📄 কঠোরতা নয় কোমলতা
রাসুল সুসংবাদ প্রদানের মাধ্যমে মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার করতেন। আল্লাহর রহমতের কথা শুনিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করতেন। ভয় দেখিয়ে কাউকে দীনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতেন না। তিনি বলতেন- إِنَّمَا بُعِثْتُمْ مُيَسِّرِينَ لَا مُعَسِّرِينَ আমি কোমলতা প্রদর্শনের জন্য প্রেরিত হয়েছি, কঠোরতা প্রদর্শনের জন্য নয়। [বোখারী: ২২০]
মুয়ায বিন জাবাল ও আবু মুসা আশয়ারি-কে যখন তিনি ইয়ামেনের গভর্নর করে পাঠালেন, তখন তিনি তাদেরকে উপদেশ স্বরূপ বললেন- وَبَشِّرَا وَلَا تُنَفِّرَا তোমরা লোকদেরকে সুসংবাদ দেবে, ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেবে না। [বোখারী: ৩০৩৮]
অর্থাৎ, তোমরা মানুষদেরকে আশার বাণী শোনাবে। বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া ও ভালোবাসার কথা বলবে। তাদের প্রতি সহজতা প্রদর্শন করবে, কঠিনতা নয়। তোমরা নিজেরা আনুগত্যশীল হবে। পরস্পর মতবিরোধ করবে না।
একবার রাসুল ﷺ লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ فَمَنْ أَمَّ النَّاسَ فَلْيَتَجَوَّزْ فَإِنَّ خَلْفَهُ الضَّعِيفَ وَالْكَبِيرَ وَذَا الْحَاجَةِ
হে জনতা, তোমাদের মধ্যে কিছু ইমাম এমন আছে যারা আল্লাহর বান্দাদেরকে আল্লাহর এবাদতের প্রতি বিরক্ত ও তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। সাবধান! তোমাদের মধ্যে যে ইমামতি করবে, সে যেন সালাতকে সংক্ষিপ্ত করে। কেননা তার পেছনে বৃদ্ধও থাকতে পারে, বালকও থাকতে পারে এবং কর্মস্থলে যাওয়ার তাড়া আছে এমন লোকও থাকতে পারে। [বোখারী: ৬১১০]
সালাত সংক্ষিপ্ত করার অর্থ এই নয় যে, তাড়াহুড়ো করে ত্রুটিপূর্ণভাবে সালাত আদায় করবে। বরং এর অর্থ হল মুসল্লীদের সময় ও অবস্থার বিবেচনায় ইমাম কেরাত গ্রহণ করবে। সুতরাং, যে ইমাম সালাতকে প্রলম্বিত করছে, সে সুদীর্ঘ সময় ধরে ইবাদত করা সত্ত্বেও মানুষকে দীন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
অতএব, যে মালিক শ্রমিকের যথাযথ অধিকার দিচ্ছে না, সেকি মানুষকে দীন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে না?
যে ব্যক্তি অমুসলিমদের সাথে সম্পাদিত বিভিন্ন কাজ-কারবারে তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করছে, সে কি তাদেরকে দীনের প্রতি বিতশ্রদ্ধ করছে না?
যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশির সাথে ভালো আচরণ করে না, চাই সে প্রতিবেশী মুসলিম হোক বা অমুসলিম- সে কি তাদেরকে দীন থেকে দূরে বিতাড়িত করছে না?
যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অসদাচরণ করছে, সে কি তাকে দীন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে না?
বস্তুত, সে যেন প্রকারান্তে এটাই বোঝাচ্ছে যে, পারস্পরিক আচরণের ক্ষেত্রে ইসলাম রূঢ়তাকে প্রশ্রয় দেয়(!)। আসলে এই শ্রেণির লোকেরা তাদের এ সকল আচরণের মাধ্যমে ইসলামকে কলঙ্কিত করছে। তাদের এহেন কর্মকান্ডের ফলে ইসলাম বিরোধী শক্তি আরো প্রবল হচ্ছে।
আসলে, মানুষ যত বেশি দীনের প্রতি আনুগত্যশীল হয়, তত বেশি সে আল্লাহর রহমতের কাছাকাছি চলে আসে। হ্যাঁ, অবশ্যই আল্লাহ -র দয়া অনেক ব্যাপৃত। তাই বলে আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর ভরসা করে পাপে লিপ্ত হওয়া কারো জন্যেই সমীচীন নয়। কারণ, মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ শান্তির মতো শাস্তি প্রদানেও পরাঙ্গম।
📄 জমিন তাকে গ্রাস করে নিল
মুসা এর সময়ের কথা। বনি ইসরাইলের এক লোক সবসময় মুসা আ. কে কষ্ট দিত। মুসা আ. আল্লাহ-র কাছে তার বিরুদ্ধে নালিশ করলেন। হে আমার রব, এই লোকটি আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। সে আমার দাওয়াতকে অস্বীকার করে। সর্বত্র আমার বিরুদ্ধাচরণ করে। আমাকে লাঞ্ছিত করে। দয়া করে আপনি আমার পক্ষ থেকে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করুন।
আল্লাহ মুসা-র আরজি শুনে বললেন, হে মুসা! এর শাস্তির ভার আমি তোমার হাতে ন্যস্ত করলাম। তুমি যদি আকাশকে নির্দেশ দাও তাহলে আকাশ পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করে তাকে ধ্বংস করে দেবে। তুমি যদি জামিনকে নির্দেশ দাও, তাহলে জমিন তাকে গ্রাস করে নেবে।
কিছুদিন পরের কথা। সেই লোকটির সাথে মুসা-র রাস্তায় দেখা হল। সে আগের মতোই মুসা কে নানা কটুকথায় জর্জরিত করল। মুসা রেগে গেলেন। তিনি জমিনকে বললেন, হে জমিন একে গ্রাস করে নাও। তৎক্ষণাৎ জমিন ফেটে গেল এবং তাকে হাঁটু পর্যন্ত গ্রাস করে নিল।
সে কাকুতি মিনতি করে বলতে লাগল, হে মুসা, আমি তাওবা করলাম। আমাকে সাহায্য করো। আমাকে সাহায্য করো। মুসা পুনরায় জমিনকে নির্দেশ দিলেন, হে জমিন, তাকে গ্রাস করে নাও। এবার জমিন তাকে কোমর পর্যন্ত গ্রাস করে নিল।
সে অবিরাম কাকুতি মিনতি করে যাচ্ছিল। হে মুসা, আমি তাওবা করলাম। আমাকে সাহায্য করো। এভাবে বুক পর্যন্ত ও একসময় জমিন তাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলল। আল্লাহ মুসা -এর প্রতি ওহি পাঠালেন-
يَا مُوسَى مَا أَقْسَى قَلْبُكَ وَعِزَّتِي وَجَلَالِي لَوْ اسْتَغَاتَ بِيْ لَا غَيْتُه হে মুসা! কত কঠিন হৃদয়ের তুমি। শপথ আমার ইজ্জত ও সম্মানের, যদি সে একটিবারের জন্য আমার কাছে এভাবে সাহায্য প্রার্থনা করত, তাহলে আমি অবশ্যই তাকে সাহায্য করতাম।
তাই একথা সত্য যে, আল্লাহ অসীম দয়ালু। কিন্তু একইসাথে তিনি কঠিন শাস্তিদাতাও বটে।
📄 মহাপ্লাবনের ঘটনা
রাসুল সাহাবাদের কাছে নূহ-র সম্প্রদায়ের তুফানে ডুবে যাওয়ার সময়কার এক মহিলার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি আল্লাহ তাআলার কঠোরতার প্রমাণ বহন করে।
পবিত্র কোরআনে নূহ-র সেই মহাপ্লাবনের কথা এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
فَدَعَا رَبَّهُ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرُ ﴿١٠﴾ فَفَتَحْنَا أَبْوَابَ السَّمَاءِ بِمَاءٍ مُّنْهَمِرِ الله وَفَجَّرْنَا الْأَرْضَ عُيُونًا فَالْتَقَى الْمَاءُ عَلَى أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ ﴿﴾ وَحَمَلْتُهُ عَلَى ذَاتِ الْوَاحٍ وَ دُسُرٍ تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاءً لِمَنْ كَانَ كُفِرَ অতঃপর সে তার পালনকর্তাকে ডেকে বলল: আমি অক্ষম, অতএব, তুমি প্রতিবিধান কর। তখন আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারিবর্ষণের মাধ্যমে। এবং ভূমি থেকে প্রবাহিত করলাম প্রস্রবণ। অতঃপর সব পানি মিলিত হল এক পরিকল্পিত কাজে। আমি নূহকে আরোহণ করালাম এক কাষ্ঠ ও প্রেরেক নির্মিত জলযানে। যা চলত আমার দৃষ্টির সামনে। এটা তার পক্ষ থেকে প্রতিশোধ ছিল, যাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। [সূরা কামার: ১০-১৪]
পবিত্র কোরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ এ সম্পর্কে আরো বলেন-
إِنَّا لَمَّا طَغَا الْمَاءُ حَمَلْتُكُمْ فِي الْجَارِيَةِ
যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তখন আমি তোমাদের চলন্ত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম। [সূরা হাক্কাহ, আয়াত : ১১]
তোমরা জানো, যখন মহাপ্লাবন দেখা দেয় তখন প্রকৃতি কেমন ভয়ংকর হয়ে ওঠে। গাছপালা উপড়ে যায়। ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়। পানির প্রবল স্রোতে শিশুর হাতের খেলনার মতো রাস্তা ঘাটের যানবাহনগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। চতুর্দিকে কেবল মানুষের আর্তচিৎকার শোনা যায়। সেসময় আক্রান্ত মানুষেরা বাঁচার জন্য তুচ্ছ খড়কুটোও আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। কেউবা গাছে ঝুলে, কেউবা পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পানি তাদের অতল গহ্বরে তলিয়ে নিয়ে যায়। এসব ঘটনা সবই আল্লাহ-র পক্ষ থেকে মানুষদের জন্য উপদেশ হয়ে থাকে। যেমন তিনি বলেন, لِنَجْعَلَهَا لكُمْ تَذْكِرَةً وَتَعِيَهَا أُذُنٌ وَاعِيَةٌ
যাতে এ ঘটনা তোমাদের জন্যে স্মৃতির বিষয় হয় এবং কান আটকে উপদেশ গ্রহণের উপযোগীরূপে স্মরণ রাখে। [সূরা হাক্কাহ, আয়াত : ১২]
বাস্তবিকই সেই ঘটনাটিতে মানুষদের জন্য রয়েছে উপদেশ। রাসুল -ও উপদেশ স্বরূপ সাহাবায়ে কেরামের কাছে নূহ এর সময়কার সেই ঘটনাটি বর্ণনা করছিলেন। তিনি বললেন, নূহ-র কাওমের এক মহিলা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পর তুফান শুরু হয়ে গেল। আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি নামল। সবকিছু তলিয়ে নিয়ে গেল। বৃষ্টি পানি একাধারে জমিন, উপত্যকা এমনকি পাহাড়ের চূড়াও ভাসিয়ে নিয়ে গেল। মাটির নিচ থেকেও পানি বের হচ্ছিল।
মহিলাটি তার বাচ্চাকে নিয়ে দ্রুত দৌঁড়াচ্ছিল। পানি বাড়তে থাকায় সে তার সন্তানকে নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিল। কিছুটা স্বস্তি পেল। মনটা প্রবোধ দিল এই ভেবে যে, সন্তানটির জীবন আর বিপন্ন হবে না। পানি এতদূর পর্যন্ত আসবে না। কিন্তু, পাহাড়ের চূড়ায়ও যখন পানি পৌছে গেল, তখন সে তার সন্তানকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখল। পানি বুক পর্যন্ত উঠে গেলে সন্তানকে নিজের কাধে তুলে নিল। বাচ্চটিকে পানি বাঁচাতে তাকে উপরের দিকে তুলে রাখল। পানি গলা পর্যন্ত উঠে গেল। মহিলাটি সন্তানটিকে দুইহাতে মাথার উপরে তুলে ধরল। পানি আরও বেড়ে গেলে। অতঃপর সে নিজে মারা গেল এবং তার সন্তানটিও মারা গেল।
রাসুল বলেন, আল্লাহ যদি নূহ-র কওমের কারও ওপর দয়া করতেন, তাহলে সেই শিশুটির মায়ের ওপর তিনি দয়া করতেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন- كَّذَّبُوا بِـَٔايَـٰتِنَا كُلِّهَا فَأَخَذْنَـٰهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍ مُّقْتَدِرٍ
তারা আমার সকল নিদর্শনের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। অতঃপর আমি পরাভূত কারী, পরাক্রমশালীর ন্যায় তাদেরকে পাকড়াও করলাম। [সূরা ক্বামার, আয়াত: ৪২]
📄 আল্লাহর দয়া অপরিসীম, তাই বলে...
বন্ধুগণ, আমরা জানি, আল্লাহ আমাদের বাবা মায়ের চেয়েও আমাদের প্রতি বেশি দয়ালু। কিন্তু, তাই বলে তাঁর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। মনে করো, কেউ একজন সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকল আর বলল, আল্লাহ তো অসীম দয়ালু। আমার মা বাবার চেয়েও অধিক মেহেরবান। তিনি ঠিক মাফ করে দেবেন।
কেউ সুদ খেল, চুরি করল, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করল আর মনে মনে বলল, আল্লাহ -র দয়া অপরিসীম। তিনি বাবা মায়ের চেয়েও বেশি অনুগ্রহশীল। তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। এমনটি ভাবা যাবে না। তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কথা ভেবে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া যাবে না। বরং একজন মুমিন ব্যক্তির অন্তরের অবস্থা সব সময় ভয় এবং আশার মাঝামাঝি দোদুল্যমান থাকতে হবে। তাকে তার গুনাহের ব্যাপারে সর্বদা শঙ্কিত থাকতে হবে। মনে মনে এই ভয় রাখতে হবে যে, যদি আল্লাহ আমাকে গুনাহের জন্য পাকড়াও করেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেবে জন্য তার সামনে দাঁড় করান, তাহলে আমার রক্ষা নেই। পাশাপাশি তাঁর অসীম দয়ার কারণে ক্ষমা পাওয়ার আশাও পোষণ করতে হবে। তাই তো রাসুল কবিরা গুনাহের আগে ছগিরা গুনাহের ব্যাপারে সতর্ক করতেন।
এক যুদ্ধের ঘটনা। রাসুল ﷺ স্বয়ং সেই যুদ্ধে উপস্থিত। তাঁর খেদমতে নিয়োজিত ছিল এক গোলাম। যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করল। মুসলিম বাহিনীর সাথে গনিমত হিসেবে প্রাপ্ত অনেক মালামাল ছিল। যুদ্ধ শেষে مسلمانগণ যখন ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেসময় গোলামটি রাসুল-র উষ্ট্রীর কাছে এগিয়ে এল। সে রাসুল-র মালামাল উটের ওপর রেখে রশি দিয়ে তা বাঁধছিল। হঠাৎ লুকিয়ে থাকা শত্রুপক্ষেপর একটি তীর এসে তার বুকে বিঁধল। বালকটি তৎক্ষণাৎ মুত্যুবরণ করল। তার মৃত্যু দেখে সবাই আল্লাহু আকবার বলে তাকবির ধ্বনি দিল। সবাই বলবলি করতে লাগল, এই গোলামটি নিশ্চিত জান্নাতী। কারণ সে আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করেছে। তাছাড়া বালকটি পরিবার-পরিজন ছেড়ে রাসুল-র খেদমতে যুদ্ধে ক্ষেত্রে এসে শাহাদাত বরণ করেছে। সে তো অবশ্যই জান্নাতী।
সাহাবায়ে কেরামকে এসব বলতে শুনে রাসুল ﷺ বললেন-
কখনই নয়; বরং গনিমতের মালামাল বন্টনের পূর্বে সে যে চাদরটি চুরি করেছে সে কারণে তার কবরে আগুন জালবে। [মুসতাদরাকে হাকিম : ৩৩১০]
আল্লাহ বলেন-
وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيمَةِ
আর যে লোক কোনো কিছু গোপন করবে সে কেয়ামতের দিন সেই গোপন বস্তু নিয়ে আসবে। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬১]
আসল ঘটনা হল টি গনিমতের মাল থেকে একটি চাদর সরিয়ে ছিল। তাই রাসুল তার ব্যাপারে একথা বললেন।
একথা শুনে এক ব্যক্তি রাসুল -র কাছে এলো। তার সাথে কিছু মাল ছিল। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এগুলো গ্রহণ করুন। আমি এগুলো গনিমতের মাল থেকে নিয়েছিলাম।
অতঃপর রাসুল বললেন কেউ যদি জুতার ফিতার পরিমাণ কোনো বস্তুও আত্মসাৎ করে, আল্লাহ তার থেকে এর হিসাবও গ্রহণ করবে। [বোখারী]
তাই আল্লাহ-র অসীম দয়ার ওপর ভরসা করে পাপে লিপ্ত হওয়া যাবে না। আবার তাঁর অপরিসীম অনুগ্রহ থেকে একেবারে নিরাশও হওয়া যাবে না।
আল্লাহ বলেন- قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ) বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের ওপর যুলুম করছে তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সূরা যুমার, আয়াত: ৫৩]
হ্যাঁ, আমরা আল্লাহ-র দয়া ও ক্ষমার আশা করব। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন এ কথা ভেবে পাপে জড়াব না। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ অসীম দয়ালু ও অধিক ক্ষমাশীল একথা যেমন সত্য, তেমনি সত্য তিনি অত্যধিক কঠিন শাস্তিদাতা। অতএব, আমাদেরকে এ দুটোর মাঝে সমন্বয় করে চলতে হবে। এ ব্যাপারে অন্যদেরও সতর্ক করতে হবে।
আল্লাহ-র কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে আপন রহমতের ছায়ায় ঢেকে নিন। আমাদের সকল পাপ মাফ করে দিন এবং আমাদেরকে হেদায়াতের ওপর অটল অবিচল রাখুন।