📄 আস্তিক-নাস্তিক চিরন্তন দ্বন্দ্ব
চমৎকার একটি গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। গল্পটি অবিশ্বাসীদের নিয়ে। যারা স্বীকার করে না আল্লাহ -র অস্তিত্ব। মানতে চায় না তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব। বিশ্বাস করে না তাঁর এককত্ব। চমৎকার এই গল্পটিতে রয়েছে তাদের ভ্রান্ত দাবীর অসারতার প্রমাণ। রয়েছে নাস্তিকদের বিপক্ষে পূর্বসূরী আলেমদের মোকাবেলার দাস্তান। কেমন ছিল সে যুগের নাস্তিকেরা? কেমনই বা ছিলেন আমাদের পূর্বসূরীরা? কোন কৌশলে তারা দমন করতেন নাস্তিকদের? এখনও কি আছে সেই নাস্তিকদের উত্তরসূরীরা? কেমন হতে পারে তাদের সাথে বর্তমান বিতর্কের ধরণ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে গল্পটিতে।
নাস্তিকদের হাতে আছে এখন ইন্টারনেট, ব্লগ, ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানাবিধ প্রচার মাধ্যম। যেগুলোর মাধ্যমে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে ছাড়াচ্ছে বিষবাষ্প। চালাচ্ছে অপপ্রচার। পূর্বসূরী বিজ্ঞ আলেমদের থেকে পাওয়া কৌশলকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে আমরা নস্যাৎ করতে পারি তাদের সেসব চক্রান্ত? তাদের মোকাবেলায় কীভাবে সংগ্রহ করতে পারি শরঈ প্রমাণাদি? গল্পটির পরতে পরতে রয়েছে তার অনুপম শিক্ষা।
তাহলে বলছি সেই সত্য সুন্দর গল্পটি-
ফিকাহ শাস্ত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)। সোমানীয়দের সাথে চলছে তার বিতর্ক। এরা ছিল নাস্তিক। আল্লাহ -র একত্ববাদে অবিশ্বাসী। আকস্মিক দুর্ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে সমগ্র জগত সংসার- এমনই ছিল তাদের দাবি। এই আকাশ-মাটি, গ্রহ-নক্ষত্র, এই পাহাড়, সাগর, ঝর্ণা, নদী সবই সেই আকস্মিক দুর্ঘটনার হঠাৎ সৃষ্টি। নিপুন এই সৃষ্টিরাজির নেই কোন স্রষ্টা- এমনই তাদের বিশ্বাস।
ইমাম আবু হানিফা তাদের দাবি অস্বীকার করলেন। কিন্তু তারা অনড়। বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের মাঝে চলতে থাকল কথা কাটাকাটি। আলোচনা হতে লাগল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর।
ইমাম আবু হানিফা বললেন, বেশ, আগামী দিন এ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তবে শর্ত হল, এটি হতে হবে বাদশাহর দরবারে।
নাস্তিকেরা রাজি হল। পরদিন অনুষ্ঠান স্থলে সবাই হাজির। তবে এখনো আসেননি ইমাম আবু হানিফা। সবাই তার জন্য অপেক্ষা করছে। বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেখা নেই তার। নাস্তিকের দল চরম বিরক্ত। তারা মুসলমানদেরকে বলতে লাগল, কোথায় তোমাদের ইমাম? এখনও আসছেন না কেন তিনি? তিনি তো দেখছি ওয়াদা রক্ষাকারী নন। অথচ তাকেই তোমরা তোমাদের ইমাম বলে মানো?
আসলে ইমাম আবু হানিফা ইচ্ছে করে দেরি করছিলেন। জ্ঞানীদের কোন কাজই জ্ঞান-শূন্য নয়। অবশেষে তিনি এলেন। তাকে দেখে নাস্তিকেরা বলে ওঠল, কী ব্যাপার, আপনি এতো দেরি করলেন কেন? আপনি তো বলে থাকেন আল্লাহ আছেন। আপনি তাঁকে ভয় করেন। বিশ্বাস করেন যে, একদিন দাঁড়াতে হবে তাঁর সামনে। দিতে হবে সব কাজের হিসাব। আজ কোথায় গেল আপনার সেসব বিশ্বাস?
ইমাম আবু হানিফা বললেন, ভাইয়েরা! আপনারা শান্ত হোন। দয়া করে আমার বিলম্বের কারণটা শুনুন। আসলে আমি এখানে আসার জন্য যথাসময়েই ঘর থেকে বের হয়েছিলাম। কিন্তু নদীর ঘাটে এসে দেখলাম কোনো নৌকা নেই।
নৌকা না পেলে আপনি এলেন কিভাবে? জানতে চাইল এক নাস্তিক।
সে এক আশ্চর্য ঘটনা। ইমাম আবু হানিফা বলতে লাগলেন। নৌকা না পেয়ে আমি আশেপাশে দেখছিলাম। দেরি হয়ে যাচ্ছিল বলে বিচলিত হচ্ছিলাম। কোনোভাবে যেন একটা নৌকার ব্যবস্থা হয়ে যায়- মনে মনে আল্লাহ-র কাছে সেই দোআ করছিলাম। ঠিক তখনি ঘটল আশ্চর্য সেই ঘটনাটি। হঠাৎ প্রচন্ড ঝড় শুরু হল। সাথে বজ্রপাত। আচানক বিশালাকায় একটি বজ্র আঘাত হানল একটি গাছের ওপর। বজ্রটি এতোটাই বৃহৎ ছিল যে, মনে হচ্ছিল গোটা একটা বাড়িই সে ভস্ম করে দিতে পারবে। বজ্রের আঘাতে গাছটি দ্বিখন্ডিত হয়ে গেল। তার এক অংশ পড়ল তীরে। আরেক অংশ নদীতে। তারপর দেখলাম একটি লোহার খন্ড এসে হাজির। কোথা থেকে সেটি এলো বুঝতে পারলাম না। এরপর দেখি গাছের একটি ডাল এসে সেই লৌহ খন্ডটির ভেতরে ঢুকে পড়ল। সেটি পরিণত হয়ে গেল ধারালো এক কুঠারে। সবকিছু খুবই দ্রুত ঘটে যাচ্ছিল। গাছের যে অংশটি নদীতে পড়েছিল কুঠারটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে তাতে আঘাত করতে লাগল। দেখতে দেখতে তৈরী হয়ে গেল ছোট্ট একটা নৌকা। এরপর নদীর পানিতে ভেসে এলো দুটি তক্তা। সাথে এলো গাছের চিকন দুটি ডাল। অতঃপর এদের একটি অপরটির সাথে মিলে গেল। আমি অপলক চোখে দেখেই যাচ্ছিলাম। আচানক তক্তা দুটি নৌকার ডানে বামে জুড়ে গিয়ে তৈরী হল পাল। এভাবেই তৈরী হয়ে গেল পূর্নাঙ্গ একটি নৌকা। এরপর নৌকাটি আমার কাছে এলো। আমি তাতে ওঠে বসলাম। নৌকাটি একাই চলতে লাগল। আমাকে নদী পার করে দিল। তাই আমার আসতে খানিকটা বিলম্ব হয়ে গেল। আচ্ছা, চলুন আমাদের মূল আলোচনা শুরু করা যাক- এ জগত সংসার কিভাবে সৃষ্টি হল? এটি কি হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে, নাকি এর রয়েছে কোনো স্রষ্টা?
নাস্তিকেরা বলল, চুপ করুন। আপনি আমাদের এ কেমন ঘটনা শোনালেন? আপনার মাথা ঠিক আছে তো? নাকি পাগল হয়ে গেছেন আপনি?
না, আমি মোটেই পাগল হইনি। আমি পুরোপুরি সুস্থ আছি।
তাহলে এটা কি করে সম্ভব যে, একাকি একটি পূর্ণাঙ্গ নৌকা তৈরী হয়ে যাবে? আচ্ছা, যদি আমরা আপনার কথা বিশ্বাস করে নেই যে, হ্যাঁ, সত্যিই বজ্রপাতে একটি গাছ দিখন্ডিত হয়ে এক অংশ নদীতে আরেক অংশ তীরে পড়ে ছিল। তদুপরি কোনো সুস্থ বিবেক কি করে এ কথা মেনে নেবে যে, গাছের সেই দু'টি অংশ থেকে সয়ংক্রীয়ভাবে নৌকা তৈরী হয়ে গেছে। একটি নৌকা তৈরী করতে প্রয়োজন হয় কত কিছুর। আলকাতরা লাগানো, দাড় টানা, পাল ওঠানো- এসবের জন্য প্রয়োজন হয় কত মানুষের। এসব ছাড়া একটি নৌকা একাকী কি করে হঠাৎ তৈরী হয়ে যেতে পারে? এটা কিভাবে সম্ভব?
ইমাম আবু হানিফা ؒ বললেন, সুবহানাল্লাহ! ক্ষুদ্র একটি নৌকা হঠাৎ আপনা আপনি সৃষ্টি হয়ে গেছে- এটা আপনারা মানতে পারছেন না, অথচ আপনাদের দাবি আসমান-জমিন, পাহাড়-সাগর, বন-বনানি, নদী-নালা, পশু-পাখি, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, মানব-দানব- এ সবকিছুর কোন স্রষ্টা নেই। আপনারা বলছেন এগুলো হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে।
ইমাম আবু হানিফা ؒ -এর বুদ্ধিদৃপ্ত এই জবাবে নাস্তিকেরা হতবুদ্ধি হয়ে গেল। সত্যিই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।
📄 ইউরোপ : নাস্তিক্যবাদের আঁতুড়ঘর
প্রিয় ভাই-বোনেরা! আফসোস! ইউরোপ হল নাস্তিক্যবাদের আঁতুড়ঘর। সেখান থেকে এটি ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র মুসলিম জাহানে। ইউরোপের দেশগুলোতে এই মতাবাদের সূচনা ও বিকাশ অসম্ভব নয়। কারণ, এসব দেশের অধিবাসীরা ধর্ম বিমুখ। তারা ঈসা আ. কে আল্লাহ -র পুত্র জ্ঞান করে। অথচ আল্লাহ -র সন্তান থাকার বিষয়টিকে কোনো সুস্থ বিবেক কখনো সায় দিতে পারে না। তাছাড়া সেখানকার মানুষগুলো প্রবৃত্তি-পূজারী। বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা। তারা নানাভাবে তাদের যৌন পিপাসা নিবারণে ব্যস্ত। ধর্মের প্রতি নেই তাদের কোনো আগ্রহ। তাই তারা নাস্তিক্যবাদকে আপন করে নিয়েছে। কারণ, তারা নিজ খেয়াল-খুশি মতো চলতে চায়। জগতের সব সুখ-শোভা ভোগ করতে চায়। চায় যা ইচ্ছা খেতে। যা খুশি পান করতে। যেভাবে ইচ্ছা যৌন ক্ষুধা মেটাতে। যখন ইচ্ছা ঘুমাতে। যখন ইচ্ছা জাগতে।
সুতরাং, তাদেরকে যদি বলা হয় যে, এটা হারাম। ওটা নিষিদ্ধ। এটা খেও না। ওটা পান করো না। পরকালে তোমাকে আল্লাহ-র সামনে দাঁড়াতে হবে। এ অন্যায় কাজগুলো তুমি কেন করছ- এগুলোর ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে। তোমার কৃতকর্মের প্রতিফল ভোগ করতে হবে। তারা এসব উপদেশ কানে তোলবে না। কারণ এগুলো মানতে গেলে তারা তাদের স্বেচ্ছাচারী জীবন যাপন করতে পারবে না। তাই তারা আল্লাহ-র অস্তিত্ব অস্বীকারের পথ বেছে নিয়েছে। কারণ, তাদের বল্গাহীন জীবন-যাপনের স্বাচ্ছন্দ গতিময়তা অটুট রাখার জন্য এটিই একমাত্র সহজতর উপায়। তাদের নাস্তিক্যবাদের প্রতি আকৃষ্টির এটিই প্রধান কারণ।
📄 একটি পরিসংখ্যান
বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলোতে নাস্তিক্যবাদের দ্রুত প্রসার ঘটছে। মনে পড়ছে, প্রায় দশ বছর আগে আমি ইউরোপের একটি দেশে গিয়েছিলাম। দেশটির পতাকা ছিল ক্রশখচিত। অর্থাৎ, সেটি একটি খ্রিষ্টান রাষ্ট্র। আমি দেশটির প্রতিটি মোড়ে মোড়ে গির্জার উপস্থিতি লক্ষ্য করলাম। তুমি যদি সে দেশটির রাস্তাঘাটগুলো ঘুরে বেড়াও তাহলে এর প্রতিটি বাকে বাকে ঈসা-র প্রতিকৃতি দেখতে পাবে। যদিও এগুলো ঈসা-র বাস্তব প্রতিকৃতি নয়।
আমি সে দেশের একটি পরিসংখ্যান দেখলাম। পরিসংখ্যানটি সেদেশের কিছু জনগণের ওপর জরিপ চালিয়ে তৈরী করা হয়েছিল। জরিপকালে তাদের কাছে যে প্রশ্নগুলো রাখা হয় তা থেকে কয়েকটি প্রশ্ন এমন ছিল- আপনার ধর্ম কি?
মাত্র ১৩% লোক এর জবাবে বলেছিল, তাদের ধর্ম খিষ্টান। আপনি কি জীবনে কখনো গির্জায় গিয়েছেন? হতে পারে সেটা শিশুকালে কিংবা ছাত্রাবস্থায় অথবা বিবাহ উপলক্ষ্যে বা অন্য কোনো সময়?
মাত্র ৭% লোক জবাব দিয়েছিল যে, তারা জীবনে একবার হলেও গির্জায় গিয়েছে।
আপনি কি প্রতি সপ্তাহে গির্জায় যান?
মাত্র ১% লোক এর জবাবে 'হ্যাঁ, বলেছিল।
সেখানে অবস্থানকালে আমাদের কাছে প্রত্যেক জুমার দিন আসর সালাতের পর বৃটেন, ফিলিপাইন ও আমেরিকার অনেক নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করতে আসত। তাদের বয়স অধিকাংশেরই বয় ছিল ৩০ বা ৪০ এর ঘরে। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাম জীবনে কতবার গির্জায় গিয়েছেন?
জবাবে তারা বলতো- একবারও না।
তাই তাদের নাস্তিক্যবাদের প্রতি ধাবিত হওয়া আমাকে অবাক করে না। তাদেরকে ধর্মবিমুখ দেখে আমি আশ্চর্য হই না। কিন্তু হে আমার ভাই! হে আমার বোন! তোমার আছে ইসলামের মতো মহান সত্য ধর্ম। যা আল্লাহ ﷺ-র কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র ধর্মও বটে। যে ধর্মে বলা হয়েছে অন্তরে বিশ্বাসের কথা। জান্নাত-জাহান্নামের কথা। পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের কথা। যে ধর্মে আছে কোরআনের মতো মহাসত্য গ্রন্থ। অতএব, এই ধর্ম ছেড়ে তুমি যদি নাস্তিকতার দিকে ঝুঁকে পড়ো, তাহলে বুঝতে হবে তুমি কঠিন রোগে আক্রান্ত। যার দ্রুত নিরাময় দরকার।
📄 আমিও পারি সৃষ্টি করতে
বহুদিন আগের কথা। তখন কিছু মানুষ নাস্তিক্যবাদে এতোটাই চরমে পৌঁছে গিয়েছিল যে, কেউ কেউ নিজেকেই স্রষ্টা বলে ধারণা করতে শুরু করেছিল। এমনই এক ভ্রষ্ট নাস্তিক একদিন এক আলেমের কাছে এসে বলল, আমিও পারি সৃষ্টি করতে, আপনি কি একথা বিশ্বাস করেন?
তুমিও সৃষ্টি করতে পারো? প্রশ্ন আলেমের।
হ্যাঁ। নাস্তিকের দম্ভভরা জবাব।
আলেম তার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, বেশ, তাহলে কিছু একটা সৃষ্টি করে দেখাও তো।
নাস্তিকটি একটি বৃহদাকায় গাছের কাছে গেল। তাতে একটি গর্ত খুড়ল। গর্তটির ভেতর এক টুকরো গোস্ত রাখল। তারপর গর্তটি ঢেকে দিল। এবার সে আলেমকে বলল, শায়েখ, ঠিক এক মাস পর আমি এখানে এসে আপনার সাথে দেখা করব।
এক মাস পর লোকটি এলো। আলেমকে নিয়ে সেই গাছের কাছে গেল। লোকটি গর্তের ঢাকনাটি সরাল। দেখা গেল, গোশতের টুকরাটি কিছু কীটে পরিণত হয়ে গেছে।
ওই লোকটি তখন আলেমকে উদ্দেশ্য করে বলল, দেখলেন, এই কীটগুলো আমি সৃষ্টি করেছি। আমিই এগুলোর স্রষ্টা।
আলেম বললেন, আচ্ছা, তাই নাকি? তার মানে আপনার দাবি হল, আপনিই এগুলোর স্রষ্টা?
হ্যাঁ।
বেশ, তাহলে বলুন তো আপনি কতগুলো কীট সৃষ্টি করলেন?
তা তো জানি না।
আশ্চর্য! আপনিই সৃষ্টি করলেন, অথচ আপনিই জানেন না এর সৃষ্টি সংখ্যা! আচ্ছা, তাহলে অন্তত এটা বলুন, এখানে ক'টি নারী আর ক'টি পুরুষ কীট রয়েছে?
জানি না।
এটাও জানেন না? আচ্ছা এই যে দেখা যাচ্ছে যে, কিছু কীট হাঁটছে। কিছু ডাল বেয়ে উপরে ওঠছে। কিছু নিচে নামছে। আপনি যেহেতু এগুলোর স্রষ্টা, তাই বলুন তো কোথায় এদের গন্তব্য? তারা আজ কী খাবে? কবে এরা মারা যাবে?
আমি এসবের কিছুই জানি না।
কী আশ্চর্য! আপনি নিজেই তাদের সৃষ্টি করেছেন, অথচ তাদের সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না।
নাস্তিকটি তখন হতবুদ্ধি হয়ে গেল। তার দাবির অসত্যতা প্রমাণিত হল। বস্তুত, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই।
অতএব, যারা আল্লাহ -র প্রভুত্বে নির্ধারিত বিষয়সমূহের কোনোটিকে নিজের সৃষ্টি বলে দাবি করে, তাদেরকে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বলা যায় না। যে সমাজে এসব লোকের বসবাস সেই সমাজও তাদেরকে মেনে নেয় না।