📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই

📄 আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই


আল্লাহ বলেন-
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا ﴿۸﴾ لَقَدْ جِئْتُمْ شَيْئًا إِذًّا ﴿٩﴾ تَكَادُ السَّمَوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا ﴿١٠﴾ أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا ﴿١١﴾ وَمَا يَنْبَغِي لِلرَّحْمَنِ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَدًا ﴿۲﴾ إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا ﴿۳﴾ لَقَدْ أَحْصُهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا ﴿4﴾ وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيمَةِ فَرْدًا
তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। নিশ্চয় তোমরা তো এক অদ্ভূত কান্ড করেছ। হয় তো এ কারণেই এখনই নভোমন্ডল ফেটে পড়বে, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে। এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর জন্যে সন্তান আহ্বান করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভনীয় নয়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের কেউ নেই যে দয়াময় আল্লাহ কাছে দাস হয়ে উপস্থিত হবে না। তাঁর কাছে তাদের পরিসংখ্যান রয়েছে এবং তিনি তাদের গণনা করে রেখেছেন। কেয়ামতের দিন তাদের সবাই তাঁর কাছে একাকী অবস্থায় আসবে। [সূরা মারয়াম, আয়াত: ৮৮-৯৫]
আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন- এ ধারণা পোষণ করা কারো জন্যেই বৈধ নয়। আল্লাহ এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। ঈসা মারয়াম-এর পুত্র। তিনি একজন নবী। আমাদের মহা শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। সাহাবাদের চেয়েও আমরা তাঁকে বেশি ভালোবাসি। আমরা ভালোবাসি আমাদের রাসুল ﷺ-কে। ভালোবাসি ঈসা কে। ভালোবাসি সকল নবী-রাসূলকে। আমরা তাদেরকে আমাদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। অন্যান নবী-রাসূলদের মতো ঈসা -র ওপর ঈমান আনাও আমাদের জন্য জরুরি।
কারণ, আল্লাহ বলেন-
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهِ، وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا * غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
রাসুল বিশ্বাস রাখেন ওই সব বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও। সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে, আমরা তার পয়গম্বরগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই হে আমাদের পালনকর্তা, তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। [সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮৫]

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইনজিল কিতাব খুলে দেখুন

📄 ইনজিল কিতাব খুলে দেখুন


আল্লাহ -র পাঠানো নবীদের মাঝে আমরা কোনো ন্যূনাধিক্য স্থাপন করি না। কোনো মুসলমানদের জন্যই এমনটি করা সমীচীন নয়। কেউ যদি বলে যে, সে ঈসা -র প্রতি ঈমান আনবে না কিংবা মুসা -র প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না- তাহলে এটা তার জন্য জায়েয হবে না। আমরা তাদের সবার ওপরে বিশ্বাস রাখি। তাদেরকে আল্লাহর পাঠানো নবী-রাসুল হিসেবে স্বীকার করি। কোনো নবী-রাসুল আল্লাহর সন্তান- এরূপ কোনো বক্তব্য কোনো আসমানী গ্রন্থে বিদ্যমান নেই। নেই খ্রিষ্টানদের ইনজিলেও। আমি আমার খ্রিষ্টান বিজ্ঞ ভাইদেরকে আহবান জানাচ্ছি, আপনারা ইনজিল কিতাবটি খুলুন। তাতে খুঁজে দেখুন। সেখানে কোথাও ঈসা আল্লাহ -র সন্তান ছিলেন- এমন বক্তব্য খুঁজে পান কি না দেখুন। আমি নিশ্চিত আপনারা কখনই এমন কিছু খুঁজে পাবেন না।
পৃথিবীতে এখন চার ধরণের ইনজিল কিতাব রয়েছে। যার কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল- তা আপনারাই বলতে পারেন না। কোনটি আল্লাহর বাণী বা আদৌও কোনোটি আল্লাহর বাণী কি না- এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেন না। সেই চার ইনজিলেরও কোনোটিতে আপনারা এ ধরণের কোনো বক্তব্যের দেখা পাবেন না।
খ্রিষ্টানদের আকিদা ভ্রান্ত। তাদের বিশ্বাস গলদ। তদুপরি তারা জানে যে, ঈসা কে আমরা সম্মানিত নবী হিসেবে মানি। তাঁর আদর্শের অনুসরণ করি। তারা এটাও জানে যে, তিনি তাঁর পরে একজন নবীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। যার নাম হবে আহমদ। তিনি এভাবে বলেছিলেন- আমার পর অচিরেই একজন নবী আসবেন। তার নাম হবে আহমদ।
তিনি তাদেরকে তাঁর অনুসরণ করার আদেশ দিয়ে গেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সে সম্পর্কে বলেন-
وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يُبَنِي إِسْرَاعِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُّصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَايَةِ وَ مُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُةَ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَتِ قَالُوا هُذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ
স্মরণ কর, যখন মারইয়াম-তনয় ঈসা বলল, হে বনী ইসরাঈল, আমি তোমাদের কাছে আল্লাহ প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন, তাঁর নাম আহমদ; অতঃপর যখন সে স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বলল, এ তো এক প্রকাশ্য যাদু। [সূরা ছাফ, আয়াত: ৬]
তাই মুহাম্মাদ -এর আগমনের পর সবার জন্য তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক হয়ে গিয়েছে।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 মিশর বিজয়ের পর

📄 মিশর বিজয়ের পর


ইতিহাস পড়ে দেখো, ওমর ইবনুল আস যখন মিশর বিজয় করলেন তখন মিশরে কিছু খ্রিষ্টানের বসবাস ছিল। তারা ঈসা -র ধর্মের অনুসরণ করত। কিন্তু যখন তারা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বগুলো বাস্তবে অবলোকন করল। অনুধাবন করল ইসলামের উদারতা। তারা ভাবল, ঈসা -র ধর্মের পরে ইসলাম ধর্ম পৃথিবীতে এসেছে। ঈসা -র ধর্মটি ছিল তাঁর সময়ের মানুষদের জন্য নির্ধারিত। অতঃপর আল্লাহ মুহাম্মাদ -কে সর্বশেষ নবীরূপে পাঠালেন। তাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত বানালেন। মানুষেরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করল। তারা ঈসা -র অনুসরণ ছেড়ে মুহাম্মাদ -কে অনুসরণ করতে লাগল।
শপথ আল্লাহর, আমি অনেক বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্রিষ্টান ডক্টর সম্পর্কে জানি। জানি অনেক খ্রিষ্টান ইঞ্জিনিয়ার ও পাদ্রী সম্পর্কেও- যারা খ্রিষ্ট ধর্ম ছেড়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছে।
কোনো খ্রিষ্টান পাদ্রি কি ইসলাম গ্রহণ করছে?
একটি প্রশ্ন। আমার সচেতন খ্রিষ্টান বন্ধুদের কাছে। আপনাদের কি মনে আছে, সেই পাদ্রির কথা? যিনি ইসলাম গ্রহণ করে ছিলেন?
আপনাদের জবাব অবশ্যই এমন হবে- হ্যাঁ, আমরা এমন কয়েকজন খ্রিষ্টান পাদ্রি সম্পর্কে জানি, যারা খ্রিষ্ট ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। যেমন, শায়েখ ইউসুফ ইসতেস। তিনি একজন আমেরিকান পাদ্রি ছিলেন। তার মতো আরো অনেক পাদ্রি রয়েছেন। যাদের লেখা বিভিন্ন বই-পুস্তক রয়েছে। টেলিভিশনে প্রোগ্রাম রয়েছে। ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট রয়েছে। তারা কোনো সাধারণ খ্রিষ্টান ছিলেন না। ছিলেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।
কোনো মুসলিম আলেম কি ইসলাম ত্যাগ করেছেন?
আরেকটি প্রশ্ন। আপনারা কি কখনও কোনো মুসলমান আলেমকে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করতে দেখেছেন।
এর জবাবে আপনারা অবশ্যই বলবেন- না, আমরা এমন কাউকে দেখিনি।
এখন প্রশ্ন হল- কেন দেখেননি? কেন মুসলিম আলেম ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করে না। আমি এখানে কোনো সাধারণ ব্যক্তিদের কথা বলছি না। বলছি খ্রিষ্ট ধর্মের পাদ্রিদের মতো ইসলাম ধর্মের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কথা। কেন একজন পাদ্রি খ্রিষ্ট ধর্মের অনুসরণীয় ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করছে? আপনার কাছে কি এর জবাব আছে? জানি নেই।
শুনুন। এর জবাব হল, তিনি ঈসা -র অসিয়ত পালন করতেই এমনটি করেছেন।
তাই আপনিও যদি প্রকৃত অর্থে ঈসা -কে ভালোবেসে থাকেন, তাহলে তিনি যে অসিয়ত করে গেছেন তা পালন করুন। কারণ, ঈসা কখনও একথা বলেননি যে, তোমরা আমার ইবাদত করো। তিনি বলেছেন তোমরা আমার অনুসরণ করো।
যেমন আল্লাহ বলেন- فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوا يُمَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا ﴿۲۷﴾ يَاخْتَ هُرُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا ﴿۲۸﴾ فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا ﴿۲۹﴾ قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ الُنْيَ الْكِتَبَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا
অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বলল: হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ। হে হারুনের বোন, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিলেন না ব্যভিচারিণী। অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা বলল, যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব? সন্তান বলল, আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। [সূরা মারয়াম: ২৭-৩০]
এটি ঈসা এর কথা ছিল। তিনি কখনও বলেননি যে, আমিই আল্লাহ। বলেননি আমি আল্লাহর পুত্র। বরং বলেছেন- আমি আল্লাহর বান্দা। তোমাদের মতোই আল্লাহর সৃষ্টি।
আল্লাহ আরো বলেন- قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللهِ اثْنِيَ الْكِتَبَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا ﴿۳۰﴾ وَ جَعَلَنِي مُبْرَكًا أَيْنَ مَا كُنتُ وَ أَوْصُنِي بِالصَّلُوةِ وَالزَّكُوةِ مَا دُمْتُ حَيًّا
তিনি (ঈসা) বললেন, আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। আমি যেখানেই থাকি তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে। [সূরা মারয়াম, আয়াত: ৩০-৩১]
হে আমার খ্রিষ্টান ভাইয়েরা! আমার মুসলিম ভাইদের মতো আমি আপনাদেরও কল্যাণকামী। আপনাদের শুভাকাঙ্ক্ষী। শপথ আল্লাহর, আমি আপনাদের মঙ্গলই কামনা করি। যেমন কামনা করি আমার সকল মুসলিম ভাইদের জন্য।
প্রিয় ভাইয়েরা! সব মানুষের মাঝেই রয়েছে মুক্তির কামনা। রয়েছে তার প্রতিপালকের প্রতি বিশুদ্ধ বিশ্বাস ও নিষ্কলুষ আন্তরিকতা। সবাই চায় তার প্রতিপালক তাকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করুন।
আমারও আল্লাহ -র কাছে একই প্রার্থনা। আল্লাহ আমাকে ও আপনাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিন। সত্য ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করুন। তিনি এক ও ইবাদতের একমাত্র উপযুক্ত- এই বিশ্বাস বুকে ধারণ করে তাঁর ইবাদতে মশগুল হবার তাওফীক দান করুন। আমিন।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 তরবারির জোরে এসেছে কি ইসলাম?

📄 তরবারির জোরে এসেছে কি ইসলাম?


কটি প্রশ্ন এখন সর্বত্রই শোনা যায়- ইসলাম কি এসেছে তরবারির জোরে? মানুষকে কি নিরূপায় হয়ে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য হয়েছে? নাকি তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে, তৃপ্ত মনে, ভালোবেসে গ্রহণ করেছে ইসলাম?
রাসুলুল্লাহ যখন সাহাবায়ে কেরামকে কোনো অভিযানে পাঠাতেন। তখন তাদের সাথে থাকতো যুদ্ধাস্ত্র। থাকতো তীর, ধনুক, তরবারী। তারা সফর করত দূর দূরান্তে। যুদ্ধযানে চড়ে পাড়ি জমাতো মাঠ-ঘাট, মরু-প্রান্তর। মুখোমুখি হতো শত্রুপক্ষের। হতো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ইসলাম কি এভাবে এসেছে ধরায়?
ইতিহাস তোমার সামনে। পড়ে দেখো। মুসলমানেরা কখনও কখনও কোনো দূর্গ অবরুদ্ধ করত। অবরোধ আরোপ করত কোনো দেশের ওপর। কখনও এক মাস, দু মাস বা আরো বেশি সময় ধরে চলতো এই অবরোধ। যেমন- একবার মুসলমানেরা বাইতুল মুকাদ্দাস অবরোধ করেছিল। রাসুল ﷺ অবরোধ করেছিলেন খায়বার। অবরোধ কালীন সময়ে তাদের মাঝে কখনও কখনও তীর বিনিময় চলতো। কখনও বা যুদ্ধ বেঁধে যেতো। হাতাহত হতো। কখনও বা ঘটতো অগ্নিকান্ডের মতো ঘটনাও।
এখন প্রশ্ন হল, ইসলাম কি এসব লড়াইয়ের হাত ধরেই পৃথিবীব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে?
এর জবাব আমি দিচ্ছি। প্রথমেই আমি তোমাদের সামনে কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। ইসলাম কি তরবারির জোরে এসেছে, নাকি অন্য উপায়ে এসেছে- এ পরিসংখ্যান থেকে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
একটি উদাহরণ দিচ্ছি, আমার অভ্যাস হল, আমি প্রতি ছয় মাসে কিংবা এক বছরে কখনও দু বছরে একবার হলেও জুমার খোতবায় মা-বাবার প্রতি সদাচরণ সম্পর্কে আলোচনা করে থাকি। কেউ কেউ মাঝে মাঝে আমাকে প্রশ্ন করে, শায়খ! আজকের খোতবাটি আপনি ছয় মাস কিংবা এক বছর আগেও একদিন দিয়েছিলেন? আমি সেদিন আপনার পেছনে জুমার সালাত আদায় করছিলাম। একই খোতবা আজ আবারও দিলেন?
জবাবে আমি বলি, এর দুটি কারণ।
এক.
আমি প্রতিবারই খোতবার ধরণ পরিবর্তন করে থাকি। হ্যাঁ, এটা সত্য যে, মা-বাবর প্রতি সদাচরণ বিষয়ে আমি আগেও খোতবা দিয়েছিলাম। তবে এবারের খোতবাটিতে আমি এমন কিছু ঘটনা বর্ণনা করেছি যা আগের খোতবায় বর্ণনা করিনি। তাছাড় দুটি খোতবার হাদিসগুলোও তো এক নয়।
দুই.
মা-বাবার প্রতি সদাচরণ- এ বিষয়ে যতবারই আলোচনা করা হোক না কেন প্রতিবারই এটি অনুভূতিকে নতুন করে নাড়া দেয়। ধরুন, গত বছর যখন আমি এ বিষয়ে আলোচনা করছিলাম তখন একটি কিশোরের বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। বর্তমানে সে পনেরো কিংবা ষোলোতে পা রেখেছে। হতে পারে তার বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হয়েছে। তাই মা-বাবার সাথে কিরূপ আচরণ করতে হবে সে সম্পর্কে তার জানা দরকার। দরকার তাকে অসৎ সঙ্গ হতে সতর্ক করাও। কারণ, এ সম্পর্কিত আলোচনাগুলো মানুষ ভুলে যায়।
পূর্বের আলোচনায় ফেরা যাক। ইসলাম কি তরবারীর জোরে এসেছে নাকি অন্য উপায়ে এসেছে- বিষয়টি খানিক আলোকপাত করা যাক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00