📄 যিকরুল্লাহ জাহান্নামের প্রতিবন্ধক
৬৫. যিকরুল্লাহ বান্দা ও জাহান্নামের মাঝে প্রতিবন্ধক। বান্দা যখন জাহান্নামের পথে চলতে শুরু করে, তখন যিকরুল্লাহ তাকে ঐ পথে চলতে বাধা দেয় এবং সেখান থেকে টেনে আনে। তাই বান্দা যদি অহর্নিশ যিকিরে ডুবে থাকে, তাহলে তার জন্য এই যিকির জাহান্নামের পথের স্থায়ী ও শক্তিশালী প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। অন্যথা সে জাহান্নামের পথে হাঁটতে থাকে।
আবদুল আযীয ইবন আবী রওয়াদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এক ব্যক্তি জঙ্গলে বসবাস করত। তিনি সেখানে একটি মসজিদ বানালেন, অতঃপর মেহরাবের স্থানে সাতটি পাথর রাখলেন। সালাت শেষ করে তিনি বলতেন, 'পাথর আমি তোমাদের স্বাক্ষী রেখে বলছি, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই।'
একদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার রূহকে ওপরে নিয়ে যাওয়া হল। অতঃপর লোকটি বললেন, একবার স্বপ্নে দেখলাম, আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি আমার মসজিদের পাথরগুলোর মধ্য থেকে একটি পাথরকে প্রকান্ডাকারে দেখতে পেলাম। জাহান্নামের দরজায় আমার আমার জন্য পাথরটি প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। এভাবে প্রতিটি পাথর আমার জন্য জাহান্নামের দরজায় প্রতিবন্ধক হয়ে গিয়েছে। ১৪৪
টিকাঃ
১৪৪. আবুল কাসিম তাইমী, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ২৫১৫
📄 যিকরকারীদের জন্য ফেরেশতারা মাগফিরাত কামনা করে
৬৬. ফেরেশতারা যেমন তওবাকারীর জন্য মাগফিরাতের দুআ করে, তেমনি তারা যিকিরকারীদের জন্যও মাগফিরাতের দুআ করে। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস বলেন,
আমি আল্লাহর কিতাবে পাই যে, বান্দা 'আলহামদুলিল্লাহ' বললে ফেরেশতারা বলেন রব্বিল আলামীন। আর যখন বান্দা বলে 'আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন' তখন ফেরেশতারা বলেন, হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো। বান্দা যখন বলে, 'সুবহানাল্লাহ' তখন ফেরেশতারা বলেন, 'ওয়াবিহামদিহি'। আর যখন বান্দা বলে, 'সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি', তখন ফেরেশতারা বলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো।' বান্দা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বললে ফেরেশতারা বলেন, 'ওয়াল্লাহু আকবার'। আর যখন বান্দা বলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার', তখন ফেরেশতারা বলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো।' ১৪৫
টিকাঃ
১৪৫. এ হাদিস ইবন আবীদ দুনইয়ার গ্রন্থে রয়েছে যা এখনো প্রকাশ হয়নি।
📄 যিকরকারীকে নিয়ে জমিন ও পাহাড় গর্ব করে
৬৭. যিকিরকারীকে নিয়ে জমিন ও পাহাড় গর্ব করে এবং খুব আনন্দিত হয়। ইবন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “এক পাহাড় অন্য পাহাড়কে নাম ধরে ডেকে বলে, তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? যদি বলে ‘হ্যাঁ অতিক্রম করেছে’ তখন বলে, সুসংবাদ গ্রহণ করো।”১৪৬
আওন ইবন আবদুল্লাহ বলেন, “জমিন পরস্পরকে ডেকে বলে, আজ তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? কোনো জমিন বলে, ‘হ্যাঁ’ আর কোনো জমিন বলে, ‘না’।১৪৭
মুজাহিদ বলেন, এক জমিন অন্য জমিনের নাম ধরে ডেকে বলে, তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? কোনো জমিন বলে, ‘হ্যাঁ’ আর কোনো জমিন বলে, ‘না’।”
টিকাঃ
১৪৬. ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, ১১২-১২৩; মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১৩/৩০৫; শুআবুল ঈমান, ২/৪৩৩-৪৩৪; সনদ হাসান
১৪৭. তাফসীর ইবন কাসীর, ৫/২২৫২; আল-আযামাহ, ৫/১৭১৭; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/২৪২
📄 যিকরকারীদের পক্ষে অনেক সাক্ষী থাকবে
৭১. রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, সফর-এলাকায়, মাঠে-ঘাটে-সহ যেকোনো স্থানে যদি যিকির করা হয়, তবে কিয়ামতের দিন তার পক্ষে অনেকেই সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। কেননা রাস্তা-ঘাট, বাসা-বাড়ি, সফর-এলাকা, মাঠ-ঘাট সবই কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষী দেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا (۱) وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا (۲) وَقَالَ الْإِنْسَانُ مَا لَهَا (۳) يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا (٤) بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَى لَهَا
"যখন প্রচণ্ড কম্পনে জমিন প্রকম্পিত হবে। আর জমিন তার বোঝা বের করে দেবে। মানুষ বলবে, 'এর কী হল?' সেদিন জমিন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। কারণ, তোমার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।"১৫৪
আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
"রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'সেদিন জমিন তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে' এই আয়াত তিলাওয়াত করার পর প্রশ্ন করেন, তোমরা কি জানো পৃথিবীর পরিবেশন যোগ্য বৃত্তান্ত কী? সাহাবীগণ বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বলেন, তার বৃত্তান্ত হল, সমস্ত নারী-পুরুষের সেইসব কাজের সাক্ষ্য দেবে, যা তারা তার ওপরে করেছে। সে বলবে, অমুক দিন অমুক ব্যক্তি এই এই কাজ করেছে। এভাবে সে সাক্ষ্য দেবে। এরপর তিনি বলেন, এটাই হবে পৃথিবীর পেশকৃত বৃত্তান্ত। ১১৫৫
অতএব, জমিনের সর্বত্র যিকিরকারীর পক্ষে বেশুমার সাক্ষী থাকবে। সাক্ষীর দিন তথা কিয়ামতের দিন তাদের সাক্ষীর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হবে এবং ইন শা আল্লাহ তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। ফলে তারা খুশি ও আনন্দে আত্মহারা হবে এবং অন্যরা তাদের দেখে ঈর্ষা করবে।
টিকাঃ
১৫৪. সূরা যিলযাল, আয়াত: ১-৪
১৫৫. সুনানুত তিরমিযী, ২৪২৯; হাদিসটি দুর্বল।