📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী

📄 পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী


আল্লাহ আদম-কে সৃষ্টি করে তাকে জান্নাতে স্থান দিলেন। তাকে জান্নাতী খাবার, পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদসহ ঈপ্সিত যাবতীয় বস্তুর মালিক বানালেন।
وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ আর তোমাদের মন যা চায়, তাতে তোমাদের জন্য সেসব জিনিসের ব্যবস্থা। [সূরা ফুসসিলাত : ৩১]
এতকিছুর ব্যবস্থা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে নিঃসঙ্গ অনুভব করছিলেন। প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন এক ঘনিষ্টজনের। তখন আল্লাহ তাঁর এ শূন্যতা পূরণের জন্য কী নির্বাচন করেছিলেন? তাঁকে গান শোনাবার জন্য কোনো পাখি? নাকি খেল-তামাশার জন্য কোনো বিড়াল? নাকি তীব্রবেগে ছুটে চলার জন্য কোনো ঘোড়া? না, এসব কিছুই তিনি তাঁর জন্য নির্বাচন করলেন না। যেহেতু তিনি তাঁকে পুরুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছিলেন আর পুরুষের মন নারীর প্রতি এবং নারীর মন পুরুষের প্রতি সদা আকৃষ্ট থাকে। তাই আল্লাহ তাঁর সঙ্গী হিসেবে তাঁরই পাজর থেকে একজন নারী সৃষ্টি করলেন। তিনিই হলেন বিশ্বমাতা হাওয়া।
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِّنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا তিনি সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন; আর তার থেকেই তৈরি করেছেন তাঁর জোড়া। যাতে সে তাঁর কাছে স্বস্তি পেতে পারে। [সূরা আরাফ : ১৮১]
পাথরের প্রেম
কবি আসমায়ি একবার কোনো এক শহরে ঘুরতে গেলেন। চলতে চলতে রাস্তায় হঠাৎ তিনি একটি পাথরখন্ড দেখতে পেলেন। যেটিতে লেখা ছিল-
أَيَا مَعْشِرَ الْعُشَّاقِ بِاللَّهِ خَبِّرُوا * إِذَا حَلَّ عِشْقُ بِالْفَتِي كَيْفَ يَصْنَعُ হে প্রেমিককূল, আল্লাহর দোহাই লাগে তোমরা বলো, কোনো যুবক প্রেমে পড়লে, তার করণীয় কী হবে?
আসমায়ি আরেকটি পাথরখন্ড হাতে নিলেন। তাতে লিখলেন-
يُدَارِي هَوَاهُ ثُمَّ يَكْتُمُ هَمَّهُ * وَيَقْنَعُ بِكُلِّ الْامُوْرِ وَيَخْنَعُ প্রেমিক দমিয়ে রাখবে তার প্রেমাসক্তি, লুকিয়ে রাখবে তার মনের কথা।
সবকিছুতেই সে তুষ্ট থাকবে এবং হবে অনুগত।
দ্বিতীয় দিন তিনি আবার সেই পাথরখন্ডের কাছে এলেন। দেখলেন, আজ তার লেখার নিচে লেখা রয়েছে- وَكَيْفَ يُدَارِي وَالْهَوِي يَفْجَأُ الْخَشِي * وَفِي كُلِّ يَوْمٍ قَلْبَه يَتَوَجَّعُ
সে কীভাবে তা দমিয়ে রাখবে, প্রেমাসক্তি তো নিজেকে প্রকাশে উদগ্রীব। সতত সে তার হৃদয়ে ব্যথার বোঝা বয়ে বেড়ায়।
আসমায়ি আরেকটি পাথরখন্ড নিয়ে তাতে লিখলেন- إِذَا لَمْ يَجِدْ حَلًّا لِكِثْمَانِ عِشْقِهِ * فَلَيْسَ لَهُ سِوَيِ الْمَوْتِ يَنْفَعُ
প্রেমাবেগ লুকানোর কোনো পথ যদি সে না পায়, তাহলে তার জন্য মৃত্যুর চেয়ে উপকারী কিছু নেই।
কিছুদিন পর কবি আসমায়ি আবার সেই পাথরখন্ডের কাছে এলেন। আজ তিনি পাথরখন্ডটির পাশে একটি কবর দেখতে পেলেন। আরো দেখলেন, তার কবিতার শেষ পঙক্তিটির নিচে লেখা রয়েছে- سَمِعْنَا ... أَطَعْنَا ... ثُمَ مُتْنَا فَبَلِّغُوْا سَلَامِي لِمَنْ قَدْ كَانَ بِالْوَصْلِ يَمْنَعُ
শুনলাম, মানলাম, তারপর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম। তার কাছে আমার সালাম পৌঁছে দিও, আমার সাথে সাক্ষাতে যে ছিল অনাগ্রহী।
এই ছিল পাথরের প্রেমের গল্প। এর কোনো সত্যতা আছে কি না-আমার জানা নেই।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 প্রেমিকদের পাথর

📄 প্রেমিকদের পাথর


কয়েক বছর আগে আমি সিরিয়ায় গিয়েছিলাম। সেখানে একদিন আমার সফরসঙ্গীদের নিয়ে একটি হোটেলে খেতে গেলাম। হোটেলটির পরিবেশ ছিল দারুণ সুন্দর। পাশেই ছিল বিশাল একটি পাহাড়। হোটেল থেকে যেটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পাহাড়টির চূড়ায় ছিল এক বিশালকায় প্রস্তরখন্ড। তাতে খোদাই করা প্রতিকি হৃদয়-চিহ্ন অঙ্কিত ছিল। হোটেল বয়কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। সে বলল, এটিকে বলা হয় প্রেমিকদের পাথর। এররপর সে এটির নামকরণ সম্পর্কে এক আশ্চর্য তথ্য দিল। সে বলল, যারা প্রেম করে ব্যর্থ হতো। বঞ্চিত হতো প্রিয় মানুষটির ভালোবাসা থেকে। তারা এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত পাথরখন্ডটির উপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করত। তাই এটির নাম রাখা হয়- প্রেমিকদের পাথর।
বাস্তবতা অজানা। হতে পারে কোনো একটি দুর্ঘটনা থেকে এই কাহিনীর জন্ম। কিন্তু গল্পটি আমি বলেছি এটা বোঝাতে যে, সত্যিই প্রেম হল মানুষের হৃদয়ের খেলা। যার উৎপত্তিস্থ হল দৃষ্টি। কবির ভাষায়- كُنْتُ مَتَى أَرْسَلْتَ طَرْفَكَ رَائِدًا * لِقَلْبِكَ يَوْمًا أَسْلَمَتْكَ الْمَحَاجِرُ رَأَيْتَ الَّذِي لَا كُلَّه أَنْتَ قَادِرٌ * عَلَيْهِ وَلَا عَنْ بَعْضِهِ أَنْتَ صَابِرُ حَتَّى تَشْحَطُ بَيْنَهُنَّ قَتِيلًا يَا نَاظِرًا مَا أَقْلَعْتَ لَحَظَاتِهِ
যেদিন তুমি চোখের ভাষায় তোমার হৃদয়ের কথা বলে দিয়েছ, সেদিনেই পাথরখন্ড তোমার কাছে আত্ম সমর্পণ করেছে।
তুমি বুঝতে পেরেছ, তুমি না পেরেছ তার (অন্তরের) পুরোটার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে, না পেরেছ আংশিকের ওপর ধৈর্যধারণ করতে। হে দৃষ্টি নিক্ষেপকারী! তুমি তোমার মুহূর্তগুলো বিনষ্ট করছ আত্মাহুতি দানের মাধ্যমে।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 সাহাবীর দৃষ্টি হেফাজত

📄 সাহাবীর দৃষ্টি হেফাজত


হজের মওসুম চলছে। সাহাবায়ে কেরাম হজের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত। কেউ ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করছেন। কেউ মিনা, আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করছেন। কেউ কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত। কেউ আল্লাহ -র দরবারে প্রার্থনায় রত।
রাসুল ﷺ একটি বাহনে আরোহন করে আছেন। তাঁর সহযাত্রী হিসেবে রয়েছেন ফজল বিন আব্বাস। এ সময় খাসআম গোত্রের এক রমনী রাসুল -র সামনে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার পিতা অতি বৃদ্ধ। সওয়ারীর ওপর বসে থাকতে পারেন না। তার ওপর হজ ফরয হয়েছে। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ পালন করতে পারব?
মহিলাটি ছিল খুবই সুন্দরী। ফজল বিন আব্বাস-ও ছিলেন সুন্দর- সুপুরুষ। তাই রাসুল ﷺ নিজ হাতে ফজল-র চেহারা মহিলার দিক থেকে অন্য দিকে ফিরিয়ে দিলেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি বলেন, 'আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে শয়তান থেকে অনিরাপদ মনে করলাম। [সুনানে তিরমিযি: ৮৮৫]
ঘটনাটি রাসুল ﷺ-র যুগের এক হজের সময়কার। সেকালে আজকের মতো ইন্টারনেট কিংবা কম্পিউটার ছিল না। ছিল না মোবাইল কিংবা ভিডিও কলের সুবিধা। তাই যে কেউ যখন তখন যে কোনো বেগানা নারীকে পারত না দেখতে।
কিন্তু শয়তান সর্বদাই ধূর্ত ও তৎপর। সে তো আল্লাহ-র নামে অঙ্গীকার করে ঘোষণা দিয়েছে যে- فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
আপনার সম্মানের কসম, আমি তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট কর ছাড়বো। [সূরা ছাদ, ৮২]
এভাবে শয়তান মানব জাতিকে পথভ্রষ্ট করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। পবিত্র কোরানের অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِّنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَ مِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شُكِرِينَ
এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না। [সূরা আরাফ : ১৭]
এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি কোনো নারীর সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ থাকা সত্বেও চক্ষুকে অবনমিত রাখে, আল্লাহ তাকে এমন ঈমানে অধিকারী করবেন যে, সে অন্তরে ঈমানের স্বাদ পাবে।
তাই ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট চ্যানেল, পত্রিকা-ম্যাগাজিন, শপিংমল, সড়ক-মহাসড়ক, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা প্লেন ইত্যাদি জায়গায় বেগানা নারীদের থেকে আমাদের চক্ষুকে অবনমিত করে রাখতে পারলে আমরাও অন্তরে ঈমানের সেই স্বাদ পাবো। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন- قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। [সূরা নূর: ৩০]

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 পাগল প্রেমিক

📄 পাগল প্রেমিক


স্পেনের এক বাদশাহ ছিলেন। তার একটি দাসী ছিল। সে ছিল রূপে অনন্যা। বাদশাহ স্ত্রীদের চেয়ে তাকেই বেশি ভালোবাসতেন। একদিনের কথা। বাদশাহ তার প্রিয় দাসীটির সাথে বসে গল্প করছিলেন। তার সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছিলেন। তাদের সামনে থরেথরে সাজানো ছিল ফলফলাদি। বাদশাহ তার মুখে আঙ্গুর আনার তুলে দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি আঙ্গুর নিয়ে তার মুখে পুরে দিলেন। সে কোনো বিষয়ে হেসে পড়ল। হাসির চোটে আঙ্গুর গিয়ে সোজা আটকে গেল শ্বাসনালীতে। আর এক ঝটকায় তার প্রাণ পাখি উড়ে গেল। বাদশাহ কাঁদতে কাঁদতে তাকে ঝাঁকি দিচ্ছিলেন এবং চুমু খাচ্ছিলেন। কিন্তু সে নীরব নিথর হয়ে পড়ে রইল।
কথিত আছে, দাসীর লাশ সামনে নিয়ে তিনি সাতদিন পর্যন্ত ঘরে বসে ছিলেন। কঠিন প্রেমের পাগলামির কারণে তাকে কেউ বোঝাতে পারছিল না যে, সে মারা গেছে। অতঃপর লাশ পঁচে গলে দুর্গন্ধ ছড়াতে লাগল। পরে বহু কষ্টে লোকেরা তাকে বোঝাতে পেরেছিল যে, সে আর দুনিয়াতে নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00