📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 একই সালাত সাতাশ বার

📄 একই সালাত সাতাশ বার


একবার এক বুযুর্গের এশার সালাতের জামাত ছুটে গেল। তিনি বলেন, আমি সাথে সাথে পাশের মসজিদে ছুটে গেলাম। দেখলাম সেখানেও জামাত শেষ। গেলাম আরেক মসজিদে। সেখানেও একই অবস্থা। এভাবে কয়েক মসজিদ ঘুরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরলাম। আফসোস করতে লাগলাম, হায়! আমার জামাত কীভাবে ছুটে গেল? কীভাবে আমি সাতাশ গুণ বেশি ছাওয়াব থেকে বঞ্চিত হলাম। অতঃপর আমি সে সালাত একাকি সাতাশ বার আদায় করলাম।
সুবহানাল্লাহ! একটি সাওয়াবের কাজ ছুটে যাওয়া তাদের কাছে কোনো সাধারণ ব্যাপার ছিল না। তারা ভাবত না যে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। মাঝে মাঝে জামাত ছুটতেই পারে। আমি তো প্রায়ই জামাতে সালাত আদায় করে থাকি। একদিন ছুটে গেলে কি হবে?
কিংবা কোনো দারিদ্রকে কিছু দান করে ভাবেনি যে, আলহামদুলিল্লাহ, আমি তো অনেক দান খয়রাত করি। না, তারা কখনই এমনটি বলেননি, ভাবেনও নি। বরং তারা তাদের কোনো নেক আমল ছুটে গেলে তারা যারপর নাই আফসোস করতেন। অন্য উপায়ে তা পূরণের চেষ্টা করতেন। বস্তুত তারা পার্থিব কোনো জিনিস হারানোর চেয়ে নেক আমল হারানোকে বড় জ্ঞান করতেন।
সেই বুযুর্গ বলেন, এই সালাত সাতাশ বার আদায় করার পর আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখি, আমি একটি ঘোড়ায় বসে আছি। যারা আমার সাথে নিয়মিত মসজিদে সালাত আদায় করে তারাও ঘোড়ায় আরোহণ করে আছে। তাদের ঘোড়া আমার ঘোড়া থেকে দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি পেছন থেকে ঘোড়া হাঁকিয়ে তাদের ধরার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না। তখন তাদের একজন আমার দিকে তাকিয়ে বলছে, তুমি আমাদের নাগাল পাবে না। কেননা আমরা এশার সালাত জামাতে আদায় করেছি。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 সেই ব্যক্তির মতো হয়ো না

📄 সেই ব্যক্তির মতো হয়ো না


রাসুল সর্বদা সাহাবায়ে কেরামকে নেকির কাজে আগ্রহী হওয়ার নির্দেশ দিতেন। কোনো নেক আমল ছুটে গেলে অনুতপ্ত হতে বলতেন। একবার তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর-কে ডেকে বললেন, আবদুল্লাহ, (তখন তিনি মাত্র পনের বছরের তরুণ) সেই ব্যক্তির মতো হয়ো না, যে রাতের সালাতে (তাহাজ্জুদে) অভ্যস্ত ছিল পরবর্তীতে তা ছেড়ে দিয়েছে। [বোখারী: ১১৫২]

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইবাদতের প্রতি আগ্রহ

📄 ইবাদতের প্রতি আগ্রহ


আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ব্যতিত সারা বছর রোযা রাখতেন। সারা রাত জেগে সালাত আদায় করতেন। প্রতিদিন এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করতেন। তাই তিনি জনগণকে সময় দিতে পারতেন না।
একদিন রাসুল তাকে ডেকে পাঠালেন। জিজ্ঞেস করলেন, আবদুল্লাহ! তুমি নাকি রাতভর সালাত আদায় করো?
তিনি বললেন, জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ।
রাসুল বললেন, রাতের তিন ভাগের এক ভাগ অথবা অর্ধেক রাত সালাত আদায় করবে। রাসুল তাকে আরো জিজ্ঞেস করলেন, শুনেছি তুমি দিনভর কুরআন তেলাওয়াত কর?
তিনি বললেন, জি, ইয়া রাসুলাল্লাহ!
রাসুল বললেন, না এমন করবে না। বরং প্রতিমাসে এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করবে।
তিনি বললেন, আমি এরচেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, তাহলে প্রতি তিন দিনে এক খতম।
তিনি বললেন, আমি এরচেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, না, যে তিন দিনের কমে কুরআন খতম দেবে সে কোরআন বুঝবে না। আর সাওমের ব্যাপারে বললেন, প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখবে।
তিনি বললেন, আমি এরচেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, তাহলে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সাওম পালন করবে।
তিনি বললেন, আমি এর চেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, তাহলে একদিন সওম রাখবে এবং একদিন ভাঙবে।
তিনি বললেনন, আমি এর চেয়েও বেশি পারব।
রাসুল বললেন, এর চেয়ে বেশি সওম রাখা উত্তম নয়। এটি দাউদ -র সওম রাখার পদ্ধতি। তিনি একদিন সওম রাখতেন, একদিন রাখতেন না। [বোখারী : ১৯৭৭]
এরপর থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবাদতের প্রতি গভীর আগ্রহ ও উদ্যমতা থাকা সত্ত্বেও এ পদ্ধতি মেনে ইবাদত করতেন।
একবার রাসুল তাঁর পবিত্রা স্ত্রীদের নিয়ে হজ করেছিলেন। হজ চলাকালীন সময়ে একদিন রাসুল আয়েশা-র ঘরে প্রবেশ করলেন। দেখলেন, আয়েশা কাঁদছেন। রাসুল জিজ্ঞেস করলেন আয়েশা, তুমি কাঁদছ কেন?
তিনি আবারো কেঁদে ওঠলেন।
রাসুল বললেন, তোমার কি ঋতুস্রাব হয়েছে? যে জন্যে তুমি ওমরা পূর্ণ করতে পারছ না?
তিনি বললেন, জি। আমার সাথীরা হজ ও ওমরা দুটোই পালন করে মদিনায় ফিরবে। আর আমি ফিরব শুধু হজ পালন করে। এটি কী করে হতে পারে?
উম্মে সালামা, হাফসা, যয়নব- তারা সবাই হজ ও ওমরা উভয়টিই পালন করেছেন। অথচ আমি শুধু হজ পালন করে ফিরব, ওমরা পালন করতে পারব না। এই বলে তিনি কেঁদে বুক ভাসাচ্ছিলেন। আয়েশা-র এই কান্না রাসুল-কে আনন্দিত করল। কারণ, নেক আমলের প্রতি আগ্রহীদের তিনি অনেক ভালোবাসতেন। তিনি আয়েশা-র ভাই আবদুর রহমানকে আয়েশা-কে নিয়ে নিকটতম হিল তথা তানঈমে যেতে বললেন। তানঈম হল বর্তমানের মসজিদে আয়েশা। মক্কাবাসী এবং দ্বিতীয়বার ওমরা করতে আগ্রহীদের মিকাত এটি। অনেকে দূর থেকে ওমরা পালন করতে আসেন। তারা একবার ওমরা পালন করে নিজের মৃত বাবা-মায়ের জন্য ওমরা পালন করতে চাইলে ইহরাম বাঁধতে তানয়িমে যান। এখানেই রয়েছে সেই মসজিদ। আয়েশা ও ভাইয়ের সাথে এখান থেকেই ইহরাম বেঁধেছিলেন। আজও এখান থেকে ইহরাম বাঁধার সময় মানুষের মনে আয়েশা-র সেই স্মৃতি ভেসে ওঠে।
যার মনের ভেতর আনুগত্যের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, ছোট্ট একটি নেক আমল ছুটে গেলেও যে আফসোস করে, সে অবশ্যই নেক আমলে সামর্থ্যবান হবে। যেমন সালাতে পূর্বের সুন্নত ছুটে গেলে সে তা পরে আদায় করে নিতে সচেষ্ট থাকবে।
উম্মে সালমা বলেন, একদিন নবী করিম আসরের সালাতের পর আমার ঘরে নফল সালাত পড়ছিলেন। আমি দেখে অবাক হলাম। এটা না সালাতের নিষিদ্ধ সময়? রাসুল ﷺ নিজেই এ সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আমি দাসীকে বললাম, রাসুল-র পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, ইয়া রাসুলাল্লাহ! উম্মো সালমা বলেছেন, তিনি আপনার থেকে শুনেছেন এ সময়ে কোনো সালাত আদায় নিষেধ, তাহলে আপনি যে সালাত আদায় করছেন? যদি তিনি কোনো ইশারা করেন, তাহলে তুমি চলে আসবে।
দাসী রাসুল-র পাশে দাঁড়িয়ে সেই কথাগুলো বলল। রাসুল ইশারা করলেন। সে চলে এলো। সালাত শেষে তিনি বললেন, হে উম্মে সালামা! আমার কাছে আবদে কায়সের প্রতিনিধি দল এসছিল, যে জন্যে আমি জোহরের সালাতের পরের দুরাকাত আদায় করতে পারিনি। সেটাই এখন পড়ে নিলাম। [বোখারী: ৩৫১০]
রাসুল ﷺ এমনই ছিলেন। তিনি যদি কখনও প্রাত্যহিক অজিফা আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়তেন, তাহলে পূর্বাহ্নের প্রথম প্রহরের পর তিনি তা আদায় করে নিতেন।
আমাদেরও উচিত নেক আমলের সুযোগ হাতছাড়া হলে আফসোস করা। ব্যথিত হওয়া। হায়! আমি যথা সময়ে সালাত আদায় করতে পারলাম না। হায়! আমি উত্তম সময়ে ওমরা পালন করতে পারলাম না। আহা! দোআ কবুলের সময়ে আমি দোআ করতে পারলাম না। মসজিদ নির্মাণে আমি অংশগ্রহণ করতে পারলাম না।
আল্লাহ-র নিকট প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে ঈমান, হেদায়াত ও তাওফিক দান করুন। যেখানেই থাকি আমাদের জন্য কল্যাণের ফয়সালা করুন。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আলেমদের মর্যাদা

📄 আলেমদের মর্যাদা


আল্লাহ আলেমদের সম্মানকে সমুন্নত করেছেন। পবিত্র কোরআনে তিনি আলেমদের সাক্ষ্যকে ফেরেশতাদের সাক্ষ্যের সাথে উল্লেখ করে বলেন- شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَئِكَةُ وَأُولُوا الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা আলে ইমরান : ১৮]
অন্য আয়াতে বলেন- إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا বান্দাদের মধ্যে আলেমগণই আল্লাহকে বেশি ভয় করে। [সূরা ফাতির : ২৮]
সুতরাং আলেমরা হচ্ছেন আল্লাহর সেসব নির্বাচিত বান্দা যাদের অন্তরে রয়েছে তাঁর প্রতি ভয় ও ভালোবাসা। তাছাড়া জনস্বার্থ সংরক্ষণ ও সেবায় তাদের মত অবদান অন্য কারো নেই।
'মিফতাহু দারিস সাআদাহ'- কিতাবে ইবনুল কাইয়িম লিখেছেন-
প্রকৌশলী ছাড়াও মানুষ বাড়ি নির্মাণ করতে পারে। হ্যাঁ বর্তমানে প্রকৌশলীর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু তাদরে অবর্তমানে মানুষ নিজেরাই নিজস্ব চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে গৃহ নির্মাণের সক্ষমতা রাখে।
এমনিভাবে ডাক্তার ছাড়াও মানুষ চলতে পারে। কারণ, অভিজ্ঞতা থেকেও সে বুঝতে পারে যে, তার জন্য কোন জিনিসটি ক্ষতিকর ও কোন জিনিসটি উপকারী। বুঝতে পারে ভালো-মন্দের ফারাক।
কিন্তু আলেমের বিষয়টি ভিন্ন। তিনি একজন শরীয়ত বিশেষজ্ঞ। মানুষের পক্ষে তার থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, শরয়ী বিধি-বিধান জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করা যায় না। এটি একমাত্র ঐশী বাণীর ধারক-নবীদের কাছে আসা ইলমের মাধ্যম অর্জিত হয়। তাইতো আল্লাহ আলেমদেরকে বসিয়েছে সম্মান ও মর্যাদার আসনে। যা বহাল থাকবে পরকালেও। নবী করিম বলেন-
وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ সাধারণ ইবাদতকারীর চেয়ে একজন আলেমের মর্যাদা তেমন, যেমন তারকারাজির চেয়ে চাঁদের মর্যাদা। [মুসনাদে আহমাদ: ২১১১৫]
এ হাদিস থেকে আলেমদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি অনুমেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00