📘 যিকরুল্লাহ > 📄 তিন নবির দুআর পদ্ধতি

📄 তিন নবির দুআর পদ্ধতি


তুমি এতক্ষণে নিশ্চয়ই দুআ করার পদ্ধতি শিখে গিয়েছ। এবার এ বিষয়টি আরও গভীরভাবে জানতে তিনজন নবির দুআর পদ্ধতি দেখে নাও। মূসা আলাইহিস সালাম দুআয় বলেছিলেন,
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
আবার রব, তুমি আমাকে কল্যাণকর যা দেবে, তার-ই আমি ফকীর। ১৮৩

যূননূন ইউনুস আলাইহিস সালাম বলেছিলেন,
أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
আল্লাহ তুমি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত। ১৮৪

আদম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন,
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আমাদের রব, আমরা নিজেদের ওপর জুলম করেছি। তুমি যদি আমাদের ক্ষমা ও দয়া না করো, তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব। ১৮৫

আবু বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, সালাতে পাঠযোগ্য একটি দুআ আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বলেন, তুমি এ দুআটি পাঠ করবে-
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
হে আল্লাহ, আমি নিজের উপর অধিক জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। আপনার পক্ষ হতে আমাকে তা ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান। ১৮৬

লক্ষ করো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কত সুন্দরভাবে দুআ করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিলেন। উক্ত দুআতে প্রথমেই নিজের অবস্থার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তারপর রবের অনুগ্রহ ও অনুকম্পার ওয়াসীলা করা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে যে, হে আল্লাহ, অপরাধ মোচন করার একক কর্তৃত্ব আপনার; এ কর্তৃত্ব কারো নেই। এরপর নিজের চাহিদা ও প্রয়োজনের কথা তাঁর দরবারে পেশ করা হয়েছে। এটাই দুআ ও দাসত্বের আদব ও শিষ্ঠাচার।

টিকাঃ
১৮৩. সূরা কসাস, আয়াত: ২৪
১৮৪. সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭
১৮৫. সূরা আরাফ, আয়াত: ২৩
১৮৬. সহীহুল বুখারী, ৮৩৪; সহীহ মুসলিম, ২৭০৫

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকিরের তুলনায় কুরআন তিলাওয়াত উত্তম

📄 যিকিরের তুলনায় কুরআন তিলাওয়াত উত্তম


যিকিরের তুলনায় কুরআন তিলাওয়াত উত্তম আর দুআর তুলনায় যিকির উত্তম। এটা সামগ্রিক বিচারে। অন্যথায় অবস্থাভেদে কখনো অনুত্তম উত্তমে পরিণত হয়; বরং সে অনুত্তম কাজ করা ফরয হয়ে যায়। যেমন, রুকু ও সাজদায় 'সুবহানাল্লাহ' বলা। এই দুই অবস্থায় 'সুবহানাল্লাহ' যিকির কুরআন তিলাওয়াত থেকেও উত্তম। এমনকি এই দুই অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করাও নিষিদ্ধ। কারো মতে নিষিদ্ধ বলতে হারাম উদ্দেশ্য আবার কারো মতে, অপছন্দনীয় বা মাকরূহ উদ্দেশ্য।

অনুরূপভাবে স্ব-স্ব স্থানে 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' ও 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা কুরআন তিলাওয়াত থেকে উত্তম। একইভাবে তাশাহহুদ ও দুই সাজদার মাঝখানে 'রব্বিগফিরলী ওয়ার হামনী ওয়াহদিনী ওয়া আফিনী ওয়ার যুকনী' বলা কুরআন তিলাওয়াত থেকে উত্তম। এরপর সালাত পরবর্তী যিকির আযকার করা কুরআন তিলাওয়াত থেকে শ্রেষ্ঠ। এছাড়াও মুআজ্জিনের আজানের জবাব দেওয়া কুরআন তিলাওয়াত থেকে ভালো। সমস্ত মাখলুকের তুলনায় আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব যেমন, মাখলুকের কথার তুলনায় তাঁর কুরআনের শ্রেষ্ঠত্বও তেমন; কিন্তু সর্বক্ষেত্রে এই মূলনীতি প্রয়োগিক নয়। অন্যথা কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ ও হিকমত অর্জন হবে না।

যদিও সামগ্রিকভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম, তবুও নির্দিষ্ট স্থান ও ক্ষেত্রে যিকির করা উত্তম। অনুরূপভাবে কোনো ব্যক্তি যদি এমন অবস্থার সম্মুখীন হয় যে, তার জন্য কুরআন তিলাওয়াতের তুলনায় যিকির বেশি উপকারী ও কল্যাণকর, তবে তার ক্ষেত্রেও যিকির উত্তম বলে বিবেচিত হবে। যেমন, কোনো পাপী বান্দার অন্তরে হঠাৎ অনুশোচনা সৃষ্টি হল এবং তাতে তওবা ও ইসতিগফারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠল। এই অবস্থায় তার জন্য কুরআন তিলাওয়াতের তুলনায় তওবা ও ইসতিগফার করা উত্তম। অনুরূপভাবে কেউ মানুষ ও জিন শয়তানের ক্ষতির আশঙ্কা করছে। এ ক্ষেত্রেও আশঙ্কাকারী ব্যক্তি ক্ষতি থেকে বাঁচতে দুআ ও যিকিরের দুর্গে আশ্রয় নেবে।

বান্দা কখনো এমন কঠিন সমস্যা ও প্রয়োজনের সম্মুখীন হয় যে, সে সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা রবের কাছে তুলে ধরা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। এমন কঠিন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা রবের কাছে তুলে না ধরে কুরআন তিলাওয়াত করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না; কুরআনের প্রতি মনোযোগ ও আকর্ষণ কাজ করে না। অথচ রবের কাছে দুআ করলে, নিজের চাওয়া-পাওয়া ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরলে ঠিকই কান্নায় ভেঙে পড়ে, অন্তর রবের কাছে পৌঁছে যায় এবং পত্র-পল্লবে খুশু-খুজু, নতজানুতা, আল্লাহভীতি ও অসহায়ত্ববোধ জেগে উঠে। বান্দার এমন অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত ও যিকিরের তুলনায় দুআ করা উত্তম ও বেশি উপকারী; যদিও কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির সামগ্রিকভাবে দুআ থেকে উত্তম।

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 দুইটি আবশ্যকীয় বিষয়

📄 দুইটি আবশ্যকীয় বিষয়


এই অধ্যায় অতীব প্রয়োজনীয় ও উপকারী। তবে এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় জানা খুবই প্রয়োজন।

নফস বা আত্মা সংক্রান্ত জ্ঞান, কোন জিনিস স্থায়ীভাবে উত্তম-অনুত্তম, তার ইলম।

এছাড়া স্থান, কাল ও পাত্রভেদে কখন উত্তম জিনিস অনুত্তম হয়ে যায় এবং অনুত্তম জিনিস উত্তমে পরিণত হয়, তা সম্পর্কেও সম্যক ধারণা থাকতে হবে। তবেই প্রত্যেক জিনিসকে তার অধিকার দেওয়া সম্ভব এবং উপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ করা সহজ। কেননা চোখের ও পায়ের স্থান ও সক্ষমতা আলাদা আলাদা। চোখ যা পারে, কান তা পারে না। আবার কান যা পারে। চোখ তা পারে না। অনুরূপ পানি ও গোশতের স্থান ও সক্ষমতাও ভিন্ন-ভিন্ন। পানি দ্বারা যা হয়, গোশত দ্বারা তা হয় না। আবার গোশত দ্বারা যা হয়, পানি দ্বারা তা হয় না। এই স্তর ও বিষয়গুলো সংরক্ষণ করা হিকমতের পরিচায়ক। আর হিকমতের ওপর বিশ্বজগতের শৃঙ্খলা নির্ভরশীল। একইভাবে কাপড়ের জন্য কখনো সাবান ও ক্ষার উপকারী আবার কখনো ধূপ ও গোলাপজল উপকারী।

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 তাসবিহ না ইসতিগফার উত্তম?

📄 তাসবিহ না ইসতিগফার উত্তম?


আমি একদিন শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, কোনো কোনো আলিমকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, বান্দার জন্য কোনটি বেশি উপকারী : তাসবিহ না ইসতিগফার? তিনি বলেন, কাপড় পরিষ্কার থাকলে সুঘ্রাণ ও গোলাপজল বেশি উপকারী। আর কাপড় অপরিষ্কার থাকলে সাবান ও গরম পানি বেশি উপকারী। তিনি আমাকে বললেন, কাপড় যখন দুর্গন্ধময় ও ময়লায় পরিপূর্ণ তখন সুঘ্রাণ ও গোলাপজল ব্যবহার করে কাজ কী?

একইভাবে সূরা ইখলাস কুরআনের একতৃতীয়াংশ হওয়া সত্ত্বেও উত্তরাধিকার, তালাক, খোলা, ইদ্দত-সহ অন্যান্য বিধান সংক্রান্ত আয়াতের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। কখনো এসব বিধিবিধান সংক্রান্ত আয়াত সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করার তুলনায় বেশি উপকারী হতে পারে।

কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দুআর তুলনায় সালাত বেশি উত্তম।

সালাতে একসাথে কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দুআর উপস্থিতি থাকে। সালাতে যাবতীয় ইবাদতের কিছু না কিছু অংশ বিদ্যমান থাকে। এ জন্য কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দুআর তুলনায় সালাত বেশি উত্তম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00