📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আন্দালুসের খলিফা

📄 আন্দালুসের খলিফা


বিপুলা এই পৃথিবীতে বিচিত্র মানুষের বসবাস। একেকজনের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা একেক রকমের। একেকজনের জীবনের লক্ষ্য একেক ধরণের। প্রত্যকেরে জীবন পরিচালনার স্টাইলেও রয়েছে ভিন্নতা। কেউ বা আবার নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে আশা-আকাঙ্ক্ষার মাঝেই। যেমন আল্লাহ বলেন-
لَيْسَ بِأَمَانِيكُمْ وَلَا أَمَانِي أَهْلِ الْكِتٰبِ مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ وَلَا يَجِدُ لَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا
তোমাদের আশার ওপরও ভিত্তি নয় এবং আহলে কিতাবদের আশার ওপরও নয়। যে কেউ মন্দ কাজ করবে, সে তার শাস্তি পাবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া নিজের কোনো সমর্থক বা সাহায্যকারী পাবে না। [সূরা নিসা, আয়াত: ১২৩]
অর্থাৎ, আল্লাহ বলেন, তোমারা কেবল আশার পাখায় ভর করেই জান্নাতে যেতে পারবে না। তেমনি আহলে কিতাবগণও জান্নাতে যাওয়ার যে আশা পোষণ করে থাকে, শুধু সেই আশা-কে সম্বল করেই তারা পারবে না জান্নাতে যেতে। কেননা, জান্নাত শুধু আশার ফল নয়। বরং কেউ যদি অন্যায় কিংবা পাপ করে, তবে তাকে এর শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাই, পাপ থেকে বেঁচে থাকার মাঝেই রয়েছে সাফল্য।
তদ্রূপ আশার ক্ষেত্রেও এরূপ বলা হয়ে থাকে যে, কেবল আশা দিয়েই সম্মান অর্জন করা যায় না। কেবল আকাঙ্ক্ষার আঘাতে যায় না শত্রুর কোনো ক্ষতি করা। সম্ভব নয় কোনো শিকার ধরাও।
তাই মানুষ যদি জান্নাতের সুখ-সমৃদ্ধির আশা করে। কিন্তু সেটি অর্জনের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে। তাহলে তার মাথার ওপর দিয়ে উড়ে চলা পাখিটি ভুনা হয়ে সামনে উপস্থিত হওয়ার স্বপ্ন কখনও সত্যি হবে না। তদ্রূপ যে ব্যক্তি কোনো দৃষ্টিনন্দন বাড়ি কিংবা কোনো বিলাসবহুল গাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেগুলো প্রাপ্তির প্রত্যাশা করে। কিন্তু এগুলো অর্জনের জন্য কোনোরূপ চেষ্টা-তদবির না করে। তাহলে তার এ আশা কখনও পূর্ণ হবে না। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। দুনিয়া এমনই হয়ে থাকে। যেমন আল্লামা শাওকি বলেন-
وَمَا نَيْلُ الْمَطَالِبِ بِالتَّمَنِّى * وَلَكِنْ تُؤْخَذُ الدُّنْيَا غِلَابًا
কেবল আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত হয় না কেনো কিছু, তবে প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম দ্বারা অর্জন করা যায় গোটা দুনিয়াটাই। আশাগুলো প্রাপ্তির রূপ নিয়ে ধরা দেয় তাদের কাছে যারা তা পূরণে দৃঢ়চেতা ও দুঃসাহসী। যারা তাদের আশাকে বাস্তব রূপ দিতে যথাযথ ঝুঁকি নেয় এবং গ্রহণ করে উদ্যোগ।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 গাধার চালক যখন খলিফা

📄 গাধার চালক যখন খলিফা


মুহাম্মাদ ইবনে আমের। সে আন্দালুসের অধিবাসী। একজন গাধা চালক। তার একটি গাধা ছিল। যেটি দিয়ে সে মালামাল ভাড়ায় এক স্থান হতে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার কাজ করত। তার দুজন বন্ধু ছিল। তাদের সাথে প্রতিদিন সে একই সাথে কাজে বের হত। বন্ধু দুজনেরও একটি করে গাধা ছিল। তারা কখনও মালামাল বহন করত। কখনও যাত্রী পরাপার করত। এভাবে তারা উপার্জন করত জীবিকা।
এক রাতের কথা। রাত্রিযাপনের জন্যে তারা তিনজন একটি জায়গায় আশ্রয় নিল। গাধাগুলো তাদের পাশেই বেঁধে রেখে তারা রাতের খাবার খেতে বসল। এ সময় মুহাম্মাদ বিন আমের তার দুই বন্ধুকে বলল, এই! তোমাদের কার মনে কী আশা? বল তো।
তাদের একজন বলল, আমার আশা আমি পাঁচটা গাধার মালিক হবো। যাতে আমি দৈনিক এক দেরহাম, দু'দেরহামের পরিবর্তে দশ দেরহাম রোজগার করতে পারি।
দ্বিতীয়জন বলল, আমার আশা বাজারে আমার একটা দোকান থাকবে। আমি হবো সেটির মালিক। গাধায় মালামাল টানার এ পেশা বাদ দিয়ে আমি ব্যবসা করব।
এরপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে ইবনে আবি আমের! তোমার কি আশা?
সে বলল, আমার আশা আমি এদেশের খলিফা হবো।
তার কথা শুনে তারা দুজন হেসে লুটোপুটি খেল। তার তাকে তিরস্কার করে বলল, তুমি হলে এক গাধা চালক। যার কাছে এই একটি গাধা ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। সেই তুমি কি না স্বপ্ন দেখছে খলিফা হওয়ার!
সে বলল, হ্যাঁ। আমি এমনটিই আশা করি। অতঃপর সে তাদেরকে জিজ্ঞেস করল, আমি যদি খলিফা হই, তাহলে তোমরা আমার কাছে কী চাইবে?
জবাবে একজন বলল, আমি চাইবো এমন একটি প্রাসাদ যার কোলঘেঁষে থাকবে একটি সুবিশাল মনোরোম বাগান।
আর কী চাইবে?
চারটা বিবি চাইব।
আর কিছু?
না, আর কিছু না। এই ঢের।
এবার সে দ্বিতীয়জনকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কী চাইবে?
সে বলল, তুমি যদি কখনও খলিফা হও তাহলে আমি চাইব, তুমি আমাকে গাধার পেছনে উল্টো করে চড়াবে এবং গোটা শহরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘোষণা দেবে যে, এ ব্যক্তি দাজ্জাল, এ ব্যক্তি সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী।
ইবনু আমের বলল, বেশ, ঠিক আছে।
দ্বিতীয়জন আবার বলল, শুধু তাই নয়, তুমি তখন আমার মুখে কালিও মেখে দিও।
ইবনে আমের বলল, আচ্ছা ঠিক আছে তাই করব।
অতঃপর তারা যার যার বিছানায় শুয়ে পড়ল। দেখো, যার একটি অটুট লক্ষ্য আছে, তার কাছে তা পূরণের পরিকল্পনাও থাকে। তাই ইবনে আমের ভাবতে শুরু করল, খলিফা হতে হলে আমাকে কোন পথে এগুতে হবে। আমি কি এই গাধা নিয়েই পড়ে থাকব? না, আমাকে অবশ্যই একটি মাষ্টার প্ল্যান করতে হবে। হোক না তা দশ, বিশ কিংবা ত্রিশ বছর পরেই। তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার প্রথম কাজ হল খলিফা হওয়ার সঠিক পন্থা নির্ণয় করা।
কথায় আছে, হাজার মাইলের পথ পরিকল্পনার মাধ্যমেই শুরু হয়। রাসুল -কে যখন আল্লাহ সর্বপ্রথম ওহি পাঠালেন- 'ইকরা'। তখন তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী দাওয়াতী কার্যক্রম শুরু করে দিলেন। কোনো বিষয়কেই তিনি তুচ্ছজ্ঞান করতেন না। তাঁর নীতি ছিল আমার কাজ হল- শুরু করা। সাহায্য করবেন আল্লাহ।
মুহাম্মাদ ইবনে আমেরও পরিকল্পনা শুরু করল। প্রথমে সিদ্ধান্ত নিল, সে তার গাধাটি বিক্রি করে দেবে। তারপর পুলিশে চাকরি নেবে। যাতে সে কমপক্ষে খলিফার সঙ্গীসাথীদের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
সকাল হল। পরিকল্পনা মোতাবেক সে তার গাধাটি বিক্রি করে দিল। তার সাথীরা বলল, একি করলে তুমি? গাধাটি বিক্রি করে দিলে? এখন তোমার জীবন কি করে চলবে? তুমি তো অভাবে না খেয়ে মারা যাবে।
সে বলল, আমার এরচেয়েও বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। অতঃপর সে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিল। এ পেশায় তার প্রায় বিশটি বছর কেটে গেল। সে ছিল অত্যন্ত বিচক্ষণ ও মেধাবী। একসময় সে খলিফার কাছাকাছি চলে এলো। সে হয়ে গেল খলিফার কাছের মানুষদের একজন।
কিছুকাল পর খলিফা ইন্তেকাল করলেন। যথারীতি খলিফার ইন্তেকালের পর তার পুত্র খেলাফতের উত্ততরাধিকারী নিযুক্ত হল। খলিফা-পুত্রের বয়স তখন মাত্র দশ বছর। এতো অল্প বয়সে কেউ রাজকার্য পরিচালনা করতে পারে না। তাই তার জন্য একজন পরামর্শক বা উপদেষ্টার প্রয়োজন পড়ল। খলিফার মা দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে মুহাম্মাদ বিন আমেরের কাছে এলেন। যাদের একজনের নাম ইবনু আবি গালিব। অন্যজনের নামা ইবনু তুমাইহ। খলিফার মা বললেন, তোমার তিনজন আমার সন্তানের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবে। সুতরাং তারা তিনজন খলিফার উপদেষ্টা নিযুক্ত হলেন।
মুহাম্মাদ বিন আমের ইবনু তুমাইহের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিল। খলিফার মা ইবুন তুমাইহকে অযোগ্য ঘোষণা করে এ দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে দিলেন। এখন বালক খলিফার উপদেষ্টা কেবল দুজন- মুহাম্মাদ বিন আমের ও ইবনু আবি গালিব। মুহাম্মাদ বিন আমের তার পুত্রের জন্য আবি গালিবের মেয়ের বিবাহের প্রস্তাব দিল। আবু গালিব প্রস্তাব মঞ্জুর করল। মুহাম্মাদ বিন আমের আবু গালিবের মেয়েকে নিজ পুত্রের বউ বানিয়ে এনে আবু গালিবকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এলো।
এখন এই কিশোর খলিফাকে কার্যত মূলত এক ব্যক্তি অর্থাৎ ইবনে আমেরই পরিচালনা করতে লাগল।
কথিত আছে, ওই কিশোর খলিফা ইবনে আমেরের অনুমতি ছাড়া ঘর থেকেও বের হতো না। আর মন্ত্রীরা মুহাম্মাদ ইবনে আমেরের নির্দেশ ব্যতিত কোনো কাজ করতে পারতো না। এদিকে বিশিষ্টজনেরা তার প্রয়োজন অনুভব করতে লাগল। তারা তার আনুকূল্য লাভে সচেষ্ট হল। তার এ অবস্থান রাতারাতি তৈরি হয়নি। এ পর্যায়ে আসতে তাকে বিশটি বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখন সবাই তাকেই অঘোষিত খলিফা হিসেবে বিবেচনা করতে লাগল। কারণ, সে-ই এখন সব কিছুর কর্তা। কোনো ফরমান জারি করা, বিভিন্ন স্থানে সৈন্য পাঠানো-সবই তার আদেশে চলতো। কথিত আছে, একটা সময় গোটা আন্দালুসকে খলিফার রাষ্ট্রের পরিবর্তে মুহাম্মাদ বিন আমেরের নামে আমিরিয়া রাষ্ট্র নামে ডাকা হতো। পূর্বের অবস্থা থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর একদিন হঠাৎ তার সেই দুই বন্ধুর কথা মনে পড়ে গেল। তখন সে এক কর্মচারীকে ডেকে বলল, অমুক বাজারে যাও। সেখানে অমুক অমুক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে আমার কাছে নিয়ে আসো।
লোকটি বাজারে গিয়ে উপরিউক্ত লোকদুটোর নাম ধরে ডাকতে শুরু করল। সেই দুই বন্ধুর জীবন এখনও আগের মতোই ছিল। গাধায় বোঝা টেনে দু চার পয়সা রোজগারের মাধ্যমে তাদের জীবন-গাড়ি চলছিল।
ঘোষকের ডাক শুনে তারা নিজেদের পরিচয় দিল। তাদেরকে খলিফার কাছে উপস্থিত করা হল। খলিফা জিজ্ঞেস করল, তোমরা কি আমাকে চিনতে পেরেছো?
তারা বলল, জি, আমরা আপনাকে চিনতে পেরেছি। আপনার বর্তমান অবস্থানের কথা জানার পর থেকে আমরাও আপনার সাক্ষাত লাভের অপেক্ষা করছি। কিন্তু আমরা যে সামন্য লোক। খলিফার দরবারে প্রবেশ করার সাধ্য আমাদের কোথায়?
অতঃপর খলিফা তাদের প্রথমজনকে জিজ্ঞেস করল, তোমার মনে আছে? আমি যখন খলিফা হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছিলাম তখন তুমি আমার কাছে কী চেয়েছিলে?
সে বলল, হ্যাঁ, মনে আছে।
এখন আমি খলিফা। বল তুমি কি চেয়েছিলে?
আমি চেয়েছিলাম এমন একটি প্রাসাদের মালিক হবো যার আঙ্গিনা জুড়ে থাকবে সুবিশাল বাগান। এবং আমি চারটি বিবাহ করবো।
বেশ, নাও, এই প্রাসাদ এবং এই বাগানটি তোমার। এই নাও চারজন নারীকে বিবাহের মহর। অতঃপর ইবনে আমের বলল, তুমি যদি আমার কাছে আরো বেশি চাইতে তাহলে আমি তোমাকে তা-ও দিতাম।
অতঃপর দ্বিতীয়জনকে বলল, তোমার কি মনে আছে তুমি কি চেয়েছিলে?
সে করজোড়ে বলল, খলিফা, আমাকে মাফ করুন।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আগে বল সেদিন তুমি কী চেয়েছিলে?
আমি চেয়েছিলাম, যদি আপনি খলিফা হন তাহলে আপনি আমাকে পেছনে ফিরিয়ে একটি গাধার ওপর চড়াবেন। আমার মুখে কালি মেখে গোটা শহর প্রদক্ষিণ করাবেন। আর একজন ঘোষক দিয়ে ঘোষণা করাবেন, আমি মিথ্যাবাদী। আমি সবচেয়ে বড় দাজ্জাল।
ইবনে আমের তার সাথে সেরূপ আচরণ করার নির্দেশ দিলেন। যা তৎক্ষণাৎ বাস্তবায়ন করা হল।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 যে শিক্ষা পেলাম

📄 যে শিক্ষা পেলাম


প্রিয় ভাইয়েরা! এ ঘটনার বাস্তবতা কতটুকু সে প্রসঙ্গে না গেলাম। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন গ্রন্থে ঘটনাটির বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে এর থেকে যে শিক্ষা আমারা পেতে পারি তা হল- মানুষ তার ইচ্ছা- আকাঙ্ক্ষা ও সুধারণা অনুযায়ীই তার জীবন পরিচালনা করে থাকে। আল্লাহ-ও মানুষকে তাদের সু ধারণা অনুযায়ী তাওফিক দিয়ে থাকেন। যেমনটি রাসুল -র হাদিসে পাওয়া যায়। রাসুল বলেন, أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي
আল্লাহ বলেছেন, বান্দা আমার সম্পর্কে যেরূপ ধারণা পোষণ করে আমাকে সে সেরূপ পাবে। [বোখারী: ৭৪০৫]
অতএব, তোমরা রবের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করো না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন- وَظَنَنْتُمْ ظَنَّ السَّوْءِ وَكُنتُمْ قَوْمًا بُورًا
তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়। [সূরা ফাতাহ, আয়াত: ১২]
যে ব্যক্তি সফলতার শীর্ষে পৌঁছতে চায়, তাকে অবশ্যই সেটি অর্জনের পরিকল্পনা করতে হবে। এটা হল প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপ হল এক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। তাদের সাহচর্য গ্রহণ করতে হবে। অকর্মণ্য ও হতাশ লোকদের সাহচর্য তাকে আরো নিরুৎসাহিত করবে। কারণ, তারা তাকে বলবে, তোমার আগে অমুক অমুক ব্যক্তি এটি অর্জনের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি। তাই সাফল্যের সুউচ্চ শিখরে পৌঁছতে হলে সফল ও উচ্চাভিলাষী লোকদের সাথে মিশতে হবে।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইলমের খোঁজে দুয়ারে দুয়ারে

📄 ইলমের খোঁজে দুয়ারে দুয়ারে


এ সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসুল ﷺ এর এক গোলাম। আমার বয়স তখন সবে তেরো। একদিন আমি এক সাহাবির ঘরের দরজায় কড়া নাড়ালাম। ভেতর থেকে বলা হল তিনি ঘুমাচ্ছেন। আমি দরজার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম, আমি যদি এখন চলে যাই তাহলে তিনি ঘুম থেকে জেগে আমাকে খুঁজে পাবেন না। আর যদি আবারো কড়া নাড়ি, তাহলে হয়তো তিনি বের হয়ে আসবেন, কিন্তু তার মন ভালো থাকবে না। তাই আমি দরজার সামনে বসে তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। এক সময় আমার ঘুমিয়ে পড়লাম। বাতাস এসে আমার মুখে ধুলো-বালি মেখে দিয়ে গেল।
সাহাবি ঘুম থেকে ওঠে দরজা খুললেন, দেখলেন একটি ছোট্ট বালক তার দরজার কাছে ঘুমিয়ে আছে। তার মুখ ও চুল ধুলোয় ধূসরিত।
তিনি আমাকে জাগালেন এবং বললেন, হে নবীজির চাচার পুত্র! তুমি কি জন্যে আমার কাছে এসেছ?
উত্তরে আমি বললাম, আমি আল্লাহর রাসুলের হাদিস শুনতে এসেছি।
সাহাবি বললেন, হে আল্লাহর রাসুলের চাচার পুত্র! তুমি আমাকে জাগালে না কেন?
আমি বললাম, আসলে, আমি আপনার প্রশান্ত মন চেয়েছি। তাই আপনাকে জাগাইনি। অতঃপর সাহাবি আমাকে হাদিস বর্ণনা করে শোনালেন।
ইবনে আব্বাস আরও বলেন, একদিন আমি যায়েদ বিন সাবিত -র সাথে ছিলাম। তিনি ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মাঝে মিরাসি সম্পদ বন্টন বিষয়ে সর্বাধিক অভিজ্ঞ। আমি তার সহযোগিতার জন্য তার উটের লাগামটি হাতে তুলে নিলাম।
তিনি বললেন, ছাড়ো, ছাড়ো।
আমি বললাম, আমাদেরকে আলেমদের সাথে এমন আচরণ করারই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি বললেন, আচ্ছা, তাহলে তোমার হাত দাও।
আমি তখন ছোট বলক। আদেশমতো হাত বাড়িয়ে দিলাম। তিনি আমার হাতে চুমু খেয়ে বললেন, আল্লাহর রাসুলের পরিবারের সদস্যদের সাথেও আমাদেরকে এমন আচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এভাবেই তাদের দুজনের মাঝে সুন্দর আচরণের বিনিময় ঘটল।
সর্বোপরি ইবনে আব্বাস-র এ জ্ঞান পিপাসা তার কী উপকারে এলো, তার এ উচ্চাকাঙক্ষা তাকে কীভাবে উচ্চ শিখরে পৌছে দিল- সে কথা আমাদের সকলেরই জানা। মানুষের মাঝে এভাবেই পার্থক্য নিরূপণ হয়। সফলতার শীর্ষচূড়া প্রত্যাশী- এমন সকলের জন্য এ গল্পে রয়েছে সুস্পষ্ট উপদেশ। চাই সে দাওয়াতী কার্যক্রমে শীর্ষে পৌঁছতে আগ্রহী হোক। অথবা শিক্ষা ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সফলতার প্রত্যাশী হোক।
কিংবা কোরআন মুখস্থ করে শ্রেষ্ট হাফেজ হওয়ার আকাঙ্ক্ষী হোক। অথবা ব্যবসা, শিল্প, আবিষ্কার, বক্তৃতা কিংবা রচনায় শীর্ষস্থান দখল করতে ইচ্ছুক হোক। এক্ষেত্রে কেবল মনে মনে আহা, যদি আমার এমন হতো- বলাই যথেষ্ট নয়। অর্থাৎ, 'যদি' কোনো উপকারে আসবে না। যদি আমার এমন, এমন হতো- এসব বলে কোনো ফায়দা নেই। আল্লাহ -এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং কাজের প্রতি আগ্রহ ও পরিশ্রম করা ছাড়া কোনো কিছুই উপকারে আসবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00