📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 মহাপ্লাবনের ঘটনা

📄 মহাপ্লাবনের ঘটনা


রাসুল সাহাবাদের কাছে নূহ-র সম্প্রদায়ের তুফানে ডুবে যাওয়ার সময়কার এক মহিলার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি আল্লাহ তাআলার কঠোরতার প্রমাণ বহন করে।
পবিত্র কোরআনে নূহ-র সেই মহাপ্লাবনের কথা এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
فَدَعَا رَبَّهُ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرُ ﴿١٠﴾ فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُّنْهَمِرِ الله وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ ﴿﴾ وَحَمَلْتُهُ عَلَى ذَاتِ الْوَاحٍ وَ دُسُرٍ تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاءً لِمَنْ كَانَ كُفِرَ অতঃপর সে তার পালনকর্তাকে ডেকে বলল: আমি অক্ষম, অতএব, তুমি প্রতিবিধান কর। তখন আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারিবর্ষণের মাধ্যমে। এবং ভূমি থেকে প্রবাহিত করলাম প্রস্রবণ। অতঃপর সব পানি মিলিত হল এক পরিকল্পিত কাজে। আমি নূহকে আরোহণ করালাম এক কাষ্ঠ ও প্রেরেক নির্মিত জলযানে। যা চলত আমার দৃষ্টির সামনে। এটা তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ ছিল, যাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। [সূরা কামার: ১০-১৪]
পবিত্র কোরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ এ সম্পর্কে আরো বলেন-
إِنَّا لَمَّا طَغَا الْمَاءُ حَمَلْتُكُمْ فِي الْجَارِيَةِ
যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তখন আমি তোমাদের চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম। [সূরা হাক্কাহ, আয়াত : ১১]
তোমরা জানো, যখন মহাপ্লাবন দেখা দেয় তখন প্রকৃতি কেমন ভয়ংকর হয়ে ওঠে। গাছপালা উপড়ে যায়। ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়। পানির প্রবল স্রোতে শিশুর হাতের খেলনার মতো রাস্তা ঘাটের যানবাহনগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। চতুর্দিকে কেবল মানুষের আর্তচিৎকার শোনা যায়। সেসময় আক্রান্ত মানুষেরা বাঁচার জন্য তুচ্ছ খড়কুটোও আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। কেউবা গাছে ঝুলে, কেউবা পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পানি তাদের অতল গহ্বরে তলিয়ে নিয়ে যায়। এসব ঘটনা সবই আল্লাহ-র পক্ষ থেকে মানুষদের জন্য উপদেশ হয়ে থাকে। যেমন তিনি বলেন, لِنَجْعَلَهَا لكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَا أُذُنٌ وَاعِيَةٌ
যাতে এ ঘটনা তোমাদের জন্যে স্মৃতির বিষয় হয় এবং কান আটকে উপদেশ গ্রহণের উপযোগীরূপে স্মরণ রাখে। [সূরা হাক্কাহ, আয়াত : ১২]
বাস্তবিকই সেই ঘটনাটিতে মানুষদের জন্য রয়েছে উপদেশ। রাসুল -ও উপদেশ স্বরূপ সাহাবায়ে কেরামের কাছে নূহ এর সময়কার সেই ঘটনাটি বর্ণনা করছিলেন। তিনি বললেন, নূহ-র কাওমের এক মহিলা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পর তুফান শুরু হয়ে গেল। আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি নামল। সবকিছু তলিয়ে নিয়ে গেল। বৃষ্টি পানি একাধারে জমিন, উপত্যকা এমনকি পাহাড়ের চূড়াও ভাসিয়ে নিয়ে গেল। মাটির নিচ থেকেও পানি বের হচ্ছিল।
মহিলাটি তার বাচ্চাকে নিয়ে দ্রুত দৌঁড়াচ্ছিল। পানি বাড়তে থাকায় সে তার সন্তানকে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিল। কিছুটা স্বস্তি পেল। মনটা প্রবোধ দিল এই ভেবে যে, সন্তানটির জীবন আর বিপন্ন হবে না। পানি এতদূর পর্যন্ত আসবে না। কিন্তু, পাহাড়ের চূড়ায়ও যখন পানি পৌছে গেল, তখন সে তার সন্তানকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখল। পানি বুক পর্যন্ত উঠে গেলে সন্তানকে নিজের কাধে তুলে নিল। বাচ্চটিকে পানি বাঁচাতে তাকে উপরের দিকে তুলে রাখল। পানি গলা পর্যন্ত উঠে গেল। মহিলাটি সন্তানটিকে দুইহাতে মাথার উপরে তুলে ধরল। পানি আরও বেড়ে গেলে। অতঃপর সে নিজে মারা গেল এবং তার সন্তানটিও মারা গেল।
রাসুল বলেন, আল্লাহ যদি নূহ-র কওমের কারও ওপর দয়া করতেন, তাহলে সেই শিশুটির মায়ের ওপর তিনি দয়া করতেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন- كَّذَّبُوا بِـَٔايَـٰتِنَا كُلِّهَا فَأَخَذْنَـٰهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍ مُّقْتَدِرٍ
তারা আমার সকল নিদর্শনের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর আমি পরাভূত কারী, পরাক্রমশালীর ন্যায় তাদেরকে পাকড়াও করলাম। [সূরা ক্বামার, আয়াত: ৪২]

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আল্লাহর দয়া অপরিসীম, তাই বলে...

📄 আল্লাহর দয়া অপরিসীম, তাই বলে...


বন্ধুগণ, আমরা জানি, আল্লাহ আমাদের বাবা মায়ের চেয়েও আমাদের প্রতি বেশি দয়ালু। কিন্তু, তাই বলে তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। মনে করো, কেউ একজন সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকল আর বলল, আল্লাহ তো অসীম দয়ালু। আমার মা বাবার চেয়েও অধিক মেহেরবান। তিনি ঠিক মাফ করে দেবেন।
কেউ সুদ খেল, চুরি করল, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করল আর মনে মনে বলল, আল্লাহ -র দয়া অপরিসীম। তিনি বাবা মায়ের চেয়েও বেশি অনুগ্রহশীল। তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। এমনটি ভাবা যাবে না। তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কথা ভেবে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া যাবে না। বরং একজন মুমিন ব্যক্তির অন্তরের অবস্থা সব সময় ভয় এবং আশার মাঝামাঝি দোদুল্যমান থাকতে হবে। তাকে তার গুনাহের ব্যাপারে সর্বদা শঙ্কিত থাকতে হবে। মনে মনে এই ভয় রাখতে হবে যে, যদি আল্লাহ আমাকে গুনাহের জন্য পাকড়াও করেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেবে জন্য তার সামনে দাঁড় করান, তাহলে আমার রক্ষা নেই। পাশাপাশি তাঁর অসীম দয়ার কারণে ক্ষমা পাওয়ার আশাও পোষণ করতে হবে। তাই তো রাসুল কবিরা গুনাহের আগে ছগিরা গুনাহের ব্যাপারে সতর্ক করতেন।
এক যুদ্ধের ঘটনা। রাসুল ﷺ স্বয়ং সেই যুদ্ধে উপস্থিত। তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ছিল এক গোলাম। যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করল। মুসলিম বাহিনীর সাথে গনিমত হিসেবে প্রাপ্ত অনেক মালামাল ছিল। যুদ্ধ শেষে مسلمانগণ যখন ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেসময় গোলামটি রাসুল-র উষ্ট্রীর কাছে এগিয়ে এল। সে রাসুল-র মালামাল উটের ওপর রেখে রশি দিয়ে তা বাঁধছিল। হঠাৎ লুকিয়ে থাকা শত্রুপক্ষেপর একটি তীর এসে তার বুকে বিঁধল। বালকটি তৎক্ষণাৎ মুত্যুবরণ করল। তার মৃত্যু দেখে সবাই আল্লাহু আকবার বলে তাকবির ধ্বনি দিল। সবাই বলবলি করতে লাগল, এই গোলামটি নিশ্চিত জান্নাতী। কারণ সে আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেছে। তাছাড়া বালকটি পরিবার-পরিজন ছেড়ে রাসুল-র খেদমতে যুদ্ধে ক্ষেত্রে এসে শাহাদাত বরণ করেছে। সে তো অবশ্যই জান্নাতী।
সাহাবায়ে কেরামকে এসব বলতে শুনে রাসুল ﷺ বললেন-
কখনই নয়; বরং গনিমতের মালামাল বন্টনের পূর্বে সে যে চাদরটি চুরি করেছে সে কারণে তার কবরে আগুন জালবে। [মুসতাদরাকে হাকিম : ৩৩১০]
আল্লাহ বলেন-
وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيمَةِ
আর যে লোক কোনো কিছু গোপন করবে সে কেয়ামতের দিন সেই গোপন বস্তু নিয়ে আসবে। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬১]
আসল ঘটনা হল টি গনিমতের মাল থেকে একটি চাদর সরিয়ে ছিল। তাই রাসুল তার ব্যাপারে একথা বললেন।
একথা শুনে এক ব্যক্তি রাসুল -র কাছে এলো। তার সাথে কিছু মাল ছিল। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এগুলো গ্রহণ করুন। আমি এগুলো গনিমতের মাল থেকে নিয়েছিলাম।
অতঃপর রাসুল বললেন কেউ যদি জুতার ফিতার পরিমাণ কোনো বস্তুও আত্মসাৎ করে, আল্লাহ তার থেকে এর হিসাবও গ্রহণ করবে। [বোখারী]
তাই আল্লাহ-র অসীম দয়ার ওপর ভরসা করে পাপে লিপ্ত হওয়া যাবে না। আবার তাঁর অপরিসীম অনুগ্রহ থেকে একেবারে নিরাশও হওয়া যাবে না।
আল্লাহ বলেন- قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ) বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের ওপর যুলুম করছে তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সূরা যুমার, আয়াত: ৫৩]
হ্যাঁ, আমরা আল্লাহ-র দয়া ও ক্ষমার আশা করব। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন এ কথা ভেবে পাপে জড়াব না। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ অসীম দয়ালু ও অধিক ক্ষমাশীল একথা যেমন সত্য, তেমনি সত্য তিনি অত্যধিক কঠিন শাস্তিদাতা। অতএব, আমাদেরকে এ দুটোর মাঝে সমন্বয় করে চলতে হবে। এ ব্যাপারে অন্যদেরও সতর্ক করতে হবে।
আল্লাহ-র কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে আপন রহমতের ছায়ায় ঢেকে নিন। আমাদের সকল পাপ মাফ করে দিন এবং আমাদেরকে হেদায়াতের ওপর অটল অবিচল রাখুন।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 জাহাজের আরোহীদের গল্প

📄 জাহাজের আরোহীদের গল্প


এরা এই জাহাজের আরোহী? তারা কি ওই সকল লোক, যাদের সম্পর্কে রাসুল বলেছিলেন-
একটি দল জাহাজে ভ্রমণ করবে। তাদের কেউ জাহাজের ওপরের তলায় স্থান পাবে, কেউ নিচের তলায়?
নাহ, এখানে তারা উদ্দেশ্য নয়।
তাহলে কি এরা ইউনুস এর জাতি? যারা ইউনুস -কে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছিল। অতঃপর মাছ এসে তাকে গিলে ফেলেছিল? আমরা কি সেই নৌযানের কথা বলছি?
নাহ, তাও নয়।
আসলে আমাদের এই গল্প অন্য এক জাহাজের আরোহীদের নিয়ে। সেটি ছিল مسلمانوں প্রথম সমুদ্র সফর।
আচ্ছা, শুরু থেকেই বলি-
ইসলামের তখন সূচনালগ্ন। রাসুল সবে দীনের দাওয়াত দিতে শুরু করেছেন। বেশ কয়েকজন তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে। কিন্তু কাফের শ্রেণি তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। তারা মক্কায় রাসুল ও তাঁর সাথীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলল। বেলাল ও আম্মার -র ওপর কঠিন অত্যাচার চালালো। এ অত্যাচারের সিংহভাগ শিকার ছিল মুসলিম গোলামগণ। তাদের কাউকে রক্তাত্ব করা হতো চাবুকের নির্মম আঘাতে। কাউকে কষ্ট দেওয়া হতো আগুনে পুড়িয়ে। কাউকে রাখা হতো খেজুরের ডালে ঝুলিয়ে। এছাড়াও আরো নানাভাবে তাদেরকে নিপীড়ন করা হতো।
ফলে রাসুল মক্কা ও তার আশপাশে এমন একটি স্থান খুঁজছিলেন যেখানে সাহাবিগণ যেখানে হিজরত করে যেতে পারেন। মুক্তি পেতে পারেন কাফেরদের এই নির্মম অত্যাচার থেকে। একদিন রাসুল সাহাবিদেরকে বললেন, আবিসিনিয়ায় একজন রাজা আছেন। যার কাছে কেউ অত্যাচারিত হয় না। তোমরা সেখানে চলে যাও।
সাহাবিগণ রাসুল-র নির্দেশ পেয়ে হিজরতের প্রস্তুতি নিলেন। পুরুষ মহিলা মিলে প্রায় আশি জন হল। তারা এমন এক দেশে হিজরতের জন্য প্রস্তুত হলেন যা ছিল তাদের মাতৃভূমি থেকে বহু দূরের অপরিচিত একটি দেশ। এর আগে তারা কেউ সে দেশে যাননি। জানেন না তাদের ভাষাও। তথাপি তারা সেখানে হিজরত করলেন।
আবিসিনিয়ার সেসময়কার বাদশাহর নাম ছিল নাজ্জাশী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও ন্যায়পরায়ণ। ছিলেন খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী। পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। জাফর বিন আবু তালেব সাহাবাদেরকে সাথে নিয়ে তাকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে শুনিয়েছিলেন। তাকে আহবান জানিয়েছিলেন ইসলাম গ্রহণের। নাজ্জাশী তাদের নিকট ঈসা সম্পর্কে مسلمانوں কী বিশ্বাস- তা জানতে চাইলেন। সাহাবাদের একজন সূরা মারইয়াম তেলাওয়াত করে ঈসা সম্পর্কে মুসলমানদের আকিদা বিশ্বাসের কথা তুলে ধরলেন। এ শুনে নাজ্জাশী ইসলাম গ্রহণ করে নিলেন। অতঃপর বাদশাহ মুসলিম মুহাজিদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা আমার দেশে মুক্ত ও স্বাধীন। যাক আলোচনা চলছিল জাহাজের আরোহীদের নিয়ে। আবসিনায় হিজরতকারী সাহাবিরা হলেন সেই জাহাজের যাত্রী। তারা জাহাজে করে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন। দেখতে দেখতে সাত-আট বছর কেটে গেল। এরই মধ্যে রাসুল মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছেন। তিনি আবিসিনায় হিজরতকারীদের মদিনায় আসতে বলেননি। সময় বয়ে চলল। নবীজির মদিনায় হিজরতের এটি সপ্তম বছর চলছে। আর আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীদেরও পনেরো বছর পূর্ণ হল। হিজরতে সময় যারা যুবক ছিল এখন তারা বৃদ্ধ। শিশুরা প্রাপ্ত বয়স্ক। কিশোরেরা যুবক। শুরু হয়েছে এক নতুন প্রজন্মের।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 হাযা সানা ইয়া উম্মা খালেদ!

📄 হাযা সানা ইয়া উম্মা খালেদ!


মুসলমানদের যে সকল সন্তান আবিসিনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছে তাদের মাঝে একজনের নাম উম্মে খালিদ বিনতে আস। ছোট্ট ফুটফুটে একটি মেয়ে। সে তার মা বাবার সাথে মদিনায় চলে এলো। একদিনের কথা। রাসূল ﷺ কে কেউ একজন একটি কাপড় হাদিয়া দিল। কাপড়টিতে বিভিন্ন নকশা আঁকা ছিল। রাসুল উম্মে খালিদকে ডেকে পাঠালেন। সে আসার পর রাসূল নিজ হাতে তার গায়ে কাপড়টি পরিয়ে দিয়ে বললেন-
هَذَا سَنَا يَا أُمَّ خَالِدٍ هَذَا سَنَا হাবশি ভাষায় এর অর্থ হল- এটা অনেক সুন্দর হে উম্মে খালিদ। ছোট্ট শিশুটির জন্ম আবিসিনিয়ায়। মাতৃভাষা আরবির চেয়ে হাবশি ভাষায় সে অধিক পারদর্শি। তাই রাসুল তার সাথে হাবশি ভাষায় কথা বললেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00