📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 হালাল খাবার গ্রহণ করো

📄 হালাল খাবার গ্রহণ করো


এক ব্যক্তি সুফিয়ান সাওরি রহ.-কে জিজ্ঞেস করল, প্রথম কাতারের ডান পাশে সালাত আদায় করা উত্তম, নাকি বাম পাশে?
সুফিয়ান সাওরি রহ. তাকে বললেন, আপনি আগে আপনার প্রতিদিনের খাবারের ব্যাপারে সতর্ক হোন। আপনি যা খাচ্ছেন তাকি না হারাম- সেদিকে লক্ষ্য করুন। তাহলে কাতারের ডান কিংবা বাম যেদিকেই সালাত আদায় করেন না কেন তাতে কোনো ক্ষতি হবে না। আপনি আমাকে কাতারের কোন পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবেন- সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছেন অথচ আপনার থেকে কখনও এমনও প্রকাশ পায় যা আপনার ইবাদত কবুল হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। একদিন রাসুল সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন-
তোমরা কি জানো তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিঃস্ব কে?
সাহাবায়ে কেরام বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ!
আমাদের মধ্যে নিঃস্ব ব্যক্তি সে, যার অর্থ-সম্পদ নেই।
রাসুলুল্লাহ কারীম বললেন- إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ، وَصِيَامٍ، وَزَكَاةٍ، وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا، وَقَذَفَ هَذَا، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا، وَضَرَبَ هَذَا، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ، أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ، ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ.
আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব ওই লোক, যে কিয়ামতের দিন সালাত-সিয়াম-যাকাত নিয়ে আগমন করবে কিন্তু কাউকে সে গালি দিয়েছিল, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিল, কারো সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল, কারো রক্ত ঝরিয়েছিল। তো একে তার নেক আমল দিয়ে দেওয়া হবে, ওকেও তার নেক আমল দিয়ে দেওয়া হবে। যখন নেক আমলগুলো শেষ হবে তখন ঐসকল লোকের গুনাহ এই ব্যক্তির কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হবে, এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (এ হচ্ছে আমার উম্মতের সবচেয়ে নিঃস্ব ও রিক্তহস্ত।) [সহীহ মুসলিম: ৬৭৪৪]
তাই সুফিয়ান সাওরি ️ লোকটিকে বললেন, আপনি কাতারের ডান বামের পেছনে না পড়ে প্রথমে আপনার খাবার হালাল করুন।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 পবিত্র বস্তু আহার করো

📄 পবিত্র বস্তু আহার করো


এসো, হালাল খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে কেমন ছিলেন আমাদের পূর্বসূরী আলেমগণ সে ব্যাপারে খানিকটা জেনে নিই।
রাসুল বলেছেন-
আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া কোনো কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ নবী রাসুলদের যে নির্দেশ দিয়েছেন, মুমিনদের ক্ষেত্রেও দিয়েছেন একই নির্দেশ।
আল্লাহ বলেন- يَٰٓأَيُّهَا ٱلرُّسُلُ كُلُوا۟ مِنَ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَٱعْمَلُوا۟ صَٰلِحًا إِنِّى بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ
হে রাসুলগণ, পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত। [সূরা মুমিনুন: ৫১]
এ আয়াতে আল্লাহ সৎ কাজের পূর্বে হালাল খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, তুমি সালাত, সিয়াম, শেষ রাতের আহাজারি ও কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি আগ্রহী হওয়ার পূর্বে হালাল খাবারের প্রতি আগ্রহী হও।
এ ব্যাপারে রাসুল একটি উত্তম উদাহরণ পেশ করেছেন-
এক ব্যক্তি অনেক পথ সফর করল। চুল তার উস্কখুষ্ক। শরীর তার ধূলোমলিন। সে আকাশের দিকে দু হাত তুলে দোআ করছে, হে রব! হে রব!
রাসুল বলেন, وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ
অথচ তার খাবার হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, সে বেড়ে ওঠেছে হারাম খেয়ে, তাহলে তার দোআ কীভাবে কবুল হবে? [মুসলিম: ২৩৯৩]

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 একটুখানি হারাম

📄 একটুখানি হারাম


আবুল মাআলি আল জুয়াইনি হারাম শরীফের একজন সম্মানিত ইমাম ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রবাদ প্রতিম বিতার্কিক। বিতর্কালোচনায় কেউ তাকে কখনও পরাজিত করতে পারেনি। তার পিতা ছিলেন একজন সৎ ও সাধারণ মানুষ। শত দারিদ্রতা সত্ত্বেও তিনি কখনও হারাম পথ অবলম্বন করেননি। আবুল মাআলি আল জুয়াইনির জন্মের পর থেকেই তিনি তার পেটে যেন কোনো হারাম খাবার প্রবেশ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। স্ত্রীকেও সতর্ক করতেন। বলতেন, সাবধান! তুমি ছাড়া আমার সন্তানকে যেন অন্য কেউ দুধ পান না করায়। আমি জানি তুমি তাকে যে দুধ পান করাও তা পুরোপুরি হালাল। কারণ, তোমার দুধ হালাল খাবার হতে উৎপন্ন। সে খাবার আমি এনে থাকি।
একদিনের ঘটনা। পাশের বাড়ির এক মহিলা তাদের ঘরে এলেন। তার স্ত্রী কোলের সন্তানকে রেখে মেহমানের জন্য কিছু আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে গেলেন। এদিকে শিশুটি কান্না শুরু করে দিল। আগন্তুক মহিলাটিও স্তন্যদানকারিণী ছিলেন। তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে নিজ স্তন পান করতে দিলেন। তখনকার সময় এটি সাধারণ বিষয় ছিল।
কিছুক্ষণ পর তিনি এসে দেখলেন, মহিলাটি তার সন্তানকে দুধ পান করাচ্ছে। তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। বললেন, হায়! আপনি এটা কী করলেন? আমার স্বামী আমাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেছেন। বলেছেন আমি ছাড়া যেন অন্য কেউ আমার সন্তানকে দুধ পান না করায়। তিনি একমাত্র আমার ওপরেই আস্থা রাখেন। যাতে আমার সন্তান একমাত্র হালাল খাবারে বেড়ে উঠে।
দেখতে দেখতে আবুল মায়ালি আল জুয়াইনি বড় হলেন। হলেন বিশ্বখ্যাত আলেম ও বিতার্কিক। তিনি বলতেন, আমি যখন বিতর্ক প্রতিযোগিতা করতাম, তখন মাঝে মাঝে এমন হতো যে, আমি একেবারে চুপসে যেতাম। আচানক আমার স্মৃতিশক্তি স্থবির হয়ে পড়ত। তিনি বলতেন, এটি হল সে মহিলার দুধ পানের ফল।
এ ঘটনা প্রমাণ করে, হালাল খাবার ও উপার্জন মানুষের জীবন ও মেধায় যেমন প্রভাব ফেলে তেমনি প্রভাব ফেলে তার ঈমান, আমল, ইলম ও সালাত-সিয়ামে।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 দুটি ঘটনা

📄 দুটি ঘটনা


হাদিস- ১ একদিন রাসুল ঘরে প্রবেশ করে খাটের ওপর কিছু খেজুর দেখতে পেলেন। তিনি তখন ক্ষুধার্ত ছিলেন। তাই সেখান থেকে একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিতে গিয়ে রেখে দিলেন। ভাবলেন এটি সদকার খেজুর নয় তো? তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, আমি যদি খেজুরটির ব্যাপারে সদকার খেজুর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম তাহলে আমি সেটি খেয়ে ফেলতাম। অতঃপর তিনি খেজুরগুলো সদকা করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। [বোখারী]
হাদিস- ২ তখন তার মুখে একবার রাসুল-র কাছে কিছু সদকার মাল এলো। হাসান সেখান থেকে একটি খেজুর মুখে দিলেন। রাসুল তখন তার মুখে হাত ঢুকিয়ে খেজুরটি বের করে আনলেন এবং বললেন, তুমি জানো না, এগুলো সদকার খেজুর? নিশ্চয় মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের জন্য সদকা খাওয়া হালাল নয়। [বোখারী: ৩০৭২]
রাসুল ও তার পরিবারবর্গের জন্য যাকাত বা সদকা গ্রহণ করা হারাম ছিল। এ ঘটনা থেকে হালাল খাবারের ব্যাপারে রাসুল-র সর্বদা সচেতন থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00