📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 মুস্তাজাবুদ দাওয়া সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ؓ

📄 মুস্তাজাবুদ দাওয়া সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ؓ


যেন সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস একদিন রাসুল-কে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমার জন্য দোআ করুন। আল্লাহ আমাকে মুসতাজাবুদ দাওয়া (যার দোআ তৎক্ষণাৎ কবুল হয় এমন) বানিয়ে দেন।
রাসুল বললেন, সা'দ। أَطِبْ مَطْعَمَكَ ، تَكُنْ مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ
তোমার খাবারকে পবিত্র কর। তুমি মুসতাজাবুদ দাওয়া হয়ে যাবে। [আল মুজামুল আওসাত লিত তাবরানি : ৬৪৯৫]
বস্তুত সা'দ-র অনুরোধ শুনেই রাসুল ﷺ তার জন্য দোআ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করননি; বরং কিভাবে মুসতাজাবুদ দাওয়া হওয়া যায় সেই পদ্ধতি বাতলে দিলেন।
রাসুল বরাবরই এমন করতেন। তিনি সাহাবিদেরকে প্রস্তুত কোনো কিছু দিয়ে দিতেন না; বরং সে জন্য করণীয় কর্তব্য কি- তা সে শিখিয়ে দিতেন।
রাসুল-র দেয়া উপদেশের পর থেকে সাদ কখনও হালাল ব্যতিত হারাম খাবার গ্রহণ করেননি। বর্ণিত আছে, সাদ-র একটি বকরি ছিল। তিনি সেটির দুধ পান করতেন। একদিন সেই বকরিটি তার প্রতিবেশীর ক্ষেতে ঢুকে ফসল খেয়ে ফেলে। এ কথা জানার পর সাদ আমৃত্যু সেই বকরির দুধ পান করেননি। এভাবেই তিনি একসময় মুসতাজাবুদ দাওয়া হয়ে যান।
খলিফা ওমর-র সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস-কে ইরাকের এক শহরের গভর্নর নিযুক্ত করে সেখানে পাঠালেন। কিছুদিন না যেতেই সে শহরের কিছু লোক তার ব্যাপারে ওমর-র এর নিকট অভিযোগ পেশ করছেন। ওমর বিচক্ষণ মানুষ। অভিযোগ শোনা মাত্রই তিনি সাদ-র বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিলেন না। তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য সেখানে একজন দূত পাঠালেন। যেমনটি হুদহুদ পাখির ব্যাপারে সোলাইমান করেছিলেন। হুদহুদ পাখিটি সোলাইমান-র কাছে একটি সংবাদ নিয়ে এলো-
﴿۲۳﴾ إِنِّي وَجَدْتُ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَ أُوتِيَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشُ عَظِيمٌۙ وَ جَدْتُهَا وَ قَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَنُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَۘ
আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের ওপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন আছে। আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদের সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না। [সূরা নামল: ২৩-২৪]
তখন সুলাইমান কী বলেছিলেন? তিনি কি তৎক্ষণাৎ তাঁর সৈন্যবাহিনীকে আদেশ দিয়েছিলেন- যাও তাদের ওপর আক্রমন কর। না; তিনি তখন বলেছিলেন-
سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْكَذِبِينَ তুমি মিথ্যা বলছ, না সত্য বলছ, আমি তা যাচাই করব। [সূরা নামল: ২৭]
শরীয়তের বিধানও এমনই। সেজন্যেই রাসুল সাহাবিদেরকে প্রায়ই এই আয়াতটি তেলাওয়াত করে শোনাতেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَدِمِينَ হে মুমিনগণ! যদি কোন পাপচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমারা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কতৃকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। [সূরা হুজরাত : ৬]
অতএব, কোনো সংবাদ শুনলে সে ব্যাপারে পরিপূর্ণ যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া আমাদের জন্য কর্তব্য।
তো ওমর সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস সম্পর্কে উত্থিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সে অঞ্চলে একজন দূত পাঠালেন। তিনি সাদ-র কাছে গিয়ে বললেন, হে সাদ! তোমার ব্যাপারে যে অভিযোগ ওঠেছে তার সত্যতা যাচাই করতে মানুষের সাথে কথা বলতে হবে। আমি অমুক অমুক মসজিদে সালাত আদায় করব এবং সালাতের পর লোকদের মতামত জানবো। তুমিও আমার সাথে চলো।
সাদ দূতের সাথে চললেন। তারা একটি মসজিদের জোহরের সালাত আদায় করলেন।
সালাতের পর ওমর-র পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত দাঁড়িয়ে বললেন, ভাইয়েরা! আমি ওমর-র পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে এসেছি। তার কাছে আপনাদের আমিরের বিরুদ্ধে এই এই অভিযোগ পৌঁছেছে।
যদি এগুলো সত্য হয় এবং প্রকৃতই আপনাদের গভর্নরের বিরুদ্ধে আপনাদের কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে আপনারা দাঁড়ান এবং কথা বলুন।
তখন সবাই তাদের আমিরে প্রশংসা করল।
এভাবে দূত প্রতিটি মসজিদেই একই প্রশ্ন করলেন এবং মুসল্লিগণ সাদ -এর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিবর্তে তার প্রশংসা করতে লাগলেন।
পরিশেষে তারা মসজিদে বনি আসাদে পৌঁছলেন। সেখানে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দূত দাঁড়িয়ে বললেন- ভাইয়েরা! আমি খলিফা ওমর -এর পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে এসেছি। আপনাদের আমির সম্পর্কে কোনো অভিযোগ থাকলে আমার কাছে নির্দিধায় বলতে পারেন। লোকেরা কেউ কোনো অভিযোগ করল না। সবাই যথারীতি সাদ -এর ভূয়সী প্রশংসা করল। একজন বলল, তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান। রাসুল -এর একজন বিশিষ্ট সাহাবি তিনি। তাকে গভর্নর হিসেবে পেয়ে আমরা ধন্য। প্রস্থানের পূর্বে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দূত শেষবারের মতো বললেন, আমি আপনাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনাদের কারো কোনো অভিযোগ থাকলে বলুন?
এবার পেছন থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়ায়ি বলল, আপনি যেহেতু আমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়েছেন তাই আপনার সাথে সত্য বলা দরকার।
জি অবশ্যই, বলুন। দূত তাকে অভয় দিলেন।
লোকটি বলল, সাদ আমাদের মাঝে সমবন্টন করেন না। সর্বক্ষেত্রে ন্যায় বিচারও করেন না। বিচারের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি করেন। তাছাড়া তিনি খুবই ভীতু প্রকৃতির। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন না। আমরা যুদ্ধ করি আর তিনি বসে থাকেন।
বস্তুত সাদ -এর বিরুদ্ধে আনিত এই অভিযোগটি পুরোপুরি অসত্য ছিল। সাদ এ তো সেই ব্যক্তি স্বয়ং রাসুল ﷺ যার প্রশংসা করেছিলেন। ওহুদের যুদ্ধে যখন সাহাবিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন, তখন সাদ একা তীরন্দাজ হিসেবে তীর ছুঁড়তে লাগলেন। যা দেখে রাসুল বলেছিলেন-
তোমার জন্য আমার মাতা পিতা কোরবান হোক। নিক্ষেপ কর হে সাদ! তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করতে থাকো। [বোখারী : ৪০৫৫]
তিনিই ছিলেন একমাত্র সাহাবি যার জন্যে রাসুল বলেছিলেন- 'আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য কোরবান হোক।' অথচ লোকটি সেই সাদ-কে বলছেন-ভীতু-কাপুরুষ!?
সাদ লোকটির দিকে তাকালেন। বুঝলেন, লোকটি তার প্রতি জুলুম করছে। তখন সতত হালাল খাবার গ্রহণকারী এই 'মুসতাজাবুদ দাওয়াহ'- দুহাত উঠিয়ে বললেন-
হে আল্লাহ! আপনি তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, দারিদ্রতাকে তার জন্য প্রকট করুন এবং তাকে বিভিন্ন ফেতনায় নিপতিত করুন।
অতঃপর সাদ মসজিদ থেকে বের হতে হতে লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমার ও তোমার বিষয়টি আমি আল্লাহ-র হাতে সোপর্দ করলাম। তিনি আমার সকল গোপন বিষয়ে অবগত। যেমন অবগত তোমার গোপন বিষয় সম্পর্কে। তিনি যেমন আমার অতীত সম্পর্কে জানেন, তেমনি জানেন তোমার অতীতও সম্পর্কেও। আমার জন্য আমার আল্লাহই যথেষ্ট। নেতৃত্ব কর্তৃত্ব কিছুই আমার দরকার নেই- এই বলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেলেন।
কিন্তু তার বদদোআ সেই লোকটিকে তাড়িয়ে বেড়াতে লাগল। সাদ ইন্তেকাল করলেন। কিন্তু আল্লাহ জীবত আছেন। তিনি চিরঞ্জীব। তিনি সে লোকটির হায়াত এতোটাই বাড়িয়ে দিলেন যে, সে বুড়ো হতে হতে চোখের ভ্রুতে তার দুচোখ ঢেকে গেল। কঠিন দরিদ্রতা তাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরল। সে রাস্তার মোড়ে বসে বসে ভিক্ষা করত। যখন তার পাশ দিয়ে কোনো মহিলা হেঁটে যেতো তখন সে ভ্রু ওঠিয়ে তাদের দিতে তাকাতো। তাদের স্পর্শ করার চেষ্টা করত। তারা তাকে চরমভাবে অপমান করে বলত- লজ্জা করে না? এতোটা বুড়ো হয়েছেন, রাস্তায় বসে ভিক্ষা করছেন, আবার নারীদের গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করছেন? এ কাজ কোনো যুবক করলে তাকেও তো শাস্তি দেয়া হয়, সেখানে আপনার মতো বুড়োর কী হওয়া উচিত?
وَيَقْبَحُ بِالْفَتَى فِعْلُ التَّصَابِيْ * وَأَقْبَحُ مِنْهُ شَيْخُ قَدْ تَفَتَّى বাল্য আচরণ যুবকের জন্য নিন্দনীয়, বৃদ্ধের জন্যে তো তা আরো শোচনীয়।
বুড়ো বলত, আমি কী করব? ফেতনায় পতিত এক অসহায় বৃদ্ধ আমি। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের বদদোআ বয়ে বেড়াচ্ছি।
তাই, রিযিক হালাল হলে দোআ কবুল হবে। যেমন হয়েছে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস-র বেলায়।
আল্লাহ আমাদেরকে প্রার্থনা করতে বলেছেন। কবুলের দায়িত্ব তাঁর। তিনি বলেছেন- وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي তোমাদের রব বলেন, আমাকে ডাকো। [সূরা গাফির: ৬০]
হে আমাদের রব! আপনাকে ডাকলে লাভ কী হবে? اسْتَجِبْ لَكُمْ আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো। [সূরা গাফির: ৬০]
তিনি আরো বলেন- وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى আল্লাহর রয়েছে অনেক সুন্দর নাম। [সূরা আরাফ: ১৮০]
হে রব! কেন আপনার নামের কথা আমাদের জানালেন? فَادْعُوهُ بِهَا সে নামে তোমরা তাকে ডাকো। [সূরা আরাফ : ১৮০]
তাই এভাবে ডাকো-
হে সর্বশ্রোতা। আমার দোআ শুনুন।
হে সদা নিকটবর্তী! আমাকে নিকটবর্তী করে নিন। হে ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করুন। হে রোগ থেকে মুক্তিদাতা! আমাকে রোগ মুক্ত করুন। হে (পাপ) গোপনকারী! আমার পাপ গোপন রাখুন। হে মহাধনী! আমাকে ধনী করুন।
এভাবে আল্লাহ -র নাম নিয়ে দোআ করতে হবে এবং খেতে হবে হালাল রিযিক। তাহলে আমাদের দোআ অবশ্যই কবুল হবে, ইনশাআল্লাহ。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 হালাল খাবার : দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত

📄 হালাল খাবার : দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত


রাসুল ইরশাদ করেন, এক ব্যক্তি দীর্ঘ পথ সফর করে। ক্লান্ত- পরিশ্রান্ত হয়েছে। মাথার চুল তার উশকো-খুশকো। শরীর তার ধূলোমলিন। এমতাবস্থায়ও সে দুহাত তুলে মিনতি করে- হে রব, হে রব। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, কাপড়-চোপড় হারাম। তার শরীর হারামে গঠিত। সুতরাং কীভাবে এমন ব্যক্তির দোআ কবুল হবে? [বোখারী]
কিছু মানুষ হারাম খাবার খায়, ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, মদ পান করে, আর বলে, ভাই! আমার রব আমার দোআ কেন কবুল করেন না? আরে ভাই, তিনি কীভাবে তোমার দোআ কবুল করবেন? তুমি তো মদ পান করেছো?
রাসুল বলেছেন- مَنْ مَاتَ وَهُوَ مُدْمِنُ خَمْرٍ لَقِيَ اللَّهُ وَهُوَ كَعَابِدِ وَثَنِ যে ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে সে আল্লাহর সামনে মূর্তিপূজারী হিসেবে উপস্থিত হবে। [মুজামুত তাবরানি : ১২৪২৮]
তাই, ভেবে দেখো, তুমি কারো অধিকার অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করছ না তো? শ্রমিককে যথাসময়ে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক দিচ্ছ তো?
তোমার বাসায় কোন অসহায় কাজের মানুষ দীর্ঘ দিন কাজ করে যাচ্ছে অথচ তুমি তার বেতন দিচ্ছ না- এমন হচ্ছে না তো?
একবার আমাকে এক ব্যক্তি তার বন্ধুর কথা শুনিয়েছিল। বলেছিল, শায়খ! আমার এক বন্ধু সাত বছর যাবত তার বাসার কাজের মেয়ের বেতন দিচ্ছে না। এমনকি তাকে তার পরিবারের কাছেও যেতে দিচ্ছে না।
আশ্চর্য! সাত বছর? আমি হতবাক হলাম। তার কী কোনো অধিকার নেই?
আরে ভাই, এক মহিলা শুধু একটি বিড়ালকে কষ্ট দিয়েছিল বলে জাহান্নামী হয়ে গেছে। তাহলে তুমি যে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ মাখলুক-মানুষকে কষ্ট দিচ্ছ- তোমার কি হবে?
প্রিয় ভাই, তোমার অধীনে যদি কোনো ইহুদিও কাজ করে, তথাপি তাকে তার প্রাপ্য অধিকার দেয়া তোমার কর্তব্য। আর সে যদি হয় মুসলমান, তাহলে বিষয়টি কেমন হওয়া কাম্য ভেবে দেখেছ?
অতএব, তোমার খাবারকে হালাল করো, দোআ কবুল হবে। হে যুবক- যুবতীরা! নেশা করো না। ধুমপান থেকে সতর্ক থাকো। এগুলো অনিষ্টকর। তোমাদের জন্য পবিত্র তথা উত্তম জিনিসকে হালাল করা হয়েছে। অনিষ্টকর বস্তুকে করা হয়েছে নিষিদ্ধ। চুরি করো না। মানুষের সাথে প্রতারণা করো না।
মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে সঠিকপথ প্রদর্শন করুন। আমাদের জীবনকে বরকতময় করুন। আমাদের সকলকে হালাল খাবার গ্রহণের তাওফিক দান করুন。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আঁধার থেকে আলোর পথে

📄 আঁধার থেকে আলোর পথে


আবু মিহজান সাকাফি। আল্লাহর রাসুল -এর একজন প্রসিদ্ধ সাহাবি। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার বেশিরভাগ সময় কাটতো শরাব খানায়। উন্মত্ত মাদকতায়। শরাবের নেশায় বুঁদ হয়ে তিনি পড়ে থাকতেন এখানে সেখানে। শরাবের প্রতি তার আসক্তি এতোটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, অজ্ঞতার যুগে তিনি কবিতাকারে একটি ওসিয়তনামা লিখেছিলেন। যেখানে তিনি তার সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন-
إِذَا مِتُّ فَادْفِنَّى إِلى جَنْبِ كَرْمَةَ * يَرْوِي عِظَامِي بَعْدَ مَوْتِي عُرُوْقَهَا وَلَا تَدْفِنِّي بِالْفَلَاةِ فَإِنَّنِي أَخَافُ إِذَا مِتُّ أَنْ لَا أَذُوْقَهَا
মৃত্যুর পর কোনো এক আঙ্গুর বাগিচায় করিও আমায় দাফন। যেন মরণের পরেও আঙ্গুর-রসে সিক্ত হয় আমার অস্থি মজ্জা মন।
মরুভূমির কোনো কোণে আমায় দাফন করো না হয়তো সেথায় আমি আমি শরাবের স্বাদ পাবো না।
তারপর। ইসলাম এলো। আবু মিহজান সাকাফি ইসলাম গ্রহণ করলেন। শরাব পানে তখনও তিনি অভ্যস্ত। এরপর মদ হারামের বিধান নাযিল হল-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَ الْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٩٠﴾ إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَنُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلوةِ * فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ
হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ, এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও।
শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদের বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনও কি নিবৃত্ত হবে? [সূরা মায়েদা : ৯০-৯১]
এই হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পর মদ পানে অভ্যস্ত সাহাবীরা বললেন, হে রব! আমরা মদ পান করা ছেড়ে দিলাম। আবু মিহজানও বললেন, ছেড়ে দিলাম হে রব, ছেড়ে দিলাম।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 সে গল্প বড়ই কষ্টের, নিতান্ত বেদনার

📄 সে গল্প বড়ই কষ্টের, নিতান্ত বেদনার


মদ ছাড়া যার এক মুহূর্তও চলেনা সেই আবু মিহজান সাকাফী কীভাবে মদ পান ত্যাগ করলেন? সে গল্প বড়ই কষ্টের। বড়ই বেদনার। আবু মিহজান পূর্বের অভ্যাস মতো কখনও কখনও মদ পান করে ফেলতেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী তাকে বেত্রাঘাত করা হতো। তিনি আবার ভুলে যেতেন। আবার পান করতেন। তাকে আবার বেত্রাঘাত করা হতো। এরপর কিছুদিন ধৈর্য ধরে থাকতেন। তারপর আবার একই ভুল করে বসতেন। আবার শাস্তি পেতেন। এভাবেই চলছিল। কিন্তু তিনি মুমিন ছিলেন। তিনি সালাত আদায় করতেন। রাসুল ﷺ-র অভ্যাস ছিল, তিনি অবাধ্যদের ভালো দিকগুলো বিবেচনা করতেন, খারাপ দিকগুলো নয়।
কেননা, অনেক সময় দেখা যায় কোনো মানুষের ৭০% গুণাবলিই মন্দ। বাকি ৩০% গুণাবলি ভালো। কিন্তু তার মধ্যে থাকা এই স্বল্প পার্সেন্ট ভালো গুণগুলোই প্রমাণ করে যে, তার মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। তার সালাত আদায়, দান-খয়রাতের প্রতি আগ্রহ, সন্তানকে দীনি শিক্ষা প্রদান, মা-বাবার সাথে সদাচরণ, তার অভ্যন্তরীণ উত্তম চরিত্রের সাক্ষ্য বহন করে। কখনও বা দেখা যায়, কারও মধ্যে অপরাধের পরিমাণ ৩০% কিংবা ৪০% বাকি ৬০% কিংবা ৭০% হল ভালো দিক। একে কথাবার্তা ও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কল্যাণের পথে ডাকতে হবে। সবসময় তার খারাপ দিকগুলোকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করা সমীচীন হবে না।
তাকে বলা যাবে না- তুমি মদ পান করো, তাই তোমার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে হয়তো দেখা যাবে, তার মন্দ দিকগুলো ৪০ থেকে ৫০% এ বেড়ে যাবে। তারচে বরং তাকে বলতে হবে, ভাই, একথা ঠিক যে, তুমি মদ পান করছ, পাপ কাজে লিপ্ত হচ্ছ। কিন্তু আল্লাহর শুকরিয়া করছি এজন্য যে, তোমার ভেতরে ঈমানের মত মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। যা তোমাকে এ ধরণের কাজ থেকে একদিন না একদিন ফিরিয়ে আনবেই। তাছাড়া তুমি তোমার মা-বাবর সাথে সদাচরণ করো। ইনশাআল্লাহ, তাদের দোআয় তুমি একদিন এসব কাজ থেকে ফিরে আসবে। তুমি তো সালাতও আদায় করো। তোমার সালাতই তোমাকে অশ্লীল ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে।
এভাবে বললে দেখা যাবে আস্তে আস্তে তার খারাপ দিকগুলোর ওপর একটা চাপ তৈরি হবে। ধীরে ধীরে এ বদঅভ্যাসগুলো ত্যাগ করা তার জন্য সহজ হয়ে যাবে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00