📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আমার জীবনের একটি মজাদার গল্প

📄 আমার জীবনের একটি মজাদার গল্প


প্রায় বিশ-বাইশ বছর আগের কথা। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম সপ্তাহ পার করছি মাত্র। উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা ছাত্রের স্বভাব প্রকৃতি সম্পর্কে তোমাদের সবারই জানা। সে তখন মনে করে যে, সে বুঝি অনেক বড় হয়ে গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ সময় বাবারা সন্তানদের আলাদা গাড়ি দিয়ে দেয়। একাকী গাড়ি ড্রাইভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা শুরু করে। সে পড়াশোনার প্রাথমিক ধাপগুলো সমাপ্ত করে এসেছে। এখন রয়েছে শিক্ষা জীবনের সর্বশেষ ধাপে। এরপর পা রাখবে কর্মজীবনে।
তো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার প্রথম সপ্তাহ চলছে। আমাদের মাঝে কিতাব বিতরণ করা হল। বিভিন্ন কিতাবের সাথে শায়খ আশ শাওকানি -র বিখ্যাত কিতাব 'ফাতহুল কাদির ফিত তাফসির' আমাদেরকে দেয়া হল।
কিতাবটি ছয় খন্ডে বিভক্ত। আমরা এর আগে এত বড় বড় কিতাব পড়িনি। উচ্চমাধ্যমিকের কিতাবগুলো ছিল ছোট ছোট। সেসময় সম্ভবত কোনো কিতাবই ৮০ পৃষ্ঠার অধিক ছিল না। এখন আমাদেরকে দেয়া হল ছয় ছয় খন্ডের কিতাব। কিতাবগুলো হাতে পেয়ে সবাই তা খুলে দেখতে লাগল। আমার সহপাঠীরা মেধার দিক থেকে বিভিন্ন স্তরের ছিল।
অতঃপর আমি 'রাওজুল মুরবে' নামক গ্রন্থটি হাতে নিলাম। কলম বের করে তাতে আমার নাম লিখলাম- د. عبد الرحمن العريفي (ডক্টর আবদুর রহমান আরিফী)। আমার এক সহপাঠী এ লেখাটি দেখল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র আমি। তদুপরি ভর্তি হয়েছি মাত্র এক সপ্তাহ হল। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি তোমার নামের শুরুতে ড. (ডক্টর) লিখেছ কেন?
আমি বললাম, ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ যদি চান তাহলে আমি একদিন ডক্টর হবো। আল্লাহর ইচ্ছাতেই আমি উসূলদ দীন বিভাগে ভর্তি হয়েছি। আল্লাহর অনুগ্রহ হলে আমি ডক্টর হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
আমার কথা শুনে সে মুখে তিরস্কারের হাসি ফুটিয়ে বলল, সে স্বপ্ন যে বহুদূর। সবসময় ওই ই দেখবে, কখনও دکتور )ডক্টর) দেখবে না। অতঃপর সে তার তিরস্কারের ষোলকলা পূর্ণ করতে এটাও বলল যে, তবে হয়তো তুমি دجاجة )মুরগী) হবে; دكتور )ডক্টর) নয়। অতঃপর সে দিয়ে শুরু হয় এমন বিভিন্ন শব্দ আমার নামের শুরুতে যোগ করে ঠাট্টা করতে লাগল।
আমি তার কথা শুনে হাসলাম। তার তিরস্কার ও ঠাট্টার জবাবে কেবল বললাম, আর মাত্র কয়েকটি বছর। তারপর ইনশাআল্লাহ তোমার চোখ থেকে ধূলো সরে যাবে। এবং এর যথার্থতা তোমার সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
তারপর থেকে আমি সংকল্পে আরো দৃঢ় হলাম। যথাযথভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেলাম। আল্লাহ -র সাহায্য সর্বদাই আমার সাথে ছিল। তাঁর অনুগ্রহ ও তাওফিকে আমি শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করলাম।
গল্পটি বলে আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে, উচ্চাকাঙ্ক্ষার ম্যাজিক এমনই হয়ে থাকে। তোমার যদি কোনো কিছু অর্জনের অটুট লক্ষ্য থাকে। শুরু থেকেই থাকে তা বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বচ্ছ পরিকল্পনা। এবং কোনোভাবেই তুমি যদি সে লক্ষ্য থেকে দূরে সরে না যাও, তাহলে অবশ্যই তুমি চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছতে পারবে, ইনশাআল্লাহ। রাসুল -র প্রতি লক্ষ্য করুন। তিনি কোনো বিষয়ে 'চলছে তো চলুক' এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না; বরং তিনি সর্ববিষয়ে উত্তমতার সন্ধান করেছেন।
আমাদের একমাত্র আদর্শ রাসুল । যিনি ছিলেন একাধারে সফল শিক্ষাবিদ, শ্রেষ্ট আবিষ্কারক ও মহান বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 মিম্বের আবিস্কার

📄 মিম্বের আবিস্কার


রাসুল খেজুর গাছের একটি কান্ডে হেলান দিয়ে জুমার খুতবা দিতেন। একদিন একজন আনসার মাহিলা রাসুল -র কাছে এলেন। বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার ছেলে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে। আমি কি তাকে বলব আপনার জন্য একটি মিম্বর তৈরি কররে দিতে?
দেখো, সেই মহিলাটি ছিলেন আবিস্কারমনা। তিনি রাসুল -র সামনে তার একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছিলেন। রাসুল মানুষের নিত্য-নতুন পরিকল্পনা, অর্থবহ মতামত ও নব উদ্ভাবনের মূল্যায়ন করতেন। তিনি কখনও নতুনত্বের পথকে রুদ্ধ করে রাখেননি। তাই তো মহিলাটি তার অভিমত ব্যক্ত করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
তো রাসুল মহিলাটিকে কী বলেছিলেন? তিনি কি তাকে বলেছিলেন, মিম্বর বানানোর টাকাগুলো একত্রিত করে গরিব দুঃখিদের মাঝে বিলিয়ে দাও? নাকি বলেছিলেন, খোতবার মিম্বরে বসে বা খেজুর কান্ড ধরে দাঁড়িয়ে যেভাবেই দিই না কেন একই কথা। মিম্বর বানানোর কি দরকার? খোতবার কাজ তো চলছেই। নাকি তিনি মহিলার নব উদ্ভাবনী চিন্তার সাথে সহমত হয়েছিলেন?
হ্যাঁ, তিনি সহমতই হয়েছিলেন। তিনি তাকে তার পুত্রের মাধ্যমে মিম্বর তৈরি করতে বললেন।
অতঃপর মহিলাটির ছেলে সপ্তাহব্যাপী কাজ করে তিন স্তর বিশিষ্ট একটি মিম্বর তৈরি করে দিল। রাসুল তাতে বসে খোতবা দিতে লাগলেন। এতে চমৎকার একটি আবহ সৃষ্টি হল।
আগে তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। আর এখন কয়েক স্তর বিশিষ্ট মিম্বরে বসে খোতবা দিচ্ছেন। বিষয়টি আরো সুন্দর হল। এখন তিনি খোতবার সময় উপস্থিত লোকদের প্রতি আরো বিস্তৃত পরিসরে দৃষ্টি রাখতে পারছেন। আগে মুসল্লীর আধিক্যের কারণে হয়তো প্রথম চার পাঁচ কাতার পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি যেত। এখন তা আরো ব্যাপক হল। লোকদের সাথে তার দৃষ্টির যোগাযোগ আরো বৃদ্ধি পেল।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আরেকটি ঘটনা

📄 আরেকটি ঘটনা


আহযাবের যুদ্ধের সময় সালামান ফারসি রাসুল-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা পারস্যে শত্রু মোকাবেলায় পরিখা খনন করতাম। আমাদের সামনে একটি যুদ্ধ উপস্থিত। শত্রু বাহিনীও কাছাকাছি চলে এসেছে। সংখ্যায় তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি।
সালমান ফারসি-র প্রস্তাবে রাসুল কী বলেছিলেন? তিনি কি বলেছিলেন, না, আল্লাহর ওপর ভরসা করে বসে থাকো। পরিখা খনন করা অনেক কষ্টের। আমাদের তা করার প্রয়োজন নেই। আমাদের সাহায্যে ফেরেশতারা আকাশ থেকে নেমে আসবে। তাই আমরা কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা রাখবো।
না, তিনি এমনটি বলেননি। বরং তিনি বললেন, এটাতো উত্তম প্রস্তাব। এক্ষেত্রে উন্নত চিন্তার পথে এগোতে আমাদের কোনো বাধা নেই। অতঃপর তিনি সালমান ফারসী -এর পরামর্শ মোতাবেক পরিখা খননের নির্দেশ দিলেন।
প্রত্যেক দশজন লোককে প্রতি দশ হাত জায়গা খননের দায়িত্ব দিলেন। একইসাথে খননকৃত স্থানের জায়গার পাথরগুলো রাখার জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করলেন। যদি তাদের সামনে কোনো শক্তিশালী প্রস্তরখন্ড এসে পড়ে তাহলে সে অবস্থায় করণীয় সম্পর্কেও সকলকে অবহিত করলেন। এককথায়, রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবাদের উত্তম পরামর্শগুলো সাদরে গ্রহণ করতেন।
প্রিয় বন্ধুরা! আল্লাহ্ ﷺ আমাদেরকে যে দীন দিয়েছেন তাতে রয়েছে অন্তহীন সৌন্দর্য। যদি কারো হিম্মত হয় সুউচ্চ, তাহলে সে অর্জন করতে পারবে তার ঈপ্সিত বস্তুটি। তবে শর্ত হল, তাকে সঠিকভাবে, সঠিকপথে পরিশ্রম করতে হবে। অলসতাকে যে তার সঙ্গী বানিয়ে নেয়, জীবনে সে কখনও উন্নতির দেখা পায় না।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 উচ্চাশা ও পরিশ্রমের ফল

📄 উচ্চাশা ও পরিশ্রমের ফল


আবু হুরায়রা রা. যখন বার্ধক্যে পদার্পণ করলেন, তখন তার হাদিস বর্ণনার আধিক্য অনেককে অবাক করল। তারা বলতে লাগল, আরে আবু হুরায়রা রা. তো বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাদের এ উক্তি শুনে আবু হুরায়রা রা. বললেন, মানুষ এমনভাবে বলছে, যেন তারা আমার বিরুদ্ধে এ অপবাদ দিচ্ছে যে, আমি হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেছি।
আসলে তিনি কিভাবে অন্যান্যদের তুলনায় বেশি হাদিস বর্ণনা করেছিলেন তা শুনুন তার নিজের জবানেই-
আমি ছিলাম আহলে সুফফার একজন। আমার মুহাজির ভাইয়েরা যখন ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং আনসার ভাইয়েরা যখন নিজেদের সম্পদের দেখাশনা করতেন, তখন আমি রাসুলুল্লাহ -এর দরবারে পড়ে থাকতাম। আমি এক নগণ্য ব্যক্তি। কোনোরকমে আমার পেট পুরলেই হতো। তাতেই সন্তুষ্ট থাকতাম। রাসুল -এর সাহচর্য গ্রহণ করতাম। ফলে অনেক হাদিস যেগুলো আমার পক্ষে শোনা সম্ভব হতো সেটা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হতো না।
একদিন আমি রাসুল -কে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনার কাছ থেকে যে হাদিস শুনি তা তৎক্ষণাত মুখস্ত করে নিই। কিন্তু পরে তা ভুলে যাই। তখন রাসুল আমাকে বললেন, হে আবু হুরায়রা! তোমার চাদর প্রসারিত করো। আমি আমার গায়ে থাকা চাদরটি খুলে মাটিতে বিছিয়ে দিলাম। চাদরটি ছিল খুবই নগণ্য। আল্লাহর কসম, আমি দেখলাম, চাদরটির ওপর উকুন হাঁটছে।
আল্লাহর রাসুল আমার জন্য কয়েকটি দোআ করলেন এবং বললেন, এটিকে জড়িয়ে নাও। আমি চাদরটি বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। আল্লাহর কসম, এরপর থেকে আমি রাসুল থেকে যা শুনতাম তা কখনও ভুলতাম না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00