📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 মুতার যুদ্ধ

📄 মুতার যুদ্ধ


আসমা বিনতে উমাইস স্বামীর সাথে মদিনায় এসেছেন মাত্র আট নয় মাস হল। এরই মধ্যে রাসুল রোমের বাদশাহর কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একজন দূত পাঠালেন। রোমের বাদশাহ সেই দূতকে হত্যা করে مسلمانوں বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগল। এ সংবাদ জানতে পেরে রাসুল -র নির্দেশে মুসলমানরাও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। মুতার প্রান্তরে ভয়ানক লড়াই হল। তারপর কি হল এ সম্পর্কে একটি হৃদয়স্পর্শী হাদিস রয়েছে। যাতে রয়েছে অনেক কল্যাণ ও বরকত।
মুতার যুদ্ধের সময় রাসুল ﷺ তিন হাজার যোদ্ধার সমন্বয়ে একটি বাহিনী গঠন করলেন। অতঃপর তাদের সামনে ঘোষণা দিলেন- তোমাদের সেনাপতি হল, যায়েদ। সে যদি শহিদ হয়ে গেলে জাফর। সেও যদি শহিদ হয় তাহলে আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা।
মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হয়ে মুতা নামক স্থানে পৌঁছল। সেখানে রোমীয়রা দু লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছিল। তাই শত্রু-সংখ্যা মুসলিম বাহিনীর চেয়ে একগুণ, দিগুণ কিংবা তিনগুণ ছিল না; বরং বহুগুণ বেশি ছিল।
যুদ্ধা শুরু হল। তিন হাজার সৈন্য দু লক্ষের মোকাবেলা করতে লাগল। প্রথমেই যায়েদ শাহাদাতবরণ করলেন। এবার জাফর ইসলামের ঝান্ডা হাতে তুলে নিলেন। বীর-বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়লেন শত্রু বাহিনীর ওপর। তিনি মাত্র কয়েক মাস পূর্বে আবিসিনিয়া থেকে হিজরত করে মদিনায় এসেছিলেন। সফরের ক্লান্তি এখনও কাটেনি। সেই তিনি বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতে শহিদ হয়ে গেলেন। দুটি হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা এই কবিতাটি আবৃত্তি করতে করতে অগ্রসর হলেন- أَقْسَمْتُ يَا نَفْسُ لَتَنْزِلَنَّ لَتَنْزِلَنَّ أَوْ لَتُكْرَهِنَّ إِنَّ أَجْلَبَ النَّاسِ وَشَدُّوا الرَّنَّةَ * مَالِي أَرَاكَ تُكْرَهِيْنَ الْجَنَّةَ
আল্লাহর দোহাই লাগে, হে মন, তুমি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ো, নয়তো তুমি তিরস্কৃত হয়ে নামতে হবে।
লোকেরা যদি যুদ্ধে নেমে দামামা বাজাতে পারে, তাহলে তোমার কী হল, তুমি কি জান্নাতকে অপছন্দ করছো?
কবিতা আবৃত্তি করতে করতে তিনি যুদ্ধের ময়দানে মনোযোগী হলেন। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব লোকন করলেন। দেখলেন- চারিদিকে কেবল মৃত্যুর বিভীষিকা। কানে ভেসে আসছে কেবল তরবারীর ঝনঝনানি, ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি ও বীরবিক্রমদের হুংকার। রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে পুরো ময়দান জুড়ে। তথাপি তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। বীরত্বের সাথে লড়াই করে এক সময় শহিদ হয়ে গেলেন। মুসলিম বাহিনীর পতাকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। পতাকাবিহীন মুসলিম বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ল। রাসুল -র নিযুক্ত তিনজন সেনাপতির সবাই শাহাদাত করেছেন। এখন কে পালন করবেন সেনাপতির দায়িত্ব? কে উঁচু করে ধরবে মুসিলম পতাকা?
হঠাৎ সাবিত বিন আকরান এগিয়ে এলেন। পতাকা উঁচিয়ে ধরে বলতে লাগলেন- হে লোকসকল, তোমরা আমার দিকে আসো!
লোকেরা এসে তার কাছে জমা হল। তিনি বললেন, তোমাদের সেনাপতি নির্বাচন কর।
সবাই বলে উঠল, আপনিই আমাদের সেনাপতির দায়িত্ব পালন করুন।
তিনি বললেন, না, আমি এ পদের যোগ্য নই। তোমরা অন্য কাউকে নির্বাচন কর।
লোকেরা বলল, তাহলে খালিদ বিন ওয়ালিদ পালন করবেন সেনাপতির দায়িত্ব।
খালিদ বিন ওয়ালিদ এগিয়ে এলেন। ইসলামের পতাকাটি হাতে তুলে নিলেন। পুনরায় যুদ্ধ শুরু হল। রাত পর্যন্ত যুদ্ধ চালতে থাকল। রাতে খালেদ বিন ওয়ালিদ সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি মাদিনায় যাবেন। সেখান থেকে আরো কিছু সৈন্য জোগাড় করে আনবেন। কিন্তু সামান্য ভেবে তিনি বললেন, আমরা যদি মদিনায় যাই, তাহলে শত্রুপক্ষ ভাববে, আমরা পালিয়ে গেছি। তখন তারা আমাদের পিছু ধাওয়া করবে। এতে আমাদের বহু যোদ্ধা শহিদ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই, এখন আমাদের আগামীকালের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
তিনি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। ডানপাশের সৈন্যদেরকে বামপাশে নিয়ে গেলেন। আর বাম পাশের সৈন্যদেরকে ডান পাশে।
নিয়ে এলেন। সাদার স্থানে নীল আর নীলের স্থানে হলুদ এবং হলুদের স্থানে লাল রং দিয়ে ঝান্ডার রূপ বদলালেন।
সকালে রোমানদের ডান দিকের সৈন্যদল এসে দেখে নতুন বাহিনী নতুন পতাকা। বাম দিকের সৈন্যদলও দেখে একই অবস্থা। তখন তারা ধারণা করল, নিশ্চয় মুসলমাদনের জন্য সাহায্যকারী দল চলে এসেছে। তাদের মাঝে বিষয়টি দারুণ আতঙ্ক ছড়াল। তারা ভয় নিয়ে যুদ্ধ শুরু করল। মুসলিমরা নব উদ্যমে যুদ্ধ করতে লাগল
খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মুতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তরবারি ভেঙে যায়। পরিশেষে আমার হাতে কেল একটি ইয়েমেনি পাতের তৈরী তরবারি একটি তরবারী ছিল। ভয়ানক যুদ্ধ শেষে দুটি দলই স্ব স্ব স্থানে ফিরে গেল। মুসলিম সেনাপতি খালেদ বিন ওয়ালিদ মুসলিম বাহিনীকে মদিনায় সুসংবাদ প্রেরণের নির্দেশ দেন। বারোজন মুসলিম শাহাদাত বরণ করলেও কাফেরদের নিহত হয়েছে অসংখ্য। এই হল সংক্ষিপ্ত মুতার যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
মদিনায় খরব পৌঁছল। রাসুল সকলকে মসজিদে সমবেত হতে বললেন। সকলে এলো। রাসুল বললেন- আমি তোমাদের বাহিনীর সংবাদ বলব?
সাহাবিরা বলল, অবশ্যই, ইয়া রাসুলাল্লাহ।
রাসুল বললেন, যায়েদ প্রথমে পতাকা হাতে যুদ্ধ শুরু শাহাদাত বরণ করে। তোমরা তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করো। সাহাবিরা দোআ করলেন- হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। তার প্রতি রহম করুন।
অতঃপর পতাকা তুলে নেয় জাফর বিন আবু তালিব। সে-ও শাহাদাত বরণ করে। তোমরা তার জন্যেও দোআ কর। (এ কথা বলার সময় রাসুল -র দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে পড়ে)।
সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। তার প্রতি রহম করুন।
রাসূল বললেন, এরপর পতাকা তুলে নেয় আবদুললাহ বিন রাওয়াহা। তাকেও শহিদ করে দেয়া হয়। তার জন্যেও তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর।
সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। তার প্রতি রহম করুন।
তারপর রাসুল বললেন, এরপর পতাকা তুলে নেয় আল্লাহর তরবারি (খালেদ বিন ওয়ালিদ)। তার হাতে আল্লাহ মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন।
রাসুল জাফর-র ঘরে গেলেন। তার বিধবা স্ত্রী ও তার এতিম শিশুদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য। শিশুগুলো তাদের বাবাকে খুব ভালোবাসতো। আবিসিনিয়ায় দীর্ঘ সময় তারা তাদের বাবার সাথে কাটিয়েছিল। বাবার ছিল তাদের পৃথিবী। তাদের খেলার সাথী। বাবা তাদেরকে আদর করে খাইয়ে দিতো। তারাও বাবার মুখে খাবার তুলে দিত। বাবার খুশিতে হাসতো তারা, বাবার খুশিতে কাঁদতো। বাবার চুমুর বিনিময়ে তারাও চুমু উপহার দিতো। বাবা তাদের রাগ ভাঙাতেন। আদরে সোহাগে মান ভাঙাতেন। কাঁদলে চোখের পানি মুছে দিতেন। ত্রিশের কোটা পার না করা তাদের সেই বাবা আজ পৃথিবীতে নেই। ইসলামের জন্য তিনি তার জীবন উৎসর্গ করে পরপারে চলে গেছেন।
রাসুল ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আসমা নিজেকে পর্দায় রেখে রাসুল -কে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। রাসুল ঘরে প্রবেশ করেই বললেন, আমার ভাতিজাদেরকে ডাকো। আসমা বলেন, আমি তাদেরকে ডাকলাম। মুরগির বাচ্চা যেমন ডাক পেয়ে একত্রে দৌঁড়ে আসে, তারাও তেমনি দৌঁড়ে এসে রাসুল-কে ঘিরে ধরল। তাঁকে জড়িয়ে চুমু খেলো। প্রথমে তারা ভেবেছিল তাদের পিতা জাফর এসেছে। আসমা বলেন, আমি তাদেরকে গোসল দিয়ে পরিপাটি সাজিয়ে রেখেছিলাম। আটার খামির করে রুটি বানিয়ে জাফরের আগমনের অপেক্ষা করছিলাম। বাচ্চারাও তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমি দেখলাম, রাসুল তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম- ইয়া রাসুলাল্লাহ, জাফরের কোনো সংবাদ এসেছে?
রাসুল কোনো জবাব দিলেন না।
আমি আবার জানতে চাইলাম- আপনি কি জাফরের কোনো খবর পেরেছেন?
রাসুল ﷺ বললেন, জাফর শহিদ হয়ে গেছে।
বললাম, আহা! তারা কি তাহলে ইয়াতিম হয়ে গেল?
রাসুল ﷺ বললেন, তুমি কি তাদের ব্যাপারে দারিদ্রতার ভয় করছ? শোনো, দুনিয়া ও আখিরাতে আমিই তাদের অভিভাবক। একথা বলতে গিয়ে রাসূল ﷺ কেঁদে ফেললেন।
অতঃপর ঘর থেকে বের হতে হতে বললেন, তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য তোমরা খাবারের ব্যবস্থা করো। কারণ, তাদের কাছে এমন একটি সময় এসে গেছে, যা তাদেরকে কর্মব্যস্ত হতে বাধ্য করবে।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 এক মহীয়সী নারীর দাস্তান

📄 এক মহীয়সী নারীর দাস্তান


এটি খালিদ বিন ওয়ালিদের বীরত্বগাঁথা নয়। নয় আবু বকর, ওমর ওসমান, আলীরদের বাহাদুরী উপাখ্যান। এটি হল এক মহীয়সী নারীর বীরত্বের দাস্তান। দীনের খেদমতে তিনি যে অবদান রেখেছেন, অনেক পুরুষের পক্ষেও তা সম্ভব হয়নি। নরীদেরকেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দানে তিনি যে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন ইতিহাসে তার দৃষ্টান্ত বিরল। প্রসঙ্গত, ইসলামে নারীদের অবদান পুরুষ থেকে কোনো অংশে কম নয়। যমযমের পানি যিনি প্রথম পান করেছেন, সাফা মারওয়া যিনি প্রথম সায়ি করেছেন- তিনি ছিলেন একজন নারী। তিনি ইবরাহিম <sup>আ:</sup>-এর স্ত্রী ও ইসমাইল <sup>আ:</sup>-এর জননী- হাজেরা <sup>আ:</sup>। রাসুল ﷺ-এর প্রতি যিনি প্রথম ঈমান এনেছেন তিনি ছিলেন একজন নারী। তিনি খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ <sup>রা:</sup>। আল্লাহ <sup>সুব:</sup>-এর পথে যিনি প্রথম রক্ত ঝরিয়েছেন তিনি ছিলেন একজন নারী। তিনি সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত <sup>রা:</sup>।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 সর্বোত্তম মহর

📄 সর্বোত্তম মহর


মহিয়সী এই নারী ছিলেন রূপে-গুণে অনন্যা। তাই পুরুষদের মাঝে তাকে নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হল। আবু তালহা তখনও মুসলমান হননি। তিনি তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। উম্মে সুলাইম তাকে বললেন, তোমার প্রতি আমার আগ্রহ আছে। আর কেনই বা থাকবে না? তোমার মতো ব্যক্তির প্রস্তাব তো প্রত্যাখ্যান করা যায় না। তবে সমস্যা হল তুমি একজন কাফের পুরুষ, আর আমি একজন মুসলিম নারী। তাই তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ কর তবে সেটাই হবে আমার মহর। এছাড়া আমার আর কোনো বাড়তি দাবি-দাওয়া নেই।
তার এ প্রস্তাব শুনে আবু তালহা বললেন, আমি তো ধর্মের উপরই আছি।
উম্মে সুলাইম বললেন, আবু তালহা! তোমার কি জানা নেই যে, তুমি যে উপাস্যের উপাসনা কর তা একটি কাষ্ঠখন্ড মাত্র। যেটি মাটি থেকে জন্ম নিয়েছে। যেটিকে অমুক গোত্রের হাবশি মিস্ত্রি নিজ হাতে বানিয়েছে।
আবু তালহা তার কথা অকপটে মেনে নিয়ে বলল, হ্যাঁ, তুমি অবশ্যই ঠিক বলেছ।
তাহলে যে উপাস্য মূলত মাটি থেকে জন্মানো একটি কাষ্ঠখন্ড, যে প্রতিমার নির্মাতা অমুক হাবশি মিস্ত্রি, তার উপসনা করতে তোমার লজ্জা হয় না? হে আবু তালহা! তুমি শুধু ইসলাম গ্রহণ করো, আমি তোমার কাছে কোনো মহর চাই না।
বেশ, বিষয়টি আমি ভেবে দেখি- এই বলে আবু তালহা চলে গেলেন।
পরে তিনি তার কাছে এসে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।
উম্মে সুলাইম যারপর নাই আনন্দিত হলেন। পুত্র আনাস কে ডেকে বললেন, হে আনাস! আমাকে আবু তালহার সাথে বিয়ে দাও।
তাদের দুজনার বিয়ে হয়ে গেল। উম্মে সুলাইমের মহরের চেয়ে সম্মানজনক আর কোনো মহর হতে পারে না। তা হল ইসলাম। ভেবে দেখো, তিনি নিজেকে কিভাবে দীনের পথে সস্তা করে দিয়েছেন। ইসলামের স্বার্থে ছেড়ে দিয়েছেন নিজের প্রাপ্য অধিকার।
হ্যাঁ, একজন নারী একটি ঘটনার কারণে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর তা হল ইসলাম। কিভাবে তিনি ইসলামের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন এবং মানুষকে সেদিকে আহবান করেছেন।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 পুত্রকে পেশ করলেন রাসূল ﷺ-র খেদমতে

📄 পুত্রকে পেশ করলেন রাসূল ﷺ-র খেদমতে


রাসুলুল্লাহ ﷺ মদিনায় আগমনকালে আনসার ও মুহাজিরগণ তাকে স্বাগত জানায়। এরপর তিনি আবু আইয়্যুব আনসারীর বাড়িতে অবস্থান গ্রহণ করেন। দলে দলে লোকজন রাসুল -র সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে আসতে থাকে। তখন উম্মে সুলাইমও আনসারী নারীদের সাথে বের হন। তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে কিছু হাদিয়া দিতে চাইলেন। তার কাছে তার কলিজার টুকরোর চেয়ে প্রিয় কোনো বস্তু ছিল না। তাই তিনি পুত্র আনাসকে সাথে নিয়ে গেলেন। রাসুল ﷺ-র সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই হল আনাস। সে সর্বদা আপনার সাথে থেকে আপনার খেদমত করবে। কারণ, আপনাদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সামর্থ্য আমার নেই। সম্পদও নেই যে, আর্থিকভাবে সহযোগিতা করব। আমার আছে একমাত্র পুত্র আনাস। আমি তাকে আপনার খেদমতের জন্য পেশ করছি। দয়া করে গ্রহণ করুন।
আসলে উম্মে সুলাইম ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতি নারী। তিনি এর মাধ্যমে আনাস-র লালন পালন ও আদব কায়দা শিক্ষা দেয়ার ভার রাসুল ﷺ এর হাতে তুলে দিতে চাইলেন। আনাস-র বয়স তখন মাত্র নয় বছর। যা ছিল শিক্ষা গ্রহণের যথার্থ সময়। রাসুল ﷺ তাকে খাদেম হিসেবে গ্রহণ করে নিলেন। তিনি সকাল-সন্ধ্যা রাসুল -র খেদমতে নিয়োজিত থাকলেন।
আনাস বলেন আল্লাহ আমার আম্মাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। তিনি আমাকে উত্তমভাবে লালন-পালন করেছেন।
একদিনের ঘটনা। রাসুল ﷺ খাবার খাচ্ছিলেন। ওমর বিন সালামা বলেন, আমি তখন বালক ছিলাম। রাসুল -র সামনে খেতে বসেছি। প্লেটের মধ্যে আমার হাত এদিক ওদিক যেতে লাগল। অর্থাৎ, আমি দ্বিধায় পড়ে গেলাম। রাসুল বললেন- يَا غُلَامُ سَمَّ اللَّهَ وَكُلْ بِيَمِينِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيْكَ
হে বালক, আল্লাহর নাম নাও। তোমার দিক থেকে ডান হাতে খাও। [বোখারী: ৫৩৭৬]
এভাবে রাসুল -র কাছে যারা থাকতেন তাদেরকে তিনি আদব শিক্ষা দিতেন। তাছাড়া উম্মে সুলাইম-র আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল যে, আনাস-র মাধ্যমে তার ঘরে আল্লাহর রাসুল'র সুন্নত প্রবেশ করবে। তাই দেখা যেতো আনাস যখন রাসুল ﷺ এর দরবার থেকে বাড়িতে যেতেন তখন বলতেন, আম্মু! আল্লাহর রাসুল সা. যখন আহার করেন তখন তিনি ডান হাতে আহার করেন। আম্মু! আল্লাহর রাসুল ﷺ অমুক সালাতে অমুক অমুক সূরা তেলাওয়াত করেন। এভাবে তিনি তাঁর মাকে নতুন নতুন সুন্নাতের সংবাদ দিতেন। রাসুল ﷺ খেদমতে থাকাকালীন সময়ে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা আনাস থেকে বর্ণিত আছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00