📄 সাহাবীর দৃষ্টি হেফাজত
হজের মওসুম চলছে। সাহাবায়ে কেরাম হজের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত। কেউ ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করছেন। কেউ মিনা, আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করছেন। কেউ কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত। কেউ আল্লাহ -র দরবারে প্রার্থনায় রত।
রাসুল ﷺ একটি বাহনে আরোহন করে আছেন। তাঁর সহযাত্রী হিসেবে রয়েছেন ফজল বিন আব্বাস। এ সময় খাসআম গোত্রের এক রমনী রাসুল -র সামনে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার পিতা অতি বৃদ্ধ। সওয়ারীর ওপর বসে থাকতে পারেন না। তার ওপর হজ ফরয হয়েছে। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ পালন করতে পারব?
মহিলাটি ছিল খুবই সুন্দরী। ফজল বিন আব্বাস-ও ছিলেন সুন্দর- সুপুরুষ। তাই রাসুল ﷺ নিজ হাতে ফজল-র চেহারা মহিলার দিক থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দিলেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি বলেন, 'আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে শয়তান থেকে অনিরাপদ মনে করলাম। [সুনানে তিরমিযি: ৮৮৫]
ঘটনাটি রাসুল ﷺ-র যুগের এক হজের সময়কার। সেকালে আজকের মতো ইন্টারনেট কিংবা কম্পিউটার ছিল না। ছিল না মোবাইল কিংবা ভিডিও কলের সুবিধা। তাই যে কেউ যখন তখন যে কোনো বেগানা নারীকে পারত না দেখতে।
কিন্তু শয়তান সর্বদাই ধূর্ত ও তৎপর। সে তো আল্লাহ-র নামে অঙ্গীকার করে ঘোষণা দিয়েছে যে- فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
আপনার সম্মানের কসম, আমি তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট কর ছাড়বো। [সূরা ছাদ, ৮২]
এভাবে শয়তান মানব জাতিকে পথভ্রষ্ট করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। পবিত্র কোরানের অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِّنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَ مِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شُكِرِينَ
এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। [সূরা আরাফ : ১৭]
এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি কোনো নারীর সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ থাকা সত্বেও চক্ষুকে অবনমিত রাখে, আল্লাহ তাকে এমন ঈমানে অধিকারী করবেন যে, সে অন্তরে ঈমানের স্বাদ পাবে।
তাই ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট চ্যানেল, পত্রিকা-ম্যাগাজিন, শপিংমল, সড়ক-মহাসড়ক, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা প্লেন ইত্যাদি জায়গায় বেগানা নারীদের থেকে আমাদের চক্ষুকে অবনমিত করে রাখতে পারলে আমরাও অন্তরে ঈমানের সেই স্বাদ পাবো। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন- قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। [সূরা নূর: ৩০]
📄 পাগল প্রেমিক
স্পেনের এক বাদশাহ ছিলেন। তার একটি দাসী ছিল। সে ছিল রূপে অনন্যা। বাদশাহ স্ত্রীদের চেয়ে তাকেই বেশি ভালোবাসতেন। একদিনের কথা। বাদশাহ তার প্রিয় দাসীটির সাথে বসে গল্প করছিলেন। তার সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছিলেন। তাদের সামনে থরেথরে সাজানো ছিল ফলফলাদি। বাদশাহ তার মুখে আঙ্গুর আনার তুলে দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি আঙ্গুর নিয়ে তার মুখে পুরে দিলেন। সে কোনো বিষয়ে হেসে পড়ল। হাসির চোটে আঙ্গুর গিয়ে সোজা আটকে গেল শ্বাসনালীতে। আর এক ঝটকায় তার প্রাণ পাখি উড়ে গেল। বাদশাহ কাঁদতে কাঁদতে তাকে ঝাঁকি দিচ্ছিলেন এবং চুমু খাচ্ছিলেন। কিন্তু সে নীরব নিথর হয়ে পড়ে রইল।
কথিত আছে, দাসীর লাশ সামনে নিয়ে তিনি সাতদিন পর্যন্ত ঘরে বসে ছিলেন। কঠিন প্রেমের পাগলামির কারণে তাকে কেউ বোঝাতে পারছিল না যে, সে মারা গেছে। অতঃপর লাশ পঁচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াতে লাগল। পরে বহু কষ্টে লোকেরা তাকে বোঝাতে পেরেছিল যে, সে আর দুনিয়াতে নেই।
📄 গভীর প্রেম দূরেও ঠেলে দেয়
প্রমের সম্পর্ক হৃদয়ের সাথে। প্রেমের আতিশয্য কখনও কখনও মানুষের ধর্ম ও বিবেক নষ্ট করে দেয়। অন্তরে প্রবল প্রেম জাগাতে নির্জনতা ও শয়তান সহযোগিতা করে থাকে।
এক আরব বেদুইনের একটি দাসী ছিল। সে তাকে অনেক ভালোবাসতো। একদিনের ঘটনা। বেদুইন ব্যক্তিটি মরুভূমিতে উট-বকরি চরাচ্ছিল। তার সাথে তার প্রিয় দাসীটিও ছিল। হঠাৎ সে দেখল, তার প্রিয় দাসীটির দিকে এক গোলাম তাকিয়ে আছে। সামান্য একটি গোলাম তার প্রিয়ার রূপ-সৌন্দর্য উপভোগ করেছে- ভাবতেই সে ক্রোধে ফেটে পড়ল। রাগে-ক্ষোভে সে তার কর্তব্য-জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। সে ভাবতে লাগল, তার দাসীর দিকে সে ছাড়া অন্য কেউ কীভাবে তাকায়! তাই সে তরবারীর এক আঘাতে তার সবচেয়ে প্রিয় সেই মানুষটিকে হত্যা করল। অতঃপর যখন রাগ পড়ে গিয়ে তার হুশ ফিরে এল, তখন আপন কৃতকর্মের জন্য তার সীমাহীন আফসোস হল। সে মৃত দাসীর মাথার পাশে বসে অঝোরে কাঁদতে লাগল এবং বলতে লাগল-
يَا طَلْعَةَ طَلَعَ الْحَمامِ عَلَيْهَا * وَجَنِي لَهَا ثَمَرِ الرَّدِيِّ بِيَدِيهَا رَوَيْتِ مِنْ دَمِهَا التَّرَابِ وَطَالَم . رَوَي الْهَوِي شَفَتِيْ مِنْ شَفَتَيْهَا * وَمَدَامِعِي تَجْرِي عَلَى خَدَيْهَا * وَأَجَلْت سَيْفِي فِي مَجَالِ خَنْقِهَا مَا كُنْت قَتلَهَا لِأَنِّي لَمْ أَكُن • أَبْكِيْ إِذَا سَقَطَ الْغُبَارُ عَلَيْهَا * لكِنْ بَخَلْتُ عَلَى سِوَايَ بِحُسْنِهَا * وَأَنَفْتُ مِنْ مَظْرِ الْعُيُونِ إِلَيْهَا
হায় আমার দুর্ভাগ্য, আমার প্রিয় মানুষটি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। আমি নিজ হাতে তাকে মৃত্যুর ফল খাওয়ালাম।
আজ তার রক্তে সিক্ত হল জমিন। অথচ এতকাল আমার অধর তার অধরের ছোঁয়ায় সিক্ত হয়েছিল।
আমার তরবারীর দ্বারাই মৃত্যু হয়েছে তার। ফলে এখন তার গাল বেয়ে আমার অশ্রু ঝরছে।
তার চরণ যুগলের জন্য বড় দুঃখ আমার। জমিনে পা রাখা বস্তুসমূহের মধ্যে সে দু'টির মতো প্রিয় আর কিছুই ছিল না আমার।
হায়! আমি কেন তাকে হত্যা করলাম। অথচ তার গায়ে ধূলি পড়লেও আমার দুচোখ অশ্রু ঝরাতো।
আমি ছাড়া অন্য কেউ তার রূপ-লাবণ্য উপভোগ করবে- তা মানতে পারিনি আমি। তাইতো অন্যদৃষ্টি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে তাকে হত্যা করেছি আমি।
দেখো, প্রেমের আতিশয্যে কীভাবে সে তার নিজ প্রেমিকাকেই হত্যা করল। বর্তমানেও দেখা যায়- সম্পর্কের গভীরতা অনেক ক্ষেত্রে অপহরণের পথে ধাবিত করে। আমি পৃথিবীর নানা দেশের জেলখানায় ঘুরেছি। সেখানে অনেক যুবককে দেখেছি, তারা অন্য সুন্দর যুবকের প্রতি আসক্ত। যেমন যুবকের প্রেমে আসক্ত একজন বলেছিল- مَا زَالَتْ تَتَّبِعُ نَظْرَةً فِي نَظْرَةٍ * فِي أَثْرِ كُلِّ مَلِيْحَةٍ وَمَلِيْحٍ وَتَظُنُّ ذَاكَ دَوَاء قَلْبَكَ وَهُوَ * فِي التَّحْقِيقِ تَجْرِيحُ عَلَى تَجْرِيح يَا نَاظِرًا مَا أَقْلَعْتَ لَحْظَة حَتَّى تَشْحَطُ بَيْنَهُنَّ قَتِيلًا *
আমার দৃষ্টি সারাক্ষণ শুধু একের পর এক কমনীয় সৌন্দর্য দেখে চলছে।
তুমি কি ভাবছ এটি তোমার অন্তরের ওষুধ, না, না, এটি তোমার ক্ষতকে আরো গভীর করবে।
হে দৃষ্টিনিক্ষেপকারী, একমুহূর্তের জন্যেও যেতে পারবে না তুমি, যতক্ষণ না নিঃশেষ করে দেওয়া হয় তাকে।
আমি কারাগারে অনেক যুবককে কেবল এই প্রেমের কারণে একবছর, দুবছর সাজাপ্রাপ্ত হতে দেখেছি। এমনকি দেখেছি মৃত্যুদন্ড পেতেও। এই প্রেমের কারণে কতজন তার প্রেমিকাকে হত্যা করেছে। অপহরণ করেছে। পরবর্তীতে গ্রেফতার হয়ে সাজা ভোগ করেছে। এই অবৈধ প্রেম-ভালোবাসার খপ্পরে পড়ে কত নারী ধর্ষীতা হয়েছে। কত নারী অবৈধ সন্তান পেটে ধারণ করে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে।। অথচ তারা যদি আল্লাহ -র আশ্রয় প্রার্থনা করত। যদি বিরত থাকতো এসব থেকে, তাহলে সেটা তাদের উভয় জগতের জন্য কতই না সুখকর হতো।
বস্তুত এসব কিছুই ঘটে থাকে অবৈধ দৃষ্টি নিক্ষেপ এবং নিষিদ্ধ সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে। বর্তমানে অবৈধ প্রেম-ভালোবাসার বিষয়টি আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে।
📄 সেকালের প্রেম, এ কালের প্রেম
আন্দুলুসি তার "বাহজাতুল মাজালিস' নামক গ্রন্থে লিখেছেন- পূর্বের যামানায় প্রেমিক যুগল তাদের প্রেমকে দেখা ও পাশে বসার মাঝেই সীমীত রাখতো। প্রেমিক তার প্রেমিকাকে নিয়ে কাব্য রচনা করত। যদিও সেটিও ছিল শরীয়তবিরোধী; তথাপি বর্তমানের তুলনায় সেকালের প্রেম ছিল অনেক শালীন।
কিন্তু একালের প্রেম-ভালোবাসায় বহু নোংরামি প্রবেশ করেছে। মোবাইল, ইন্টারনেট, ইমু, ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন চ্যাটিং মাধ্যম অবৈধ এই প্রেমকে করেছে আরো সহজ ও নির্বিঘ্ন।
পূর্বের যুগে মানুষের মনে শয়তানী কুমন্ত্রণা জাগলেও তার সামনে অনেক বাঁধা বিপত্তি এসে দাঁড়াতো। মেয়েদের জন্য পাপে জড়ানো ছিল খুবই কঠিন। কারণ, তাকে সার্বক্ষনিক পারিবারিক নজরদারিতে থাকতে হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি মেয়ের কাছে রয়েছে এক বা একাধিক মোবাইল। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুব্যবস্থা। যেগুলোর সাহায্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়া এখন খুবই সহজ ব্যাপার। তাই তাদের বুঝতে হবে, পাপের এতো আয়োজনের ভিড়েও যদি এসব থেকে বেঁচে থাকা যায়, তাহলেই আল্লাহ -র প্রকৃত দাসত্বের প্রমাণ মিলবে।
ইবনুল জাওযি ইউসুফ ও জুলেখার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-
জুলেখা যখন ইউসুফ -কে একান্ত আপন করে পেতে তার কাছে ডাকল, নিজেকে ইউসুফ -র সামনে উপস্থাপন করল, তখন ইউসুফ বললেন-
'আমি আল্লাহর কাছে এমন অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই। নিশ্চয় আমার প্রভুই আমার ঠিকানা'- এই বলে তিনি তার কাছ থেকে পালিয়ে যান এবং ব্যভিচার থেকে পরিত্রান লাভ করেন। অতঃপর তিনি কয়েক বছর জেলখানায় বন্দি থাকেন।
ইবনুল জাওযি বলেন, এটাই হল আল্লাহ -র দাসত্বের প্রমাণ। কারণ, গুণাহে লিপ্ত হওয়ার অবারিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে বিরত রেখেছিলেন। কেবল সালাত আদায় করেই আল্লাহর দাসত্বের প্রমাণ দেওয়া যায় না। এ ধরণের পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহ -র হুকুম মানার মাধ্যমে তাঁর দাসত্বের প্রমাণ দেওয়া যায়। এছাড়া দুটি কাজের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য, ঈমানের দৃঢ়তা ও আল্লাহ -র সাহায্যে পাপ বর্জনের সক্ষমতা লাভ করা যায়।
এক.
দৃষ্টি হেফাজত করা। কারণ, অধিকাংশ গুনাহের সূচনা এখান থেকেই হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন- قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذُلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। [সূরা নূর: ৩০]
তিনি আরো বলেন- وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَ يَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّبِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ)
ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌন কামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। [সূরা নূর : ৩১]
দুই
ফেতনা থেকে দূরে থাকা। হাট-বাজার, মার্কেট, শপিংমল- এসব স্থানে পর্দার বিধান অধিক লঙ্ঘন হয়, তাই এগুলো থেকে বিরত থাকা।
পরিশেষে আল্লাহ -র নিকট প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে দৃষ্টি হেফাজত ও যাবতীয় ফেতনা ফাসাদ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।