📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 এবার আক্ষেপের পালা

📄 এবার আক্ষেপের পালা


তারপর সময় গড়াল। কালের গর্ভে বিলীন হল বহু বছর। জগতের বহু স্বাদের বস্তু বিস্বাদ হল। বহু মিষ্টান্ন তিক্ততায় রূপ নিল। জাবালার জন্য আক্ষেপ ছাড়া বাকি রইল না কিছুই। সে যখন তার অতীত ইসলামী জীবনের কথা স্মরণ করত, তখন তার মনের ক্যানভাসে সালাত- সওমের সেই অনাবিল সৌন্দর্যের স্মৃতি ভেসে উঠত। ইসলাম ত্যাগের আফসোস তখন তাকে একশ তরবারীর ধারালো ফলা হয়ে আঘাত করত। সে আল্লাহ ও তার রাসুলের সাথে কৃত নাফরমানীর জন্য লজ্জিত হত।
সে বলত- تَنَصَّرَتِ الْأَشْرَاف مِنْ عَارِ لَطْمَةٍ * وَمَا كَانَ فِيهَا لَوْ صَبَرَت لَهَا ضَرَر تَكَنَفُنِي مِنْهَا الجَاجِ وَنَحْوَةٍ * وَبِعْتُ لَهَا الْعَيْنَ الصَّحِيحَةِ بِالْعَوْرِ فَيَالَيْتَ أُمِّي لَمْ تَلِدْنِي وَلَيْتَنِي * رَجَعْت إِلَى الْقَوْلِ الَّذِي قَالَ لِي عُمَر وَكُنْتُ أَسِيرُ فِي رَبِيعَةَ أَوْ مُضَرَّ وَبَالَيْتَنِي أَرْعَى الْمَخَاضَ بِقَفْرَةٍ * وَبَالَيْتَ لِي بِالشَّامِ أَدْنَى مَعِيشَة * أُجَالِسُ قَوْمِي ذَاهِبَ السَّمْعِ وَالْبَصَرِ
অভিজাত ব্যক্তি একটি থাপ্পড়ের ভয়ে খ্রিষ্টান হয়ে গেল, অথচ সে যদি সবর করত, তাহলে তার হতো না কোন ক্ষতি।
আহা! অহংকার ও অহমিকা ঘিরে ফেলেছিল আমায়, তাই তো সুস্থ চক্ষুর বিনিময়ে আমি কিনেছি অন্ধত্ব।
হায়! আমার মা যদি জন্মই না দিত আমায়!
হায়! আমি যদি মেনে নিতাম উমরের কথা।
হায়! আমি যদি কোন চারণভূমিতে উটের রাখাল হয়ে উট চরাতাম। ঘুরে বেড়াতাম রাবিয়া ও মুজার গোত্রে।
হায়! আমি যদি জীবন যাপন করতাম সিরিয়ায়, যদি তুষ্ট হতাম স্বল্প বুজিতেই।
থাকতাম আমার জাতির সাথেই- অন্ধ ও বধির হয়ে।
অতঃপর সে আমৃত্যু খ্রিষ্টধর্মের ওপরই অটল ছিল। কাফের অবস্থাতেই হয়েছে তার মরণ।
হাঁ, সে কুফরের ওপর মৃত্যু বরণ করেছে। কারণ, সে ছিল অহংকারী। সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল বিশ্ব প্রতিপালকের বিধান থেকে। অহংকারই ডেকে এনেছিল তার পতন।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইসলামে ন্যায়বিচার

📄 ইসলামে ন্যায়বিচার


একবার কোনো এক যুদ্ধে আলী রা তাঁর প্রিয় বর্মটি হারিয়ে ফেললেন। কিছুদিন পর জনৈক ইহুদীর হাতে সেটি দেখেই চিনে ফেললেন তিনি। লোকটি কুফার বাজারে সেটি বিক্রয় করতে এনেছিল। আলী তাকে বললেন, এতো আমার বর্ম। আমার একটি উটের পিঠ থেকে এটি অমুক রাত্রে অমুক জায়গায় পড়ে গিয়েছিল।
ইহুদী বললো, আমীরুল মুমিনীন! ওটা আমার বর্ম এবং আমার দখলেই রয়েছে।
আলী পুনরায় বললেনঃ এটি আমারই বর্ম। আমি এটাকে কাউকে দানও করি নি, কারো কাছে বিক্রয়ও করি নি। এটি তোমার হাতে কিভাবে গেল?
ইহুদী বললো, চলুন, কাযীর দরবারে যাওয়া যাক।
আলী বললেন, বেশ, তাই হোক। চলো।
তারা উভয়ে গেলেন বিচারপতি শুরাইহের দরবারে। বিচারপতি শুরাইহ উভয়ের বক্তব্য জানতে চাইলেন। তারা প্রত্যেকেই যথারীতি বর্মটি নিজের বলে দাবি করল।
বিচারপতি খলিফাকে সম্বোধন করে বললেন, আমিরুল মুমিনীন! আপনাকে দুজন সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে। আলী বললেন, আমার ছেলে হাসান সাক্ষী।
শুরাইহ বললেন, আপনার পক্ষে আপনার ছেলের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
আলী বললেন, বলেন কি, আপনি একজন বেহেশতবাসীর সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না? আপনি কি শোনেন নি, রাসুল বলেছেন, হাসান ও হোসাইন বেহেশতের যুবকদের নেতা?
শুরাইহ বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি শুনেছি। তবু আমি পিতার পক্ষে ছেলের সাক্ষ্য গ্রহণ করব না।
অনন্যোপায় আলী ইহুদীকে বললেন, ঠিক আছে। বর্মটা তুমিই নিয়ে নাও। আমার কাছে এই আর কোনো সাক্ষী নেই।
ইহুদী তৎক্ষণাৎ বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আমি স্বয়ং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ওটা আপনারই বর্ম। কি আশ্চর্য! মুসলমানদের খলিফা আমাকে কাজীর দরবারে হাজির করে আর সেই কাযী খলিফার বিরুদ্ধে রায় দেয়। এমন সত্য ও ন্যায়ের ব্যবস্থা যে ধর্মে রয়েছে আমি সেই ইসলামকে গ্রহণ করছি। আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু...।
অতঃপর বিচারপতি শুরাইহের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলল। ঘটনা হল- খলিফা সিফফীন যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমি তাঁর পিছু পিছু যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তাঁর উটের পিঠ থেকে এই বর্মটি পড়ে গেলে আমি তা তুলে নিই।
আলী (রাঃ) বললেন, বেশ! তুমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছ, তখন আমি ওটা তোমাকে উপহার দিলাম।
এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইসলামী আইনে ধনী-গরিবের কোনো ভেদাভেদ নেই। নেই গরিবের ওপর ধনীর কোনো প্রাধান্য।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইসলামে সাম্য

📄 ইসলামে সাম্য


একবার মাখযুমী গোত্রের এক মহিলা চুরি করল। ইসলামী আইন মোতাবেক তার ওপর শাস্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত হল। বিষয়টি নিয়ে কুরাইশরা বিভক্ত হয়ে পড়ল। তাঁরা বলল, কে এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-র কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারে। তখন তারা বললেন, এ ব্যাপারে উসামা (রাঃ) ব্যতিত আর কারো হিম্মত নেই। তিনি হলেন রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-র প্রিয় ব্যক্তি।
উসামা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-র সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদের ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺ দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন-
হে লোক সকল! তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতগন ধ্বংস হয়েছে এই কারণে যে, তাদের মধ্যে যখন কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তারা তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করত। [বোখারী]
অপর এক বর্ণনায় এসেছে, এরপর রাসুল ﷺ বলেন, আল্লাহর কসম! যদি ফাতিমা বিনত মুহাম্মদও যদি চুরি করত, তবে নিশ্চয়ই আমি তার হাত কেটে দিতাম।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 মধুর প্রতিশোধ

📄 মধুর প্রতিশোধ


বদর প্রান্তে রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর হাতে থাকা লাঠিটির সাহায্যে সৈন্যদের কাতার সুবিন্যস্ত করছিলেন। এ সময়, ছাওয়াদ বিন গাজিয়াহ কাতারের বাহিরে থাকার কারণে রাসুলুল্লাহ ﷺ তার পেটে লাঠি দ্বারা খোঁচা দিয়ে বললেন-
হে ছাওয়াদ, সোজা হয়ে দাঁড়াও।
ছাওয়াদ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল আপনি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন। অথচ আল্লাহ আপনাকে হক ও ইনসাফ সহকারে প্রেরণ করেছেন। আপনি আমাকে আপনার কাছ থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) নেয়ার সুযোগ দিন। এ-কথা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺ সন্তুষ্ট চিত্তে নিজের পেট খুলে দিয়ে বললেন, হে ছাওয়াদ! তুমি আমার কাছ থেকে কিসাস নিয়ে নাও।
ছাওয়াদ ঝুঁকে পড়ে রাসুল ﷺ-র পেটে চুমু খেলেন।
রাসুলুল্লাহ বললেন: হে ছাওয়াদ তুমি এমন করলে কেন?
জবাবে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা দেখছেন (যুদ্ধ) তা একেবারে সন্নিকটে, অতএব, আমার ইচ্ছা হচ্ছে, আমার জীবনের শেষ স্পর্শটি যেন আপনার পবিত্র শরীর মোবারক হয়।
এ কথা শ্রবণে রাসুলুল্লাহ ﷺ তার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00