📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 যুদ্ধবন্দিদের প্রতি আচরণ

📄 যুদ্ধবন্দিদের প্রতি আচরণ


বদরের যুদ্ধে কাফের শ্রেণি পরাজিত হল। বহু সংখ্যক মুসলমানদের হাতে বন্দি হল। রাসুল তাদের সাথে অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করলেন। তিনি বন্দিদেরকে উত্তম আপ্যায়নের নির্দেশ দিলেন।
মুসয়াব বিন উমাইর বলেন, আমরা বন্দিদের পাহারার দায়িত্বে ছিলাম। আমরা তাদেরকে খেজুর খেতে দিয়ে নিজেরা শুকনো রুটি পানিতে ভিজিয়ে খেতাম। তারা আমাদেরকে বলতো তোমরাও খেজুর নাও।
আমরা বলতাম, না। রাসুল আমাদেরকে তোমাদের প্রতি ইহসান করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সাহাবায়ে কেরামের বদান্যতার প্রতি ইঙ্গিত করে ইরশাদ করেন- وَ يُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَى حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا
তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতীম ও বন্দিকে আহার্য দান করে। [সূরা দাহর, আয়াত: ৮]
ইসলাম যদি তরবারীর মাধ্যমে প্রসার লাভ করত, তাহলে অন্তত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কাফেরদের সাথে প্রতিটি বিষয়ের ফয়সালা তরবারীর মাধ্যমেই করার কথা ছিল। তাই নয় কি? অথচ বাস্তবতা ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা

📄 কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা


৭৩ বছর ধরে রাশিয়াতে কমিউনিজমের জয়জয়কার চলেছে। কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল অস্ত্রের মাধ্যমে। আর এ কথা আমাদের সকলেরই জানা যে, কমিউনিজমের প্রসার লাভ মানে ধর্মহীনতাকে উসকে দেওয়া ও বস্তুবাদের প্রসার ঘটানো।
সেই কমিউনিজম আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে। কারণ, এটি ইসলাম ও খ্রিষ্ট ধর্মের বিরোধিতা করেছিল। সুতরাং, জোরজবরদস্তি ও শক্তি প্রয়োগ কখনও কল্যাণ বয়ে আনেনি।
ইসলাম প্রসার লাভ করেছে মানুষের পরিতুষ্টি ও গ্রহণযেগ্যতার উপর নির্ভর করে। কারণ, আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন- ﴿ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ﴾ আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহ্বান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উত্তমরূপে উপদেশ শুনিয়ে। [সূরা নাহল, আয়াত: ১২৫]

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম প্রচার

📄 ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম প্রচার


ইন্দোনেশিয়া। যেটি মুসলিম বিশ্বের একতৃতীয়াংশ। জনসংখ্যা ২৩০ মিলিয়ন। যাদের সবাই মুসলমান। অথচ সেখানে কোনো অস্ত্রধারী প্রবেশ করেনি। মুসলিম বণিকদের মাধ্যমে সেখানে ইসলামের বিকাশ ঘটে। সে দেশের দীন প্রচারকগণ আলেম ছিলেন না। ছিলেন ব্যবসায়ী। কিন্তু তাদের সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা দেখে সেখানকার অধিবাসীরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তারা মসজিদ নির্মাণ করে। জনগণ সালাত আদায় করা শুরু করে। ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে মুসলমানদের সংখ্যা। বাড়তে থাকে মসজিদ। এভাবেই ইন্দোনেশিয়ার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ে ইসলাম।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ভারতে ও জার্মানে ইসলামের প্রচার-প্রসার

📄 ভারতে ও জার্মানে ইসলামের প্রচার-প্রসার


তাকাও ভারতের দিকে। সেখানেও তো কেউ অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেনি। সেখানে ইসলামের বিকাশ ঘটেছে বণিক ও বিভিন্ন ইসলামি গ্রন্থের মাধ্যমে। বিশ্বের আরো যেসব দেশে বর্তমানে ইসলামের প্রসার ঘটছে সেখানেও অস্ত্রের প্রয়োগ হচ্ছে না। উদাহরণত জামার্নির কথা বলা যায়। জার্মানের রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান বলছে, সেখানে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত এভাবে বাড়ছে যে, গড়ে প্রতি দু ঘন্টায় একজন করে মুসলমান হচ্ছে। এটি ২০০৬, ২০০৭, ২০০৯ এবং ২০১০ সালের পরিসংখ্যান। এরা কি কোনো অস্ত্রের ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করছে? নিশ্চয়ই না।
এটা হল জার্মানির রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান। যাতে দেখা যায় প্রতিদিন গড়ে ১২ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে। কিন্তু বাস্তবে দৈনিক ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা ১২ জনেরও অধিক। কারণ, আমি সেখানকার মুসলিম ভাইদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তাদের ভাষ্যমতে, প্রত্যহ ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানের চেয়ে আরো বেশি।
সুতরাং, উদারতা ও বদান্যতার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটেছে- এটি আজ প্রমাণিত সত্য।
তবে, তরবারী বা অস্ত্রের মাধ্যমে ইসলামের প্রসার ঘটেছে একথা বলা যেমন ভুল, তেমনি জিহাদ ছাড়া ইসলামের প্রসার ঘটেছে একথা বলাটাও ভুল।
বরং, দুটির সমন্বয়েই ইসলামের প্রচার-প্রসার ও মুসলমানদের ক্রমবৃদ্ধি ঘটেছে। অর্থাৎ, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর মাধ্যমে যেমন ইসলামের প্রসার ঘটেছে। তেমনি মুসলমানদের উত্তম আচরণ, সৌহার্দ্য ও উদারতা দেখেও মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করেছে।
আল্লাহ -র কাছে প্রার্থনা, তিনি আমাদেরকে সর্বপ্রকার কল্যাণ দান করুন। আমাদের জীবনকে বরকতময় করুন। সর্বদা তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকার তাওফিক দিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00