📄 যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হয়
৬৪. যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। যিকিরকারী যিকির করা বন্ধ করলে ফেরেশতারাও সেই অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ বন্ধ করে দেন। পুনরায় সে যিকির করা আরম্ভ করলে ফেরেশতারাও পুনরায় নির্মাণ কাজ আরম্ভ করেন। ইবন আবীদ দুনইয়া স্বীয় আয-যিকর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, হাকীম ইবন মুহাম্মাদ আখনাসী বলেন,
আমরা জানতে পেরেছি যে, যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। যিকিরকারী তার যিকির বন্ধ করলে ফেরেশতারাও সেই অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ বন্ধ করে দেন। তাদেরকে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন, আমাদের কাছে নির্মাণ খরচ আসলে আবার শুরু করবো। ১৪০
আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি সাতবার সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম বলে, তার জন্য সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়।” ১৪১
যিকিরের মাধ্যমে যেমন অট্টালিকা নির্মাণ করা হয় তেমনি জান্নাতের বাগানে গাছও লাগানো হয়। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত,
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“ইসরার রাতে ইবরাহীমের সাথে আমার সাক্ষাত হয়। তিনি আমাকে বলেন, 'ইয়া মুহাম্মাদ, আপনি আপনার উম্মাতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দেবেন এবং তাদের জানিয়ে দেবেন, জান্নাতের মাটি অতীব সুঘ্রাণযুক্ত, তার পানি সুমিষ্ট, তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা হল,
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। ১৪২
অতএব, প্রমাণ হয়, যিকরুল্লাহ জান্নাতের অট্টালিকা ও গাছ।
আবদুল্লাহ ইবন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“তোমরা বেশি বেশি জান্নাতে গাছ লাগাও। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, জান্নাতের গাছ কী? তিনি বলেন, মাশাআল্লাহ লা হাওলা ওয়া কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। ১৪৩
টিকাঃ
১৪০. ইবন আবীদ দুরইয়ার এ কিতাব এখনো অপ্রকাশিত。
১৪১. আত-তারীখুল কাবীর, ৩/৫২২; এর সনদ দুর্বল।
১৪২. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৬২, হাদিসটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য।
১৪৩. মুজামুল কাবীর, ১২/২৭৯; এর সনদ দুর্বল
📄 যিকরুল্লাহ জাহান্নামের প্রতিবন্ধক
৬৫. যিকরুল্লাহ বান্দা ও জাহান্নামের মাঝে প্রতিবন্ধক। বান্দা যখন জাহান্নামের পথে চলতে শুরু করে, তখন যিকরুল্লাহ তাকে ঐ পথে চলতে বাধা দেয় এবং সেখান থেকে টেনে আনে। তাই বান্দা যদি অহর্নিশ যিকিরে ডুবে থাকে, তাহলে তার জন্য এই যিকির জাহান্নামের পথের স্থায়ী ও শক্তিশালী প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। অন্যথা সে জাহান্নামের পথে হাঁটতে থাকে।
আবদুল আযীয ইবন আবী রওয়াদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এক ব্যক্তি জঙ্গলে বসবাস করত। তিনি সেখানে একটি মসজিদ বানালেন, অতঃপর মেহরাবের স্থানে সাতটি পাথর রাখলেন। সালাت শেষ করে তিনি বলতেন, 'পাথর আমি তোমাদের স্বাক্ষী রেখে বলছি, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই।'
একদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার রূহকে ওপরে নিয়ে যাওয়া হল। অতঃপর লোকটি বললেন, একবার স্বপ্নে দেখলাম, আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি আমার মসজিদের পাথরগুলোর মধ্য থেকে একটি পাথরকে প্রকান্ডাকারে দেখতে পেলাম। জাহান্নামের দরজায় আমার আমার জন্য পাথরটি প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। এভাবে প্রতিটি পাথর আমার জন্য জাহান্নামের দরজায় প্রতিবন্ধক হয়ে গিয়েছে। ১৪৪
টিকাঃ
১৪৪. আবুল কাসিম তাইমী, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ২৫১৫
📄 যিকরকারীদের জন্য ফেরেশতারা মাগফিরাত কামনা করে
৬৬. ফেরেশতারা যেমন তওবাকারীর জন্য মাগফিরাতের দুআ করে, তেমনি তারা যিকিরকারীদের জন্যও মাগফিরাতের দুআ করে। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস বলেন,
আমি আল্লাহর কিতাবে পাই যে, বান্দা 'আলহামদুলিল্লাহ' বললে ফেরেশতারা বলেন রব্বিল আলামীন। আর যখন বান্দা বলে 'আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন' তখন ফেরেশতারা বলেন, হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো। বান্দা যখন বলে, 'সুবহানাল্লাহ' তখন ফেরেশতারা বলেন, 'ওয়াবিহামদিহি'। আর যখন বান্দা বলে, 'সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি', তখন ফেরেশতারা বলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো।' বান্দা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বললে ফেরেশতারা বলেন, 'ওয়াল্লাহু আকবার'। আর যখন বান্দা বলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার', তখন ফেরেশতারা বলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো।' ১৪৫
টিকাঃ
১৪৫. এ হাদিস ইবন আবীদ দুনইয়ার গ্রন্থে রয়েছে যা এখনো প্রকাশ হয়নি।
📄 যিকরকারীকে নিয়ে জমিন ও পাহাড় গর্ব করে
৬৭. যিকিরকারীকে নিয়ে জমিন ও পাহাড় গর্ব করে এবং খুব আনন্দিত হয়। ইবন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, “এক পাহাড় অন্য পাহাড়কে নাম ধরে ডেকে বলে, তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? যদি বলে ‘হ্যাঁ অতিক্রম করেছে’ তখন বলে, সুসংবাদ গ্রহণ করো।”১৪৬
আওন ইবন আবদুল্লাহ বলেন, “জমিন পরস্পরকে ডেকে বলে, আজ তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? কোনো জমিন বলে, ‘হ্যাঁ’ আর কোনো জমিন বলে, ‘না’।১৪৭
মুজাহিদ বলেন, এক জমিন অন্য জমিনের নাম ধরে ডেকে বলে, তোমার ওপর দিয়ে কি কোনো যিকিরকারী অতিক্রম করেছে? কোনো জমিন বলে, ‘হ্যাঁ’ আর কোনো জমিন বলে, ‘না’।”
টিকাঃ
১৪৬. ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, ১১২-১২৩; মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১৩/৩০৫; শুআবুল ঈমান, ২/৪৩৩-৪৩৪; সনদ হাসান
১৪৭. তাফসীর ইবন কাসীর, ৫/২২৫২; আল-আযামাহ, ৫/১৭১৭; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৪/২৪২