📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 পবিত্র বস্তু আহার করো

📄 পবিত্র বস্তু আহার করো


এসো, হালাল খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে কেমন ছিলেন আমাদের পূর্বসূরী আলেমগণ সে ব্যাপারে খানিকটা জেনে নিই।
রাসুল বলেছেন-
আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া কোনো কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ নবী রাসুলদের যে নির্দেশ দিয়েছেন, মুমিনদের ক্ষেত্রেও দিয়েছেন একই নির্দেশ।
আল্লাহ বলেন- يَٰٓأَيُّهَا ٱلرُّسُلُ كُلُوا۟ مِنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَٱعْمَلُوا۟ صَٰلِحًا إِنِّى بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
হে রাসুলগণ, পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত। [সূরা মুমিনুন: ৫১]
এ আয়াতে আল্লাহ সৎ কাজের পূর্বে হালাল খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, তুমি সালাত, সিয়াম, শেষ রাতের আহাজারি ও কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি আগ্রহী হওয়ার পূর্বে হালাল খাবারের প্রতি আগ্রহী হও।
এ ব্যাপারে রাসুল একটি উত্তম উদাহরণ পেশ করেছেন-
এক ব্যক্তি অনেক পথ সফর করল। চুল তার উস্কখুষ্ক। শরীর তার ধূলোমলিন। সে আকাশের দিকে দু হাত তুলে দোআ করছে, হে রব! হে রব!
রাসুল বলেন, وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ
অথচ তার খাবার হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, সে বেড়ে ওঠেছে হারাম খেয়ে, তাহলে তার দোআ কীভাবে কবুল হবে? [মুসলিম: ২৩৯৩]

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 একটুখানি হারাম

📄 একটুখানি হারাম


আবুল মাআলি আল জুয়াইনি হারাম শরীফের একজন সম্মানিত ইমাম ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রবাদ প্রতিম বিতার্কিক। বিতর্কালোচনায় কেউ তাকে কখনও পরাজিত করতে পারেনি। তার পিতা ছিলেন একজন সৎ ও সাধারণ মানুষ। শত দারিদ্রতা সত্ত্বেও তিনি কখনও হারাম পথ অবলম্বন করেননি। আবুল মাআলি আল জুয়াইনির জন্মের পর থেকেই তিনি তার পেটে যেন কোনো হারাম খাবার প্রবেশ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। স্ত্রীকেও সতর্ক করতেন। বলতেন, সাবধান! তুমি ছাড়া আমার সন্তানকে যেন অন্য কেউ দুধ পান না করায়। আমি জানি তুমি তাকে যে দুধ পান করাও তা পুরোপুরি হালাল। কারণ, তোমার দুধ হালাল খাবার হতে উৎপন্ন। সে খাবার আমি এনে থাকি।
একদিনের ঘটনা। পাশের বাড়ির এক মহিলা তাদের ঘরে এলেন। তার স্ত্রী কোলের সন্তানকে রেখে মেহমানের জন্য কিছু আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে গেলেন। এদিকে শিশুটি কান্না শুরু করে দিল। আগন্তুক মহিলাটিও স্তন্যদানকারিণী ছিলেন। তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে নিজ স্তন পান করতে দিলেন। তখনকার সময় এটি সাধারণ বিষয় ছিল।
কিছুক্ষণ পর তিনি এসে দেখলেন, মহিলাটি তার সন্তানকে দুধ পান করাচ্ছে। তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। বললেন, হায়! আপনি এটা কী করলেন? আমার স্বামী আমাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেছেন। বলেছেন আমি ছাড়া যেন অন্য কেউ আমার সন্তানকে দুধ পান না করায়। তিনি একমাত্র আমার ওপরেই আস্থা রাখেন। যাতে আমার সন্তান একমাত্র হালাল খাবারে বেড়ে উঠে।
দেখতে দেখতে আবুল মায়ালি আল জুয়াইনি বড় হলেন। হলেন বিশ্বখ্যাত আলেম ও বিতার্কিক। তিনি বলতেন, আমি যখন বিতর্ক প্রতিযোগিতা করতাম, তখন মাঝে মাঝে এমন হতো যে, আমি একেবারে চুপসে যেতাম। আচানক আমার স্মৃতিশক্তি স্থবির হয়ে পড়ত। তিনি বলতেন, এটি হল সে মহিলার দুধ পানের ফল।
এ ঘটনা প্রমাণ করে, হালাল খাবার ও উপার্জন মানুষের জীবন ও মেধায় যেমন প্রভাব ফেলে তেমনি প্রভাব ফেলে তার ঈমান, আমল, ইলম ও সালাত-সিয়ামে।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 দুটি ঘটনা

📄 দুটি ঘটনা


হাদিস- ১ একদিন রাসুল ঘরে প্রবেশ করে খাটের ওপর কিছু খেজুর দেখতে পেলেন। তিনি তখন ক্ষুধার্ত ছিলেন। তাই সেখান থেকে একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিতে গিয়ে রেখে দিলেন। ভাবলেন এটি সদকার খেজুর নয় তো? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, আমি যদি খেজুরটির ব্যাপারে সদকার খেজুর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম তাহলে আমি সেটি খেয়ে ফেলতাম। অতঃপর তিনি খেজুরগুলো সদকা করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। [বোখারী]
হাদিস- ২ তখন তার মুখে একবার রাসুল-র কাছে কিছু সদকার মাল এলো। হাসান সেখান থেকে একটি খেজুর মুখে দিলেন। রাসুল তখন তার মুখে হাত ঢুকিয়ে খেজুরটি বের করে আনলেন এবং বললেন, তুমি জানো না, এগুলো সদকার খেজুর? নিশ্চয় মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের জন্য সদকা খাওয়া হালাল নয়। [বোখারী: ৩০৭২]
রাসুল ও তার পরিবারবর্গের জন্য যাকাত বা সদকা গ্রহণ করা হারাম ছিল। এ ঘটনা থেকে হালাল খাবারের ব্যাপারে রাসুল-র সর্বদা সচেতন থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়。

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 মুস্তাজাবুদ দাওয়া সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ؓ

📄 মুস্তাজাবুদ দাওয়া সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ؓ


যেন সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস একদিন রাসুল-কে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমার জন্য দোআ করুন। আল্লাহ আমাকে মুসতাজাবুদ দাওয়া (যার দোআ তৎক্ষণাৎ কবুল হয় এমন) বানিয়ে দেন।
রাসুল বললেন, সা'দ। أَطِبْ مَطْعَمَكَ ، تَكُنْ مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ
তোমার খাবারকে পবিত্র কর। তুমি মুসতাজাবুদ দাওয়া হয়ে যাবে। [আল মুজামুল আওসাত লিত তাবরানি : ৬৪৯৫]
বস্তুত সা'দ-র অনুরোধ শুনেই রাসুল ﷺ তার জন্য দোআ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করননি; বরং কিভাবে মুসতাজাবুদ দাওয়া হওয়া যায় সেই পদ্ধতি বাতলে দিলেন।
রাসুল বরাবরই এমন করতেন। তিনি সাহাবিদেরকে প্রস্তুত কোনো কিছু দিয়ে দিতেন না; বরং সে জন্য করণীয় কর্তব্য কি- তা সে শিখিয়ে দিতেন।
রাসুল-র দেয়া উপদেশের পর থেকে সাদ কখনও হালাল ব্যতিত হারাম খাবার গ্রহণ করেননি। বর্ণিত আছে, সাদ-র একটি বকরি ছিল। তিনি সেটির দুধ পান করতেন। একদিন সেই বকরিটি তার প্রতিবেশীর ক্ষেতে ঢুকে ফসল খেয়ে ফেলে। এ কথা জানার পর সাদ আমৃত্যু সেই বকরির দুধ পান করেননি। এভাবেই তিনি একসময় মুসতাজাবুদ দাওয়া হয়ে যান।
খলিফা ওমর-র সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস-কে ইরাকের এক শহরের গভর্নর নিযুক্ত করে সেখানে পাঠালেন। কিছুদিন না যেতেই সে শহরের কিছু লোক তার ব্যাপারে ওমর-র এর নিকট অভিযোগ পেশ করছেন। ওমর বিচক্ষণ মানুষ। অভিযোগ শোনা মাত্রই তিনি সাদ-র বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিলেন না। তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য সেখানে একজন দূত পাঠালেন। যেমনটি হুদহুদ পাখির ব্যাপারে সোলাইমান করেছিলেন। হুদহুদ পাখিটি সোলাইমান-র কাছে একটি সংবাদ নিয়ে এলো-
﴿۲۳﴾ إِنِّي وَجَدْتُ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَ أُوتِيَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشُ عَظِيمٌۙ وَ جَدْتُهَا وَ قَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَنُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَۘ
আমি এক নারীকে সাবাবাসীদের ওপর রাজত্ব করতে দেখেছি। তাকে সবকিছুই দেয়া হয়েছে এবং তার একটা বিরাট সিংহাসন আছে। আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করছে। শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যাবলী সুশোভিত করে দিয়েছে। অতঃপর তাদের সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে। অতএব তারা সৎপথ পায় না। [সূরা নামল: ২৩-২৪]
তখন সুলাইমান কী বলেছিলেন? তিনি কি তৎক্ষণাৎ তাঁর সৈন্যবাহিনীকে আদেশ দিয়েছিলেন- যাও তাদের ওপর আক্রমন কর। না; তিনি তখন বলেছিলেন-
سَنَنظُرُ أَصَدَقْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْكَذِبِينَ তুমি মিথ্যা বলছ, না সত্য বলছ, আমি তা যাচাই করব। [সূরা নামল: ২৭]
শরীয়তের বিধানও এমনই। সেজন্যেই রাসুল সাহাবিদেরকে প্রায়ই এই আয়াতটি তেলাওয়াত করে শোনাতেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَدِمِينَ হে মুমিনগণ! যদি কোন পাপচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমারা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কতৃকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও। [সূরা হুজরাত : ৬]
অতএব, কোনো সংবাদ শুনলে সে ব্যাপারে পরিপূর্ণ যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া আমাদের জন্য কর্তব্য।
তো ওমর সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস সম্পর্কে উত্থিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সে অঞ্চলে একজন দূত পাঠালেন। তিনি সাদ-র কাছে গিয়ে বললেন, হে সাদ! তোমার ব্যাপারে যে অভিযোগ ওঠেছে তার সত্যতা যাচাই করতে মানুষের সাথে কথা বলতে হবে। আমি অমুক অমুক মসজিদে সালাত আদায় করব এবং সালাতের পর লোকদের মতামত জানবো। তুমিও আমার সাথে চলো।
সাদ দূতের সাথে চললেন। তারা একটি মসজিদের জোহরের সালাত আদায় করলেন।
সালাতের পর ওমর-র পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত দাঁড়িয়ে বললেন, ভাইয়েরা! আমি ওমর-র পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে এসেছি। তার কাছে আপনাদের আমিরের বিরুদ্ধে এই এই অভিযোগ পৌঁছেছে।
যদি এগুলো সত্য হয় এবং প্রকৃতই আপনাদের গভর্নরের বিরুদ্ধে আপনাদের কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে আপনারা দাঁড়ান এবং কথা বলুন।
তখন সবাই তাদের আমিরে প্রশংসা করল।
এভাবে দূত প্রতিটি মসজিদেই একই প্রশ্ন করলেন এবং মুসল্লিগণ সাদ -এর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিবর্তে তার প্রশংসা করতে লাগলেন।
পরিশেষে তারা মসজিদে বনি আসাদে পৌঁছলেন। সেখানে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দূত দাঁড়িয়ে বললেন- ভাইয়েরা! আমি খলিফা ওমর -এর পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে এসেছি। আপনাদের আমির সম্পর্কে কোনো অভিযোগ থাকলে আমার কাছে নির্দিধায় বলতে পারেন। লোকেরা কেউ কোনো অভিযোগ করল না। সবাই যথারীতি সাদ -এর ভূয়সী প্রশংসা করল। একজন বলল, তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান। রাসুল -এর একজন বিশিষ্ট সাহাবি তিনি। তাকে গভর্নর হিসেবে পেয়ে আমরা ধন্য। প্রস্থানের পূর্বে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দূত শেষবারের মতো বললেন, আমি আপনাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনাদের কারো কোনো অভিযোগ থাকলে বলুন?
এবার পেছন থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়ায়ি বলল, আপনি যেহেতু আমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়েছেন তাই আপনার সাথে সত্য বলা দরকার।
জি অবশ্যই, বলুন। দূত তাকে অভয় দিলেন।
লোকটি বলল, সাদ আমাদের মাঝে সমবন্টন করেন না। সর্বক্ষেত্রে ন্যায় বিচারও করেন না। বিচারের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি করেন। তাছাড়া তিনি খুবই ভীতু প্রকৃতির। সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন না। আমরা যুদ্ধ করি আর তিনি বসে থাকেন।
বস্তুত সাদ -এর বিরুদ্ধে আনিত এই অভিযোগটি পুরোপুরি অসত্য ছিল। সাদ এ তো সেই ব্যক্তি স্বয়ং রাসুল ﷺ যার প্রশংসা করেছিলেন। ওহুদের যুদ্ধে যখন সাহাবিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন, তখন সাদ একা তীরন্দাজ হিসেবে তীর ছুঁড়তে লাগলেন। যা দেখে রাসুল বলেছিলেন-
তোমার জন্য আমার মাতা পিতা কোরবান হোক। নিক্ষেপ কর হে সাদ! তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করতে থাকো। [বোখারী : ৪০৫৫]
তিনিই ছিলেন একমাত্র সাহাবি যার জন্যে রাসুল বলেছিলেন- 'আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য কোরবান হোক।' অথচ লোকটি সেই সাদ-কে বলছেন-ভীতু-কাপুরুষ!?
সাদ লোকটির দিকে তাকালেন। বুঝলেন, লোকটি তার প্রতি জুলুম করছে। তখন সতত হালাল খাবার গ্রহণকারী এই 'মুসতাজাবুদ দাওয়াহ'- দুহাত উঠিয়ে বললেন-
হে আল্লাহ! আপনি তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, দারিদ্রতাকে তার জন্য প্রকট করুন এবং তাকে বিভিন্ন ফেতনায় নিপতিত করুন।
অতঃপর সাদ মসজিদ থেকে বের হতে হতে লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন, আমার ও তোমার বিষয়টি আমি আল্লাহ-র হাতে সোপর্দ করলাম। তিনি আমার সকল গোপন বিষয়ে অবগত। যেমন অবগত তোমার গোপন বিষয় সম্পর্কে। তিনি যেমন আমার অতীত সম্পর্কে জানেন, তেমনি জানেন তোমার অতীতও সম্পর্কেও। আমার জন্য আমার আল্লাহই যথেষ্ট। নেতৃত্ব কর্তৃত্ব কিছুই আমার দরকার নেই- এই বলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেলেন।
কিন্তু তার বদদোআ সেই লোকটিকে তাড়িয়ে বেড়াতে লাগল। সাদ ইন্তেকাল করলেন। কিন্তু আল্লাহ জীবত আছেন। তিনি চিরঞ্জীব। তিনি সে লোকটির হায়াত এতোটাই বাড়িয়ে দিলেন যে, সে বুড়ো হতে হতে চোখের ভ্রুতে তার দুচোখ ঢেকে গেল। কঠিন দরিদ্রতা তাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরল। সে রাস্তার মোড়ে বসে বসে ভিক্ষা করত। যখন তার পাশ দিয়ে কোনো মহিলা হেঁটে যেতো তখন সে ভ্রু ওঠিয়ে তাদের দিতে তাকাতো। তাদের স্পর্শ করার চেষ্টা করত। তারা তাকে চরমভাবে অপমান করে বলত- লজ্জা করে না? এতোটা বুড়ো হয়েছেন, রাস্তায় বসে ভিক্ষা করছেন, আবার নারীদের গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করছেন? এ কাজ কোনো যুবক করলে তাকেও তো শাস্তি দেয়া হয়, সেখানে আপনার মতো বুড়োর কী হওয়া উচিত?
وَيَقْبَحُ بِالْفَتَى فِعْلُ التَّصَابِيْ * وَأَقْبَحُ مِنْهُ شَيْخُ قَدْ تَفَتَّى বাল্য আচরণ যুবকের জন্য নিন্দনীয়, বৃদ্ধের জন্যে তো তা আরো শোচনীয়।
বুড়ো বলত, আমি কী করব? ফেতনায় পতিত এক অসহায় বৃদ্ধ আমি। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের বদদোআ বয়ে বেড়াচ্ছি।
তাই, রিযিক হালাল হলে দোআ কবুল হবে। যেমন হয়েছে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস-র বেলায়।
আল্লাহ আমাদেরকে প্রার্থনা করতে বলেছেন। কবুলের দায়িত্ব তাঁর। তিনি বলেছেন- وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي তোমাদের রব বলেন, আমাকে ডাকো। [সূরা গাফির: ৬০]
হে আমাদের রব! আপনাকে ডাকলে লাভ কী হবে? اسْتَجِبْ لَكُمْ আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো। [সূরা গাফির: ৬০]
তিনি আরো বলেন- وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى আল্লাহর রয়েছে অনেক সুন্দর নাম। [সূরা আরাফ: ১৮০]
হে রব! কেন আপনার নামের কথা আমাদের জানালেন? فَادْعُوهُ بِهَا সে নামে তোমরা তাকে ডাকো। [সূরা আরাফ : ১৮০]
তাই এভাবে ডাকো-
হে সর্বশ্রোতা। আমার দোআ শুনুন।
হে সদা নিকটবর্তী! আমাকে নিকটবর্তী করে নিন। হে ক্ষমাশীল! আমাকে ক্ষমা করুন। হে রোগ থেকে মুক্তিদাতা! আমাকে রোগ মুক্ত করুন। হে (পাপ) গোপনকারী! আমার পাপ গোপন রাখুন। হে মহাধনী! আমাকে ধনী করুন।
এভাবে আল্লাহ -র নাম নিয়ে দোআ করতে হবে এবং খেতে হবে হালাল রিযিক। তাহলে আমাদের দোআ অবশ্যই কবুল হবে, ইনশাআল্লাহ。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00