📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 সুযোগ হঠাৎই আসে

📄 সুযোগ হঠাৎই আসে


সুযোগ জিনিসটা এমনই। হঠাৎ আসে। সে প্রতিদিন আপনার দরজায় এসে করাঘাত করবে না। বরং আপনারই খুঁজে নিতে হবে সুযোগকে। কবি বলেন-
وَمَا نَيْلُ الْمَطَالِبِ بِالتَّمَنِّى : وَلَكِنْ تُؤْخَدُ الدُّنْيَا غَلَابًا
শুধু আশার পাখায় ভর করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা যায় না। কিন্তু পরিশ্রম ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অর্জন করা যা গোটা দুনিয়াটাই।
দেখো, উচ্চাশা এবং দৃঢ় মনোবল আবু হুরায়রা -কে কীভাবে মর্যাদার উচ্চাসনে পৌঁছে দিয়েছে। আজ পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ আবু হুরায়রা -কে চেনে।
তুমি যদি ইবতেদায়ি মাদরাসার কোনো ছাত্রকে প্রশ্ন করো, তুমি কি আবু হুরায়রাকে চেন?
সে বলবে, হ্যাঁ চিনি।
অথচ, আবু হুরায়রা সপ্তম হিজরীর খায়বার বিজয়ের আগ পর্যন্ত ইসলামই গ্রহণ করেননি। তথাপি তার উচ্চাশা ও সে আলোকে প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম তাকে ইসলামের ইতিহাসে একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 অন্য সাহাবিদের জীবন-চিত্র

📄 অন্য সাহাবিদের জীবন-চিত্র


তুমি খালেদ বিন ওয়ালিদ -এর জীবনেও দেখতে পাবে একই চিত্র। দেখতে পাবে আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী -এর জীবনেও। তদ্রূপ ওই সকল সাহাবি যারা ইসলামের ইতিহাসে সমাদৃত, যাদের আলোচনা এখনও مسلمانوں মুখে মুখে; তারা সকলেরই দীনের ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। তারা এমন লোক ছিলেন না যে, রাসুল -এর একবার সাহচর্য পেয়েই তুষ্ট হয়ে যেতেন। বরং সকলেই বারবার রাসুল -এর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। এমনকি যুদ্ধের সময়ও তারা আল্লাহর রাসুল -এর সান্নিধ্য পরিত্যাগ করতেন না।
বেলাল -কে দেখো, তিনি দীনের ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন বলেই জীবনের কঠিন যুদ্ধেও তিনি সত্যের ওপর অবিচল থাকতে পেরেছিলেন। আল্লাহর রাসুল -ও এ সকল উচ্চাকাঙ্ক্ষী লোকদের দেখে খুশি হতেন।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 বালক সাহাবীর উচ্চাশা

📄 বালক সাহাবীর উচ্চাশা


রাবিআ বিন কা'ব নামক এক বালক রাসুল -এর খাদেম ছিল। সে রাসুল -কে ওযুর পানি এগিয়ে দিত। মাত্র তের বছরের সে বালকের কর্মকান্ড ও উচ্চাশা রাসুল -কে অবাক করেছিল। বালকটি রাসুল -কে ওযুর পানি এনে দিত। কখনও কখনও সে সারা রাত রাসুল -এর দরজার সামনে ঘুমাতো আর অপেক্ষা করত যে, কখন রাসুল তার কাছে পানি চাইবেন।
একদিন সে রাসুল ﷺ কে ওযু করাচ্ছিল। রাসুল ﷺ তাকে বললেন হে রাবিয়া, তুমি আমার কাছে কিছু চাও।
রাবিয়া বিন কা'ব ছিল আসহাবে সুফফার একজন গরীব সাহাবি। গায়ের পোযাক জরাজীর্ণ। চেহারায় ক্ষুধার ছাপ। তাই ভালো পোষাক ও খাবার ছাড়া তার চাওয়ার আর কী-বা থাকতে পারে?
সে রাসুল ﷺ-কে বলল, আমাকে একটু ভাবতে সুযোগ দিন।
রাসুল ﷺ তাকে ভাবার সুযোগ দিলেন। বালকটি ভাবতে লাগল, রাসুল ﷺ-র কাছে কী চাইব? কিছুক্ষণ ভেবে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! জান্নাতে আমি আপনার সাথে থাকতে চাই।
রাসুল ﷺ বললেন, আচ্ছা তা ঠিক আছে, কিন্তু আরও কিছু চাও।
রাবিয়া তখন এই ভেবে একটু লজ্জা পেল যে, সে কিছু কম চেয়ে ফেলল না তো? তথাপি সে আবার বলল, আমার এটাই চাওয়া, আমি জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই। আর কিছু না।
তখন রাসুল ﷺ অবাক হলেন। বললেন, তুমি বেশি বেশি সেজদা করার মাধ্যমে এ উদ্দেশ্য পূরণে আমাকে সাহায্য করো।
যে নবী আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোআ করলে আল্লাহ আসমান থেকে সোনার পাহাড় এনে তাঁর হাতে তুলে দিতে পারেন, এমনটা জেনেও দু’বেলা খেতে না পারা এক বালক সাহাবী তাঁর কাছে শুধু একটা জিনিসই চাইল- আর তা হল জান্নাতে প্রিয় নবী ﷺ-র সাহচর্য লাভ।
আল্লাহ-র কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদের সকলকে দীনের ব্যাপারে উচ্চাশা পোষণ করার তাওফিক দান করুন।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 উচ্চাশা ছাড়িয়ে যায় মেঘমালাকেও

📄 উচ্চাশা ছাড়িয়ে যায় মেঘমালাকেও


দীনের পথে উচ্চাশা ও কঠিন পরিশ্রম করলে তা দূর করে সকল বাধা বিপত্তি। অতিক্রম করে ঘন মেঘমালাকেও। তখন এর নির্ভরশীলতা না থাকে কোনো সম্পদের ওপর, না থাকে শারীরিক শক্তি ওপর, না থাকে অতিপ্রাকৃতিক মেধার ওপর, না থাকে কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর ওপর। বরং এমন পবিত্র আত্মার ওপর থাকে তার নির্ভরশীলতা, যা হককে হক বলে চেনে। এবং ইসলামের অর্পিত দায়িত্ব আপন বলে গ্রহণ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00