📄 যিকরকারীকে নিয়ে জমিন ও পাহাড় গর্ব করে
৬৭. যিকিরকারীকে নিয়ে জমিন ও পাহাড় গর্ব করে এবং খুব আনন্দিত হয়। ইবন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “এক পাহাড় অন্য পাহাড়কে নাম ধরে ডেকে বলে, তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? যদি বলে ‘হ্যাঁ অতিক্রম করেছে’ তখন বলে, সুসংবাদ গ্রহণ করো।”১৪৬
আওন ইবন আবদুল্লাহ বলেন, “জমিন পরস্পরকে ডেকে বলে, আজ তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? কোনো জমিন বলে, ‘হ্যাঁ’ আর কোনো জমিন বলে, ‘না’।১৪৭
মুজাহিদ বলেন, এক জমিন অন্য জমিনের নাম ধরে ডেকে বলে, তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? কোনো জমিন বলে, ‘হ্যাঁ’ আর কোনো জমিন বলে, ‘না’।”
টিকাঃ
১৪৬. ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, ১১২-১২৩; মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১৩/৩০৫; শুআবুল ঈমান, ২/৪৩৩-৪৩৪; সনদ হাসান
১৪৭. তাফসীর ইবন কাসীর, ৫/২২৫২; আল-আযামাহ, ৫/১৭১৭; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/২৪২
📄 যিকরকারীদের পক্ষে অনেক সাক্ষী থাকবে
৭১. রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, সফর-এলাকায়, মাঠে-ঘাটে-সহ যেকোনো স্থানে যদি যিকির করা হয়, তবে কিয়ামতের দিন তার পক্ষে অনেকেই সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। কেননা রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, সফর-এলাকা, মাঠ-ঘাট সবই কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষী দেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا (۱) وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا (۲) وَقَالَ الْإِنْسَانُ مَا لَهَا (۳) يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا (٤) بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَى لَهَا
"যখন প্রচণ্ড কম্পনে জমিন প্রকম্পিত হবে। আর জমিন তার বোঝা বের করে দেবে। মানুষ বলবে, 'এর কী হল?' সেদিন জমিন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। কারণ, তোমার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।"১৫৪
আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'সেদিন জমিন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে' এই আয়াত তিলাওয়াত করার পর প্রশ্ন করেন, তোমরা কি জানো পৃথিবীর পরিবেশন যোগ্য বৃত্তান্ত কী? সাহাবীগণ বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বলেন, তার বৃত্তান্ত হল, সমস্ত নারী-পুরুষের সেইসব কাজের সাক্ষ্য দেবে, যা তারা তার ওপরে করেছে। সে বলবে, অমুক দিন অমুক ব্যক্তি এই এই কাজ করেছে। এভাবে সে সাক্ষ্য দেবে। এরপর তিনি বলেন, এটাই হবে পৃথিবীর পেশকৃত বৃত্তান্ত। ১১৫৫
অতএব, জমিনের সর্বত্র যিকিরকারীর পক্ষে বেশুমার সাক্ষী থাকবে। সাক্ষীর দিন তথা কিয়ামতের দিন তাদের সাক্ষীর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হবে এবং ইন শা আল্লাহ তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। ফলে তারা খুশি ও আনন্দে আত্মহারা হবে এবং অন্যরা তাদের দেখে ঈর্ষা করবে।
টিকাঃ
১৫৪. সূরা যিলযাল, আয়াত: ১-৪
১৫৫. সুনানুত তিরমিযী, ২৪২৯; হাদিসটি দুর্বল।