছিলেন। আজও এখান থেকে ইহরাম বাঁধার সময় মানুষের মনে আয়েশা-র সেই স্মৃতি ভেসে ওঠে।
যার মনের ভেতর আনুগত্যের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, ছোট্ট একটি নেক আমল ছুটে গেলেও যে আফসোস করে, সে অবশ্যই নেক আমলে সামর্থ্যবান হবে। যেমন সালাতে পূর্বের সুন্নত ছুটে গেলে সে তা পরে আদায় করে নিতে সচেষ্ট থাকবে।
উম্মে সালমা বলেন, একদিন নবী করিম আসরের সালাতের পর আমার ঘরে নফল সালাত পড়ছিলেন। আমি দেখে অবাক হলাম। এটা না সালাতের নিষিদ্ধ সময়? রাসুল ﷺ নিজেই এ সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আমি দাসীকে বললাম, রাসুল-র পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! উম্মো সালমা বলেছেন, তিনি আপনার থেকে শুনেছেন এ সময়ে কোনো সালাত আদায় নিষেধ, তাহলে আপনি যে সালাত আদায় করছেন? যদি তিনি কোনো ইশারা করেন, তাহলে তুমি চলে আসবে।
দাসী রাসুল-র পাশে দাঁড়িয়ে সেই কথাগুলো বলল। রাসুল ইশারা করলেন। সে চলে এলো। সালাত শেষে তিনি বললেন, হে উম্মে সালামা! আমার কাছে আবদে কায়সের প্রতিনিধি দল এসছিল, যে জন্যে আমি জোহরের সালাতের পরের দুরাকাত আদায় করতে পারিনি। সেটাই এখন পড়ে নিলাম। [বোখারী: ৩৫১০]
রাসুল ﷺ এমনই ছিলেন। তিনি যদি কখনও প্রাত্যহিক অজিফা আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়তেন, তাহলে পূর্বাহ্নের প্রথম প্রহরের পর তিনি তা আদায় করে নিতেন।
আমাদেরও উচিত নেক আমলের সুযোগ হাতছাড়া হলে আফসোস করা। ব্যথিত হওয়া। হায়! আমি যথা সময়ে সালাত আদায় করতে পারলাম না। হায়! আমি উত্তম সময়ে ওমরা পালন করতে পারলাম না। আহা! দোআ কবুলের সময়ে আমি দোআ করতে পারলাম না। মসজিদ নির্মাণে আমি অংশগ্রহণ করতে পারলাম না।
আল্লাহ-র নিকট প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে ঈমান, হেদায়াত ও তাওফিক দান করুন। যেখানেই থাকি আমাদের জন্য কল্যাণের ফয়সালা করুন。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আলেমদের মর্যাদা

📄 আলেমদের মর্যাদা


আল্লাহ আলেমদের সম্মানকে সমুন্নত করেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি আলেমদের সাক্ষ্যকে ফেরেশতাদের সাক্ষ্যের সাথে উল্লেখ করে বলেন- شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَئِكَةُ وَأُولُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা আলে ইমরান : ১৮]
অন্য আয়াতে বলেন- إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا বান্দাদের মধ্যে আলেমগণই আল্লাহকে বেশি ভয় করে। [সূরা ফাতির : ২৮]
সুতরাং আলেমরা হচ্ছেন আল্লাহর সেসব নির্বাচিত বান্দা যাদের অন্তরে রয়েছে তাঁর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা। তাছাড়া জনস্বার্থ সংরক্ষণ ও সেবায় তাদের মত অবদান অন্য কারো নেই।
'মিফতাহু দারিস সাআদাহ'- কিতাবে ইবনুল কাইয়িম লিখেছেন-
প্রকৌশলী ছাড়াও মানুষ বাড়ি নির্মাণ করতে পারে। হ্যাঁ বর্তমানে প্রকৌশলীর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু তাদরে অবর্তমানে মানুষ নিজেরাই নিজস্ব চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে গৃহ নির্মাণের সক্ষমতা রাখে।
এমনিভাবে ডাক্তার ছাড়াও মানুষ চলতে পারে। কারণ, অভিজ্ঞতা থেকেও সে বুঝতে পারে যে, তার জন্য কোন জিনিসটি ক্ষতিকর ও কোন জিনিসটি উপকারী। বুঝতে পারে ভালো-মন্দের ফারাক।
কিন্তু আলেমের বিষয়টি ভিন্ন। তিনি একজন শরীয়ত বিশেষজ্ঞ। মানুষের পক্ষে তার থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, শরয়ী বিধি-বিধান জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করা যায় না। এটি একমাত্র ঐশী বাণীর ধারক-নবীদের কাছে আসা ইলমের মাধ্যম অর্জিত হয়। তাইতো আল্লাহ আলেমদেরকে বসিয়েছে সম্মান ও মর্যাদার আসনে। যা বহাল থাকবে পরকালেও। নবী করিম বলেন-
وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ সাধারণ ইবাদতকারীর চেয়ে একজন আলেমের মর্যাদা তেমন, যেমন তারকারাজির চেয়ে চাঁদের মর্যাদা। [মুসনাদে আহমাদ: ২১১১৫]
এ হাদিস থেকে আলেমদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি অনুমেয়।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 প্রশ্নের মাঝেই রয়েছে অজ্ঞতা থেকে মুক্তি

📄 প্রশ্নের মাঝেই রয়েছে অজ্ঞতা থেকে মুক্তি


একবার সাহাবায়ে কেরাম কোনো এক যুদ্ধ থেকে ফিরছিলেন। তাদের একজন প্রচন্ড আহত ছিলেন। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। সেই আহত সাহাবি ঘুমিয়ে পড়লে তার ওপর জানাবাতের গোসল ফরয হয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠে তিনি সাথীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি তো আহত। আমার জন্য গোসল ছাড়া সালাত আদায়ের কোনো সুযোগ আছে কি?
সাথীরা বলল, না, এ অবস্থায় গোসল ছাড়া সালাত আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বললেন, কিন্তু আমি তো মাথায় আঘাত পেয়েছি। সেখানে পানি লাগলে ক্ষতি হতে পারে। সাথীর বলল, না, আমরা তোমার গোসল না করে সালাত আদায়ের কোনো উপায় দেখছি না। অগত্যা সে গোসল করে সালাত আদায় করল। এতে তার অসুস্থতা বেড়ে গেল। অবশেষে সে মারা গেল।
রাসুল ﷺ এ ঘটনা শোনার পর বললেন, সে যদি গোসল করার কারণে মৃত্যুবরণ করে থাকে, তাহলে তারা তাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ যেন তাদেরকেও হত্যা করেন। তারা কেন এ ব্যাপারে যারা জানে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করল না? কারণ, অজ্ঞতার প্রতিকারই হচ্ছে জানতে চাওয়া। অতঃপর রাসুল ﷺ বললেন, দু হাত দ্বারা পবিত্র মাটিতে আঘাত করে উভয় হাত মাসেহ ও সমস্ত মুখমন্ডল মাসেহ করলেই তার জন্য যথেষ্ট হতো। আর জখমের ওপর ব্যান্ডেজ বেঁধে তার ওপর মাসেহ করে নিলেই হতো। [বোখারী]
উযির ইবনে হুবাইরা একজন মন্ত্রী ছিলেন। ছিলেন সম্পদশালী ও সম্মানিত। তার বাড়িতে প্রায়ই ধর্মীয় বিষয়ে আলেমদের বিতর্কমজলিস হতো।
একদিন আসরের পর তিনি আলেমদের সাথে বসে আছেন। সেখানে মালেকি মাযহাবের একজন ফকিহ ছিলেন। একটি মাসআলা নিয়ে উপস্থিত আলেমগণ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছল যে, মাসআলাটি এমন হবে; তবে উত্তম হল এটি।
কিন্তু মালেকি মাযহাবেরর ফকিহ বললেন, না, এক্ষেত্রে উত্তম হল ওটি। সকল আলেমের মতের বিপরীতে তার মত দেখে উযির ইবনে হুবাইরাহ অবাক হলেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে তার সাথে অনেক আলাপ-আলোচনা করলেন। তাকে বোঝালেন, ভাই সকল আলেমের মতের বিপরীতে আপনি মত দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি তার মতের উপর অটল থাকলেন। বললেন, আমার মতটিই সঠিক।
ইবনে হুবাইরাহ রেগে গিয়ে বলরেন, আপনি কি গাধা?
একথা শুনে মালেকি মাযহাবের সেই ফকিহ চুপ হয়ে গেলেন। সবাই চলে যাওয়ার পর ইবনে হুবাইরাহ তার কথার জন্য ভীষণ অনুতপ্ত হলেন। একজন আলেমকে আমি গাধা বললাম- এই ভেবে অত্যন্ত মর্মাহত হলেন। দুশ্চিন্তায় সে রাতে তিনি ঘুমাতে পারলেন না।
বস্তুত আলেমগণ ইলম অন্বেষণে তাদের হাঁটু গেঁড়ে বসেছেন। পবিত্র কোরআন মুখস্ত করেছেন। সুন্নতে নববী সংকলন, লিখন ও সংরক্ষণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই সৌভাগ্যবান লোকগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর দীন সংরক্ষণ করে থাকেন। তাই, এরা সম্মান পাওয়ার দাবিদার। অথচ বর্তমানে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তাদের চরিত্রকে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আসলে যারা এমনটি করছে, তারা মূলত দীনেরই ক্ষতি করছে।
ইবনে হুবাইরাহ'র সারাটি রাত বিষণ্ণতা, উদ্বেগ ও পেরেশানির মধ্য দিয়ে কাটল। পরদিন সকালে যখন আবার আলেমগণ তার বাড়িতে সমবেত হলেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে সেই আলেমকে সম্মান জানালেন। তার মাথায় চুমু খেলেন। অতঃপর সকলকে লক্ষ্য করে বললেন, উপস্থিত সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম! গতকাল আমার মুখ ফসকে একটি মন্দ কথা বেরিয়ে পড়েছিল। আল্লাহর কসম, এটি আমাকে এতোটাই পীড়া দিয়েছিল যে, অনুশোচনার আগুনে জ্বলে আমি সারা রাতঘুমাতে পারিনি।
হে ভাই, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
আলেম লোকটি বলল, আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিলাম।
না, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন।
সত্যিই ক্ষমা করে দিয়েছি।
ভাই, আপনার কোনো প্রয়োজন থাকলে বলুন।
না, আমার কোনো প্রয়োজন নেই।
আমি আপনাকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, সত্যি করে বলুন আপনার কোনো ঋণ আছে কি না?
যেহেতু আপনি আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন তাই বলছি, হ্যাঁ, আমার ঋণ আছে।
কত?
আমাকে মাফ করুন।
আল্লাহর ওয়াস্তে বলুন, আপনার ঋণ কতো?
একশ দিনার।
এই নিন একশ দিনার। আমার ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে এটা আপনার ঋণ পরিশোধের জন্য দিলাম। আর এ নিন আরো একশ দিনার। এটা হল গতরাতের কটুকথার বিনিময়ে।
দেখো, ইনি একজন মন্ত্রী ছিলেন। সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাঁধা দিতেন। তিনি চাইলে ওই ফকিহকে হত্যার হুকুমও দিতে পারতেন। কিন্তু তার অন্তরে ওলামায়ে কেরামের প্রতি সম্মান ও মর্যাদাবোধ জাগ্রত ছিল。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আলেমের আত্মমর্যাদাবোধ

📄 আলেমের আত্মমর্যাদাবোধ


শায়খ সাঈদ হালাবি নামের এক বড় আলেম ছিলেন। মানুষ তাকে অনেক শ্রদ্ধা করত। তিনি তার যুগের খলিফার চাটুকারী ছিলেন না। ছিলেন না মুখাপেক্ষিও। কারণ, কোনো আলেম যদি শাসকের প্রতি মুখাপেক্ষি হন, শাসকের কাছ থেকে উপহার-উপঢৌকন গ্রহণ করেন, শাসকশ্রেণির সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্ক থাকে, তাহলে শাসকের অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলতে পারবেন না। উল্টো তার পক্ষপাতিত্ব করবেন। কিন্তু কোনো আলেম যদি শাসকশ্রেণি থেকে পুরোপুরি অমুখাপেক্ষি থাকেন, তাহলে তার প্রতিটি বক্তব্য ও ফতোয়া এক আল্লাহর জন্য হবে।
সাঈদ হালাবি ছিলেন এমনই শাসক বিমুখ একজন আলেম। বিচারকের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে একবার খলিফা তার জন্য কিছু হাদিয়া পাঠালেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন না। বললেন, مسلمانوں বাইতুল মাল থেকে নির্ধারিত বেতন ব্যতিত আমি কিছুই গ্রহণ করব না।
খলিফা বললেন, এটা হাদিয়া হিসেবে এটা গ্রহণ করুন।
তিনি বললেন, আপনি যদি আমাকে হাদিয়া দিতে চান, তাহলে বিচারকের দায়িত্ব থেকে আমাকে অব্যহতি দিন।
খলিফা বললেন, না; আমি আমার হাদিয়া ফেরত নিচ্ছি। তবুও আপনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করুন।
সাঈদ হালাবি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আলেম ছিলেন। পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একদিনের কথা। তিনি মসজিদে বসে ছাত্রদের কাছে হাদিস বর্ণনা করছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তার দুপায়ে কিছুটা ব্যথা ছিল। তাই তিনি পা দুটি বিছিয়ে দিয়েই ছাত্রদেরকে পড়াচ্ছিলেন। এসময় ইবরাহিম পাশা ইবনে মুহাম্মাদ আলি মসজিদ প্রদর্শনে এলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর ও প্রচন্ড প্রতাপশালী ব্যক্তি। তাই সবাই তার সম্মানে দাঁড়িয়ে গেল। এগিয়ে গিয়ে মুসাফাহা করল। কপালে চুমু খেল। দরসের কাছাকাছি আসার পরও সাঈদ হালাবি তার দিকে ফিরেও তাকালেন না। কয়েকজন ছাত্র তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল। কিন্তু সাঈদ হালাবি আগের মতোই দু পা প্রসারিত করে হাদিস বর্ণনা করে যাচ্ছিলেন। তিনি খলিফার জন্য হাদিস বর্ণনা বন্ধ করে দাঁড়ালেন না। লোকটিও সাঈদ হালাবির সাথে সালাম কিংবা কুশল বিনিময় করলেন না। মসজিদ প্রদর্শন শেষে ইবরাহিম পাশা মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলেন। লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, পা প্রসারিত করে বসে থাকা এই শায়খ কে?
উপস্থিত সবাই বলল, আমরা তাকে চিনি না।
তখন ইবরাহিম পাশা এক লোকের হাতে এক হাজার দিনার দিয়ে বললেন, এ দিনারগুলো শায়খকে দিয়ে আসুন।
লোকটি সাঈদ হালাবির কাছে গিয়ে বলল, আসসালামু আলাইকুম, শায়খ! এই এক হাজার দিনার আপনার জন্য হাদিয়া।
তখনকার সময় এ পরিমাণ টাকার দিয়ে অনায়াসে কোনো ব্যক্তির প্রায় বিশ বছরের ভরণ পোষণ চলে যেত।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ হাদিয়া কে দিয়েছে?
লোকটি বলল, ইবরাহিম পাশা।
তিনি বললেন, যাও, তার হাদিয়া তাকে ফেরত দিয়ে বল, যে তার দু পা প্রসারিত করেছেন, সে তার দু হাত প্রসারিত করবে না।
এর কারণ হল, মূলত যারা কারো কাছে হাত বিছায়, তাদের পা বিছানোর ক্ষমতা থাকে না। যে আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে তিনি জীবন যাপন করছেন, কারো অনুগ্রহ গ্রহণ করলে তা আর থাকবে না।
যেমন বলা হয়, মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। তাহলে তাদের অন্তর তোমার প্রতি ঝুঁকে যাবে। অনুগ্রহ কত মানুষকে দাস বানিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00