📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 বাম হাতে খাবার গ্রহণে দাম্ভিকতা

📄 বাম হাতে খাবার গ্রহণে দাম্ভিকতা


কিছু লোককে দেখা যায় বাম হাতে খাবার খেতে। তুমি যদি তাদের কাউকে বলো, ভাই, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। দয়া করে ডান হাতে খান। দেখবে, সে তোমার কথা কানে তুলবে না। উত্তম এই উপদেশ গ্রহণে কিসে তাকে বাঁধা দিচ্ছে? নিশ্চয়ই সেটা তার অহংকার বৈ আর কিছু নয়।
একবার জনৈক ব্যক্তি রাসুল -র সামনে বাম হাতে খাবার খাচ্ছিল। রাসুল তাকে অত্যন্ত নম্রভাবে বললেন, তুমি ডান হাতে খাও।
সে বলল আমি পারব না।
রাসুল বললেন, আর কখনও পারবেও না। একমাত্র অহংকারই তাকে ডান হাত দিয়ে খাওয়া থেকে বিরত রাখল। বর্ণনাকারী বলেন,
এরপর সে আর কখনো মুখের কাছে হাত উঠাতে পারেনি। [মুসলিম: ৫৩৮৭]
দেখো, লোকটি অহংকারবশত রাসুল -এর উপদেশ গ্রহণ করল না। পরিণতিতে আল্লাহর রাসুল -র বদদোয়া তাকে পাকড়াও করল।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 অহংকারের আতিশয্যে

📄 অহংকারের আতিশয্যে


কত লোককে তার অহংকার ইসলামে গ্রহণে বাধা দেয়। কত লোককে তার অহমিকা সালাত আদায়ে মসজিদে যেতে বারণ করে। সালাতের দিকে ডাকা হলে সে ঔদ্ধত্য স্বরে বলে, আমি কেন মসজিদে যাব? সেখানে কতো গরিব, কুলি, মজুর সালাত আদায় করে। এত সুন্দর পোশাক পরে, সুগন্ধি লাগিয়ে আমি কিভাবে তাদের সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করব?
যেমনটি বর্ণিত আছে হাজ্জাজ বিন আরতারাহ সম্পর্কে। তিনি একজন হাদিস বর্ণনাকারী হলেও অনেকেই তার নিন্দা করে বলেছে, তিনি একজন দুর্বল রাবী। তাছাড়া জানা যায় যে, তাকে মসজিদে সালাত আদায়ের কথা বলা হলে তিনি বলতেন, আমি কি সাধারণ লোকদের সাথে এককাতারে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করব?
হাজ্জাজ বিন আরতারাহর মতো আমাদের সমাজেও অনেক লোক রয়েছে। যারা একই কারণে মসজিদে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। হতে পারেন তিনি কোনো সুবিশাল কোম্পানির মালিক কিংবা কোনো ফ্যাকাল্টির ডীন, অথবা ভার্সিটির ভিসি কিংবা কোনো শহরের মেয়র, এম. পি. অথবা মন্ত্রী। সাধারণ জনগণের সাথে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে তার রুচিতে বাঁধে। তাই তারা অফিস কিংবা ঘরের ভেতর জায়নামায বিছিয়ে একাকী কিংবা একান্ত অনুচরবর্গদের নিয়ে নিয়ে সালাত আদায় করে।
অথচ আল্লাহ তাকে ডেকে বলছেন- وَارُ كَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ
তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো। [সূরা বাকারা: ৪৩]
যাও, মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করো। সকলে মিলে জামাআতের সাথে সালাত আদায়ের জন্য নির্মিত হয়েছে মসজিদ।
তাই অহংকারী হয়ো না। কারণ, আল্লাহ কেয়ামতের দিন অহংকারী ব্যক্তিদের অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকারে উপস্থিত করবেন। মানুষ তাদেরকে পদদলিত করবে। অন্তরে সরিষা পরিমাণ অহংকার পোষণকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আল্লাহ আমাদেরকে অহংকার ছেড়ে নম্র ও বিনয়ী তাওফিক দান করুন। আমিন।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 দৃষ্টি অবনত রাখো আল্লাহ ﷻ সন্তুষ্ট হবেন

📄 দৃষ্টি অবনত রাখো আল্লাহ ﷻ সন্তুষ্ট হবেন


كُلُّ الحَوَادِثِ مَبْدَاهَا مِنَ النَّظْرِ * وَمَعْظَمُ النَّارِ مِنْ مُسْتَصْغَرِ الشَّرَرِ দৃষ্টি থেকেই সৃষ্টি সকল দুর্ঘটনার। তুচ্ছ স্ফুলিঙ্গ বাধিয়ে দেয় বিশাল অগ্নিকান্ড।
كَمْ نَظْرَةٍ فَتَكَتْ بِقَلْبِ صَاحِبِهَا * فَتَكَ السَّهَامُ بِلَا قَوْسٍ وَلَا وَتَرٍ কত দৃষ্টি হৃদয় এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। ধনুকবিহীন তীরের আঘাত যেমন।
يَسُرُّ مَقْلَتَهُ مَا ضَرَّ مَهْجَتَهُ * لَا مَرْحَبًا بِسُرُوْرٍ عَادَ بِالضَّرَرِ যে পাপে চক্ষু হয় শীতল, হৃদয় হয় প্রফুল্ল। কী দরকার সে সুখের, ক্ষতিই যার চিরসঙ্গী।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী

📄 পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী


আল্লাহ আদম-কে সৃষ্টি করে তাকে জান্নাতে স্থান দিলেন। তাকে জান্নাতী খাবার, পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদসহ ঈপ্সিত যাবতীয় বস্তুর মালিক বানালেন।
وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ আর তোমাদের মন যা চায়, তাতে তোমাদের জন্য সেসব জিনিসের ব্যবস্থা। [সূরা ফুসসিলাত : ৩১]
এতকিছুর ব্যবস্থা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে নিঃসঙ্গ অনুভব করছিলেন। প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন এক ঘনিষ্টজনের। তখন আল্লাহ তাঁর এ শূন্যতা পূরণের জন্য কী নির্বাচন করেছিলেন? তাঁকে গান শোনাবার জন্য কোনো পাখি? নাকি খেল-তামাশার জন্য কোনো বিড়াল? নাকি তীব্রবেগে ছুটে চলার জন্য কোনো ঘোড়া? না, এসব কিছুই তিনি তাঁর জন্য নির্বাচন করলেন না। যেহেতু তিনি তাঁকে পুরুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছিলেন আর পুরুষের মন নারীর প্রতি এবং নারীর মন পুরুষের প্রতি সদা আকৃষ্ট থাকে। তাই আল্লাহ তাঁর সঙ্গী হিসেবে তাঁরই পাজর থেকে একজন নারী সৃষ্টি করলেন। তিনিই হলেন বিশ্বমাতা হাওয়া।
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِّنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا তিনি সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন; আর তার থেকেই তৈরি করেছেন তাঁর জোড়া। যাতে সে তাঁর কাছে স্বস্তি পেতে পারে। [সূরা আরাফ : ১৮১]
পাথরের প্রেম
কবি আসমায়ি একবার কোনো এক শহরে ঘুরতে গেলেন। চলতে চলতে রাস্তায় হঠাৎ তিনি একটি পাথরখন্ড দেখতে পেলেন। যেটিতে লেখা ছিল-
أَيَا مَعْشِرَ الْعُشَّاقِ بِاللَّهِ خَبِّرُوا * إِذَا حَلَّ عِشْقُ بِالْفَتِي كَيْفَ يَصْنَعُ হে প্রেমিককূল, আল্লাহর দোহাই লাগে তোমরা বলো, কোনো যুবক প্রেমে পড়লে, তার করণীয় কী হবে?
আসমায়ি আরেকটি পাথরখন্ড হাতে নিলেন। তাতে লিখলেন-
يُدَارِي هَوَاهُ ثُمَّ يَكْتُمُ هَمَّهُ * وَيَقْنَعُ بِكُلِّ الْامُوْرِ وَيَخْنَعُ প্রেমিক দমিয়ে রাখবে তার প্রেমাসক্তি, লুকিয়ে রাখবে তার মনের কথা।
সবকিছুতেই সে তুষ্ট থাকবে এবং হবে অনুগত।
দ্বিতীয় দিন তিনি আবার সেই পাথরখন্ডের কাছে এলেন। দেখলেন, আজ তার লেখার নিচে লেখা রয়েছে- وَكَيْفَ يُدَارِي وَالْهَوِي يَفْجَأُ الْخَشِي * وَفِي كُلِّ يَوْمٍ قَلْبَه يَتَوَجَّعُ
সে কীভাবে তা দমিয়ে রাখবে, প্রেমাসক্তি তো নিজেকে প্রকাশে উদগ্রীব। সতত সে তার হৃদয়ে ব্যথার বোঝা বয়ে বেড়ায়।
আসমায়ি আরেকটি পাথরখন্ড নিয়ে তাতে লিখলেন- إِذَا لَمْ يَجِدْ حَلًّا لِكِثْمَانِ عِشْقِهِ * فَلَيْسَ لَهُ سِوَيِ الْمَوْتِ يَنْفَعُ
প্রেমাবেগ লুকানোর কোনো পথ যদি সে না পায়, তাহলে তার জন্য মৃত্যুর চেয়ে উপকারী কিছু নেই।
কিছুদিন পর কবি আসমায়ি আবার সেই পাথরখন্ডের কাছে এলেন। আজ তিনি পাথরখন্ডটির পাশে একটি কবর দেখতে পেলেন। আরো দেখলেন, তার কবিতার শেষ পঙক্তিটির নিচে লেখা রয়েছে- سَمِعْنَا ... أَطَعْنَا ... ثُمَ مُتْنَا فَبَلِّغُوْا سَلَامِي لِمَنْ قَدْ كَانَ بِالْوَصْلِ يَمْنَعُ
শুনলাম, মানলাম, তারপর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম। তার কাছে আমার সালাম পৌঁছে দিও, আমার সাথে সাক্ষাতে যে ছিল অনাগ্রহী।
এই ছিল পাথরের প্রেমের গল্প। এর কোনো সত্যতা আছে কি না-আমার জানা নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00