📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 সাওয়াব লাভে অগ্রগামী হও

📄 সাওয়াব লাভে অগ্রগামী হও


রাসুল ﷺ-র সাহাবীগণ জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভে সদা সচেষ্ট ছিলেন। রাসুল ﷺ-র কাছে জানতে চাওয়া তাদের প্রশ্নগুলোর দিকে তাকালে এর প্রমাণ মিলে। নবীজির কাছে কৃত তাদের বেশিরভাগ প্রশ্নই অগ্রাধিকারসূচক বিশেষণ- যেমন- সুন্দরতম কোনটি, বৃহত্তম কোনটি, শ্রেষ্ঠতম কোনটি ইত্যাদি শব্দদ্বারা শুরু হতো।
উদাহরণ-১. একবার এক সাহাবি রাসুল ﷺ-র কাছে জানতে চাইলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ ﷻ-র কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কি? রাসুল ﷺ বললেন-
الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا যথাসময়ে সালাত আদায় করা। [বোখারী: ৫৯৭০]
উদাহরণ-২. আরেক সাহাবি এসে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেয়ামতের দিন আপনার সবচেয়ে কাছে কে অবস্থান করবে? রাসুল ﷺ বললেন-
তোমাদের মধ্যে যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর সে আমার সর্বাধিক প্রিয় এবং কেয়ামতের দিন সে আমার সবচেয় কাছে থাকবে। [বোখারী: ৬০৩৫]
উদাহরণ-৩. যুদ্ধ শুরুর আগ মুহূর্তে এক সাহাবি এসে জানতে চাইলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! বান্দার কোন কাজ দেখে আল্লাহ অধিক খুশি হন? রাসুল ﷺ বললেন, শত্রুক্রদলের মাঝে বর্মহীন ঢুকে পড়া। [সহিহ ইবনু হাজাম]
উদাহরণ-৪. আরেক সাহাবি এসে প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ -র নিকট সর্বোত্তম আমল কোনটি?...

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আহা! কত সাওয়াব ছুটে গেল

📄 আহা! কত সাওয়াব ছুটে গেল


আবদুল্লাহ ইবনে ওমর। একজন সম্মানীত সাহাবি। তিনি একদিন আবু হুরায়রা থেকে রাসুল -র একটি হাদিস শুনলেন। হাদিসটি হল-
রাসুল বলেছেন- مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلِّيَ فَلَهُ قِيرَاطٌ وَمَنْ شَهِدَ حَتَّى تُدْفَنَ كَانَ لَهُ قيراطان যে ব্যক্তি জানাযায় শরিক হবে সে এক কিরাত (ওহুদ পাহাড় সমতুল্য) সাওয়াব লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সাথে থাকবে সে দু কিরাত সাওয়াব লাভ করবে। [বোখারী : ১৩২৫]
এ হাদিস শুনে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর আবু হুরায়রা -কে বললেন, আফসোস! তুমি এসব কী বলছ?
তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, আমি রাসুল -র থেকে এমনই শুনেছি।
হাদিসের মর্মার্থ হল- তুমি যদি কোনো মৃত ব্যক্তির জানাযায় অংশগ্রহণ করো, তাহলে তোমার জন্য রয়েছে এক কিরাত সাওয়াব। আর যদি সালাতের পর তুমি জানাযার পিছু পিছু কবরস্থান পর্যন্ত যাও এবং দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত জানাযার সাথে থাকো, তাহলে তোমার জন্য রয়েছে দু কিরাত সাওয়াব।
নিঃসন্দেহ লাশ বহন, কবরস্থানে গমন, লাশকে কবরস্থ করণ ইত্যাদি সকল প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে উপদেশ। তাছাড়া এটি একটি মুসলমানের লাশ। তার দাফন কাজে সাধ্যমতো অংশগ্রহণ করা, তার জন্য মাগফিরাত কামনা করা, তার পরিবারের লোকদের সান্ত্বনা দেয়া ইত্যাদি সমাজের লোকের কাছে তার অধিকারও বটে। তদুপরি এতে অন্তর নরম হয়, হৃদয় বিগলিত হয়, সর্বোপরি নিজের জন্য শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দু কিরাত সাওয়াব অর্জন হয়।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাসুল ﷺ-র এই হাদিসটি এই প্রথম শুনলেন। তাই পাশে থাকা একজনকে বললেন, যাও, আম্মাজান আয়েশা -র কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর। লোকটি যাওয়ার পর সে কি সংবাদ নিয়ে আসে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন এবং আনমনে একটি পাথর নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। ভাবছিলেন, আহা! হাদিসটি যদি সত্যি হয় তাহলে এত বছর যাবত কত সাওয়াব থেকেই না তিনি বঞ্চিত হলাম।
লোকটি এসে জানাল, আয়েশা বলেছেন হাদিসটি সত্য। তিনিও রাসুল ﷺ থেকে এই হাদিস শুনেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর তখন পাথরটি মাটিতে নিক্ষেপ করে বললেন, হায়! কত কিরাত সাওয়াব আমার ছুটে গেল。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 জামাত না ছুটে যদি আমার একটি সন্তান মারা যেতো

📄 জামাত না ছুটে যদি আমার একটি সন্তান মারা যেতো


সায়িদ ইবনে আবদুল আযিয জামাতে সালাত আদায়ের প্রতি সর্বদাই গুরুত্ব দিতেন। ঘটনাক্রমে একদিন তার জামাত ছুটে গেল। তার বন্ধু ইবনে মারওয়ান তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, আল্লাহ তোমাকে উত্তম সান্ত্বনা দেবেন।
সায়িদ ইবনে আবদুল আযিয বললেন, জামাত না ছুটে যদি আমার একটি সন্তান মারা যেতো তাহলে আমি একশগুণ বেশি সান্ত্বনা পেতাম।
সুবহানাল্লাহ! তারা সন্তানের মৃত্যুর চেয়ে জামাতে সালাত ছুটে যাওয়াকে বড় মনে করতেন。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 একই সালাত সাতাশ বার

📄 একই সালাত সাতাশ বার


একবার এক বুযুর্গের এশার সালাতের জামাত ছুটে গেল। তিনি বলেন, আমি সাথে সাথে পাশের মসজিদে ছুটে গেলাম। দেখলাম সেখানেও জামাত শেষ। গেলাম আরেক মসজিদে। সেখানেও একই অবস্থা। এভাবে কয়েক মসজিদ ঘুরে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরলাম। আফসোস করতে লাগলাম, হায়! আমার জামাত কীভাবে ছুটে গেল? কীভাবে আমি সাতাশ গুণ বেশি ছাওয়াব থেকে বঞ্চিত হলাম। অতঃপর আমি সে সালাত একাকি সাতাশ বার আদায় করলাম।
সুবহানাল্লাহ! একটি সাওয়াবের কাজ ছুটে যাওয়া তাদের কাছে কোনো সাধারণ ব্যাপার ছিল না। তারা ভাবত না যে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। মাঝে মাঝে জামাত ছুটতেই পারে। আমি তো প্রায়ই জামাতে সালাত আদায় করে থাকি। একদিন ছুটে গেলে কি হবে?
কিংবা কোনো দারিদ্রকে কিছু দান করে ভাবেনি যে, আলহামদুলিল্লাহ, আমি তো অনেক দান খয়রাত করি। না, তারা কখনই এমনটি বলেননি, ভাবেনও নি। বরং তারা তাদের কোনো নেক আমল ছুটে গেলে তারা যারপর নাই আফসোস করতেন। অন্য উপায়ে তা পূরণের চেষ্টা করতেন। বস্তুত তারা পার্থিব কোনো জিনিস হারানোর চেয়ে নেক আমল হারানোকে বড় জ্ঞান করতেন।
সেই বুযুর্গ বলেন, এই সালাত সাতাশ বার আদায় করার পর আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখি, আমি একটি ঘোড়ায় বসে আছি। যারা আমার সাথে নিয়মিত মসজিদে সালাত আদায় করে তারাও ঘোড়ায় আরোহণ করে আছে। তাদের ঘোড়া আমার ঘোড়া থেকে দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমি পেছন থেকে ঘোড়া হাঁকিয়ে তাদের ধরার চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না। তখন তাদের একজন আমার দিকে তাকিয়ে বলছে, তুমি আমাদের নাগাল পাবে না। কেননা আমরা এশার সালাত জামাতে আদায় করেছি。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00