📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 ইউরোপ : নাস্তিক্যবাদের আঁতুড়ঘর

📄 ইউরোপ : নাস্তিক্যবাদের আঁতুড়ঘর


প্রিয় ভাই-বোনেরা! আফসোস! ইউরোপ হল নাস্তিক্যবাদের আঁতুড়ঘর। সেখান থেকে এটি ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র মুসলিম জাহানে। ইউরোপের দেশগুলোতে এই মতাবাদের সূচনা ও বিকাশ অসম্ভব নয়। কারণ, এসব দেশের অধিবাসীরা ধর্ম বিমুখ। তারা ঈসা আ. কে আল্লাহ -র পুত্র জ্ঞান করে। অথচ আল্লাহ -র সন্তান থাকার বিষয়টিকে কোনো সুস্থ বিবেক কখনো সায় দিতে পারে না। তাছাড়া সেখানকার মানুষগুলো প্রবৃত্তি-পূজারী। বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা। তারা নানাভাবে তাদের যৌন পিপাসা নিবারণে ব্যস্ত। ধর্মের প্রতি নেই তাদের কোনো আগ্রহ। তাই তারা নাস্তিক্যবাদকে আপন করে নিয়েছে। কারণ, তারা নিজ খেয়াল-খুশি মতো চলতে চায়। জগতের সব সুখ-শোভা ভোগ করতে চায়। চায় যা ইচ্ছা খেতে। যা খুশি পান করতে। যেভাবে ইচ্ছা যৌন ক্ষুধা মেটাতে। যখন ইচ্ছা ঘুমাতে। যখন ইচ্ছা জাগতে।
সুতরাং, তাদেরকে যদি বলা হয় যে, এটা হারাম। ওটা নিষিদ্ধ। এটা খেও না। ওটা পান করো না। পরকালে তোমাকে আল্লাহ-র সামনে দাঁড়াতে হবে। এ অন্যায় কাজগুলো তুমি কেন করছ- এগুলোর ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। তোমার কৃতকর্মের প্রতিফল ভোগ করতে হবে। তারা এসব উপদেশ কানে তোলবে না। কারণ এগুলো মানতে গেলে তারা তাদের স্বেচ্ছাচারী জীবন যাপন করতে পারবে না। তাই তারা আল্লাহ-র অস্তিত্ব অস্বীকারের পথ বেছে নিয়েছে। কারণ, তাদের বল্গাহীন জীবন-যাপনের স্বাচ্ছন্দ গতিময়তা অটুট রাখার জন্য এটিই একমাত্র সহজতর উপায়। তাদের নাস্তিক্যবাদের প্রতি আকৃষ্টির এটিই প্রধান কারণ।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 একটি পরিসংখ্যান

📄 একটি পরিসংখ্যান


বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতে নাস্তিক্যবাদের দ্রুত প্রসার ঘটছে। মনে পড়ছে, প্রায় দশ বছর আগে আমি ইউরোপের একটি দেশে গিয়েছিলাম। দেশটির পতাকা ছিল ক্রশখচিত। অর্থাৎ, সেটি একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র। আমি দেশটির প্রতিটি মোড়ে মোড়ে গির্জার উপস্থিতি লক্ষ্য করলাম। তুমি যদি সে দেশটির রাস্তাঘাটগুলো ঘুরে বেড়াও তাহলে এর প্রতিটি বাকে বাকে ঈসা-র প্রতিকৃতি দেখতে পাবে। যদিও এগুলো ঈসা-র বাস্তব প্রতিকৃতি নয়।
আমি সে দেশের একটি পরিসংখ্যান দেখলাম। পরিসংখ্যানটি সেদেশের কিছু জনগণের ওপর জরিপ চালিয়ে তৈরী করা হয়েছিল। জরিপকালে তাদের কাছে যে প্রশ্নগুলো রাখা হয় তা থেকে কয়েকটি প্রশ্ন এমন ছিল- আপনার ধর্ম কি?
মাত্র ১৩% লোক এর জবাবে বলেছিল, তাদের ধর্ম খিষ্টান। আপনি কি জীবনে কখনো গির্জায় গিয়েছেন? হতে পারে সেটা শিশুকালে কিংবা ছাত্রাবস্থায় অথবা বিবাহ উপলক্ষ্যে বা অন্য কোনো সময়?
মাত্র ৭% লোক জবাব দিয়েছিল যে, তারা জীবনে একবার হলেও গির্জায় গিয়েছে।
আপনি কি প্রতি সপ্তাহে গির্জায় যান?
মাত্র ১% লোক এর জবাবে 'হ্যাঁ, বলেছিল।
সেখানে অবস্থানকালে আমাদের কাছে প্রত্যেক জুমার দিন আসর সালাতের পর বৃটেন, ফিলিপাইন ও আমেরিকার অনেক নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করতে আসত। তাদের বয়স অধিকাংশেরই বয় ছিল ৩০ বা ৪০ এর ঘরে। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাম জীবনে কতবার গির্জায় গিয়েছেন?
জবাবে তারা বলতো- একবারও না।
তাই তাদের নাস্তিক্যবাদের প্রতি ধাবিত হওয়া আমাকে অবাক করে না। তাদেরকে ধর্মবিমুখ দেখে আমি আশ্চর্য হই না। কিন্তু হে আমার ভাই! হে আমার বোন! তোমার আছে ইসলামের মতো মহান সত্য ধর্ম। যা আল্লাহ ﷺ-র কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র ধর্মও বটে। যে ধর্মে বলা হয়েছে অন্তরে বিশ্বাসের কথা। জান্নাত-জাহান্নামের কথা। পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কথা। যে ধর্মে আছে কোরআনের মতো মহাসত্য গ্রন্থ। অতএব, এই ধর্ম ছেড়ে তুমি যদি নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকে পড়ো, তাহলে বুঝতে হবে তুমি কঠিন রোগে আক্রান্ত। যার দ্রুত নিরাময় দরকার।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 আমিও পারি সৃষ্টি করতে

📄 আমিও পারি সৃষ্টি করতে


বহুদিন আগের কথা। তখন কিছু মানুষ নাস্তিক্যবাদে এতোটাই চরমে পৌঁছে গিয়েছিল যে, কেউ কেউ নিজেকেই স্রষ্টা বলে ধারণা করতে শুরু করেছিল। এমনই এক ভ্রষ্ট নাস্তিক একদিন এক আলেমের কাছে এসে বলল, আমিও পারি সৃষ্টি করতে, আপনি কি একথা বিশ্বাস করেন?
তুমিও সৃষ্টি করতে পারো? প্রশ্ন আলেমের।
হ্যাঁ। নাস্তিকের দম্ভভরা জবাব।
আলেম তার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, বেশ, তাহলে কিছু একটা সৃষ্টি করে দেখাও তো।
নাস্তিকটি একটি বৃহদাকায় গাছের কাছে গেল। তাতে একটি গর্ত খুড়ল। গর্তটির ভেতর এক টুকরো গোস্ত রাখল। তারপর গর্তটি ঢেকে দিল। এবার সে আলেমকে বলল, শায়েখ, ঠিক এক মাস পর আমি এখানে এসে আপনার সাথে দেখা করব।
এক মাস পর লোকটি এলো। আলেমকে নিয়ে সেই গাছের কাছে গেল। লোকটি গর্তের ঢাকনাটি সরাল। দেখা গেল, গোশতের টুকরাটি কিছু কীটে পরিণত হয়ে গেছে।
ওই লোকটি তখন আলেমকে উদ্দেশ্য করে বলল, দেখলেন, এই কীটগুলো আমি সৃষ্টি করেছি। আমিই এগুলোর স্রষ্টা।
আলেম বললেন, আচ্ছা, তাই নাকি? তার মানে আপনার দাবি হল, আপনিই এগুলোর স্রষ্টা?
হ্যাঁ।
বেশ, তাহলে বলুন তো আপনি কতগুলো কীট সৃষ্টি করলেন?
তা তো জানি না।
আশ্চর্য! আপনিই সৃষ্টি করলেন, অথচ আপনিই জানেন না এর সৃষ্টি সংখ্যা! আচ্ছা, তাহলে অন্তত এটা বলুন, এখানে ক'টি নারী আর ক'টি পুরুষ কীট রয়েছে?
জানি না।
এটাও জানেন না? আচ্ছা এই যে দেখা যাচ্ছে যে, কিছু কীট হাঁটছে। কিছু ডাল বেয়ে উপরে ওঠছে। কিছু নিচে নামছে। আপনি যেহেতু এগুলোর স্রষ্টা, তাই বলুন তো কোথায় এদের গন্তব্য? তারা আজ কী খাবে? কবে এরা মারা যাবে?
আমি এসবের কিছুই জানি না।
কী আশ্চর্য! আপনি নিজেই তাদের সৃষ্টি করেছেন, অথচ তাদের সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না।
নাস্তিকটি তখন হতবুদ্ধি হয়ে গেল। তার দাবির অসত্যতা প্রমাণিত হল। বস্তুত, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই।
অতএব, যারা আল্লাহ -র প্রভুত্বে নির্ধারিত বিষয়সমূহের কোনোটিকে নিজের সৃষ্টি বলে দাবি করে, তাদেরকে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বলা যায় না। যে সমাজে এসব লোকের বসবাস সেই সমাজও তাদেরকে মেনে নেয় না।

📘 যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চাও > 📄 এক সাহাবির ইসলাম গ্রহণের গল্প

📄 এক সাহাবির ইসলাম গ্রহণের গল্প


যুবায়ের বিন মুতঈম। রাসুল -র একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী। ঘটনাটি তার ইসলাম গ্রহণের পূর্বেকার। একদিন তিনি মদিনায় প্রবেশ করলেন। উদ্দেশ্য রাসুল -র সাথে সাক্ষাত করা। তিনি মসজিদে নববীর কাছাকাছি এলেন। রাসুল তখন সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন। সালাতে তেলাওয়াত করছিলেন সূরা তুর।
যখন তিনি সূরার এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন- أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَلِقُونَ তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? [সূরা তুর: ৩৫]
যুবায়ের বিন মুতঈম বলেন, আল্লাহর কসম, আয়াতটি শোনার পর থেকে আমার মনে বারবার এ প্রশ্নটিই ঘুরপাক খাচ্ছিল- সত্যিই কি আমরা আপনা আপনিই সৃষ্টি হয়েছি? নাকি আমরা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা?
অবশেষে তিনি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00