📄 হাযা সানা ইয়া উম্মা খালেদ!
মুসলমানদের যে সকল সন্তান আবিসিনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছে তাদের মাঝে একজনের নাম উম্মে খালিদ বিনতে আস। ছোট্ট ফুটফুটে একটি মেয়ে। সে তার মা বাবার সাথে মদিনায় চলে এলো। একদিনের কথা। রাসূল ﷺ কে কেউ একজন একটি কাপড় হাদিয়া দিল। কাপড়টিতে বিভিন্ন নকশা আঁকা ছিল। রাসুল উম্মে খালিদকে ডেকে পাঠালেন। সে আসার পর রাসূল নিজ হাতে তার গায়ে কাপড়টি পরিয়ে দিয়ে বললেন-
هَذَا سَنَا يَا أُمَّ خَالِدٍ هَذَا سَنَا হাবশি ভাষায় এর অর্থ হল- এটা অনেক সুন্দর হে উম্মে খালিদ। ছোট্ট শিশুটির জন্ম আবিসিনিয়ায়। মাতৃভাষা আরবির চেয়ে হাবশি ভাষায় সে অধিক পারদর্শি। তাই রাসুল তার সাথে হাবশি ভাষায় কথা বললেন।
📄 আমরা তোমাদের থেকে এগিয়ে গেছি
রাসুল খায়বার বিজয় করলেন। আল্লাহ مسلمانوںকে গনিমতের অনেক সম্পদ দান করলেন। রাসুল আবিসিনিয়ার মুহাজিরদের মদিনায় চলে আসার নির্দেশ দিলেন। তারা মদিনায় চলে এলেন। তাদের আগমনে রাসুল অনেক খুশি হলেন। বেশি খুশি হলেন জাফর বিন আবু তালিব-কে পেয়ে। তিনি জাফর বিন আবু তালিব-কে জড়িয়ে ধরে তার দু চোখের মাঝে ও কপালে চুমু দিলেন এবং বললেন, 'তুমি আমার গঠন এবং চরিত্র দুটিই পেয়েছো।'
জাফর-র শাহাদাতের পর তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস কে আবু বকর বিবাহ করেন। একদিনের ঘটনা। আসমা বিনতে উনাইস রাসুল-র স্ত্রী হাফসা -র সাথে দেখা করতে এলেন। হাফসা ওমর ইবনুল খাত্তাব -র কন্যা ছিলেন। ওমর -ও সেদিন মেয়েকে দেখতে তার ঘরে গেলেন। মেয়ের সাথে অচেনা এক নারীকে দেখতে পেয়ে তিনি সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, মা! ইনি কে?
হাফসা বললেন, ইনি আসমা বিনতে উমাইস।
ওমর বললেন, ইনি কি বাহরিয়্যাহ (সমুদ্র ভ্রমণকারিণী)?
আসমা বললেন, হ্যাঁ।
ওমর পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কি হাবশিয়্যাহ?
হাফসা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ ইনি হাবশায় (আবিসিনিয়ায়) হিজরতকারিণী।
ওমর আসমা-কে লক্ষ্য করে নরম গলায় বললেন, রাসুল -র সাথে হিজরত করে আমরা তোমাদের থেকে এগিয়ে গেছি।
ওমর-র মুখে একথা শুনে আসমা রেগে গেলেন। বললেন, তোমরা কিভাবে আমাদের থেকে এগিয়ে গেলে? তোমরা তো রাসুল -র কাছে ছিলে। তিনি তোমাদের অসুস্থদের দেখাশোনা করেছেন। তোমাদের ক্ষুধার্তদের আহার দিয়েছেন। তোমাদের দুর্বলদের সাহায্য করেছেন। আর আমরা তো সেসময় দূরের এক অপরিচিত দেশে অবস্থান করছিলাম। আল্লাহর কসম, রাসুল -র কাছে তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব।
আসমা রাসূল-র দরবারে এসে ওমর-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! ওমর বলছে, তারা নাকি হিজরতের ক্ষেত্রে আমাদের থেকে অগ্রগামী। তাহলে কী আমরা কোনো বিশেষ সাওয়াবের অধিকারী হবো না?
রাসূল বললেন, হে আসমা, তুমি যাও। আবিসিনিয়ায় হিজরতকালে যারা তোমাদের সাথে জাহাজের যাত্রী ছিল তাদেরকে সংবাদ পৌঁছাও, সাধারণ مسلمانوں জন্য সাওয়াব একগুণ আর তোমাদের জন্য দ্বিগুণ। কারণ, তোমরা প্রথম হিজরত করেছ আবিসিনিয়ায় আর দ্বিতীয় হিজরত করেছ মদিনায়।
আসমা বেরিয়ে পড়লেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম আমি দেখতে পেলাম আমাদের সাথে যারা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন তারা এ হাদিস শোনার জন্য আমার কাছে দলে দলে এসে জড়ো হচ্ছে।
আসলেই যারা জাহাজে চড়ে সমুদ্র পথে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিল, তাদেরকে কঠিন বিপদ মোকাবেলা করতে হয়েছিল। সমুদ্রের বিশালাকার ঢেউ জাহাজ নিয়ে খেলা করছিল। বিক্ষুব্ধ তরঙ্গ একবার জাহাজকে শূন্যে তুলে পরক্ষণেই নিচে আছড়ে ফেলছিল। সেই সফরে তারা মৃত্যু মুখে পতিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। অবলা নারী ও অবুঝ শিশুদের মৃত্যু-ভয় গ্রাস করে নিয়েছিল। তথাপি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করেছিলেন। নিঃসন্দেহে এর প্রতিদান আল্লাহ -র কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।
আসমা বিনতে উমাইস আনহু তাঁর স্বামীর সঙ্গী হিসেবে আবিসিনিয়া হিজরত করছেন- এমনটি ভাবেননি; বরং তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যেই হিজরত করেছিলেন। তাই তিনি বলেননি যে, আবিসিনিয়ায় হিজরতাকরী স্বামীর সাওয়াবে আমার অংশ রয়েছে। একথাও বলেননি যে, আমি আমার স্বামীকে দেখাশোনার জন্য তার সাথে হিজরত করব। আসলে তিনি দীনের জন্যেই হিজরত করেছিলেন, স্বামীর জন্যে নয়।
📄 মুতার যুদ্ধ
আসমা বিনতে উমাইস স্বামীর সাথে মদিনায় এসেছেন মাত্র আট নয় মাস হল। এরই মধ্যে রাসুল রোমের বাদশাহর কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একজন দূত পাঠালেন। রোমের বাদশাহ সেই দূতকে হত্যা করে مسلمانوں বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগল। এ সংবাদ জানতে পেরে রাসুল -র নির্দেশে মুসলমানরাও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন। মুতার প্রান্তরে ভয়ানক লড়াই হল। তারপর কি হল এ সম্পর্কে একটি হৃদয়স্পর্শী হাদিস রয়েছে। যাতে রয়েছে অনেক কল্যাণ ও বরকত।
মুতার যুদ্ধের সময় রাসুল ﷺ তিন হাজার যোদ্ধার সমন্বয়ে একটি বাহিনী গঠন করলেন। অতঃপর তাদের সামনে ঘোষণা দিলেন- তোমাদের সেনাপতি হল, যায়েদ। সে যদি শহিদ হয়ে গেলে জাফর। সেও যদি শহিদ হয় তাহলে আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা।
মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হয়ে মুতা নামক স্থানে পৌঁছল। সেখানে রোমীয়রা দু লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছিল। তাই শত্রু-সংখ্যা মুসলিম বাহিনীর চেয়ে একগুণ, দিগুণ কিংবা তিনগুণ ছিল না; বরং বহুগুণ বেশি ছিল।
যুদ্ধা শুরু হল। তিন হাজার সৈন্য দু লক্ষের মোকাবেলা করতে লাগল। প্রথমেই যায়েদ শাহাদাতবরণ করলেন। এবার জাফর ইসলামের ঝান্ডা হাতে তুলে নিলেন। বীর-বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়লেন শত্রু বাহিনীর ওপর। তিনি মাত্র কয়েক মাস পূর্বে আবিসিনিয়া থেকে হিজরত করে মদিনায় এসেছিলেন। সফরের ক্লান্তি এখনও কাটেনি। সেই তিনি বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতে শহিদ হয়ে গেলেন। দুটি হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা এই কবিতাটি আবৃত্তি করতে করতে অগ্রসর হলেন- أَقْسَمْتُ يَا نَفْسُ لَتَنْزِلَنَّ لَتَنْزِلَنَّ أَوْ لَتُكْرَهِنَّ إِنَّ أَجْلَبَ النَّاسِ وَشَدُّوا الرَّنَّةَ * مَالِي أَرَاكَ تُكْرَهِيْنَ الْجَنَّةَ
আল্লাহর দোহাই লাগে, হে মন, তুমি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ো, নয়তো তুমি তিরস্কৃত হয়ে নামতে হবে।
লোকেরা যদি যুদ্ধে নেমে দামামা বাজাতে পারে, তাহলে তোমার কী হল, তুমি কি জান্নাতকে অপছন্দ করছো?
কবিতা আবৃত্তি করতে করতে তিনি যুদ্ধের ময়দানে মনোযোগী হলেন। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব লোকন করলেন। দেখলেন- চারিদিকে কেবল মৃত্যুর বিভীষিকা। কানে ভেসে আসছে কেবল তরবারীর ঝনঝনানি, ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি ও বীরবিক্রমদের হুংকার। রক্তের বন্যা বয়ে যাচ্ছে পুরো ময়দান জুড়ে। তথাপি তিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। বীরত্বের সাথে লড়াই করে এক সময় শহিদ হয়ে গেলেন। মুসলিম বাহিনীর পতাকা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। পতাকাবিহীন মুসলিম বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ল। রাসুল -র নিযুক্ত তিনজন সেনাপতির সবাই শাহাদাত করেছেন। এখন কে পালন করবেন সেনাপতির দায়িত্ব? কে উঁচু করে ধরবে মুসিলম পতাকা?
হঠাৎ সাবিত বিন আকরান এগিয়ে এলেন। পতাকা উঁচিয়ে ধরে বলতে লাগলেন- হে লোকসকল, তোমরা আমার দিকে আসো!
লোকেরা এসে তার কাছে জমা হল। তিনি বললেন, তোমাদের সেনাপতি নির্বাচন কর।
সবাই বলে উঠল, আপনিই আমাদের সেনাপতির দায়িত্ব পালন করুন।
তিনি বললেন, না, আমি এ পদের যোগ্য নই। তোমরা অন্য কাউকে নির্বাচন কর।
লোকেরা বলল, তাহলে খালিদ বিন ওয়ালিদ পালন করবেন সেনাপতির দায়িত্ব।
খালিদ বিন ওয়ালিদ এগিয়ে এলেন। ইসলামের পতাকাটি হাতে তুলে নিলেন। পুনরায় যুদ্ধ শুরু হল। রাত পর্যন্ত যুদ্ধ চালতে থাকল। রাতে খালেদ বিন ওয়ালিদ সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি মাদিনায় যাবেন। সেখান থেকে আরো কিছু সৈন্য জোগাড় করে আনবেন। কিন্তু সামান্য ভেবে তিনি বললেন, আমরা যদি মদিনায় যাই, তাহলে শত্রুপক্ষ ভাববে, আমরা পালিয়ে গেছি। তখন তারা আমাদের পিছু ধাওয়া করবে। এতে আমাদের বহু যোদ্ধা শহিদ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই, এখন আমাদের আগামীকালের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
তিনি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। ডানপাশের সৈন্যদেরকে বামপাশে নিয়ে গেলেন। আর বাম পাশের সৈন্যদেরকে ডান পাশে।
নিয়ে এলেন। সাদার স্থানে নীল আর নীলের স্থানে হলুদ এবং হলুদের স্থানে লাল রং দিয়ে ঝান্ডার রূপ বদলালেন।
সকালে রোমানদের ডান দিকের সৈন্যদল এসে দেখে নতুন বাহিনী নতুন পতাকা। বাম দিকের সৈন্যদলও দেখে একই অবস্থা। তখন তারা ধারণা করল, নিশ্চয় মুসলমাদনের জন্য সাহায্যকারী দল চলে এসেছে। তাদের মাঝে বিষয়টি দারুণ আতঙ্ক ছড়াল। তারা ভয় নিয়ে যুদ্ধ শুরু করল। মুসলিমরা নব উদ্যমে যুদ্ধ করতে লাগল
খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মুতার যুদ্ধে আমার হাতে নয়টি তরবারি ভেঙে যায়। পরিশেষে আমার হাতে কেল একটি ইয়েমেনি পাতের তৈরী তরবারি একটি তরবারী ছিল। ভয়ানক যুদ্ধ শেষে দুটি দলই স্ব স্ব স্থানে ফিরে গেল। মুসলিম সেনাপতি খালেদ বিন ওয়ালিদ মুসলিম বাহিনীকে মদিনায় সুসংবাদ প্রেরণের নির্দেশ দেন। বারোজন মুসলিম শাহাদাত বরণ করলেও কাফেরদের নিহত হয়েছে অসংখ্য। এই হল সংক্ষিপ্ত মুতার যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
মদিনায় খরব পৌঁছল। রাসুল সকলকে মসজিদে সমবেত হতে বললেন। সকলে এলো। রাসুল বললেন- আমি তোমাদের বাহিনীর সংবাদ বলব?
সাহাবিরা বলল, অবশ্যই, ইয়া রাসুলাল্লাহ।
রাসুল বললেন, যায়েদ প্রথমে পতাকা হাতে যুদ্ধ শুরু শাহাদাত বরণ করে। তোমরা তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করো। সাহাবিরা দোআ করলেন- হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। তার প্রতি রহম করুন।
অতঃপর পতাকা তুলে নেয় জাফর বিন আবু তালিব। সে-ও শাহাদাত বরণ করে। তোমরা তার জন্যেও দোআ কর। (এ কথা বলার সময় রাসুল -র দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে পড়ে)।
সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। তার প্রতি রহম করুন।
রাসূল বললেন, এরপর পতাকা তুলে নেয় আবদুললাহ বিন রাওয়াহা। তাকেও শহিদ করে দেয়া হয়। তার জন্যেও তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর।
সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন। তার প্রতি রহম করুন।
তারপর রাসুল বললেন, এরপর পতাকা তুলে নেয় আল্লাহর তরবারি (খালেদ বিন ওয়ালিদ)। তার হাতে আল্লাহ মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন।
রাসুল জাফর-র ঘরে গেলেন। তার বিধবা স্ত্রী ও তার এতিম শিশুদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য। শিশুগুলো তাদের বাবাকে খুব ভালোবাসতো। আবিসিনিয়ায় দীর্ঘ সময় তারা তাদের বাবার সাথে কাটিয়েছিল। বাবার ছিল তাদের পৃথিবী। তাদের খেলার সাথী। বাবা তাদেরকে আদর করে খাইয়ে দিতো। তারাও বাবার মুখে খাবার তুলে দিত। বাবার খুশিতে হাসতো তারা, বাবার খুশিতে কাঁদতো। বাবার চুমুর বিনিময়ে তারাও চুমু উপহার দিতো। বাবা তাদের রাগ ভাঙাতেন। আদরে সোহাগে মান ভাঙাতেন। কাঁদলে চোখের পানি মুছে দিতেন। ত্রিশের কোটা পার না করা তাদের সেই বাবা আজ পৃথিবীতে নেই। ইসলামের জন্য তিনি তার জীবন উৎসর্গ করে পরপারে চলে গেছেন।
রাসুল ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আসমা নিজেকে পর্দায় রেখে রাসুল -কে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। রাসুল ঘরে প্রবেশ করেই বললেন, আমার ভাতিজাদেরকে ডাকো। আসমা বলেন, আমি তাদেরকে ডাকলাম। মুরগির বাচ্চা যেমন ডাক পেয়ে একত্রে দৌঁড়ে আসে, তারাও তেমনি দৌঁড়ে এসে রাসুল-কে ঘিরে ধরল। তাঁকে জড়িয়ে চুমু খেলো। প্রথমে তারা ভেবেছিল তাদের পিতা জাফর এসেছে। আসমা বলেন, আমি তাদেরকে গোসল দিয়ে পরিপাটি সাজিয়ে রেখেছিলাম। আটার খামির করে রুটি বানিয়ে জাফরের আগমনের অপেক্ষা করছিলাম। বাচ্চারাও তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমি দেখলাম, রাসুল তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম- ইয়া রাসুলাল্লাহ, জাফরের কোনো সংবাদ এসেছে?
রাসুল কোনো জবাব দিলেন না।
আমি আবার জানতে চাইলাম- আপনি কি জাফরের কোনো খবর পেরেছেন?
রাসুল ﷺ বললেন, জাফর শহিদ হয়ে গেছে।
বললাম, আহা! তারা কি তাহলে ইয়াতিম হয়ে গেল?
রাসুল ﷺ বললেন, তুমি কি তাদের ব্যাপারে দারিদ্রতার ভয় করছ? শোনো, দুনিয়া ও আখিরাতে আমিই তাদের অভিভাবক। একথা বলতে গিয়ে রাসূল ﷺ কেঁদে ফেললেন।
অতঃপর ঘর থেকে বের হতে হতে বললেন, তোমরা জাফরের পরিবারের জন্য তোমরা খাবারের ব্যবস্থা করো। কারণ, তাদের কাছে এমন একটি সময় এসে গেছে, যা তাদেরকে কর্মব্যস্ত হতে বাধ্য করবে।
📄 এক মহীয়সী নারীর দাস্তান
এটি খালিদ বিন ওয়ালিদের বীরত্বগাঁথা নয়। নয় আবু বকর, ওমর ওসমান, আলীরদের বাহাদুরী উপাখ্যান। এটি হল এক মহীয়সী নারীর বীরত্বের দাস্তান। দীনের খেদমতে তিনি যে অবদান রেখেছেন, অনেক পুরুষের পক্ষেও তা সম্ভব হয়নি। নরীদেরকেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দানে তিনি যে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন ইতিহাসে তার দৃষ্টান্ত বিরল। প্রসঙ্গত, ইসলামে নারীদের অবদান পুরুষ থেকে কোনো অংশে কম নয়। যমযমের পানি যিনি প্রথম পান করেছেন, সাফা মারওয়া যিনি প্রথম সায়ি করেছেন- তিনি ছিলেন একজন নারী। তিনি ইবরাহিম <sup>আ:</sup>-এর স্ত্রী ও ইসমাইল <sup>আ:</sup>-এর জননী- হাজেরা <sup>আ:</sup>। রাসুল ﷺ-এর প্রতি যিনি প্রথম ঈমান এনেছেন তিনি ছিলেন একজন নারী। তিনি খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ <sup>রা:</sup>। আল্লাহ <sup>সুব:</sup>-এর পথে যিনি প্রথম রক্ত ঝরিয়েছেন তিনি ছিলেন একজন নারী। তিনি সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত <sup>রা:</sup>।